২৮. বেণী ও বেচারামবাবুর নিকট বরদাবাবুর সততা ও কাতরতা প্রকাশ এবং ঠকচাচা ও বাহুল্যের কথোপকথন।

টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)

বৈদ্যবাটীর বাটী ক্রমে অন্ধকারময় হইল –রক্ষণাবেক্ষণ করে এমন অভিভাবক নাই –পরিজনেরা দুরবস্থায় পড়িল –দিন চলা ভার হইল, গ্রামের লোকে বলিতে লাগিল বালির বাঁধ কতক্ষণ থাকিতে পারে? ধর্মের সংসার হইলে প্রস্তরের গাঁথনি হইত। এদিকে মতিলাল নিরুদ্দেশ –দলবলও অন্তর্ধান –ধুম-ধাম কিছুই শুনা যায় না –প্রেমনারায়ণ মজুমদারের বড়ো আহ্লাদ –বেণীবাবুর বাড়ির দাওয়ায় বসিয়া তুড়ি দিয়া “বাবলার ফুল লো কানে লো দুলালি, মুড়িমুড়কির নাম রেখেছো রুপালী সোনালী” এই গান গাইতেছেন। ঘরের ভিতরে বেণীবাবু তানপুরায় মেও মেও করিয়া হামির রাগ ভাঁজিয়া “চামেলি ফুলি চম্পা” এই খেয়াল সুরৎ মূর্ছনা ও গমক প্রকাশপূর্বক গান করিতেছেন। ওদিকে বেচারামবাবু “ভবে এসে প্রথমেতে পাইলাম আমি পঞ্জুড়ি” এই নরচন্দ্রী পদ ধরিয়া রাস্তায় যাবতীয় ছোঁড়াগুলাকে ঘাঁটাইয়া আসিতেছেন। ছোঁড়ারা হো হো করিয়া হাততালি দিতেছে। বেচারামবাবু এক একবার বিরক্তি হইয়া “দূঁর দূঁর” করিতেছেন। যৎকালে নাদের শা দিল্লী আক্রমণ করেন তৎকালীন মহম্মদ শা সংগীত শ্রবণে মগ্ন ছিলেন –নাদের শা অস্ত্রধারী হইয়া সম্মুখে উপস্থিত হইলে মহম্মদ শা কিছুমাত্র না বলিয়া সংগীতসুধা পানে ক্ষণকালের জন্যেও ক্ষান্ত হয়েন নাই –পরে একটি কথাও না কহিয়া স্বয়ং আপন সিংহাসন ছাড়িয়া দেন। বেচারামবাবুর আগমনে বেণীবাবু তদ্রূপ করিলেন না –তিনি অমনি তানপুরা রাখিয়া তাড়াতাড়ি উঠিয়া সম্মানপূর্বক তাঁহাকে বসাইলেন। কিয়ৎক্ষণ শিষ্ট মিষ্ট আলাপ হইলে পর বেচারামবাবু বলিলেন –বেণী ভায়া। এতদিনের পর মুষলপর্ব হইল –ঠকচাচা আপন কর্মদোষে অধঃপাতে গেলেন। তোমার মতিলালও আপন বুদ্ধিদোষে রূপস্‌ হইলেন। ভায়া ! তুমি আমাকে সবর্দা বলিতে ছেলের বাল্যকালাবধি মাজা বুদ্ধি ও ধর্মজ্ঞান জন্য শিক্ষা না হইলে ঘোর বিপদ ঘটে, এ কথাটির উদাহরণ মতিলালেতেই পাওয়া গেল। দুঃখের কথা কি বলিব? এ সকল দোষ বাবুরামের –তাঁহার কেবল মোক্তারি বুদ্ধি ছিল –বুড়িতে চতুর কিন্তু কাহনে কানা, দূঁর দূঁর !!

