পৌলোমী সেনগুপ্ত
আশাপূর্ণা দেবী: ৮ জানুয়ারি ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম। স্কুল কলেজে পড়েননি। মাত্র তেরো বছর বয়সে শিশুসাথী পত্রিকায় গল্প ও কবিতা লিখে সাহিত্য জীবনের সূত্রপাত। তিনি দশটি কিশোর উপন্যাস, ভুতুড়ে কুকুর, অলয় আদিত্যর ইচ্ছাপত্র রহস্য ইত্যাদি বহু কিশোর গল্প ও উপন্যাস রচনা করেছেন। ১৯৬৬ সালে প্রথম প্রতিশ্রুতি উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন রবীন্দ্র পুরস্কার। ১৯৭৬-এ জ্ঞানপীঠ ও ১৯৮৯-এ পেয়েছেন দেশিকোত্তম।
মৃত্যু; ১৩ জুলাই ১৯৯৫।
প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত: ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে জন্ম। ইতিহাসে অনার্স নিয়ে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বি এ ও এম এ। পি-এইচ ডি লন্ডনে। অধ্যাপনা করেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে (১৯৩৯-১৯৬১)। ১৯৬১-তে যাদবপুরে ইতিহাস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক। অল্পকালের জন্য উপাচার্যও। উপাচার্য ছিলেন বিশ্বভারতীর (১৯৭০-৭৫) ও রবীন্দ্রভারতীর (১৯৭৫-৭৯)। ১৯৭৫-এ ‘পদ্মভূষণ’। ১৯৮১-৮৩: এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি।
প্রতিভা বসু: ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের খাঁসাড়ায় জন্ম। প্রথম মুদ্রিত রচনা গল্প, নবশক্তি সাপ্তাহিক কাগজে প্রকাশিত। তিনি জন্মান্তর, জীবনের জলছবি ইত্যাদি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। ছোটদের জন্যও লেখালেখি করেছেন।
মৃত্যু: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০০৬।
হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়: ২৩ মার্চ ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় জন্ম। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে বর্মায়। ১৯৪০-এ ফিরে আসেন কলকাতায়। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘ইরাবতী’ দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। বাংলা সাহিত্যের এই জনপ্রিয় কথাশিল্পী শিশু ও কিশোর সাহিত্যের এক নিজস্ব জগৎ তৈরি করেছিলেন। তিনি ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প, ভয়ের মুখোশ, ভৌতিক অমনিবাস, বিচিত্র শিকারের গল্প ইত্যাদি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন।
মৃত্যু: ২০ জানুয়ারি ১৯৮১
নলিনী দাশ: ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় জন্ম। উপেন্দ্রকিশোরের দৌহিত্রী ও সন্দেশের আরেকজন সম্পাদক। চারজন কিশোরী গোয়েন্দার অসমসাহসিক কীর্তিকলাপ নিয়ে অধিকাংশ গল্প উপন্যাস। অতিশয় জনপ্রিয়। উল্লেখযোগ্য বই: অঞ্জনগড়ের রহস্য, হাস্য ও রহস্যের গল্প, গোয়েন্দা গণ্ডালু ইত্যাদি।
বিমল কর: ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে চব্বিশ পরগনা জেলার টাকির কাছে এক গ্রামে জন্ম। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে নানা জায়গায়। বিচিত্র কর্মজীবন। শেষ পর্যন্ত সাংবাদিক। বহু ছোটগল্প ও উপন্যাসের জনক এই লেখকের শিশু ও কিশোর সাহিত্যে শ্রেষ্ঠ অবদান কিকিরা। তাঁর গজপতি ভেজিটেবল শু কোম্পানি, মন্দারগড়ের রহস্যময় জ্যোৎস্না, রাবণের মুখোশ, কিকিরা সমগ্র ইত্যাদি গ্রন্থ জনপ্রিয় হয়েছে। ১৯৬৭ এবং ১৯৯২-এ। পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার, ১৯৭৫-এ অকাদেমি, ১৯৮১ এবং ১৯৮২-তে পেয়েছেন যথাক্রমে শরৎ ও নরসিংহ দাস পুরস্কার।
