শিবরাম চক্রবর্তী

কল্কেকাশির কাণ্ড
১. কোরিয়া: চিন, রাশিয়া এবং জাপানের মধ্যবর্তী অংশে, কোরিয়ান পেনিনসুলায় অবস্থিত কোরিয়া বর্তমানে উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ এই দুটি দেশে বিভক্ত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানে দুই মহাশক্তি, সোভিয়েত রাশিয়া অধিকৃত কোরিয়ার উত্তরাঞ্চল উত্তর কোরিয়া এবং আমেরিকার দখলে থাকা দক্ষিণ অংশ দক্ষিণ কোরিয়া হিসেবে চিহ্নিত। উত্তরের রাজধানী পিয়ং ইংয়ং, দক্ষিণের সিওল বা সোল। ৯১৮ স্টাব্দ থেকে ১৩৯২ স্টাব্দ পর্যন্ত গোণ্ডরেয় (Goguryeo) বা গোয়েয় (Goryeo) রাজবংশ কোরিয়া অঞ্চল শাসন করেন। তাদের রাজ্যের নামও ছিল গোরেয়। সেই থেকে কোরিয়া নামের উৎপত্তি। কোরিয়া এবং জাপানের মধ্যে জাপান সাগর অবস্থিত। বিংশ শতকের প্রথম দিক থেকে কোরিয়া ছিল জাপানের পদানত। জাপানি অধিকার থেকে কোরিয়া মুক্ত হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে।
২. কামস্কাটকা: রাশিয়ার পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত অঞ্চল। নাম কামচাটকা ক্রাই (Kamchatka Krai) রাশিয়ার একটি রাজ্য হিসেবে গণ্য হয়। রাজধানী পেট্রোপাভলোভসু-কামচাটস্কি। আয়তন প্রায় ৪,৭২,৩০০ বর্গ কিলোমিটার।
৩. নমিনেশন পেপার: বাংলা অনুবাদে মনোনয়ন পত্র। ভোটে দাঁড়াতে হলে যে ফরমে দস্তখত করে জমা দিতে হয়।
৪. অ্যাটর্নি: অ্যাটর্নি অ্যাট ল'র সংক্ষিপ্ত রূপ। বিভিন্ন দেশে উকিলদের অ্যাটর্নি বলা হত। অনেক দেশে এখনও বলা হয়। ১৮৭৩ সাল থেকে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস এবং ইংল্যান্ডের অধীনস্থ দেশগুলিতে অ্যাটর্নির বদলে সলিসিটর অভিধা প্রচলিত হয়। কিন্তু ভারত রাষ্ট্রে সর্বোচ্চ সরকার উকিলকে এখনও অ্যাটর্নি জেনারেল বলা হয়। ইংল্যান্ডের প্রথা অনুসারে অ্যাটর্নি বা সলিসিটাররা আদালতে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন না। সেই কাজ করেন ব্যারিস্টাররা।
৫. গলস্টোন কোম্পানি: যেহেতু ইংরেজ পদবির শেষে কখনও 'স্টোন' বা 'স্টন' থাকতে দেখা যায়, যেমন গ্ল্যাডস্টোন, জনস্টন, সেই সুযোগে গলস্টোন নামটির ব্যবহার নিছকই একটি শিব্রামী মজা। গলস্টোন শব্দের অর্থ পিত্তকোষ বা গলব্লাডারের পাথর।
৬. লেজিসলেটিভ কাউন্সিল বা বিধান পরিষদ। পরশুরামের 'দক্ষিণরায়' গল্পে দেখা যায় বকুলাল দত্ত এবং তাঁর বন্ধু রামজাদু অ্যাটর্নিকে কাউন্সিলে ঢোকার জন্য তদ্বির করতে এবং ভোটে দাঁড়াতে।
৭. ক্লু ক্লুকস ক্ল্যান: আসলে কু ক্লুকস ক্লান। Ku Klux Klan। সংক্ষেপে KKK। মার্কিন সংস্থা। প্রথম উদ্ভব ১৮৬০ এর দশকে। এরা হল শ্বেতাঙ্গদের প্রভুত্বে বিশ্বাসী। কৃষ্ণাঙ্গদের বিরোধী। আমেরিকায় বহিরাগতদের প্রবেশের বিরোধী। কখনও কমিউনিজমের বিরোধিতা করতে দেখা গিয়েছে। এদের বিরোধিতার পন্থা কখনও উগ্র ধরনের। এদের সদস্যরা মুখোশ এবং আলখাল্লা ব্যবহার করে সংস্থার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণের সময়ে। বেশিরভাগ অনুষ্ঠান রহস্যময় এবং গোপনে সংঘটিত হয়। প্রথম উদ্ভবের বছর দশেক পরে এই সংঘ বা সংস্থা নিজেদের গুটিয়ে নেয় এবং অনেক পরে, ১৯১৫ নাগাদ আবার মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ১৯৪৪-এ আবার নির্জীব হয়ে পড়ে এদের কর্মকাণ্ড। তৃতীয়বার এই সংঘ উদ্ভুত হয় ১৯৪৬-এ এবং এখনও এদের উপস্থিতির খবর পাওয়া যায়। বর্তমানে সদস্য সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে। আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বহু বড়ো অপরাধের মূলে রয়েছে কু-ক্লুকস ক্ল্যানের সদস্যরা।
৮. প্রেসিডেন্সি জেল : ১৭৬৭-র কলকাতায় ছিল দুটি জেলখানা। একটি লালবাজারে, অন্যটি বড়োবাজারে, ১৭৭৮-এ নতুন জেল নির্মাণ করা হয় প্রেসিডেন্সি জেনারেল হসপিটালের কাছাকাছি। ১৮৬৫ সাল থেকে এই জেলের নাম হয় প্রেসিডেন্সি জেল। ১৯০৯ সালে আলিপুর নতুন কারাগার তৈরি হয় এবং তারপর পুরোনো জেলখানা ভেঙে ফেলা হয়েছিল ওই জায়গায় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল নির্মিত হওয়ার কারণে।
৯. হরিণবাড়ি: কলকাতার প্রাচীন জেলখানা। প্রচলিত ব্যবহারে, যে-কোনো কারাগার বোঝানো হয়। বৌবাজার অঞ্চলে একটি রাস্তার নাম হরিণবাড়ি লেন। অধুনালুপ্ত হরিণবাড়ি জেল ওই রাস্তাতেই অবস্থান করত। আবার সুন্দরবনে, কাকদ্বীপের কাছাকাছি হরিণবাড়ি নামে একটি গ্রাম আছে।
১০. তাজমহল হোটেল: মুম্বই শহরে, আরব সাগরের তীরবর্তী, অ্যাপোলো বন্দরের সন্নিকটে, গেটওয়ে অব ইন্ডিয়ার কাছে অবস্থিত পুরোনো এবং ঐতিহ্যবাহী বিলাসবহুল হোটেল। প্রতিষ্ঠাতা স্যর জামশেদজী টাটা। সম্পূর্ণ নাম 'দ্য তাজমহল প্যালেস অ্যান্ড টাওয়ার'। এই পাঁচতারা হোটেল খোলা হয় ১৯০৩ এর ষোলোই ডিসেম্বর। প্রচলিত কাহিনি অনুসারে স্যর জামশেদজী এই হোটেল খোলেন শ্বেতাঙ্গদের জন্য সংরক্ষিত ওয়াটসন'স হোটেলে প্রবেশাধিকার না পেয়ে, প্রতিশোধস্পৃহা বশত। কিন্তু এই গল্প অনেকেই সত্যি বলে মনে করেন না। সীতারাম খাণ্ডেরাও বৈদ্য এবং ডি এন মির্জার নক্সায় ইন্দো-সেরাসনিক স্থাপত্যরীতিতে মূল প্রাসাদটি নির্মিত হয়েছিল। টাওয়ারটি নির্মিত হয় ১৯৭০-এর দশকে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে হোটেলের বাড়িটি ব্যবহৃত হয়েছিল ছ'শো শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল হিসেবে। ভারতের প্রথম বাষ্প-চালিত লিফট-টি এই হোটেলে বসানো হয়। একাধিক মার্কিন প্রেসিডেন্ট, আমেরিকান ফাস্ট লেডী, নরওয়ের রাজা ও রানি, ইংল্যান্ডের রাজপরিবারভুক্ত মানুষ, হলিউডের অভিনেতা, দেশি ও বিদেশি খেলোয়াড় প্রভৃতি এই হোটেলে অতিথি হিসেবে থেকেছেন বিভিন্ন সময়ে।
টিকটিকির ল্যাজের দিক
