লুই পাস্তুর (১৮২২–১৮৯৫) – জীবাণু আর জলাতঙ্ক রোগ প্রতিষেধকের আবিষ্কারক

ভবেশ রায়

সেবার স্কুল থেকে ফেরার পথে জোসেফ মেইস্টার নামের এক ছেলেকে কামড়ালো পাগলা কুকুরে। ছেলের বাবা এলেন বিজ্ঞানী লুই পাস্তুরের কাছে। তিনি নিজের আবিষ্কৃত একটা ঔষধের ইনজেকশন দিয়ে দিলেন ছেলেটাকে। তার আর জলাতঙ্ক রোগ হলো না। অথচ এর আগে কাউকে পাগলা কুকুরে কামড়ালেই তার নির্ঘাত এই রোগ হতো এবং মারা যেত। আর এ-ভাবেই দেশ জুড়ে নাম ছড়িয়ে পড়ল লুই পাস্তুরের। তিনি সবার কাছে পরিচিত হলেন জলাতঙ্ক রোগের ডাক্তার হিসেবে, অথচ কোনোদিনই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ডাক্তারি পড়েননি।

বিজ্ঞানী লুই পাস্তুরের জন্ম ১৮২২ সালের ২২ ডিসেম্বর ফ্রান্সের দোলে শহরের নিকটবর্তী জুরা পর্বতের ঢালের এক গাঁয়ে। বাবা ছিলেন ধনী চামড়া ব্যবসায়ী। লুই পাস্তুর পড়াশোনায় ভালো ছিলেন। তাই তাঁর বাবার ইচ্ছে ছিল লুই বড় হয়ে অধ্যাপক হবে। ছেলেকে যেন তাঁর মতো চামড়ার ব্যবসায়ী হয়ে জীবন কাটাতে না হয়। প্রথমে গাঁয়ের পাঠশালাতেই তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয়। তারপর তেরো বছর বয়সে তাঁকে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয় কলেজ ডি’ অ্যারবয়ে কলেজের স্কুল শাখায়।

ভালো ছাত্র হিসেবে অল্পদিনের মধ্যেই তিনি প্রধান শিক্ষক এম. রোমানের সুনজরে পড়ে যান। তিনি তাঁর মেধা এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা দেখে চমৎকৃত হন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, এই ছেলে ভবিষ্যতে বড় একটা কিছু করবে। তাই তিনি লুই পাস্তুরকে তাঁর নিজের স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে রাজধানী শহর প্যারিসের কামকরা বিদ্যাপীঠ ইকোলে নরম্যাল স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। সেখানে তিনি একটি বৃত্তিও লাভ করেন। কিন্তু এই স্কুলের পড়াশোনা শেষ হবার কিছুদিন আগে অসুস্থতাজনিত কারণে বাবা তাঁকে সেখান থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।

সুস্থ হওয়ার পর তার জন্মশহর ডোলের একটি অতি সাধারণ স্কুলে আবার ভর্তি করিয়ে দেওয়া হল তাঁকে। সেখান থেকেই তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষা ভালোভাবে পাস করেন।

স্কুল পাস করার পর তিনি বেস্যানকোঁ শহরে এসে রয়্যাল কলেজে ভর্তি হন এবং ১৮৪২ সালে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য আবার ফিরে আসেন রাজধানী প্যারিসে।

এখানকার নরম্যাল কলেজের স্কুল শাখায় এর আগে তিনি কিছুদিন পড়াশোনা করেছিলেন। উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য ইকোলে কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় আবার অংশ নেন তিনি। মোট ২২ জন প্রার্থীর মধ্যে তিনি পঞ্চদশ স্থান অধিকার করেন। লুই পাস্তুরের মতো মেধাবী ছাত্রের জন্য এটা কোনোমতেই ভালো ফল ছিল না। তাই তিনি ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও মনের দুঃখে ইকোলেতে ভর্তি হলেন না। প্রতিজ্ঞা করলেন, এখানে যদি পড়তেই হয়, তবে তাঁকে ভালো ফল করেই আসতে হবে। ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য আবার তিনি পড়াশোনায় আত্মনিয়োগ করলেন।

তিনি পরের বছর আবার অ্যাডমিশন টেস্ট দিলেন। এবার হলেন চতুর্থ। এবার তিনি কিছুটা খুশি। তিনি ইকোল কলেজে রাসায়নশাস্ত্রে ভর্তি হলেন। এই কলেজ থেকেই তিনি ১৮৪৭ সালে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।

শিক্ষাজীবন শেষ করার পরপরই অর্থাৎ ১৮৪৮ সাল থেকেই শুরু হয় তাঁর গবেষকের জীবন।

প্রথমেই তিনি শুরু করেন টারটারিক অ্যাসিড নিয়ে গবেষণা। এই সময় বিজ্ঞানী মিচেরলিচ গভীর সমস্যায় পড়ে যান এই টারটারিক অ্যাসিড নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে।

তিনি লক্ষ করেন, তাঁর অ্যাসিডের চারপাশ ঘিরে আছে দুধরনের রাসায়নিক পদার্থ দুটোই দেখতে প্রায় একই রকম। কিন্তু দুটোর প্রকৃতি ভিন্ন। অথচ দুটোর মধ্যকার রাসায়নিক গঠন-প্রকৃতি একই ধরনের। সবথেকে মজার ব্যাপার, এ দুটো অ্যাসিডের মধ্যে সূক্ষ্ম আলোকরেখা বিচ্ছুরিত করলে একটি অ্যাসিডের মধ্য দিয়ে আলো পার হয়ে যায়, কিন্তু অপরটির মধ্য দিয়ে আলো বেঁকে যায়। কেন এমন হয়, সেটা তিনি বুঝতে পারছিলেন না।

এরপর পাস্তুর অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু করলেন। এক পর্যায়ে দেখলেন, অ্যাসিডের স্ফটিকের আছে রাসায়নিক পদার্থের দুটো গোত্র। এর একটিতে এক ধারে লেগে আছে অতিক্ষুদ্র পলের আবরণ এবং অন্যটিতে আছে অপর পাশে পলের আবরণ। এদের এক গোত্রের পলের আবরণ আশ্চর্যজনকভাবে আলোক রশ্মিকে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু অপরটির আবরণ ভেদ করেই আলো যেতে পারে। তবে এ দুটো পলের আবরণের মধ্যে কেন এই পার্থক্য সৃষ্টি হচ্ছে, তিনি সেটা বুঝতে পারছিলেন না। এরপর তিনি দুটো পলের আবরণকেই একত্রিত করে মিশিয়ে দিলেন। তাতে ফল পাওয়া গেল। এবার আলোকরশ্মি ভেদ করতে পারল পলের আবরণ। এমনি করে পাস্তুর তাঁর সর্বপ্রথম বিজ্ঞান গবেষণায় সাফল্য লাভ করলেন।

তিনি অনুমান করলেন, হয়তো এদের মধ্যকার অ্যাটমের গঠনবৈশিষ্ট্যের পার্থক্যের জন্যই এরকমটা হচ্ছে। কিন্তু একান্ত ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও পাস্তুরের পক্ষে বস্তুর পরমাণুর গঠন-বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে তখনই দেখা সম্ভব হয়নি। কারণ, তখনও পরমাণু বিশ্লেষণ করার মতো বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি আবিষ্কারই হয়নি। লুই পাস্তুরের এই গবেষণার ফলেই বিজ্ঞানের একটি নতুন শাখার জন্ম হয়—স্টেরিওকেমিস্ট্রি। তারও বহু বছর পরে আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে পাস্তুরের সূত্র প্রমাণ করে দেখা সম্ভব হয়েছে।

লুই পাস্তুর শুধু বিজ্ঞান গবেষণা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন না, তিনি ১৮৪৮ সালে রাজনীতির সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েন। এই সময় ফ্রান্সে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হলে তিনি দেশে ফিরে গিয়ে ন্যাশনাল গার্ড-এর পক্ষে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও কাজ করেন। সেই বছরেরই শরৎকালে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে এই মর্মে নিয়োগপত্র পেলেন যে, তাঁকে শিক্ষকতার পদে ডিজোঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিতে হবে।

অবশ্য এর পেছনে কারসাজি ছিল তাঁরই শুভাকাঙ্ক্ষী দুজন শিক্ষক অধ্যাপক বিয়ো এবং অধ্যাপক বালার্ড-এর।

এঁরা যখন দেখলেন, পাস্তুরের মতো একজন প্রতিভাবান ছেলে রাজনীতিতে নেমে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তাই তাঁকে আবার শিক্ষাজীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ধরে গোপনে তাঁর চাকরির ব্যবস্থা করেন। কিন্তু পাস্তুর এই চাকরিতে যোগদান না করে দক্ষিণ ইউরোপের দেশসমূহে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন।

এরপর তিনি স্ট্রাসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নশাস্ত্রের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এখানে তিনি অধ্যাপনা করেন মোট পাঁচ বছর।

এই সময় স্ট্রাসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষ ছিলেন প্রফেসার এম. লোরেঁ। বিভিন্ন উপলক্ষে তিনি প্রায়ই লোৱেঁর অফিসে ও বাসায় যেতেন। সেখানেই সাক্ষাৎ হয় মেয়ে ম্যারি লোরের সঙ্গে। প্রথম দর্শনেই প্রেম। তারপর কয়েক মাসের মধ্যেই ১৮৪৯ সালের ১৯ মে ম্যারিকে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেন পাস্তুর।

রাজনীতি ও বিয়ে করা এবং অধ্যাপনার কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও পাস্তুর টারটারিক অ্যাসিডের ওপর তাঁর গবেষণা অব্যাহত রাখেন। অবশেষে ১৮৫৩ সালে এ ব্যপারে তিনি কিছুটা সাফল্য অর্জন করেন। তিনি এই অ্যাসিডের প্রকৃতিতে কিছুটা পরিবর্তন ঘটাতেও সক্ষম হন।

এই সময় একদিন তিনি লক্ষ্য করলেন, অ্যাসিড সলিউশনের চারপাশে একধরনের ছত্রাক গজিয়েছে। এই ছত্রাকগুলোর দিকে আলোর রেখা প্রেরণ করলে আলোর রেখাকে শুধু বাঁদিকে বেঁকে যেতে দেখা যায়। ফলে তিনি আরও পরীক্ষা চালিয়ে দেখলেন যে, এর মধ্যে আছে একধরনের জীবন্ত বস্তু বা জীবাণু। এর জীবাণুরা শুধু অ্যাসিডের একটিমাত্র অণুকেই পছন্দ করে তার দিকে ধাবিত হয়। এই থেকেই লুই পাস্তুর জীবাণুর কার্যক্ষমতা নির্ণয় করতে সক্ষম হন। তিনি দেখলেন, অ্যাসিডের মধ্যকার জীবাণুরাই অ্যাসিডের গুণগত মানের পরিবর্তন ঘটিয়ে থাকে।

এই সময় লুই পাস্তুর লিলি বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও ডিনের পদে নিয়োগপত্র লাভ করেন।

ঠিক একই সময় পাউসেট নামের একজন বিজ্ঞানী পরীক্ষা করে ঘোষণা দিলেন যে, জীব থেকেই জীবের জন্ম। জীবাণু থেকেই জীবাণুর উৎপত্তি। কিন্তু লুই পাস্তুর বললেন, না, তা নয়। জীব বা জীবাণু আপনা থেকেও জন্মাতে পারে। তিনি ব্যাপারটা পরীক্ষা করেই দেখালেন।

আরেক দিন এক মদের ব্যবসায়ী এলেন তাঁর কাছে। তিনি বিট থেকে মদ তৈরি করতেন। কিন্তু তাঁর তৈরি মন স্বল্প ক’দিনের ব্যবধানেই কেন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তার সমাধান পেতে তাঁরা পাস্তুরের কাছে যান।

পাস্তুর পরীক্ষা করে দেখলেন—চিনি গাঁজিয়ে ওঠার জন্যেই মদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চিনিকে গাঁজিয়ে তোলে এক ধরনের জীবাণু। তিনি এই জীবাণুনাশের ব্যবস্থা করলেন। তার পর থেকে আর মদ নষ্ট হতো না।

একবার ফ্রান্সের এক গুটিপোকার চাষের খামারে মড়ক শুরু হয়। ডাকা হলো পাস্তুরকে। তিনি এসে দেখলেন, এক ধরনের জীবাণুই এই মড়কের মূল কারণ। তিনি এই জীবাণুধ্বংসের ব্যবস্থা করলেন। ফরে মড়ক বন্ধ হলো। রক্ষা পেল কোটি টাকা মূল্যের খামার।

১৮৫৭ সালে লুই পাস্তুর লিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে দিয়ে প্যারিসের ইকোলে নরম্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ১৮৬২ সালে তিনি অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সের সদস্য নির্বাচিত হন।

ফ্রান্সে তখন অ্যানথ্রাক্স নামে এক বিচিত্র রোগে প্রতি বছর হাজার হাজার জীবজন্তু মারা পড়ত। পাস্তুর লক্ষ্য করলেন, মৃত পশুর শরীরের রক্তে এক ধরনের জীবাণু রয়েছে। আর এ-কারণেই এই রোগ হয়ে থাকে।

তিনি আরও লক্ষ্য করলেন, যদি এই রোগের জীবাণু অল্প পরিমাণে কোনো পশুর শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, তবে সেই পশুটি সামান্য পরিমাণে রোগাক্রান্ত হলেও সে তার নিজের দেহে একটি প্রতিরোধ ক্ষমতাও গড়ে তুলতে পারবে। ফরে সে আর ঐ রোগে আক্রান্ত হবে না।

লুই পাস্তুর দেশের বহু বিজ্ঞানীকে চ্যালেঞ্জ করে তাঁদের সামনেই এই পরীক্ষা করে তাঁর আবিষ্কৃত তথ্যের সত্যতা প্রমাণ করে দেখালেন।

তবে পাস্তুরের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার হল জলাতঙ্ক রোগের কারণ ও তার নিবারণের উপায় উদ্ভাবন এর জন্যই তিনি বিশ্বে অমর হয়ে থাকবেন।

একবার ফ্রান্সে বিজ্ঞানী লুই পাস্তুরের জনপ্রিয়তার ব্যাপারে জরিপ চালানো হয়। এই জরিপের ফলাফলে তিনি পেয়েছিলেন সর্বাধিক সংখ্যক ভোট। দ্বিতীয় হয়েছিলেন সম্রাট নেপোলিয়ন আর তৃতীয় স্থানে ছিলেন ভিক্টর উগো।

সারা দেশে তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল বিস্ময়কর। তেমনি বিদেশেও। একবার ১৮৮২ সালে লন্ডনে বিজ্ঞানীদের এক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ফ্রান্স থেকে তাতে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো হয় বিজ্ঞানী লুই পাস্তুরকে। তিনি যখন অধিবেশন হলে গিয়ে পৌঁছুলেন, তখন সম্মেলনস্থল লোকে লোকারণ্য।

লুই পাস্তুর ভাবলেন, নিশ্চয়ই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রাজা আসছেন সম্মেলনকক্ষে এর উদ্বোধন করার জন্য। তাই হয়তো প্রজারা তাঁকে এক নজর দেখার জন্য এমন ভিড় করেছে। এত উল্লাস করছে। লুই পাস্তুর কংগ্রেসের সভাপতিকে বললেন, নিশ্চয়ই এখন রাজা আসছেন, তাই সবাই এত জয়ধ্বনি করছে?

কংগ্রেস সভাপতি হেসে বললেন, না, তিনি এখন আসছেন না।

–তা হলে ওরা এত জয়ধ্বনি করছে কেন?

—ওরা আপনাকেই অভিনন্দন জানাচ্ছে। কেবল আপনাকেই দেখার জন্য এখানে ভিড় করেছে। আপনি এ অধিবেশনে আসছেন, এ খবর সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সেজন্যই ওরা এসেছে আপনাকে এক নজর দেখতে।

এই ছিলেন লুই পাস্তুর। তাঁর সম্পর্কে বলা হয়, পৃথিবীতে যে-মানুষটি মানবসমাজের সবচেয়ে বেশি কল্যাণসাধন করে গেছেন, তিনি অন্য আর কেউ নন, লুই পাস্তুর।

১৮৬৮ সালের প্রথমদিকে তাঁর জীবনে একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। তাঁর দুটি নাবালিকা কন্যাই প্রায় একইসাথে মৃত্যুবরণ করে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় তিনি খুবই ভেঙে পড়েন। ফলে সেই বছরেরই ১৯ অক্টোবর তারিখে তাঁর স্ট্রোক হয়। এতে তাঁর শরীরের অংশবিশেষ অবশ হয়ে যায়। পরে সামান্য সুস্থ হয়ে তিনি আবার চাকরিতে যোগদান করেন।

এরপরও তিনি পঙ্গু শরীর নিয়েই কাজ চালিয়ে যান এবং জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কার করেন। শেষ জীবনে পাস্তুর তাঁর গবেষণার জন্য, বিশেষ করে জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কারের জন্য বিশ্বব্যাপী খ্যাতি ও সম্মান লাভ করেন।

তাঁর মৃত্যু হয় ১৮৯৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর। ফ্রান্সে তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত একটি গবেষণা কেন্দ্রের চত্বরেই তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। আজও লাখো ভক্ত তাঁকে প্রতিদিন শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে গিয়ে থাকেন।

সকল অধ্যায়
১.
হযরত মুহাম্মদ (দঃ) (৫৭০-৬৩২) – সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী
২.
জরথুশত্র (৬২৮-৫৫১ খ্রি. পূ.) – পারশি ধর্মের প্রবর্তক
৩.
বর্ধমান মহাবীর (৫৯৯–৫২৭ খ্রি. পূ.) – জৈন দর্শন ও ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা
৪.
গৌতম বুদ্ধ (৫৬৩–৪৮৩ খ্রি. পূ.) – বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক
৫.
কনফুসিয়াস (৫৫১–৪৭৯ খ্রি. পূ.) – চীনের প্রাচীনতম ধর্মমতবাদের প্রবর্তক
৬.
সক্রেটিস (আনু. ৪৬৯–৩৯৯ খ্রি. পূ.) – দর্শনশাস্ত্রের আদিজনক
৭.
প্লেটো (৪২৮–৩৪৭ খ্রি. পূ.) – দর্শনশাস্ত্র যাঁর হাতে পেয়েছিল পূর্নাঙ্গরূপ
৮.
ডায়োজিনিস (৪১২–৩২২ খ্রি. পূ.) – একনিষ্ঠ জ্ঞান সাধক
৯.
অ্যারিস্টটল (৩৮৪-৩২২ খ্রি. পূ.) – যুক্তিশাস্ত্রের জনক
১০.
যিশু খ্রিস্ট (আনু. ৬ খ্রি. পূ.–আনু. ২৯ খ্রি.) – খ্রিস্টানধর্মের প্রবর্তক
১১.
অতীশ দীপঙ্কর (৯৮২–১০৫৩) – জ্ঞানসাধক বৌদ্ধ ধর্মের প্রচারক
১২.
গুরু নানক (১৪৬৯–১৫৩৮) – শিখ ধর্মমতের প্রবর্তক
১৩.
মার্টিন লুথার (১৪৮৩-১৫৪৬) – ধর্মের সংস্কারক এবং ‘প্রটেস্টানিজম’ মতবাদের স্রষ্টা
১৪.
মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য (১৪৮৬-১৫৩৩) – বৈষ্ণবধর্মের প্রবর্তক
১৫.
রামমোহন রায় (১৭৭২–১৮৩৩) – ভারতবর্ষে নবযুগের প্রবর্তক
১৬.
রামকৃষ্ণ পরমহংস (১৮৩৬–১৮৮৬) – ‘হ্যাঁ, নিশ্চয়ই আমি ঈশ্বরকে দর্শন করেছি’
১৭.
বারট্রান্ড রাসেল (১৮৭২–১৯৭০ ) – যুদ্ধ-বিরোধী ও মানবতাবাদী দার্শনিক
১৮.
থ্যালিস (আনু. ৬২৪–৫৬৫ খ্রি. পূ.) – বিজ্ঞানশাস্ত্রের আদিপুরুষ
১৯.
পিথাগোরাস (আনু. ৫৮২–৫০৭ খ্রি. পূ.) – তিনি বলেছিলেন—পৃথিবী গোলাকার
২০.
হিপোক্র্যাটিস (আনু: ৪৬০–৩৭০ খ্রি. পূ.) – চিকিৎসাশাস্ত্রের আদিজনক
২১.
আর্কিমিডিস (২৮৭–২১২ খ্রি. পূ.) – ঊর্ধ্বমুখী বল সূত্রের আবিষ্কারক
২২.
ক্লডিয়াস টলেমি (১০০–১৮০ খ্রি.) – জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রথম কোষগ্রন্থ প্রণেতা
২৩.
ক্লডিয়াস গ্যালেন (১৩১–২০১ খ্রি.) – চিকিৎসাশাস্ত্রের আধুনিক পদ্ধতির আদি জনক
২৪.
ইবনে সিনা (৯৮০–১০৩৭) – জ্ঞানসাধনায় কাটিয়েছিলেন সমগ্র জীবন
২৫.
কোপারনিকাস (১৪৭৩–১৫৪৩) – আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানে প্ৰবক্তা
২৬.
জিওর্দানো ব্রুনো (আনু. ১৫৪৮–১৬০০ ) – সত্যপ্রচারের অপরাধে যাঁকে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছিল
২৭.
গ্যালিলিও গ্যালিলি (১৫৬৪-১৬৪২) – যাঁর গাণিতিক পদ্ধতি আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি
২৮.
লিওয়েন হুক (১৬৩২–১৭৩৩) – মুদি দোকানদার থেকে বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী
২৯.
আইজাক নিউটন (১৬৪২–১৭২৭) – মাধ্যাকর্ষন শক্তির আবিষ্কারক
৩০.
রিচার্ড আর্করাইট (১৭৩২–১৭৯২) – আধুনিক বস্ত্রশিল্পে বৈপ্লবিক ধারা প্রবর্তক
৩১.
উইলিয়াম হার্শেল (১৭৩৮–১৮২২) – ইউরেনাস গ্রহের আবিষ্কারক
৩২.
লরেঁ লাভোয়সিয়ের (১৭৪৩–১৭৯৪) – রসায়নশাস্ত্রের জনক
৩৩.
মাইকেল ফ্যারাডে (১৭৯১-১৮৬৭) – তাড়িত-চুম্বক বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা
৩৪.
চার্লস ডারউইন (১৮০৯-১৮৮২) – প্রাণিজগতের বিবর্তনবাদের ব্যাখ্যাদাতা
৩৫.
লুই পাস্তুর (১৮২২–১৮৯৫) – জীবাণু আর জলাতঙ্ক রোগ প্রতিষেধকের আবিষ্কারক
৩৬.
আলফ্রেড নোবেল (১৮৩৩–১৮৯৬) – যাঁর নামে দেয়া হয় নোবেল পুরস্কার
৩৭.
আলভা এডিসন (১৮৪৭–১৯৩১) – সর্বাধিক আবিষ্কারের জনক
৩৮.
জগদীশচন্দ্র বসু (১৮৫৯–১৯৩৭) – যিনি বলেছিলেন গাছেরও প্রাণ আছে
৩৯.
মাদাম কুরি (১৮৬৭–১৯৩৪) – সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহিলা বিজ্ঞানী
৪০.
মার্কোনি (১৮৭৪–১৯৩৭) – বেতারযন্ত্রের আবিষ্কারক
৪১.
আলবার্ট আইনস্টাইন (১৮৭৯–১৯৫৫) – আপেক্ষিক তত্ত্বের জনক
৪২.
আলেকজান্ডার ফ্লেমিং (১৮৮১–১৯৫৫) – পেনিসিলিনের আবিষ্কারক
৪৩.
হোমার (আনু. ৭০০-? খ্রি. পূ.) – বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দুটি মহাকাব্যের রচয়িতা
৪৪.
ঈশপ (আ. কা. ৬২০–৫৬০ খ্রি. পূ.) – কালজয়ী নীতিগল্পকার
৪৫.
সোফোক্লেস (আনু. ৪৯৫-৪০৬ খ্রি. পূ.) – গ্রিক ট্র্যাজেডি নাট্যধারার রূপকার
৪৬.
হেরোডোটাস (আনু. ৪৮৫–৪২৫ খ্রি. পূ.) – ইতিহাসশাস্ত্রের জনক
৪৭.
অ্যারিস্টোফানিস (আনু. ৪৪৪–৩৮৫ খ্রি. পূ.) – যাঁর সাহিত্যকর্মে আর্তমানবতার কথা প্রতিফলিত
৪৮.
মহাকবি কালিদাস (আনু. ৫৭০-৬৫০ খ্রি.) – সংস্কৃতি সাহিত্যের অমর কবি
৪৯.
লেওনার্দো দা ভিঞ্চি (১৪৫২–১৫১৯) – সর্বকালের শ্রেষ্ঠ চিত্রশিল্পী
৫০.
মিকেলাঞ্জেলো (১৪৭৫–১৫৬৪) – পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাস্কর শিল্পী
৫১.
তানসেন (১৫০৬–১৫৮৫) – কিংবদন্তির গায়ক
৫২.
শেকসপিয়ার (১৫৬৪-১৬১৬) – বিশ্বসাহিত্যের কালজয়ী নাট্যকার
৫৩.
ভলতেয়ার (১৬৯৪-১৭৭৮) – বিখ্যাত ফরাসি চিন্তাবিদ
৫৪.
জঁ-জাক্ রুসো (১৭১২–১৭৭৮) – ফরাসি বিপ্লবের রূপকার
৫৫.
লর্ড বায়রন (১৭৮৮–১৮২৪) – ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি
৫৬.
ভিক্টর হুগো (১৮০২-১৮৮৫) – ফরাসি সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল
৫৭.
ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন (১৮০৫–১৮৭৫) – যাঁকে বলা হয় রূপকথার জাদুকর
৫৮.
চার্লস ডিকেন্স (১৮১২–১৮৭০) – ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল
৫৯.
ওয়াল্ট হুইটম্যান (১৮১৯-১৮৯২) – মার্কিন সাহিত্যের যুগ-প্রবর্তক কবি
৬০.
লিয়েফ তলস্তোয় (১৮২৮–১৯১০) – বিশ্বের মহান সাহিত্যিকদের অন্যতম
৬১.
জুল ভের্ন (১৮২৮–১৯০৫) – কল্পবিজ্ঞান কাহিনীর স্রষ্টা
৬২.
মার্ক টোয়েন (১৮৩৫–১৯১০) – বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রসস্রষ্টা
৬৩.
জর্জ বার্নার্ড শ (১৮৫৬–১৯৫০) – যিনি প্রথম নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন
৬৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১) – শ্রেষ্ঠ বাঙালি মনীষা, পৃথিবীর মহত্তম সাহিত্য-ব্যক্তিত্ব
৬৫.
ম্যাক্সিম গোর্কি (১৮৬৮–১৯৩৬) – যাঁর সাহিত্যকর্মের প্রধান উপজীব্য গণমানুষের কথা
৬৬.
হেলেন কেলার (১৮৮০-১৯৬৮) – যাঁর খ্যাতিকে নেপোলিয়নের সঙ্গে তুলনা করা হতো
৬৭.
আর্নেস্ট হেমিংওয়ে (১৮৯৮–১৯৬১) – জীবনবাদী মার্কিন কথাসাহিত্যিক
৬৮.
কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯–১৯৭৬) – বাংলার বিদ্রোহী কবি
৬৯.
জর্জ ওয়াশিংটন (১৭৩২–১৭৯৯) – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট
৭০.
নেপোলিয়ন বোনাপার্ট (১৭৬৯-১৮২১) – ইতিহাসের কিংবদন্তির মহানায়ক
৭১.
জুসেপ্পে গারিবলদি (১৮০৭–১৮৮২) – ইতালির জনক বলে যাঁর খ্যাতি
৭২.
আব্রাহাম লিংকন (১৮০৯-১৮৬৫) – যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্রীতদাসপ্রথা রহিত করেছিলেন
৭৩.
অটো ফন বিসমার্ক (১৮১৫–১৮৯৮) – জার্মান সাম্রাজ্যের স্থপতি
৭৪.
মহাত্মা গান্ধি (১৮৬৯–১৯৪৮) – ‘সবকো সুমতি দে ভগবান’
৭৫.
কমরেড লেনিন (১৮৭০–১৯২৪) – বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা
৭৬.
উইনস্টন চার্চিল (১৮৭৪–১৯৬৫) – দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকালীন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ডাকসাইটে প্রধানমন্ত্রী
৭৭.
জোসেফ স্ট্যালিন (১৮৭৯–১৯৫৩) – সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়েনের ‘লৌহমানব’
৭৮.
কামাল আতাতুর্ক (১৮৮১–১৯৩৮) – নব্য-তুরস্কের জনক
৭৯.
ডি ভ্যালেরা (১৮৮২-১৯৭৫) – আয়ারল্যান্ডের প্রথম প্রেসিডেন্ট
৮০.
জওহরলাল নেহরু (১৮৮৯-১৯৬৪) – ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী
৮১.
আইসেনহাওয়ার (১৮৯০-১৯৬৯) – দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকালীন মিত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক
৮২.
শার্ল দ্য গল (১৮৯০-১৯৭০) – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতা
৮৩.
হো-চি-মিন (১৮৯০-১৯৬৯) – ভিয়েতনামের মুক্তিদাতা পুরুষ
৮৪.
মার্শাল টিটো (১৮৯২–১৯৮০) – জোট-নিরপেক্ষ আন্দোলনের অন্যতম প্রবক্তা
৮৫.
মাও-সে-তুং (১৮৯৫–১৯৭৬) – চীন সাধারণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা
৮৬.
সুভাষচন্দ্র বসু (১৮৯৭–১৯৪৫) – ‘তোমরা আমাকে রক্ত দাও আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব’
৮৭.
জন এফ কেনেডি (১৯১৭–১৯৬৩) – গুপ্তঘাতকের হাতে যাঁকে প্রাণ দিতে হয়েছিল
৮৮.
ইন্দিরা গান্ধি (১৯১৭–১৯৮৪) – বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব
৮৯.
নেলসন ম্যান্ডেলা (১৯১৮) – দক্ষিণ আফ্রিকার মুক্তিদাতা পুরুষ
৯০.
শেখ মুজিবর রহমান (১৯২০–১৯৭৫) – বাংলাদেশের জাতির জনক
৯১.
প্যাট্রিস লুমুম্বা (১৯২৫-১৯৬১) – কঙ্গোর মুক্তিদাতা পুরুষ
৯২.
মার্কো পোলো (১২৫৬–১৩২৩) – দুঃসাহসিক অভিযাত্রী
৯৩.
ক্রিস্টোফার কলম্বাস (আনু. ১৪৪৬-১৫০৬) – আমেরিকার আবিষ্কারক
৯৪.
ডেভিড লিভিংস্টোন (১৮১৩-১৮৭৩) – আফ্রিকার আবিষ্কারক
৯৫.
উইলিয়াম জোন্স (১৭৪৬–১৭৯৪) – এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা
৯৬.
ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল (১৮২০–১৯১০) – আধুনিক ‘নার্সিং’ বৃত্তির অগ্রপথিক
৯৭.
হেনরি ডুনান্ট (১৮২৮–১৯১০) – রেডক্রস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা
৯৮.
ব্যাডেন পাওয়েল (১৮৫৭–১৯৪১) – বয়স্কাউট আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা
৯৯.
মাদার তেরেসা (১৯১০–১৯৯৭) – প্রেম, করুণা ও ধর্মের মূর্ত প্রতিমা
১০০.
অ্যাডাম স্মিথ (১৭২৩–১৭৯০) – রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্র বিজ্ঞানের জনক

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%