মৃত্যু: ২৬ আগস্ট ২০০৩।
সমরেশ বসু: ১১ ডিসেম্বর ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে জন্ম। বহু বিচিত্র অভিজ্ঞতাপূর্ণ জীবন। লেখাকেই জীবিকা হিসেবে বেছে নেন। তাঁর প্রথম গল্প আদাব প্রকাশিত হয় ১৯৪৬ সালে। কালকূট ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় অমৃত কুম্ভের সন্ধানে প্রকাশিত হলে তিনি বিপুলভাবে সংবর্ধিত হন। কিশোর সাহিত্যে তার অবদান গগনচুম্বী। তাঁর সৃষ্ট ‘গোগোল’ বাংলা কিশোর সাহিত্যে বিপুলভাবে সমাদৃত হয়েছে। শিমুলগড়ের খুনে ভূত, জঙ্গল মহলে গোগোল, বন্ধ ঘরের আওয়াজ, গোগোল চিক্কুস নাগাল্যান্ডে ইত্যাদি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। ১৯৫৮, ১৯৭২ এবং ১৯৯৩-এ পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার। আর ১৯৮০-তে শাম্ব উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন অকাদেমি।
মৃত্যু: ১২ মার্চ ১৯৮৮।
গৌরাঙ্গপ্রসাদ বসু: ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে অধুনা বাংলাদেশে জন্ম। চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন প্রযোজক, পরিচালক হিসাবে। আনন্দবাজারে আনন্দমেলার পাতায় নিয়মিত লিখতেন। সম্পাদনা করেছেন ছোটদের জন্য ‘জয়ধ্বনি’ পত্রিকা।
মৃত্যু: ২০০২-এ।
রঞ্জিত চট্টোপাধ্যায়: ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় জন্ম। আশৈশব সাহিত্যচর্চার পরিবেশে মানুষ লেখক জীবনের সূত্রপাত ছাত্রাবস্থা থেকেই। ১৯৪৫ সালে সাহিত্যপত্র ‘কথাচয়ন’-এর প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক হয়েছিলেন। তারপর ১৯৫২ সাল। থেকে ‘রোমাঞ্চ’ পত্রিকার সম্পাদনা। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: স্বর্ণময়ীর ঠিকানা, দর্পণে অন্য মুখ, সোনার আংটি উধাও, গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেসে দুর্ঘটনা প্রভৃতি।
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ: ১৪ অক্টোবর ১৯৩০-এ মুর্শিদাবাদ জেলার খোশবাসপুর গ্রামে জন্ম। আশৈশব সাহিত্যচর্চার পরিবেশে মানুষ। ১৯৫০-৫৬ পর্যন্ত রাঢ় বাংলায় আলকাপের দলের সঙ্গে ঘুরেছেন। ষাটের দশকের গোড়ায় সাহিত্যে আত্মপ্রকাশ। অসংখ্য ছোটগল্প ও উপন্যাসের রচয়িতা। ছোটদের মহলেও জনপ্রিয়। সাহিত্য অকাদেমি-সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার পেয়েছেন।
মৃত্যু: ২০১২।
আনন্দ বাগচী: ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে পাবনায় জন্ম। শৈশব কেটেছে উত্তরবঙ্গে। দীর্ঘ ১৬ বছর অধ্যাপনার পর ১৯৭৭ সাল থেকে দেশ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর প্রথম সাড়াজাগানো গল্প গোপন কথা বেরিয়েছিল দেশ পত্রিকায় ১৯৬৫ সালে। চকখড়ি, বিকেলের রং, রাজযোটক, শ্রেষ্ঠ গল্প, উজ্জ্বল ছুরির নিচে, স্বগত সন্ধ্যা, চালচিত্র প্রভৃতি গ্রন্থ রচয়িতা। আনন্দ বাগচী রম্যরচনা লেখেন “ত্রিলোচন কলমচী’ ছদ্মনামে।