১. হুঁকাকাশি: জাপানি গোয়েন্দা মি. হুকাকাশিকে হুঁকাকাশি করে দেওয়া শিব্রামী মজা ছাড়া কিছু না। সম্ভবত কল্কেকাশির কল্কের সঙ্গে মেলাতেই হুঁকা-র প্রবর্তন। জাপানের এই বিখ্যাত ক্রিমিনোলজিস্ট তথা গোয়েন্দা হলেন সাহিতিক্যক মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের লেখা পাঁচটি গোয়েন্দা গল্প এবং তিনটি গোয়েন্দা উপন্যাসের চরিত্র। একেবারে বাঙালিদের মতো জীবন যাপনে অভ্যস্ত এই গোয়েন্দাপ্রবরের আস্তানা ছিল স্কটিশ চার্চ কলেজের পেছনে ডাফ স্ট্রিটে। তাঁর শাগরেদ রণজিৎ কলকাতার বিখ্যাত ফুটবল খেলোয়াড়।
২. গোলদিঘি: উত্তর কলকাতার কলেজ স্ট্রিট অঞ্চলে প্রেসিডেন্সি কলেজের বিপরীতে ও হিন্দু স্কুলের দক্ষিণে অবস্থিত প্রাচীন সরোবর। পূর্বতন মালিকের নামে এর পরিচিতি ছিল মাধববাবু-কা-তালাও নামে। নামে গোলদিঘি হলেও বর্তমান আকৃতি চতুষ্কোণ। প্রচলিত নাম কলেজ স্কোয়ার। কারণ নিকটে একাধিক কলেজ অবস্থিত। বর্তমানে সরকারিভাবে বিদ্যাসাগর সরোবর নাম রাখা হয়েছে। সংলগ্ন বাগান ও চলনপথ হয়েছে বিদ্যাসাগর উদ্যান।
৩. হ্যারিসন রোড: বলা যেতে পারে হাওড়া স্টেশন এবং শিয়ালদহ স্টেশনের সংযোগকারী রাস্তা। হাওড়া ব্রিজের পূর্ব প্রান্ত থেকে প্রায় সরলরেখায় পশ্চিমমুখো গিয়ে শেষ হয়েছে শিয়ালদহ স্টেশনে। এই রাস্তা নির্মাণের আগে এর একাংশে সেন্ট্রাল রোড নামে একটি রাস্তা অবস্থান করত। কিন্তু এই রাস্তা নির্মাণ সম্পূর্ণ হওয়ার পর, ১৮৯২ সালে এটি পরিচিত হয় পুরসভার চেয়ারম্যান স্যর লেল্যান্ড হ্যারিসনের নামে। ১৯৬৬ সালে এই রাস্তার নতুন নামকরণ হয় মহাত্মা গান্ধি রোড।
৪. মির্জাপুর: কলুটোলা স্ট্রিটের পূর্বদিক থেকে গোলদিঘি বা কলেজ স্কোয়ার ঘেঁষে আমহার্স্ট স্ট্রিট এবং হ্যারিসন রোড অতিক্রম করে যে রাস্তাটি সার্কুলার রোড বা আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রোডে পড়েছে তারই নাম ছিল মীর্জাপুর স্ট্রিট। বর্তমান নাম সূর্য সেন স্ট্রিট। এই রাস্তার লাগোয়া কিছু অঞ্চল মীর্জাপুর নামে পরিচিত।
৫. আমহার্স্ট স্ট্রিট : বউবাজার স্ট্রিট থেকে উত্তরমুখো এই রাস্তার নাম ছিল আর্মস হাউস স্ট্রিট। পরে লর্ড আমহার্স্টের নামে এর নামকরণ করা হয়। ১৯৬৮-র ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই রাস্তার নাম হয়েছে রাজা রামমোহন সরণি।
৬. সাকি : ইংরেজ সাহিত্যিক হেক্টর হিউ মনরো (১৮৭৯-১৯১৬)। ছদ্মনাম সাকি (Saki)। এডোয়ার্ডিয়ান ইংল্যান্ডের সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতি ব্যঙ্গ ফুটে উঠতো তাঁর লেখা। ছোটোগল্প রচনায় অসম্ভব দক্ষ সার্কি-র লেখার তুলনা হয় ও'হেনরি বা ডরোথি পার্কারের লেখা গল্পের সঙ্গে।
৭. ডায়মন্ডহারবার রোড : কলকাতার খিদিরপুর অঞ্চল থেকে প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার দূরবর্তী ডায়মন্ডহারবার পর্যন্ত বিস্তৃত রাজপথ মোমিনপুর, ইকবালপুর, তারাতলা, বেহালা, জোকা, পৈলান, আমতলা, শিরাকোল, উস্তি, সরিষা প্রভৃতি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ডায়মন্ডহাবড়ায় পৌঁছেছে। বর্তমানে এই রাস্তা হাওড়া জেলার কোনা অঞ্চলে দুই ও ছয় নং জাতীয় সড়কের সংযোগস্থল থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বকখালি পর্যন্ত বিস্তৃত ১১৭ নং ন্যাশনাল হাইওয়ের অংশভুক্ত।