বেণী। আর এ সকল কথা বলিয়া আক্ষেপ করিলে কি হইবে? এ সিদ্ধান্ত অনেকদিন পূর্বেই করা হয়েছিল –যখন মতির শিক্ষা বিষয়ে এত অমনোযোগ ও অসৎ সঙ্গ নিবারণের কোনো উপায় হয় নাই তখনই রাম না হতে রামায়ণ হইয়াছিল। যাহা হউক, বাঞ্ছারামেরই পহবারো –বক্রেশ্বরের কেবল আঁকুপাঁকু সার। মাস্টারি কর্ম করিয়া বড়োমানুষের ছেলেদের খোশামোদ করিতে এমন আর কাহাকেও দেখা গেল না –ছেলেপুলেদের শিক্ষা দেওয়া তথৈবচ, কেবল রাত-দিন লব লব, অথচ বাহিরে দেখানো আছে আমি বড়ো কর্ম করিতেছি –যা হউক মতিলালের নিকট বাওয়াজির আশাবায়ু নিবৃত্তি হয় নাই –তিনি “জল দে, জল দে” বলিয়া গগিয়া আকাশ ফাটাইয়াছেন কিন্তু লাভের মেঘও কখন দেখিতে পান নাই –বর্ষণ কি প্রকারে দেখিবেন ?

প্রেমনারায়ণ মজুমদার বলিল –মহাশয়দিগের আর কি কথা নাই? কবিকঙ্কণ গেল –বাল্মীক গেল –ব্যাস গেল –বিষয়কর্মের কথা গেল –একা বাবুরামি হাঙ্গামে পড়ে যে প্রাণ ওষ্ঠগত হইল –মতে ছোড়া যেমন অসৎ তেমনি তার দুর্গতি হইয়াছে, সে চুলায় যাউক, তাহার জন্য কিছু খেদ নাই।

হরি তামাক সাজিয়া হুঁকাটি বেণীবাবুর হাতে দিয়া বলিল –সেই বাঙালবাবু আসিতেছেন। বেণী বাবু উঠিয়া দেখিলেন বরদাপ্রসাদবাবু ছড়ি হাতে করিয়া ব্যস্ত হইয়া আসিতেছেন –অমনি বেণীবাবু ও বেচারামবাবু উঠিয়া অভ্যর্থনা করিয়া তাঁহাকে বসাইলেন –পরস্পরের কুশল জিজ্ঞাসা হইলে পর বরদাবাবু বলিলেন –এদিকে তো যা হবার তা হয়ে গেল সম্প্রতি আমার একটি নিবেদন আছে –বৈদ্যবাটীতে আমি বহুকালাবধি আছি –একারণ সাধ্যানুসারে সেখানকার লোকদিগের তত্ত্ব লওয়া আমার কর্তব্য –আমার অধিক ধন নাই বটে কিন্তু আমি যেমন মানুষ বিবেচনা করলে পরমেশ্বর আমাকে অনেক দিয়েছে, আমি অধিক আশা করিলে কেবল তাঁহার সুবিচারের উপর দোষারোপ করা হয় –এ কর্ম মানবগণের উচিত নহে। যদিও প্রতিবেশীদের তত্ত্ব লওয়া আমার কর্তব্য কিন্তু আমার আলস্য ও দুরদৃষ্টবশত ঐ কর্ম আমা হইতে সম্যক্‌ রূপে নির্বাহ হয় নাই। এক্ষণে –

বেচারাম। এ কেমন কথা। বৈদ্যবাটীর যাবতীয় দুঃখী প্রাণী লোককে তুমি নানা প্রকারে সাহায্য করিয়াছ –কি খাদ্য দ্রব্যে –কি বস্ত্রে –কি অর্থে –কি ঔষধে –কি পুস্তকে –কি পরামর্শে –কি পরিশ্রমে, কোনো অংশ ক্রটি করো নাই। ভায়া ! তোমার গুণকীর্তনে তাহাদিগের অশ্রুপাত হয় –আমি এ সব ভালো জানি –আমার নিকট ভাঁড়াও কেন ?

বরদা। আজ্ঞে না ভাঁড়াই নাই –মহাশয়কে স্বরূপ বলিতেছি, আমা হইতে কাহারো যদি সাহায্য হইয়া থাকে তাহা এত অল্প যে স্মরণ করিলে মনের মধ্যে ধিক্‌কার জন্মে। সে যা হউক, এখন আমার নিবেদন এই মতিলালের ও ঠকচাচার পরিবারেরা অন্নাভাবে মারা যায় –শুনিতে পাই তাহাদের উপবাসে দিন যাইতেছে, এ কথা শুনিয়া বড়ো দুঃখ হইল, এজন্য আমার নিকট যে দুই শত টাকা ছিল তাহা আনিয়াছি। আপনারা আমার নাম না প্রকাশ করিয়া কোনো কৌশলে এই টাকা পাঠাইয়া দিলে আমি বড়ো আপ্যায়িত হইব।

