গণ্ডির বাইরে

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

রাত শেষ হচ্ছে। ধীরে ধীরে ভোরের আলো ফুটছে। সমুদ্রের দিকের জানলাটা খোলা। ঘরের মধ্যে বিভিন্ন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জিনিস-আসবাবপত্র ক্রমশ অস্পষ্ট থেকে স্পষ্ট হচ্ছে। সমুদ্র এখনও শান্ত। দীঘার সমুদ্র অবশ্য সাধারণত শান্তই। কিন্তু এই ঘুমভাঙা ভোরে সমুদ্র এখন প্রশান্ত। ঠান্ডা ঝিরঝিরে হাওয়া বইছে। সারারাত একটুও ঘুম হয়নি। এখন যেন বেশ খারাপ। লাগছে। পুরো ব্যাপারটা যেন অসুস্থতায় ভরা। এমন সুন্দর পাখি ডাকা ভোর, ওই সমুদ্রের অনন্ত নীল বিস্তার কোনও কিছুর সঙ্গেই একাত্ম হয়ে পারছি না। ঘটনাটা এমন আকস্মিক। এই হঠাৎ দীঘায় আসা। ইত্যাদি। মাথার মধ্যে সব কিছু জট পাকিয়ে যাচ্ছে, ঘুলিয়ে যাচ্ছে, ধোঁয়াটে হয়ে যাচ্ছে।

বিছানার এককোণে লীনা এখন পরম শান্তিতে ঘুমোচ্ছে। আমি শিল্পী নই, কিন্তু এমন সুঠাম শরীর প্রকৃতই দুর্লভ। সেই কারণেই হয়তো এখন খারাপ লাগলেও চোখ ফেরাতে পারছি না। দিনের আলোয় ব্যাপারটা যত স্পষ্ট হচ্ছে ততই নানারকম আশঙ্কা মাথায় ভিড় করে আসছে। সত্যি কিন্তু এখনও যেন মনে হচ্ছে যা ঘটে ঘটুক এ রাত ভোলার নয়। আমি কোনও রাজা। মহারাজা অথবা বিজেতা হলে বলতুম, ঠিক হ্যায়, রাজত্ব চলে যায় যাক, তবু এ জিনিস ফেরাবার নয়।

সমুদ্রের দিকের জানলা বন্ধ করে দিলে এখনই ঘরে নামবে ফিকে অন্ধকার, সেই অন্ধকারে, এখনও আমরা দুজনে সাঁতার কাটতে পারি। কিন্তু আপশোশ হয়। আজ থেকে পাঁচ বছর আগে। যৌবন ফেলে এসেছি। এখন দেহ প্রৌঢ়ত্বের দরজায়। এ দেহ নিয়ে আর মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া যাবে না। তবুও অনেকদিন পরে এমন একটা রাত জীবনে এল।

এতক্ষণ লক্ষ করিনি নিজেকে। হঠাৎ নজরে পড়ল, খাটের উলটোদিকে ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় নিজের চেহারা ধরা পড়েছে। মধ্যবয়সি জুলকায় একটি মানুষ, ফোলা ফোলা মুখ, বুকে কাঁচা-পাকা চুল, মাথার মধ্যে একটি ছোট টাক, চোখের কোণ দুটো ফোলা। খুব তারিফ করার মতো চেহারা নয়। অথচ মাত্র দশবছর আগে কী ছিলুম। ঠিক এই মুহূর্তে আমার কলকাতার বাড়িতেও ভোর হচ্ছে। হয়তো সেখানে দক্ষিণে সমুদ্র নেই, কিন্তু দেবদারু গাছ আছে। জাফরির ওপারে প্রশান্ত ছাদে নিজের হাতে তৈরি বাগান আছে। সেখানে এই মুহূর্তে খাটে শুয়ে আছে। আমার স্ত্রী, সেও ঘুমোচ্ছে। কিন্তু সে অসুস্থ। প্রায়-পঙ্গু আর্থারাইটিসে।—খাটের উপর বুককেসে বসানো আছে ফোটোস্ট্যান্ড। আমাদের যৌবনের ছবি। সবে ইঞ্জিনিয়ার হয়েছি। গর্বোদ্ভাসিত চোখা সুন্দর যুবকের পাশে, বিশ্বসুন্দরী না হলেও বেশ সুন্দরী মহিলা। মার পাশে শুয়ে আছে। আমাদের একমাত্র মেয়ে। এই বারোয় পড়েছে। মার চেয়ে সুন্দর, ফুলের মতো টাটকা, দেবালয়ের মতো পবিত্র।