৮. চেন ঘড়ি : সোনার বা অন্য ধাতুর তৈরি চেনের প্রান্তে বাঁধা পকেট ঘড়ি। ঘড়ি পকেটে রেখে চেন বাইরে ঝুলিয়ে রেখে প্রদর্শনের প্রচলন ছিল। ইংল্যান্ডের রানি ভিক্টোরিয়ার স্বামী প্রিন্স অ্যালবার্ট এই ধরনের ঘড়ি ব্যবহার করতেন। তাই এর পরিচিতি ছিল অ্যালবার্ট চেন নামে।
ইতরবিশেষ
১. গেজেটেড অফিসার : ভারতবর্ষের কেন্দ্রীয় সরকারে বা যে-কোনো রাজ্য সরকারি দপ্তরে কর্মরত উচ্চপদস্থ আধিকারিক। কোনও রাজ্যের রাজ্যপাল বা ভারতের রাষ্ট্রপতি কোনও ব্যক্তিকে সরকারি উচ্চ পদে নিয়োগ করলে তা সরকারি মুখপত্র বা গেজেটে-এ নোটিশ হিসাবে প্রকাশ করতে হয়। যে আধিকারিকদের নিয়োগ গেজেটে নোটিশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে, তাঁদের গেজেটেড অফিসার বলা হয়।
২. পদ্মবিভূষণ : ভারত প্রজাতন্ত্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক খেতাব। সর্বোচ্চ খেতাব ভারতরত্ন-র পরই এর স্থান। পদ্মবিভূষণের অধস্তন খেতাব যথাক্রমে পদ্মভূষণ এবং পদ্মশ্রী। ১৯৫৪ সালে এই খেতাব প্রচলিত হয়। প্রথম বছর এই খেতাব অর্জন করেন সত্যেন্দ্রনাথ বসু, জাকির হুসেন, বালাসাহেব গঙ্গাধর খের, জিগমে দোর্জি ওয়াংচুক, নন্দলাল বসু এবং ভি কে কৃষ্ণ মেনন।
৩. গ্রান্ডে: গ্র্যান্ড হোটেল। অবস্থান চৌরঙ্গি রোডে। চৌরঙ্গি রোডের নতুন নাম জওহরলাল নেহরু রোড। শ্রীমতী অ্যানি মস্ক-এর ১৮৭০-এর প্রতিষ্ঠা করা বোর্ডিং হাউস এবং লাগোয়া কিছু জমি কিনে নিয়ে ইস্পাহান থেকে আগত আর্মেনিয়ান সাহেব অ্যারাথুন স্টিফেন বিংশ শতকের গোড়ায় গ্র্যান্ড হোটেল কিনে নিয়ে এর নামকরণ করেন 'ওবেরয় গ্র্যান্ড'। কলকাতার প্রথম সারির অভিজাত হোটেলগুলির মধ্যে অন্যতম।
৪. সি-আই-টি বিল্ডিং : সি-আই-টি অর্থাৎ ক্যালকাটা ইমপ্রূভমেন্ট ট্রাস্ট কর্ত,ক নির্মিত বহুতল বাড়ি। সিআইটি নির্মিত বাড়ি কলকাতা শহরে একাধিক। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় একটির ঠিকানা ১০৭, উল্টাডাঙ্গা মেইন রোড। কোনও কোনও বাড়ি বসবাসের জন্য আবার বেশ কিছু বাড়ি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৫. রেড রোড : ময়দানের ভিতর ও ফোর্ট উইলিয়াম লাগোয়া অঞ্চল দিয়ে ইউরোপীয় অভিজাতদের ব্যবহার্য এই রাস্তাটি নির্মাণ করা হয় ১৮২০ সালে। রেড রোড নামের বিশেষ কার্যকারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে অনেকে মনে করেন নেটিভদের এই রাস্তায় প্রবেশাধিকার না থাকায়, তাদের প্রতি সাবধানবাণী হিসেবে রেড রোড নাম দেওয়া হয়েছিল। স্যর আশুতোষের প্রতিবাদে তৎকালীন গভর্নর এই আইন রদ করেন। ১৯৮৫ সালে এই রাস্তার নতুন নাম দেওয়া হয় প্রিয়দর্শিনী ইন্দিরা গান্ধি সরণি।
সূত্র
১. অমলেট : ডিম ভেঙে, ভেতরের সাদা ও হলুদ অংশ ফেটিয়ে তেল, ঘি বা মাখনে ভেজে তৈরি খাবারের পদের নাম অমলেট (Omlet বা Omlette) এর সঙ্গে মাংসের টুকরো, সবজি বা চিজ মেশানোরও প্রচলন আছে। ফরাসি শব্দ অমলেটের উদ্ভব ষোড়শ শতকের মাঝামাঝি। কিন্তু চর্তুদশ শতকে ফ্রান্স অ্যালুমেল বা অ্যালুমেট নামক খাদ্যের প্রচলন ছিল বলে জানা যায়।
২. সোডি-বাইকার্ব : সোডিয়াম বাই কার্বোনেট। যদিও আসল নাম সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বোনেট। ফরমুলা NaHCO3। প্রচলিত বাংলা ভাষায় একে 'খাওয়ার সোডা' বলা হয়।
কল্কেকাশির অবাক কাণ্ড
১. আমি : এক্ষেত্রে 'আমি' গোয়েন্দা কাহিনির সাধারণ আমি-র মতো গোয়েন্দার শাগরেদ নন। ইনি স্বয়ং লেখক, শিবরাম চক্রবর্তী।
২. হর্ষবর্ধন : শিবরাম চক্রবর্তীর বহু হাস্যরসাত্মক গল্পের মুখ্য চরিত্র হর্ষবর্ধন। হর্ষবর্ধন বাংলা সাহিত্যে এক অমর সৃষ্টি। হর্ষবর্ধনের প্রায় সব-কটি গল্পের কথক হলেন লেখক নিজে। সেখানে তিনি হলেন শিব্রাম চকরবরতি।
৩. মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য : সাহিত্যিক মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য (১৯০৩-১৯৩৯)। এম এ এবং আইন পাশ করে রিপন কলেজে অধ্যাপনা করতেন। কিশোরদের জন্য প্রকাশিত মাসিক পত্রিকা রামধনু-র সম্পাদক ছিলেন আট বছর। বাঙালি হয়ে যাওয়া জাপানি গোয়েন্দা হুকাকাশির গল্প ছাড়া অন্যান্য কাহিনিও বেশ কিছু রচনা করেছেন।
৪. ছোটোনাগপুর : ব্রিটিশ রাজের অন্তর্গত ছোটোনাগপুর ডিভিসন গঠিত হয়েছিল বর্তমান ঝাড়খণ্ড প্রায় সম্পূর্ণ অংশ এবং সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং ছত্তিশগড় রাজ্যের কিছু অঞ্চল নিয়ে। হাজারিবাগ, রাঁচী, পালামৌ, মানভূম এবং সিংভূম জেলার এই খনিজ-সম্পদে পূর্ণ অঞ্চল বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর উৎপত্তিস্থল। এই ডিভশনের বহুলাংশ ছোটোনাগপুরের মালভূমির অন্তর্গত। এই এলাকা অরণ্য এবং পাহাড়ে পরিপূর্ণ।
৫. দণ্ডকারণ্য : মধ্যপ্রদেশ, ছত্রিশগড়, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশা রাজ্যের অংশ নিয়ে গঠিত দাক্ষিণাত্যের এই আরণ্যক অঞ্চলের উল্লেখ রামায়ণে পাওয়া যায়। পূর্বঘাট পর্বতমালা দণ্ডকারণ্যর বিশাল অংশ জুড়ে অবস্থিত। দণ্ডকারণ্যের আনাচে-কানাচে অনেক বর্ণময় উপজাতির মানুষদের বসবাস। শবরী, ইন্দ্রাবতী, মুছকুন্দ প্রভৃতি নদী দণ্ডকারণ্যের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
৬. আসামের বেশিরভাগই তো অরণ্য: বর্তমান অসম রাজ্যের প্রায় ত্রিশ শতাংশ বনাঞ্চল। ভারতবর্ষের ঘোষিত একচল্লিশ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর মধ্যে কুড়ি ধরনের প্রাণী লভ্য অসমের অরণ্যে। তার মধ্যে প্রধান হল একশৃঙ্গ গণ্ডার, যা উত্তরবঙ্গের সামান্য কিছু অরণ্য ছাড়া ভারতবর্ষে আর কোথাও দেখা যায় না। অসমের বিখ্যাত অরণ্য হল কাজিরাঙ্গা এবং মানস। তাছাড়া আছে ওরাং, নামেরি, পবিতোরা, ডিব্ৰু-সাইখোয়া প্রভৃতি অরণ্য।
৭. ঘাটশিলা : পূর্বে বিহার, বর্তমানে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের অন্তর্গত ছোটো শহর। অবস্থান সুবর্ণরেখা নদীর তীরে। হাওয়াবদল ও স্বাস্থ্যোদ্ধারের জন্য খ্যাত শহরকে ঘিরে বা অনতিদূরে রয়েছে প্রচুর খনি। তামা, অভ্র, ম্যাঙ্গনিজ প্রভৃতি লভ্য সেই খনি থেকে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অসাধারণ। সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই শহরে থেকেছেন বহুকাল। তাঁর বসতবাড়িটি এখনও সংরক্ষিত হয়েছে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে। এই বাড়িতেই ১৯৫০ সালে দেহরক্ষা করেন বিভূতিভূষণ।
৮. দারোগার দপ্তর : বাংলা সাহিত্যে ক্রাইম কাহিনির আদি যুগের একটি কাহিনিমালা বা সিরিজ। প্রত্যেক বাংলা মাসে দারোগার দপ্তরের একটি সংখ্যা প্রকাশিত হত এবং তাতে একটি গল্প থাকত। প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১২৯৯ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে। কাহিনির নাম 'বনমালী দাসের হত্যা'। প্রতিটি কাহিনির লেখক প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়। প্রিয়নাথবাবু পুলিশে চাকরি করতেন। সেই হিসেবে অনুমিত হয় তিনি বিভিন্ন ঘটনার সূত্র পেতেন পুলিশি তদন্তের ফাইল থেকে। জানা যায়, ১৩১৭ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ মাসে দারোগার দপ্তরের শেষ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়। মাঝে অবশ্য কোনও কোনও মাসে দারোগার দপ্তর প্রকাশিত হয়নি। প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮৫ সালে। তাঁর মৃত্যুর তারিখ বা সন নিয়ে দ্বিমত আছে। দারোগার দপ্তরের প্রতিটি কাহিনিই পুলিশি তদন্তের কাহিনি। কখনও আবার বিদেশি পুলিশি তদন্তের কাহিনি অনূদিত হয়ে দারোগার দপ্তরে প্রকাশিত হতে দেখা গিয়েছে।
৯. পাঁচকড়ি দে : জন্ম ১৮৭৩, মৃত্যু আনুমানিক ১৯৪৫। বিখ্যাত গোয়েন্দা কাহিনি রচয়িতা। তাঁর সমকালে তাঁর রচিত গোয়েন্দা কাহিনি বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করে। প্রথম উপন্যাস সতী শোভনা। অন্যান্য উপন্যাস মায়াবী, মনোরমা, হত্যাকারী কে?, নীলবসনা সুন্দরী কাহিনিতে গোয়েন্দা হিসেবে দেখা যায় দেবেন্দ্রবিজয়-কে। দেবেন্দ্রবিজয়ের সহযোগী হলেন তাঁরই গোয়েন্দাগিরির গুরু অরিন্দম।
১০. মায়াবী : অধ্যাপক সুকুমার সেন-এর মতে পাঁচকড়ি দে রচিত শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা কাহিনি হল মায়াবী উপন্যাস। গুরুদাস চ্যাটার্জী অ্যান্ড সন্স প্রকাশিত মায়াবী'র সপ্তম সংস্করণের (১৯২৫) ঘোষণায় দেখা যায় এই গ্রন্থ মুদ্রিত হয়েছিল পনেরো হাজার কপি।
১১. মনোরমা : পাঁচকড়ি দে-র একটি গোয়েন্দা উপন্যাস।
১২. নীলবসনা সুন্দরী : পাঁচকড়ি দে-র গোয়েন্দা উপন্যাস। প্রথম প্রকাশ ১৯১৪। এই বইটি লেখক উৎসর্গ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।