মৃত্যু: ২০১২।
অদ্রীশ বর্ধন: ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় জন্ম। বিজ্ঞানের স্নাতক। ছেলেবেলা থেকেই রহস্য- রোমাঞ্চ গল্পের প্রতি প্রবল আকর্ষণ। প্রথম লেখা বেরোয় শুকতারা-য়। অসংখ্য ছোট গল্প ও উপন্যাস লিখেছেন তিনি। এদেশে কল্পবিজ্ঞান কাহিনির প্রথম পত্রিকা ‘আশ্চর্য!’র প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক হলেন ১৯৬১ সালে। বেশ কয়েক বছর সুনামের সঙ্গে পত্রিকা চলে, তারপর অনিবার্য কারণে বন্ধ হয়ে যাবার বের করলেন ‘ফ্যান্টাস্টিক’। প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা একশোর কাছাকাছি। প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ কাচের জানালা।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়: ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলায় জন্ম। কৃত্তিবাস পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। সনাতন পাঠক, নীললোহিত এবং নীল উপাধ্যায় ছদ্মনামেও লিখেছেন। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ— বাংলা সাহিত্যের সব শাখায় এই সব্যসাচী লেখকের অনায়াস বিচরণ। কিশোর সাহিত্যে তাঁর সৃষ্ট কাকাবাবুর উজ্জ্বল উপস্থিতি এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ছয় খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর কাকাবাবু সমগ্র। এ ছাড়া কলকাতার জঙ্গলে, জলদস্যু, তিন নম্বর চোখ ইত্যাদি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। ১৯৭২ ও ১৯৮৯-তে আনন্দ পুরস্কার এবং ১৯৮৩-তে সেই সময় উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন বঙ্কিম ও ১৯৮৫-তে অকাদেমি পুরস্কার।
মৃত্যু: ২৩ অক্টোবর ২০১২।
এণাক্ষী চট্টোপাধ্যায়: ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে পটনায় জন্ম। শিক্ষা পটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে। অল্পদিন কলেজে পড়ানোর পর পুরোপুরি লেখার জগতে। নানা বিষয়ে বড়দের ও ছোটদের জন্য ইংরেজি ও বাংলায় লেখেন। স্বামী পরমাণু বিজ্ঞানী শান্তিময়ের সঙ্গে যুগ্মভাবে পরমাণু জিজ্ঞাসা গ্রন্থের জন্য পেয়েছেন রবীন্দ্র পুরস্কার ১৯৭৪-এ।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়: ২ নভেম্বর ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে ময়মনসিংহ জেলায় জন্ম। পিতার রেলের চাকরির সূত্রে তাঁর শৈশব কেটেছে নানা জায়গায়। বড়দের জন্য লেখার পাশাপাশি তিনি সমান দক্ষতায় লেখেন ছোটদের জন্য। পাতালঘর, গজাননের কৌটো, গোঁসাইবাগানের ভূত, মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি ইত্যাদি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। ১৯৭৩ এবং ১৯৮৭-তে আনন্দ পুরস্কার, ১৯৭৫-এ বিদ্যাসাগর, ১৯৮৮-তে ভুয়ালকা এবং ১৯৮৯-এ মানবজমিন গ্রন্থের জন্য পেয়েছেন অকাদেমি।
সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়: ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার বরাহনগরে জন্ম। শৈশব কেটেছে ছোটনাগপুরের পাহাড়ি অঞ্চলে। শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবনের শুরু। প্রথম প্রকাশিত গল্প সারি সারি মুখ। ছোটদের জন্যে ডোরাকাটা জামা, রুকুসুকু, ইতি পলাশ, কিশোর রচনা সম্ভার ইত্যাদি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন রসস্রষ্টা এই কথাশিল্পী। লোটাকম্বল উপন্যাসের জন্য ১৯৮১-তে পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার।
অশোক বসু: ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে জলপাইগুড়ি শহরে জন্ম। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যে স্নাতক। প্রথম গল্পগ্রন্থ তিনতলা। প্রকাশিত হয়েছে পঞ্চাশটি গল্প, উপন্যাস তিস্তা তোমার সঙ্গে। ছোটদের জন্য লিখেছেন, গল্পপুরীর সিংহদুয়ার, দশটি কিশোর উপন্যাস প্রভৃতি। ১৯৮৭ সালে সর্বভারতীয় বেতার নাটকে বাংলা বিভাগে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন।
মৃত্যু: ২ নভেম্বর ২০১১।
সুভদ্রকুমার সেন: ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে বর্ধমান শহরে জন্ম। মূলত প্রাবন্ধিক; বাংলা সাহিত্য ইংরেজি সাহিত্য, ভাষা বিজ্ঞান ও গোয়েন্দা কাহিনি বিশেষ ভাললাগার জায়গা। দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। রচনা করেছেন বেশ কিছু কিশোর রহস্য গল্প। টু ইন ওয়ান, শার্লক হোমসের গল্পসংগ্রহ (অনূদিত) তাঁর রচিত গ্রন্থ।
মৃত্যু: ২০০৯ সালে।
দিব্যেন্দু পালিত: ৫ মার্চ ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে বিহারের ভাগলপুরে জন্ম। এই লেখকের প্রথম গল্প ছন্দপতন প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে রবিবাসরীয় আনন্দবাজার পত্রিকায়। ঢেউ, সম্পর্ক, অনুভব প্রভৃতি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। ১৯৮৪-তে আনন্দ, ১৯৮৬-তে ভুয়ালকা, ১৯৯০-এ বঙ্কিম এবং ১৯৯৮-এ অনুভব গ্রন্থের জন্য পেয়েছেন অকাদেমি পুরস্কার।
যষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়: ২৫ ফাল্গুন ১৩৪৭ (১৯৪১) সালে মধ্য হাওড়ার খুরুট ষষ্ঠীতলায় জন্ম। ১৯৬১ সাল থেকে আনন্দবাজার পত্রিকার রবিবাসরীয় আলোচনীর সঙ্গে লেখালেখিসূত্রে যুক্ত থাকলেও ১৯৮১ সালে প্রকাশিত ছোটদের জন্য লেখা পাণ্ডব গোয়েন্দা লেখককে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। সোনার গণপতি হিরের চোখ, চতুর গোয়েন্দার চতুরাভিযান, সেরা রহস্য পঁচিশ, পঞ্চাশটি গল্প, পাণ্ডব গোয়েন্দা সমগ্র ইত্যাদি ছোটদের বহু গ্রন্থ লিখেছেন।
হীরেন চট্টোপাধ্যায়: ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরে জন্ম। সাহিত্যজীবন শুরু হয় স্কুলজীবন থেকে। প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ ক্রন্দসী। অন্যান্য গ্রন্থ ভূতের চেয়ে ভয়ঙ্কর, ইয়েতির অভিশাপ, শৈলশহর রহস্য প্রভৃতি। কলকাতা বেতার ও দূরদর্শন কেন্দ্র থেকে তার লেখা বহু নাটক প্রচারিত হয়।
সমরেশ মজুমদার: ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে জলপাইগুড়িতে জন্ম। শৈশব কেটেছে উত্তরবাংলার চা-বাগানে। প্রথম উপন্যাস দৌড় বেরিয়েছে ১৯৭৬-এ। কিশোর সাহিত্যে তার অবদান অসামান্য। তাঁর সৃষ্ট অর্জন পাঠকদের টানটান উত্তেজনায় ভরিয়ে তোলে। রত্নগর্ভা, ফুলে বিষের গন্ধ, জয়ন্তীর জঙ্গলে, দেড়দিন ইত্যাদি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। ১৯৮২-তে আনন্দ এবং ১৯৮৪-তে ‘কালবেলা’র জন্য পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার।
শ্যামল দত্তচৌধুরী: জন্ম ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াকালীন তাঁর একটি সরস উপন্যাস প্রকাশিত হয়। ব্যস্ত কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করার পরে সাহিত্যচর্চা থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হন। ১৯৯৯ সালে কর্মক্ষেত্র থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করে লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন। আনন্দমেলায় তার প্রথম প্রকাশিত গল্প স্টোনম্যান (২০০১)।
সিদ্ধার্থ ঘোষ: ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে জন্ম। আসল নাম অমিতাভ। লেখালিখির জন্য বেছে-নেওয়া ছদ্মনাম— সিদ্ধার্থ ঘোষ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক। মৌলিক গল্পের বই একটি— কলকাতা নীলকণ্ঠ। সায়েন্স ফিকশন— গ্যাবনে বিস্ফোরণ। ছোটদের জন্য পপুলার সায়েন্সের বই লিখেছেন সাতটি। অঙ্ক আতঙ্ক নয়, লুইস ক্যারল ও স্যাম লয়েডের ধাঁধা, সূর্য থেকে শক্তি প্রভৃতি। ‘সুকুমার মেলা’য় সুকুমার রায় বিষয়ক প্রদর্শনীর পরিকল্পক।
মৃত্যু: ২০০৩
রূপক সাহা: ৬ জানুয়ারি ১৯৪৯ সালে জন্ম। বাবা হারান সাহা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রাক্তন ফুটবলার। খেলাকে ভালবেসেই রূপক সাহার প্রবেশ ক্রীড়া সাংবাদিকতায়। আনন্দবাজার পত্রিকার ক্রীড়াসম্পাদক ছিলেন দীর্ঘ বারো বছর। বড়দের জন্য লেখার পাশাপাশি ছোটদের জন্যও লিখেছেন অনেক। বিদ্রোহী মারাদোনা তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ। ১৯৯২ সালে পেয়েছেন রাজ্য সরকারের সেরা সাংবাদিকের পুরস্কার।
সুচিত্রা ভট্টাচার্য: ১০ জানুয়ারি ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে ভাগলপুরে জন্ম। বহু ছোটগল্প ও উপন্যাসের স্রষ্টা এই লেখিকা কিশোর সাহিত্যেও সমান দক্ষ। ছোটদের জন্য সারান্ডায় শয়তান, জার্মান গণেশ, ভাঙা ডানার পাখি, কেরালায় কিস্তিমাত, জোনাথনের বাড়ির ভূত ইত্যাদি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। ১৯৯৬-এ ‘দহন’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার। ১৯৯৭-এ কথা ও ইন্দু বসু স্মৃতি পুরস্কার। এছাড়া পেয়েছেন সাহিত্য সেতু (১৯৯৮), তারাশঙ্কর স্মৃতি (২০০০) এবং দ্বিজেন্দ্রলাল স্মৃতি পুরস্কার।
আবুল বাশার: ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে জন্ম মুর্শিদাবাদ জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্যের স্নাতক। শিক্ষকতা করতেন প্রথম জীবনে। প্রথম মুদ্রিত গল্প: মাটি ছেড়ে যায়। তার ‘ফুলবউ’ উপন্যাস বহু-সমাদৃত। ছোটদের জন্যও লিখেছেন। আনন্দ পুরস্কার-সহ একাধিক সম্মানে সম্মানিত।
ঋতা বসু: ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় জন্ম। ছাত্রজীবন শান্তিনিকেতনে কেটেছে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে প্রেসিডেন্সি থেকে স্নাতক। ছোটদের জন্য গল্প লিখে সাহিত্যক্ষেত্রে প্রবেশ। তাঁর রচিত কিশোর গল্পসংকলন এবং পিন্টুমামা, সঙ্গে পিন্টুমামা। লেখালেখির পাশাপাশি শিশুশিক্ষার সঙ্গে জড়িত।
সর্বাণী বন্দ্যোপাধ্যায়: ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে জন্ম। অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর। চন্দননগরের একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। ছোটবেলা থেকেই কবিতা লিখতেন। দেশ-এ প্রথম কবিতা ২০০০ সালে, ১৯৯৬-এ গল্পে হাতেখড়ি। সে বছরই দিবারাত্রির কাব্য পত্রিকায় প্রথম গল্প প্রকাশ। আনন্দবাজার গোষ্ঠীর প্রায় সব পত্র-পত্রিকায় এবং বাংলায় উল্লেখযোগ্য বেশিরভাগ পত্র-পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়েছে। একটি কাব্যগ্রন্থ: মিথ্যে রূপটানে।
অনির্বাণ বসু: ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় গল্প লেখেন, তাঁর প্রকাশিত বই আকিদার অ্যাডভেঞ্চার, আকিদার ট্রিপল রহস্য ইত্যাদি।
চঞ্চলকুমার ঘোষ: ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় জন্ম। প্রথম লেখা প্রকাশিত স্কুলের পত্রিকায়। প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ ছোটদের জন্য লেখা ভারতের উপকথা ১৯৯২-এ। প্রথম উপন্যাস শারদীয়া পত্রিকা (১৪১১)-য় প্রকাশিত ‘জগন্নাথ, তোমাকে প্রণাম’-এর জন্য পেয়েছেন ১৪১১-এর ন্যাশনাল ইনশিওরেন্স-আনন্দবাজার পত্রিকা শারদ-অর্ঘ্য।
সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়: ২১ জানুয়ারি ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে হুগলি জেলার উত্তরপাড়ায় জন্ম। পেশায় ফোটো প্রিন্টিং সংস্থার কারিগরি বিভাগের প্রধান। প্রথম গল্পগ্রন্থ: বিকেলের আলো। প্রথম উপন্যাস; প্রত্নকন্যা। ছোটদের জন্য লিখেছেন, চাবিরহস্য, ডায়েরির সংকেত প্রভৃতি গ্রন্থ। বাংলা অকাদেমি প্রদত্ত সুতপা রায়চৌধুরী স্মারক পুরস্কার-সহ একাধিক পুরস্কারে ভূষিত।
রাজেশ বসু: ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে জন্ম। পরিসংখ্যান নিয়ে বিজ্ঞানের স্নাতক। লেখালেখির প্রতি টান ২০০৬ সাল থেকে। ছোট, বড় সকলের জন্যেই লেখেন। আনন্দমেলায় প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘রিম্বোর আশ্চর্য পুতুল’ প্রখ্যাত নাট্যসংস্থা নান্দীকার ‘এসএমএসে এশু’ নামে মঞ্চস্থ করে। ১৪১৮ সালে পেয়েছেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী পুরস্কার।
অনন্যা দাশ: জন্ম গোলাপি শহর জয়পুরে। রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক এবং রসায়নশাস্ত্রে স্নাতকোত্তর। আন্নামালাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি এড। বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রায় সমস্ত ছোটদের পত্র পত্রিকার নিয়মিত লেখক। এ ছাড়া ইংরেজি ভাষাতেও গ্রন্থ রচনা করেন। ছোটদের জন্যে লেখেন গল্প, ছড়া, রহস্য কাহিনি ও উপন্যাস। ইন্দ্রসেনের নেপথ্যে, মার্কিন মুলুকে নিরুদ্দেশ প্রভৃতি তাঁর রচিত গ্রন্থ।
অনিল ভৌমিক-এর পরিচিতি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি বলে দেওয়া গেল না।
__________
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন