গোঁসাইবাগানের ভূত
- আইএসবিএন
- ৯৭৮৯৩৯০৪০৫৯৬১
- ভাষা
- বাংলা
- ফরম্যাট
- বৈদ্যুতিন
- মোট অধ্যায়
- ১
- পঠিত
- ২৩ বার
- বিষয়
- কিশোর সাহিত্য , ভৌতিক ও অতিপ্রাকৃত , অভিযান , রহস্য
- সিরিজ
- অদ্ভুতুড়ে ২
এই অবস্থায় একদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বারুণ পৌঁছে যায় সেই অদ্ভুত, ভয়ংকর গুঞ্জনে ঘেরা জায়গায়—গোঁসাই ডাকাতের বাগান, যাকে সবাই গোঁসাইবাগান বলে চেনে। গ্রাম থেকে শুরু করে পথঘাট—সব জায়গাতেই এই বাগান নিয়ে লোকমুখে নানা গল্প: সেখানে নাকি রাতে অদ্ভুত আওয়াজ শোনা যায়, গাছের আড়ালে অচেনা ছায়া নড়াচড়া করে, আর ভূতের অস্তিত্ব নাকি চোখে দেখা ব্যক্তিরাও শপথ করে বলে। কিন্তু অভিমানে পোড়া বারুণের ভেতরে তখন ভয়ের জন্য কোনো জায়গাই নেই।
বাগানের ভেতরে ঢুকে সে যে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়, তা তাকে একইসঙ্গে বিস্মিত, ভীত এবং কৌতূহলী করে তোলে। অচেনা শব্দ, অদ্ভুত মানুষজনের উপস্থিতি, গোঁসাই ডাকাতকে নিয়ে পুরনো কিংবদন্তি—সব মিলে বাগানটি সত্যিই যেন রহস্যে মোড়া। বারুণের সহজ-সরল মন আর শিশুসুলভ সাহস তাকে ধীরে ধীরে টেনে নেয় সেই রহস্যের গভীরে। যা ভূতের গল্প বলে প্রচারিত, তার আড়ালে যে অন্য সত্য লুকিয়ে আছে—তা বারুণ নিজের চোখে দেখা ও বুঝে নেওয়ার সুযোগ পায়।
এই গল্পে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় তুলে ধরেছেন একদিকে কিশোর মনের অভিমান, ক্ষোভ, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা—অন্যদিকে ভয় ও রহস্যের মধ্য দিয়ে নিজের মতো করে পৃথিবীকে বুঝে নেওয়ার উচ্ছ্বাস। গ্রামবাংলার আবহ, স্নিগ্ধ ভাষা, আর রোমাঞ্চের টান—সব মিলিয়ে গোঁসাইবাগানের ভূত কিশোর সাহিত্যকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
রেটিং
১ রিভিউ
পাঠকদের রিভিউ
বেঙ্গল টাইগার
১৮ নভেম্বর, ২০২৫শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা গোঁসাইবাগানের ভূত আমার কাছে সবসময় এক অন্যরকম অনুভূতির জায়গা দখল করে আছে। এটা শুধু ভূতের গল্প না—এটা গ্রামের পরিবেশ, কিশোর-কিশোরীদের সরল কৌতূহল আর রহস্যময় এক উত্তেজনার মিশেলে তৈরি এক দারুণ পাঠ-অভিজ্ঞতা।
গল্পের নায়ক বরুণের সাথে পাঠক খুব সহজেই মিশে যেতে পারে। তার চোখ দিয়ে আমরা গোঁসাইবাগানের অদ্ভুত সব ঘটনা দেখি—কখনো হাসির, কখনো একটু গা ছমছমে, কিন্তু সবসময়ই অদ্ভুতভাবে টেনে রাখার মতো। শীর্ষেন্দুর ভাষা এতই সহজ আর আপন যে পড়তে পড়তে যেন নিজের গ্রামের গলি আর পুকুরঘাটে হাঁটছি মনে হয়।
গল্পের সবচেয়ে বড় জাদু হলো এর অবধানহীন স্বচ্ছতা—ভূত আছে কি নেই, সেটাই শেষমেশ আসল বিষয় নয়। বরং গোটা ঘটনাটার মধ্যে দিয়ে লেখক তার স্বাভাবিক হাস্যরস, বুদ্ধিদীপ্ত পর্যবেক্ষণ আর কিশোর বয়সের দুষ্টু নির্মল ভাবটাকে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
শেষের চমকটাও বেশ স্মরণীয়—ভয়ের চেয়ে বেশি মজা, দুষ্টুমি আর একটু রহস্যের স্বাদ নিয়ে পাঠককে রেখে যায়।
সব মিলিয়ে, গোঁসাইবাগানের ভূত সেই ধরনের বই, যা যেকোনো বয়সের পাঠককে মুহূর্তে টেনে নেয়, আর পড়া শেষ হলে মনে হয়—ইস, আরেকটু যদি চলত! ❤️