কিন্তু আমি কী করে হঠাৎ দীঘায় চলে এসেছি ছিটকে। সঙ্গে এই আগুনের টুকরোই বা কে। হঠাৎ একাই হাসতে ইচ্ছে করল। আরশির আমিও হেসে উঠলাম। মনে হল যেন মিশরের রাজা ফারুক সি বিচে, সুইমিং কস্টিউম পরে বসে আছি। এই মুহূর্তে আমার কোনও পরিচিত জন যদি ওই জানলা দিয়ে উঁকি মারে কিংবা একটা ছবি তুলে আমার স্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দেয়, অথবা বেশ এনলার্জ করে আমার অফিসে পাঠিয়ে দেয়, তাহলে কেমন হয়। এতে কি আমার স্ত্রীর বয়স এককথায় দশবছর বেড়ে যাবে। আমার মেয়ে কি আমায় বাবা বলে ডাকবে না, আমার অফিসের কর্মচারীরা আমার গায়ে থুথু দেবে। কাগজের পাতায় পাতায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হঠাৎ দীঘা। সফরের কাহিনি ফলাও করে ছাপা! সেন্ট্রাল ইনভেসটিগেশনে ফাইল উঠবে! চাকরি থেকে অবসর নিতে বাধ্য হব! সামান্য একটা রাতের জন্যে বড়ো বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে না কি!

চাদরটা পায়ের কাছ থেকে তুলে লীনার শরীরটা ঢেকে দিলুম। সে একটু আড়মোড়া ভাঙতে গিয়ে একটা হাত মাথার উপর তুলে পা দুটো ছড়িয়ে টান টান করল। শরীরে যত্ন নেয়, চুল থেকে নখ অবধি যত্নে বেড়েছে। এমন একটি রচনার মধ্যে নিজেকে যে-কোনও মূল্যে হারিয়ে ফেলা চলে। আমার অবস্থায় পড়লে বোধহয় অনেক মহাপুরুষই ভেসে যেতেন। না লীনা এখন জাগবে না। সে কারুর স্ত্রী নয়, সে কারুর মানয়। কারুর প্রতি তার কোনও কর্তব্য নেই কোনও দায়িত্ব নেই। বিশেষ কোনও সময়ে তাকে ঘুম থেকে উঠতেই হবে এমন কোনও কথা নেই।

এখন সাতটা বাজতে অনেক দেরি। আটটা বাজবে আরও অনেক পরে। অতএব এখনও স্বচ্ছন্দে বিছানায় থাকা যায়। নরম, কোমল, উষ্ণ। দীঘায় আমি ভ্রমণে আসিনি, সমুদ্রে স্নানেরও বাসনা। নেই। আবার পরে আসব কি না তাও জানি না। বর্তমানের কথা চিন্তা করলে এইটুকু বলা যায় সময় ফুরিয়ে আসছে, যৌবন চলে গেছে। অতএব আর সুযোগের শেষ বিন্দুটুকুর সদব্যবহার করতে হলে আমার এখনই এই ঘর এই শয্যা ছাড়া উচিত নয়। কিন্তু রাতের অন্ধকারে সব কিছু ছিল প্রচ্ছন্ন, দিনের আলোয় তা যেন বড় বেশি প্রকট। তাছাড়া সেই উন্মাদনা, সেই নেশাটাও যেন কেটে গেছে। এখন যা কিছু করতে চাই সে ওই জোর করে পাওনা আদায়ের সামিল হবে, মনের যোগ থাকবে না, তবে একথা ঠিক দাতার কোনও কৃপণতা নেই, কেবল গ্রহীতাই শক্তিহীন।

চিন্তাধারা যখন এলোমেলো বঙ্গাহীন ঘোড়ার মতো ছোটে তখন একটা সিগারেট কিছু সাহায্য করতে পারে ভেবে একটা সিগারেট ধরালুম। আচ্ছা লীনা কি সত্যি একলাই এসেছে আমার। সঙ্গে, না অন্য কেউ আমার অলক্ষ্যে আমাদের উপর নজর রাখছে। এই সব পেশাদার মেয়েকে বিশ্বাস নেই। বলা যায় না সাগর সৈকতের এই নির্জনতা হয়তো এতটা নির্জন নয়। দরজা অথবা জানলার ছিদ্রে চোখ রেখে হয়তো কেউ রাতের উদ্দাম দৃশ্য দেখেছে। ক্যামেরার চোখে একের। পর এক ধরে রেখেছে। পরে কোনওদিন একটি একটি ছবি চোখের সামনে তুলে ধরে আমাকে সর্বস্বান্ত করে দেবে। না তা কি সম্ভব। সেদিন বলছিল এদের ব্যবসারও একটা ‘কোড অফ কনডাক্ট’ একটা ‘গুডউইল’ আছে। হতে পারে। জীবনে এই রকম একটা বিশ্রী ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ব কোনওদিন ভাবিনি। বর্তমানে আমরা সকলেই ‘ফ্রাসট্রেটেড’। আমি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যা করতে চেয়েছি, দেশকে যা দিতে চেয়েছি তা পারিনি। টাকা দিতে প্রলোভন দেখিয়ে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে দিনের পর দিন একদল লোক আমাকে নিয়ে পুতুল খেলেছে। বাড়িতেও আমার স্ত্রীর কাছ থেকে যা দাবি ছিল যে-কোনও কারণেই হোক পাইনি। আমারও যা দেবার ছিল দিতে পারিনি। প্রচণ্ড হতাশা থেকে মুক্তি খুঁজেছি আমরা পানপাত্রে। কিন্তু মদ তো। অনেকেই খায় তা বলে একটা নাচিয়ে ক্যাবারে গার্ল এনে দীঘায় রাত কাটায়? এই মুহূর্তে ওই আরশিতে যদি আমার মতো সমান পদমর্যাদা সম্পন্ন কোনও মানুষ এসে বলত, হ্যাঁ আমিও তোমার দলে, তাহলে একটা ‘মর‍্যাল সাপোর্ট’ পেতুম। লীনাকে আরও ভালো লাগত। কিন্তু এ যেন কেমন নিজেকে নিঃসঙ্গ অপাঙক্তেয় অপরাধী বলে মনে হচ্ছে।

পারিবারিক জীবনের ব্যর্থতাকে কাজ দিয়েই ভুলতে চেয়েছিলুম। নারীসঙ্গের বাসনা জাগত না বললে ভুল হবে। কিন্তু এর ভিতর থেকে দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন একটা পিতা, একটা স্বামী, একটা সামাজিক মানুষ সবসময় হঠকারিতাকে বাধা দিয়েছে; কিন্তু শেষকালে কী যে হল। ছাত্রজীবনে একবার দুবার কলকাতায় কিছু কিছু লাল আলোর এলাকা দিয়ে ইচ্ছে করেই হেঁটে গেছি। কেমন একটা উত্তেজনা জাগত। রাস্তাটুকু পেরোতুম মাথা নীচু করে নানা মন্তব্য আর ছুড়ে মারা গানের কলির মধ্যে দিয়ে। অবশেষে মনে হত ভীষণ ক্লান্ত, ঘাম জমে যেত কপালে, কণ্ঠতালু শুকিয়ে। যেত ভয়ে। অথচ আজ এই যৌবনের শেষ ধাপে সেইরকমই একটি চরিত্রের মূল্যবান সংস্করণকে এই মুহূর্তে নাড়াচাড়া করছি, অপটু অনভ্যস্ত হাতে।