১৩. নীহার গুপ্ত: নীহাররঞ্জন গুপ্ত (১৯১০-৮৬)। বাংলা সাহিত্যে প্রথম এবং সম্ভবতঃ একমাত্র, ডাক্তারি ডিগ্রিধারী গোয়েন্দা কাহিনি লেখক। তাঁর সৃষ্ট গোয়েন্দা কিরীটি রায় প্রবল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। কিরীটির অ্যাসিস্ট্যান্ট সুব্রত। নীহাররঞ্জন রচিত গোয়েন্দা কাহিনির সংখ্যা প্রায় আশি। এছাড়াও তিনি উত্তরফাল্গুনী, লালুভুলু, উল্কা, রাতের রজনীগন্ধা, কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী প্রভৃতি বিখ্যাত উপন্যাসের রচয়িতা। ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর পদ পর্যন্ত উন্নীত হয়েছিলেন নীহাররঞ্জন। সৈন্যবাহিনির হয়ে দেশি বিদেশি বহু রণাঙ্গনে তাঁকে যেতে হয়েছিল।
১৪. গৌরাঙ্গ বোস : গৌরাঙ্গপ্রসাদ বসু ছিলেন শিবরাম চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠতম বন্ধু। সম্পর্কে অভিনেত্রী কাবেরী বসুর দাদা গৌরাঙ্গপ্রসাদ সাহিত্যিক হিসেবে রচনা করেন কিছু ভূতের গল্প, থ্রিলার, রহস্য কাহিনি এবং গোয়েন্দা কাহিনি। অদ্ভুত যত ভূতের গল্প, নিশীথ রাতের আহ্বান, মক্কেলের নাম বেন মোজেস প্রভৃতি তাঁর লেখা কয়েকটি গ্রন্থের নাম। ওনার কয়েকটি গল্পের গোয়েন্দা নাম কুশল চৌধুরী।
১৫. ব্লেক সিরিজ : বিলেত থেকে প্রকাশিত সেক্সটন ব্লেক গোয়েন্দা কাহিনি সিরিজের গল্প অনুকরণে রহস্যলহরী সিরিজ লিখতেন দীনেন্দ্রকুমার রায় (১৮৬৯-১৯৪৩)। কিশোর পাঠ্য এই কাহিনিগুলির পটভূমি ছিল লন্ডন শহর, উপকণ্ঠ ও ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চল। গোয়েন্দা মিস্টার ব্লেকের নিজস্ব একটি এরোপ্লেনও ছিল। সেটা তিনি নিজেই চালিয়ে অপরাধীর সন্ধান করতেন।
১৬. মোহন সিরিজ : দস্যু মোহনের শতাধিক কাহিনির সিরিজ। লেখক শশধর দত্ত (?-১৯৫২)। মোহন এক যুবক। তার স্ত্রী ধনী-কন্যা রমা। পুত্র স্বপন। মোহন ছিল দুঃসাহসী এবং দয়ালু।
১৭. জয়ন্ত কুমার : হেমেন্দ্রকুমার রায় (১৮৮৮-১৯৬৩) রচিত গোয়েন্দা কাহিনির গোয়েন্দা জয়ন্ত এবং অ্যাডভেঞ্চার কাহিনির নায়ক কুমার। জয়ন্তর গল্প জয়ন্তের কীর্তি, সাজাহানের ময়ূর, মানুষ পিশাচ, পদ্মরাগ বুদ্ধ প্রভৃতিতে দেখা যায় ডিটেকটিভ জয়ন্ত, তার সহকারী মানিক এবং পুলিশ অফিসার সুন্দরবাবুকে। আবার কুমারের কাহিনির নায়ক কুমার এবং তার বন্ধু, বিমল। বিভিন্ন অভিযানে তাদের সঙ্গী হয় ভৃত্য রামহরি এবং কুকুর বাঘা। এই সিরিজে যখের ধন, আবার যখের ধন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। আবার প্রশান্তের আগ্নেয়দ্বীপ উপন্যাসে বিমল-কুমার-রামহরি এবং জয়ন্ত-মানিক-সুন্দরবাবুকে একই সঙ্গে অভিযানে যেতে দেখা যায়। হেমেন্দ্রকুমার এই দুটি সিরিজ ছাড়া গোয়েন্দা হেমন্ত, সহযোগী রবিন এবং পুলিশ অফিসার সতীশবাবুকে কেন্দ্র করে আরও কয়েকটি গোয়েন্দা কাহিনি লেখেন। সেগুলি হল অন্ধকারের বন্ধু, রাত্রির যাত্রী, মুখ আর মুখোশ প্রভৃতি।