এই কথা শুনিয়া বেণীবাবু নিস্তব্ধ হইয়া থাকিলেন। বেচারামবাবু ক্ষণেক কাল পরে বরদাবাবুর দিকে দৃষ্টি করিয়া ভক্তিভাবে নয়নবারিতে পরিপূর্ণ হওত তাঁহার গলায় হাত দিয়া বলিলেন –ভাই হে ! ধর্ম যে কি পদার্থ, তুমিই তাহা চিনেছ –আমাদের বৃথা কাল গেল –বেদে ও পুরাণে লেখে যাহার চিত্ত শুদ্ধ সে-ই পরমেশ্বরকে দেখিতে পায় –তোমার যেমন মন পরেমশ্বর তোমাকে তেমনি সুখে রাখুন। তবে রামলালের সংবাদ কিছু পাইয়াছ ?

বরদা। কয়েক মাস হইল হরিদ্বার হইতে এক পত্র পাইয়াছি –তিনি ভালো আছেন –প্রত্যাগমনের কথা কিছুই লেখেন নাই।

বেচারাম। রামলাল ছেলেটি বড়ো ভালো –তাকে দেখলে চক্ষু জুড়ায় –অবশ্য তার ভাল হবে –তোমার সংসর্গের গুণে সে তরে গিয়েছে।

এখানে ঠকচাচা ও বাহুল্য জাহাজে চড়িয়া সাগর পার হইয়া চলিয়াছে। দুটিতে মানিকজোড়ের মতো, এক জায়গায় বসে –এক জায়গায় খায় –এক জায়গায় শোয়, সর্বদা পরস্পরের দুঃখের কথা বলাবলি করে। ঠকচাচা দীর্ঘনিশ্বাস ত্যাগ করিয়া বলে –মোদের নসিব বড়ো বুরা –মোরা একেবারে মেটি হলুম –ফিকির কিছু বেরোয় না, মোর শির থেকে মতলব পেলিয়া গেছে –মোকান বি গেল –বিবি সাথে বি মোলাকাত হল না –মোর বড়ো ডর তেনা বি পেল্টে শাদি করে।

বাহুল্য বলিল –দোস্ত ! ওসব বাত দেল থেকে তফাত করো –দুনিয়াদারি মুসাফিরি –সেরেফ আনা যানা –কোই কিসিকা নেহি –তোমার এক কবিলা, মোর চেট্টে –সব জাহানম্মে ডাল দাও, আবি মোদের কি ফিকিরে বেহতর হয় তার তদ্বির দেখো।

বাতাস হু হু বহিতেছে, জাহাজ একপেশে হইয়া চলিয়াছে, তুফান ভয়নক হইয়া উঠিল। ঠকচাচা ত্রাসে কম্পিতকলেবর হইয়া বলিতেছেন –দোস্ত ! মোর বড়ো ডর মালুম হচ্ছে, আন্দাজ হয় মোর মৌত নজদিগ।

বাহুল্য বলিল –মোদের মৌতের বাকি কি ? মোরা মেম্‌দো হয়ে আছি চলো মোরা নীচু গিয়া আল্লামির দেবাচা পড়ি –মোর বেলকুল নেকজাবান আছে যদি ডুবি তো পীরের নাম নিয়ে চেল্লাব।

সকল অধ্যায়
১.
০১. বাবুরামবাবুর পরিচয়—মতিলালের বাঙ্গালা, সংস্কৃত ও ফার্সী শিক্ষা।
২.
০২. মতিলালের ইংরাজী শিখাবার উদ্‌যোগ গো বাবুরামবাবুর বালীতে গমন।
৩.
০৩. মতিলালের বালীতে আগমন ও তথায় লীলাখেলা, পরে ইংরাজী শিক্ষার্থে বহুবাজারে অবস্থিতি।
৪.
০৪. কলিকাতায় ইংরাজী শিক্ষার বিবরণ, শিশুশিক্ষার প্রকরণ, মতিলালের কুসঙ্গ ও ধৃত হইয়া পুলিশে আনয়ন।
৫.
০৫. বাবুরামবাবুকে সংবাদ দেওনার্থে প্রেমনারায়ণকে প্রেরণ, বাবুরামের সভাবর্ণন, ঠকচাচার পরিচয়, বাবুরামের স্ত্রীর সহিত কথোপকথন, কলিকাতায় আগমন, প্রভাতকালীন কলিকাতার বর্ণন, বাবুরামের বাঞ্ছারামের বাটীতে গমন, তথায় আত্নীয়দিগের সহিত সাক্ষাৎ ও মতিলাল সংক্রান্ত কথোপকথন ।
৬.
০৬. মতিলালের মাতার চিন্তা, ভগিনীদ্বয়ের কথোপকথন, বেণী ও বেচারামবাবুর নীতি বিষয়ে কথোপকথন ও বরদাপ্রসাদবাবুর পরিচয়।
৭.
০৭. কলিকাতার আদিবৃত্তান্ত, জাস্টিস অব পিস নিয়োগ, পুলিশ বর্ণন, মতিলালের পুলিশে বিচার ও খালাস, বাবুরামবাবুর পুত্র লইয়া বৈদ্যবাটী গমন, ঝড়ের উত্থান ও নৌকা জলমগ্ন হওনের আশঙ্কা।
৮.
০৮. উকিল বটলর সাহেবের আপিস—বৈদ্যবাটীর বাটীতে কর্তার জন্য ভাবনা, বাঞ্ছারামবাবুর তথায় গমন ও বিষাদ, বাবুরামবাবুর সংবাদ ও আগমন।
৯.
০৯. শিশুশিক্ষা ও সুশিক্ষা না হওয়াতে মতিলালের ক্রমে ক্রমে মন্দ হওন ও অনেক সঙ্গী পাইয়া বাবু হইয়া উঠন এবং ভদ্র কন্যার প্রতি অত্যাচার করণ।
১০.
১০. বৈদ্যবাটীর বাজার বর্ণন, বেচারামবাবুর আগমন, বাবুরামবাবুর সভায় মতিলালের বিবাহের ঘোঁট ও বিবাহ করণার্থে মণিরামপুরে যাত্রা এবং তথায় গোলযোগ।
১১.
১১. মতিলালের বিবাহ উপলক্ষে কবিতা ও আগরপাড়ার অধ্যাপকদিগের বাদানুবাদ।
১২.
১২. বেচারামবাবুর নিকট বেণীবাবুর গমন, মতিলালের ভ্রাতা রামলালের উত্তম চরিত্র হওনের কারণ, বারদাপ্রসাদবাবুর প্রসঙ্গ— মন শোধনের উপায়।
১৩.
১৩. বরদাপ্রসাদবাবুর উপদেশ দেওন –তাঁহার বিজ্ঞতা ও ধর্মনিষ্ঠা এবং সুশিক্ষার প্রণালী। তাঁহার নিকট রামলালের উপদেশ, তজ্জন্য তাঁহার পিতার ভাবনা ও ঠকচাচার সহিত পরামর্শ। রামলালের গুণ বিষয়ে মনান্তর ও তাঁহার বড়ো ভগিনীর পীড়া ও বিয়োগ।
১৪.
১৪. মতিলাল ও তাহার দলবল একজন কবিরাজ লইয়া তামাশা-ফষ্টি করণ, রামলালের সহিত বরদাপ্রসাদবাবুর দেশ ভ্রমণের ফলের কথা, হুগলী হইতে গুমখুনির পরওয়ানা ও বরদাবাবু প্রভৃতির তথায় গমন।
১৫.
১৫. হুগলীর ম্যাজিস্ট্রেটের কাছারি বর্ণন, বারদাবাবু, রামলাল ও বেণীবাবুর সহিত ঠকচাচার সাক্ষাৎ, সাহেবের আগমন ও তজবিজ আরম্ভ এবং বরদাবাবুর খালাস।
১৬.
১৬. ঠকচাচার বাটীতে ঠকচাচীর নিকট পরিচয় দান ও তাহাদিগের কথোপকথন, তন্মধ্যে বাবুরামবাবুর ডাক ও তাঁহার সহিত বিষয় রক্ষার পরামর্শ।
১৭.
১৭. নাপিত ও নাপ্‌তিনীর কথোপকথন, বাবুরামবাবুর দ্বিতীয় বিবাহকরণের বিচার ও পরে গমন।
১৮.
১৮. মতিলালের দলবল সুদ্ধ বুড়ো মজুমদারের সহিত সাক্ষাৎ ও তাহার প্রমুখাৎ বাবুরামবাবুর দ্বিতীয় বিবহের বিবরণ ও তদ্বিষয়ে কবিতা।
১৯.
১৯. বেণীবাবুর আলয়ে বেচারামবাবুর গমন, বাবু রামবাবুর পীড়া ও গঙ্গাযাত্রা, বরদাবাবুর সহিত কথোপকথনান্তর তাঁহার মৃত্যু।
২০.
২০. মতিলালের যুক্তি, বাবুরামবাবুর শ্রাদ্ধের ঘোঁট, বাঞ্ছারাম ও ঠকচাচার অধ্যক্ষতা, শ্রাদ্ধে পণ্ডিতদের বাদানুবাদ ও গোলযোগ।
২১.
২১. মতিলালের গদিপ্রাপ্তি ও বাবুয়ানা, মাতার প্রতি কুব্যবহার —মাতা ভগিনীর বাটী হইতে গমন ও ভ্রাতাকে বাটীতে আসিতে বারণ ও তাহার অন্য দেশে গমন।
২২.
২২. বাঞ্ছারাম ও ঠকচাচা মতিলালকে সওদাগরি কর্ম করিতে পরামর্শ দেন, মতিলাল দিন দেখাইবার জন্য তর্কসিদ্ধান্তের নিকট মানগোবিন্দকে পাঠান, পর দিবস রাহি হয়েন ও ধনামালার সহিত গঙ্গাতে বকাবকি করেন।
২৩.
২৩. মতিলাল দলবল সমেত সোনাগাজিতে আসিয়া একজন গুরুমহাশয়কে তাড়ান, বাবুয়ানা বাড়াবাড়ি হয়, পরে সৌদাগরি করিয়া দেনার ভয়ে প্রস্থান করেন।
২৪.
২৪. শুদ্ধ চিত্তের কথা, ঠকচাচার জালকরণ জন্য গেরেপ্তারি –বরদাবাবুর দুঃখ, মতিলালের ভয়; বেচারাম ও বাঞ্ছারাম উভয়ের সাক্ষাৎ ও কথোপকথন।
২৫.
২৫. মতিলালের যশোহর জমিদারিতে দলবল সহিত গমন –জমিদারী কর্মকরণের বিবরণ; নীলকরের সঙ্গে দাঙ্গা ও বিচারে নীলকরের খালাস।
২৬.
২৬. ঠকচাচার বেনিগারদে নিদ্রাবস্থায় আপন কথা আপনি ব্যক্তকরণ, পুলিসে বাঞ্ছারাম ও বটলরের সহিত সাক্ষাৎ, মকদ্দমা বড়ো আদালতে চালান, ঠকচাচার জেলে কয়েদ, জেলেতে তাহার সহিত অন্যান্য কয়েদীর কথাবার্তা ও তাহার খাবার অপহরণ।
২৭.
২৭.বাদার প্রজার বিবরণ –বাহুল্যের বৃত্তান্ত ও গ্রেপ্তারি, গাড়ি-চাপা লোকের প্রতি বরদাবাবুর সততা,বড়ো আদালতে ফৌজদারী মকদ্দমা করণের ধারা,বাঞ্ছারামের দৌড়াদোড়ি,ঠকচাচা ও বাহুল্যের বিচার ও সাজা।
২৮.
২৮. বেণী ও বেচারামবাবুর নিকট বরদাবাবুর সততা ও কাতরতা প্রকাশ এবং ঠকচাচা ও বাহুল্যের কথোপকথন।
২৯.
২৯. বৈদ্যবাটির বাটী দখল লওন –বাঞ্ছারামের কুব্যবহার –পরিবারদিগের দুঃখ ও বাটী হইতে বহিষ্কৃত হওন –বরদাবাবুর দয়া।
৩০.
৩০.মতিলালের বারাণসী গমন ও সৎসঙ্গ লাভে চিত্তশোধন। তাহার মাতা ও ভগনীর দুঃখ, রামলাল ও বারদাবাবুর সহিত সাক্ষাৎ -পরে তাহাদের মতিলালের সঙ্গে দেখা, পথে ভয় ও বৈদ্যবাটীতে প্রত্যাগমন।

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%