এই টোপ ঠিক কে আমাকে গিলিয়েছে, কার হাতে সুতো বা আমি নিজেই গিলেছি কিনা বলতে পারব না। কোনও একটা ‘বারে’ কোনও এক রাতের পরিচয়। সঙ্গে কে ছিল, আর কে কে ছিল না মনে নেই। লীনা একটু পরেই ডায়াসে উঠে গিয়ে দুলে দুলে নেচেছিল, শরীর অনাবৃত করেছিল। অনেক হাততালি কুড়িয়েছিল, শেষ রাতে মাতাল হয়েছিল।

জ্যোৎস্না তখন প্রায় পঙ্গু। একমাত্র অকৃত্রিম ভালোবাসা ছাড়া তার আর কিছুই দেবার ছিল না। তখন লীনার একমাত্র ভালোবাসা ছাড়া আর সব কিছুই দেবার ছিল অবশ্য যথোচিত মূল্যে।

একবার দুবার দেখতে দেখতেই আলাপ। কেন গিয়েছিলুম জানি না। দেবার আনন্দেই বোধহয় অথবা দেবার ক্ষমতা আছে বলে, নাকি এই দীঘায় আসার প্রস্তুতি, আমার নিয়তিই বলতে পারবে।

কাঁচা সোনার মতো রোদ উঠেছে। লীনা ঘুমোচ্ছে ঘুমোক, আমি একটু লাউঞ্জে বসে চা খেয়ে আসি। ঘরে চা দিয়ে যাক এটা আমি চাই না। ঘরটা এত অগোছালো হয়ে আছে। যেই আসুক না কেন চট করে বুঝে নেবে এটা স্ত্রীর ঘর নয়। অবশ্য ওরা অভ্যস্ত এ সব দেখে। কিন্তু আমি তো একেবারে আনকোরা নতুন এ লাইনে। লীনাই আমার হাতেখড়ি।

বীচ আমব্রেলার তলায় বসে সবে চায়ের কাপে চুমুক দিয়েছি পাশ থেকে গগলস চোখে এক সুন্দর ভদ্রলোক বল্লেন—সকালটা ভারি সুন্দর তাই না। কলকাতায় এমন একটা সকাল পাবেন না।

না তা তো পাব না, কেমন করে পাব।

নতুন নতুন জায়গায় রাতে ঘুম আসে না। তারপর পুরোনো হলেই সব সয়ে যায়। কি বলেন?

হ্যাঁ সে তো ঠিক কথাই। উত্তর দিয়েই কেমন যেন সন্দেহ হল। কথাটার যেন অন্য একটা মানে। আছে। তাকিয়ে দেখলাম ভদ্রলোক মুচকি হাসছেন। ফরসা মুখে সরু গোফ। কেমন যেন শয়তান চেহারা, সাপের মতো হিলহিলে। অবশ্য আমিও কিছু কম শয়তান নই। আমি কাঁচা আর ও যেন। পাকা শয়তান।

চা-টা গরম। তা না হলে এক চুমুকে শেষ করে ফেলে উঠে যেতুম। ভদ্রলোক বল্লেন, ‘সমুদ্র মানুষকে সজীব করে, যৌবন ফিরিয়ে দেয়।’ সমুদ্রের ধারে তাই পুরোনো সঙ্গী নিয়ে আসতে নেই, সবসময় নতুন সাথী নিয়ে আসতে হয়, বলে মুচকি মুচকি হাসতে লাগল। সেই শয়তানের ক্রুর হাসি। হঠাৎ নিজেকে মনে হল কাচের মানুষ, লোকটি যেন আমার ভিতরটা অ্যাকোয়ারিয়ামের মতো দেখছে। নিজেকে যেন কেমন অসহায় মনে হল।

ভদ্রলোক যেন দূর থেকে বল্লেন—’সমুদ্র আমাদের কাছে কিছু নেয় না। তাই সমুদ্রের ধারে আমরা যা খুশি তাই করতে পারি, যা খুশি তাই ফেলে যেতে পারি।’ আর একবার সেই ধারালো হাসি।

বীচ আমব্রেলার তলা থেকে উঠে প্রায় ছুটতে ছুটতে নিজের ঘরে ফিরে এলুম। যা ভেবেছি তাই। লীনা একলা আসেনি। এই সেই লোক যে আমাদের ওপর নজর রেখেছে। ছায়ার মতো অনুসরণ করছে। আমাদের সমস্ত গোপনীয়তা যার হাতের মুঠোর মধ্যে। এমনও তো হতে পারে আমার স্ত্রীর পাঠানো লোক অথবা অফিসের কোনও শত্রু। কিংবা আমার কোনও প্রতিবেশী।

এই মুহূর্তে আমাকে চলে যেতে হবে ওই লোকটির থেকে দূরে। আজকের সমস্ত প্রোগ্রাম মাটি। ভেবেছিলাম শনিবার, রবিবার দুদিন থেকে চলে যাব। সেই ব্যবস্থাই ছিল। লীনার সঙ্গে একটা রাত কি যথেষ্ট! না, সারাদিন, সারারাত, এমনি করে যতক্ষণ না একেবারে পুরো ব্যাপারটার উপর বিতৃষ্ণা আসছে। তারপর কিছুদিন হয়তো বিরতি। আবার ফিরে ফিরে আসা রক্তের উন্মাদনা। কান পাতলে শোনা যাবে। ধমনিতে ধমনিতে সমুদ্রের গর্জন।

আলোর বন্যা বইছে ঘরে। লীনা এখনও শুয়ে আছে। একটা প্রচণ্ড ইচ্ছেকে মনের মধ্যে চেপে রেখে, জামাকাপড় পরে ফেলুম, দাড়ি কামানো ইত্যাদি পরে হবে। অন্য কোথাও অন্য। কোনওখানে। সেই সরু গোফ, রঙিন কাচ, ইস্পাত হাসি যেন আমাকে পেছন থেকে তাড়া করছে। লীনার সঙ্গে আর একসঙ্গে ফেরা যায় না, কারণ আমাদের উপর নজর রেখেছে। আমরা নজরবন্দি। লীনার জন্যে ভাবনা নেই, সে ঠিক ফিরে যাবে হয়তো ওই লোকটির সঙ্গেই। কিংবা তৈরি হবে কোনও গভীর ফাঁদে আমাকে ধরবার জন্যে।

‘আমি চলে যেতে বাধ্য হচ্ছি’, কথা কটি একটি চিরকুটে তাড়াতাড়ি লিখে কয়েকশো টাকা সমেত তার বালিশের তলায় রেখে বেরিয়ে এলুম। ব্যালকনি থেকে সমুদ্র কত সুন্দর। তরঙ্গশীর্ষে। সোনারোদ ঝলকাচ্ছে। দেখার সময় নেই, মন নেই। গাড়িতে স্টার্ট দিলুম। বেরোবার মুখে সেই ভদ্রলোক, সেই হাসি। ‘গাড়িতে এসেছেন, তা ভালোই। তবে ওই দীঘা রোডে ভয়ানক অ্যাকসিডেন্ট হয়।’ খুব চিন্তা করতে করতে অথবা সমুদ্রের কথা ভাবতে ভাবতে কিংবা সমুদ্র থেকে পালাতে চাইলে, কখন কী হয় বলা যায় না। গাড়ি ছুটছে ছুটছে। মনে হচ্ছে আমার দেহ থেকে আমি মুক্ত হয়ে আরও আগে ছুটে চলেছি, কানের কাছে এখনও শুনছি সমুদ্রের গর্জন।

সকল অধ্যায়
১.
টক ঝাল মিষ্টি
২.
প্রেম বাড়ছে
৩.
বড়মামা ও নরনারায়ণ
৪.
ফল্গু
৫.
ফাটল
৬.
যার যেমন
৭.
সেই লোকটা
৮.
হাত
৯.
প্রেম আর ভূত
১০.
বত্রিশ পাটি দাঁত – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
১১.
গরুর রেজাল্ট
১২.
গোমুখ্যু গরু
১৩.
মামার বোমাবাজি
১৪.
মসনদ
১৫.
বিকাশের বিয়ে
১৬.
আলো-অন্ধকার
১৭.
হাইওয়ে
১৮.
উপলব্ধি
১৯.
চরিত্র
২০.
দিন চলে যায়
২১.
গান্ধারী
২২.
সরষে
২৩.
শেষ কথা
২৪.
সদা আনন্দে
২৫.
বিস্কুট
২৬.
একটি দুর্ধর্ষ অভিযান
২৭.
হতে পারে
২৮.
টি ভিং মনোরমাং
২৯.
স্বপ্নের দাম
৩০.
প্রেমের পুজো, পুজোর প্রেম
৩১.
আহারের বাহার
৩২.
বিবাহ-মঙ্গল
৩৩.
বিদ্যুতের জাদুঘরে
৩৪.
জলছবি
৩৫.
স্বামী-স্ত্রী সংসার
৩৬.
ভূমিকা-২
৩৭.
আজ আছি কাল নেই
৩৮.
সুন্দরী বউ
৩৯.
ট্রাবলসাম প্রাণী
৪০.
স্বর্গ এখনও আছে
৪১.
মানব অথবা দানব
৪২.
বুকপকেটে বিশ্ব ঘোরে
৪৩.
কোথায় সে গেল? এখন কোথায় আছে? ভালো আছে তো!
৪৪.
কালোয়াত কাল
৪৫.
দেশসেবার ঝকমারি
৪৬.
মোচার ঘণ্ট
৪৭.
প্রশ্নের পর প্রশ্ন
৪৮.
কথার কথা
৪৯.
ক্ষতবিক্ষত
৫০.
জ্ঞান দিতে দিতে অজ্ঞান
৫১.
জুতোচোর হইতে সাবধান
৫২.
পকেটমারি
৫৩.
রাজা
৫৪.
পলাশ
৫৫.
চারমিনার
৫৬.
সোনার বালা
৫৭.
যা হয়, তা হয়
৫৮.
হাতলের লড়াই
৫৯.
আকাশ
৬০.
সুখ-অসুখ
৬১.
পেয়ালা পিরিচ
৬২.
কারুর আসার সময় এগিয়ে আসে, কারুর যাবার সময়
৬৩.
ভয় পেলে চলবে না
৬৪.
আমার সামনে পথ তোমার সামনে দেয়াল
৬৫.
রহস্য
৬৬.
কাচ
৬৭.
অঞ্জলি
৬৮.
অঙ্কই ভগবান
৬৯.
পুরুষ বাদ
৭০.
লাস্ট টার্মিনাস
৭১.
ভয়
৭২.
ঝালমুড়ি
৭৩.
পায়রা
৭৪.
বাঘমারি
৭৫.
কুশলের সাইকেল
৭৬.
নিশির ডাক
৭৭.
গোল
৭৮.
খাটে বসে খেলা
৭৯.
স্বাগত সাতাশি
৮০.
মানভঞ্জন পালা
৮১.
মইয়ের বদলে বই
৮২.
ঘড়ি
৮৩.
কী হল!
৮৪.
রুপোর মাছ
৮৫.
সোনার পালক
৮৬.
ইয়েস স্যার
৮৭.
নিগ্রহ
৮৮.
ধ্যাততেরিকা সংসার
৮৯.
ফানুস
৯০.
শেষ চুরি
৯১.
একটি মেয়ের আত্মকাহিনি
৯২.
কে?
৯৩.
গুদোমে গুমখুন
৯৪.
ডবল দক্ষিণা
৯৫.
ভালোবাসার বিষ
৯৬.
কেয়ারটেকার
৯৭.
হঠাৎ বৃষ্টিতে
৯৮.
গণ্ডির বাইরে
৯৯.
আলো
১০০.
জোকার

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%