১৮. ব্যোমকেশ : শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৯-১৯৭০) রচিত গোয়েন্দা কাহিনির গোয়েন্দা ব্যোমকেশ বক্সী এবং তাঁর সহযোগী অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কীর্তি-কলাপ গোবর্ধন কেন, গোয়েন্দা গল্পের প্রতিটি বাঙালি পাঠকের জানা আছে। ব্যোমকেশকে নিয়ে লেখা প্রথম গল্প 'পথের কাঁটা' ১৩৩৯ বঙ্গাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়।
১৯. রবার্ট ব্লেকের স্মিথ : দীনেন্দ্রেকুমার রায়ের রহস্যলহরী সিরিজের গোয়েন্দা রবার্ট ব্লেকের সহকারীর নাম স্মিথ। গোয়েন্দার সহকারী বিষয়টির স্রষ্টা সম্ভবতঃ স্যর আর্থার কোনান ডয়েল। তিনিই হোমসের সহকারী তথা বন্ধু হিসেবে ড. ওয়াটসনের চরিত্রটি নির্মাণ করেন।
২০. স্বয়ং গোবর্ধনকে ধারণ : হিন্দুদের ধর্মবিশ্বাসে মনে করা হয় দ্বাপর যুগে শ্রীকৃষ্ণ কড়ে-আঙুলে গোবর্ধন পাহাড়কে মাথার ওপর তুলে ধরে প্রবল বৃষ্টিপাত থেকে রক্ষা করেন সমগ্র বৃন্দাবনকে।
২১. দাদৃহারা : পিতার মৃত্যুতে যদি সন্তান পিতৃহারা বা মাতার মৃত্যুতে মাতৃহারা হতে পারে, তাহলে শিব্রামী ব্যাকরণ বা Pun-এ দাদার দেহান্তে ভাইয়ের দাদৃহারা হওয়া কিছুমাত্র অসম্ভব নয়।
২২. হেলি : এডমন্ড হ্যালি (Halley)। জন্ম : ১৬৫৬, মৃত্যু: ১৭৪২। হ্যালির ধূমকেতুর আবিষ্কর্তা হিসেবে বিশেষ খ্যাতনামা। ১৮৭৬-এ অ্যাটলান্টিক মহাসাগরের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে অবজারভেটরি নির্মাণ করেন এই জ্যোতির্বিদ, পদার্থবিদ, গণিতবিদ তথা আবহবিদ। সূর্যের ওপর দিয়ে বুধ গ্রহের গমন বা transit of Mercury পর্যবেক্ষণ করে তিনি সিদ্ধান্তে আসেন এইভাবে শুক্রগ্রহের গমন বা transit of Venus পর্যবেক্ষণ করে সৌরজগতের পরিমাপ জানা সম্ভব। ১৬৯৮-এ প্যারামোর জাহাজে দক্ষিণ আটলান্টিকে বৈজ্ঞানিক নিরীক্ষণ করতে যান। তাঁর আবিষ্কৃত ধূমকেতু ছাড়া চাঁদ এবং মঙ্গলগ্রহের দুটি খাদ-বা Crater-এর নামকরণ করা হয়েছে হ্যালি-র নামে।
২৩. হেলির ধূমকেতু : হ্যালির ধূমকেতু বা Halley’s Cenet হল স্বল্প স্থায়ী ধূমকেতু এবং প্রতি ৭৫-৭৬ বছর পর পৃথিবী থেকে দেখা যায়। পৃথিবী থেকে খালি চোখে, অর্থাৎ টেলিস্কোপ বা অন্য যন্ত্রের সাহায্য ছাড়া অন্য ধূমকেতুগুলি দৃষ্ট হয় কমপক্ষে হাজার বছর অন্তর। ১৭০৫ স্টাব্দে এডমন্ড হ্যালি এই ধূমকেতু আবিষ্কার করে এর সম্পর্কে বিশদ জানতে সক্ষম হলেও প্রাচীন যুগের চিনা, ব্যাবিলনীয় বা মধ্যযুগের ইয়োরোপীয় জ্যোতির্বিদরা যে এই ধূমকেতু লক্ষ্য করেছিলেন তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এই ধূমকেতু সম্পর্কে প্রাচীনতম উল্লেখটি হল স্টপূর্ব ১৬৪ অব্দের। ১৯৮৬ সালে হ্যালির ধূমকেতু পৃথিবীতে শেষবারের মতো খালি চোখে দেখা গিয়েছে। পরেরবার এই ধূমকেতুর পৃথিবীর কাছাকাছি আসার সম্ভাব্য সময় ২০৬১ স্টাব্দের জুলাই মাসে।
২৪. মাধ্যাকর্ষণ শক্তি লোপ পায় পৃথিবীর : এটি লেখকের কল্পনামাত্র। এর কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
২৫. নিরানব্বুই বছর বাদ : নিরানব্বই নয়, ছিয়াত্তর বা পঁচাত্তর বছর।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন