পৌলোমী সেনগুপ্ত
সুকুমার সেন: ১৬ জানুয়ারি ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় জন্ম। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে এম এ পাশ করেন প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে। ১৯২৪-এ প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ। ১৯৩৭-এ পি এইচ ডি। ১৯৩০ থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব বিভাগের উপাধ্যক্ষ। বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, ভাষাতত্ত্বের ইতিহাস প্রভৃতি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। ১৯৬৬ এবং ১৯৮৪-তে পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার। এ ছাড়া পেয়েছেন রবীন্দ্র পুরস্কার, বিদ্যাসাগর পুরস্কার ও দেশিকোত্তম।
মৃত্যু: ৩ মার্চ ১৯৯২।
মনোজ বসু: ২৫ জুলাই ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে যশোহর জেলার ডোঙাঘণ্টা গ্রামে জন্ম। উপন্যাস, ছোটগল্প ও কিশোর রচনায় সিদ্ধহস্ত ছিলেন এই কথাসাহিত্যিক। ভুলি নাই, আগস্ট ১৯৪২, রাখিবন্ধন, জলজঙ্গল ইত্যাদি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। ১৯৬৬ সালে নিশিকুটুম্ব গ্রন্থের জন্য পেয়েছেন অকাদেমি পুরস্কার।
মৃত্যু: ২৬ ডিসেম্বর ১৯৮৭
শিবরাম চক্রবর্তী: ১৩ ডিসেম্বর ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে মালদহ জেলার চাঁচলে জন্ম। ছাত্রাবস্থায় স্বদেশি আন্দোলনে যুক্ত হয়ে জেল খেটেছেন। সাহিত্যজীবন শুরু কবি হিসেবে। তবে শিশু সাহিত্যিক হিসেবেই তাঁর বাংলা সাহিত্যে উজ্জ্বল ভূমিকা। হর্ষবর্ধন-গোবর্ধন দুই ভাই ও বিনি চরিত্র তাঁর অমর সৃষ্টি। তাঁর গল্পে আছে অনাবিল হাস্যরস। আর নিজেকে নিয়ে ঠাট্টা। আমার ভূত দেখা, ঘোড়ার সঙ্গে ঘোরাঘুরি, চক্রবর্তীরা কঞ্জুষ হয়, যুদ্ধে গেলেন হর্ষবর্ধন, বিনির কাণ্ডকারখানা ইত্যাদি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। ১৯৬০-এ মৌচাক এবং ১৯৭৫-এ আনন্দ পুরস্কার পেয়েছেন।
মৃত্যু: ২৮ আগস্ট ১৯৮০।
প্রেমেন্দ্র মিত্র: সেপ্টেম্বর ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে বারাণসীতে জন্ম। কলকাতা ও ঢাকায় পড়াশুনা করেছেন। বিচিত্র জীবিকা, শেষ পর্যন্ত লেখক। প্রায় শ’ দেড়েক বই লিখেছেন। বাংলা সাহিত্যে ঘনাদা প্রভৃতি চরিত্র তাঁর অমর সৃষ্টি। তেল দেবেন ঘনাদা, ঘনাদার চিংড়ি বৃত্তান্ত, মান্ধাতার টোপ ও ঘনাদা বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। বহু সম্মানে ভূষিত বরেণ্য এই লেখক সাগর থেকে ফেরা গ্রন্থের জন্য ১৯৫৭ ও ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে পেয়েছেন অকাদেমি ও রবীন্দ্র পুরস্কার। আর ১৯৮৪-তে পেয়েছেন বিদ্যাসাগর পুরস্কার।
মৃত্যু: ৩ মে ১৯৮৮।
লীলা মজুমদার: ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় জন্ম। ১৯৩৬ সালে বদ্যিনাথের ষাঁড় লিখে ছোটদের হৃদয় জয় করেন। সারাজীবন তিনি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন শিশুসাহিত্য রচনায়। পদিপিসির বর্মি বাক্স, খেরোর খাতা, কল্পবিজ্ঞানের গল্প, গুপিপানুর কীর্তিকলাপ ইত্যাদি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। লীলা পুরস্কার (১৯৫৯) শিশু সাহিত্যে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার (১৯৮০) ইত্যাদি বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
আশাপূর্ণা দেবী: ৮ জানুয়ারি ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম। স্কুল কলেজে পড়েননি। মাত্র তেরো বছর বয়সে শিশুসাথী পত্রিকায় গল্প ও কবিতা লিখে সাহিত্য জীবনের সুত্রপাত। তার দশটি কিশোর উপন্যাস, ভুতুড়ে কুকুর, অলয় আদিত্যর ইচ্ছাপত্র রহস্য ইত্যাদি বহু কিশোর গল্প ও উপন্যাস রচনা করেছেন। ১৯৬৬ সালে প্রথম প্রতিশ্রুতি উপন্যাসের জন্য পেয়েছে রবীন্দ্র পুরস্কার। ১৯৭৬-এ জ্ঞানপীঠ ও ১৯৮৯-এ পেয়েছেন দেশিকোত্তম।
মৃত্যু: ১৩ জুলাই ১৯৯৫
ক্ষিতীন্দ্রনারায়ণ ভট্টাচার্য: ১ ফেব্রুয়ারি ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের ফরিদপুরে জন্ম। ফলিত রসায়ন শাস্ত্রের কৃতী এই ছাত্র সারাজীবন ছোটদের সাহিত্য নিয়েই মেতে ছিলেন। পিতৃ-প্রতিষ্ঠিত শিশুপত্রিকা রামধনু সম্পাদনা করেছেন ১৯৩৯ থেকে আমৃত্যু। শিশু সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য তিনি ভুবনেশ্বরী পদক, বিদ্যাসাগর পুরস্কার ইত্যাদি নানান পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তার নিজের বাড়িতেই শিশুসাহিত্য পরিষদ ও সায়েন্স ফর চিলড্রেন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি পাঁচ খণ্ডে ছোটদের বিশ্বকোষ সম্পাদনা করেছেন। তাঁর আবিষ্কারের গল্প, ধূমকেতু, গুপ্তধন ইত্যাদি গ্রন্থ বহু জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
মৃত্যু: ৩ জুন ১৯৯০
নীহাররঞ্জন গুপ্ত: ৬ জুন ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় জন্ম। পেশায় চিকিৎসক। পাশাপাশি তিনি সাহিত্য সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। তাঁর তিন খণ্ডে প্রকাশিত বিদ্রোহী ভারত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। উপন্যাস, নাটক ও রহস্যোপন্যাস লিখে এই কথাশিল্পী সাহিত্য ক্ষেত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। হাসপাতাল, মায়ামৃগ, উত্তরফাল্গুনী, বিষের তীর, কালো ভ্রমর প্রভৃতি বহু গ্রন্থ রচনা করেন।
মৃত্যু: ২০ অক্টোবর ১৯৮৬
বিমল মিত্র: ১৮ মার্চ ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় জন্ম। ১৯৫৩ থেকে সাহিত্যকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে পুরো সময়ের জন্য সাহিত্য সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। সাহেব বিবি গোলাম, বেগম মেরী বিশ্বাস, কড়ি দিয়ে কিনলাম ইত্যাদি গ্রন্থের এই লেখক ছোটদের জন্য লিখেছেন— কে?, রাজা হওয়ার ঝকমারি, কিশোর অমনিবাস ইত্যাদি বহু গ্রন্থ। ১৯৬৪-তে রবীন্দ্র পুরস্কার ও ১৯৮৪-তে পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার।
মৃত্যু: ৭ মে ১৯৯৩।
হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়: ২৩ মার্চ ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় জন্ম। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে বর্মায়। ১৯৪০-এ ফিরে আসেন কলকাতায়। তাঁর প্রথম উপন্যাস ইরাবতী ধারাবাহিক দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। বাংলা সাহিত্যের এই জনপ্রিয় কথাশিল্পী শিশু ও কিশোর সাহিত্যের এক নিজস্ব জগৎ তৈরি করেছিলেন। তিনি ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প, ভয়ের মুখোশ, ভৌতিক অমনিবাস, বিচিত্র শিকারের গল্প ইত্যাদি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন।
মৃত্যু: ২০ জানুয়ারি ১৯৮১।
সত্যজিৎ রায়: ২ মে ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় জন্ম। বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বহুমুখী শিল্প প্রতিভার অধিকারী। ১৯৯২-এ পেয়েছেন অস্কার। পিতামহ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ও পিতা সুকুমার রায়ের মতোই এই লেখক বাংলা শিশু ও কিশোর সাহিত্যের বিশিষ্ট লেখক। গোয়েন্দা ও কল্প বিজ্ঞানের কাহিনীর অন্যতম সার্থক ও জনপ্রিয় লেখক। তাঁর ফেলুদা ও প্রোফেসর শঙ্কু চরিত্র দুটি বাংলা সাহিত্যে এক অমর সৃষ্টি। সন্দেশ পত্রিকাকে তিনি পুনরুজ্জীবিত করেন। ১৯৭৮-এ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি লিট দিয়ে সম্মানিত করেছে। এ ছাড়া তিনি পদ্মশ্রী (১৯৫৯), পদ্মবিভূষণ (১৯৭৬), ভারতরত্ন (১৯৯২) উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। ১৯৭১-এ আনন্দ পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়।
মৃত্যু: ২৩ এপ্রিল ১৯৯২।
বিমল কর: ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে চব্বিশ পরগনা জেলার টাকির কাছে এক গ্রামে জন্ম। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে নানা জায়গায়। বিচিত্র কর্মজীবন। শেষ পর্যন্ত সাংবাদিক। বহু ছোটগল্প ও উপন্যাসের জনক এই লেখকের শিশু ও কিশোর সাহিত্যে শ্রেষ্ঠ অবদান কিকিরা। তাঁর গজপতি ভেজিটেবল শু কোম্পানি, মন্দারগড়ের রহস্যময় জ্যোৎস্না, রাবণের মুখোশ, কিকিরা সমগ্র ইত্যাদি গ্রন্থ জনপ্রিয় হয়েছে। ১৯৬৭ এবং ১৯৯২-এ পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার, ১৯৭৫-এ অকাদেমি, ১৯৮১ এবং ১৯৮২-তে পেয়েছেন যথাক্রমে শরৎ ও নরসিংহ দাস পুরস্কার।
মৃত্যু: ২৬ আগস্ট ২০০৩।
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: ১৯ অক্টোবর ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুরে জন্ম। ছাত্রজীবনে শ্রীহর্ষ এবং পরে আনন্দমেলা পত্রিকা সম্পাদনা করেন। গদ্য-পদ্য এবং ছোটদের লেখায় সমান দক্ষ। ছোটদের জন্য লিখেছেন সাদা বাঘ, বিবির ছড়া, কলকাতা ও ডাইনোসর, ভোরের পাখি, খোকনের খাতা, ছড়াসমগ্র-১ ইত্যাদি বহু গ্রন্থ। ১৯৭৪-এ উলঙ্গ রাজা কাব্যগ্রন্থের জন্য অকাদেমি পুরস্কার এবং ১৯৭৬-এ আনন্দ পুরস্কার পেয়েছেন।
সমরেশ বসু: ১১ ডিসেম্বর ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে জন্ম। বহু বিচিত্র অভিজ্ঞতাপূর্ণ জীবন। লেখাকেই তিনি জীবিকা হিসেবে বেছে নেন। তাঁর প্রথম গল্প আদাব প্রকাশিত হয় ১৯৪৬ সালে। কালকূট ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় অমৃত কুম্ভের সন্ধানে প্রকাশিত হলে তিনি বিপুলভাবে সংবর্ধিত হন। কিশোর সাহিত্যে তাঁর অবদান গগনচুম্বী। তার সৃষ্ট ‘গোগোল’ বাংলা কিশোর সাহিত্যে বিপুলভাবে সমাদৃত হয়েছে। শিমুলগড়ের খুনে ভূত, জঙ্গল মহলে গোগোল, বন্ধ ঘরের আওয়াজ, গোগোল চিক্কুস নাগাল্যান্ডে ইত্যাদি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। ১৯৫৮, ১৯৭২ এবং ১৯৯৩-এ পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার। আর ১৯৮০-তে শাম্ব উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন অকাদেমি। মৃত্যু: ১২ মার্চ ১৯৮৮।
শৈলেন ঘোষ: জন্ম ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে। তুখোড় খেলোয়াড় ছিলেন ফুটবলের, খেলতে খেলতে লিখলেন ছোটদের নাটক, হলেন নাটকের নির্দেশক। অসংখ্য নাটক, গল্প, উপন্যাস লিখেছেন ছোটদের জন্য। শিশুদের প্রতি ভালবাসার তাগিদেই তিনি আজ একটি বিশিষ্ট শিশুসংস্থা ‘শিশুরঙ্গন’-এর সঙ্গে একাত্ম। অরুণ-বরুণ-কিরণমালা নাটকের জন্য পেয়েছেন অকাদেমি পুরস্কার। ভারত সরকার পরিচালিত জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন তাঁর উপন্যাস, মিতুল নামে পুতুলটির জন্য।
শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়: ২৫ মার্চ ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে খুলনায় জন্ম। ১৯৫৮ থেকে আনন্দবাজার পত্রিকায় যোগদান। এরপর ১৯৭৭ সালে যোগ দিয়েছেন অমৃতবাজার পত্রিকার সংযুক্ত সম্পাদকের পদে। দেশ পত্রিকায় তাঁর ধারাবাহিক উপন্যাস কুবেরের বিষয়-আশয় প্রকাশিত হলে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। কিশোর সাহিত্যেও তাঁর কলম ছিল অত্যন্ত সাবলীল। তাঁর কিশোর অমনিবাস তারই সাক্ষ্য বহন করে। বহু পুরস্কারে ভূষিত এই লেখক ১৯৯৩-এ অকাদেমি পুরস্কার পেয়েছেন শাহ্জাদা দারাশুকো গ্রন্থের জন্য।
মৃত্যু: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০০১।
অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়: ১ মার্চ ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা জেলার রাইনাদিতে জন্ম। বহরমপুরের অবসর পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প কার্ডিফের রাজপথ ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়। বড়দের জন্য উপন্যাস ছোটগল্প লেখার পাশাপাশি ছোটদের জন্য লিখেছেন উড়ন্ত তরবারি, গিনি রহস্য, বিন্নির খই লাল বাতাসা ইত্যাদি বহু গ্রন্থ। মানিক স্মৃতি পুরস্কার, বিভূতিভূষণ স্মৃতি পুরস্কার ১৯৯৩-এ ভুয়ালকা পুরস্কার, ১৯৯৮-এ বঙ্কিম পুরস্কার এবং ২০০১-এ পঞ্চাশটি গল্প-এর জন্য পেয়েছেন অকাদেমি পুরস্কার।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ঃ ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলায় জন্ম। কৃত্তিবাস পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। সনাতন পাঠক, নীললোহিত এবং নীল উপাধ্যায় ছদ্মনামেও লিখে থাকেন। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ— বাংলা সাহিত্যের সব শাখায় এই সব্যসাচী লেখকের অনায়াস বিচরণ। কিশোর সাহিত্যে তাঁর সৃষ্ট কাকাবাবুর উজ্জ্বল উপস্থিতি এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। পাঁচ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর কাকাবাবু সমগ্র। এ ছাড়া কলকাতার জঙ্গলে, জলদস্যু, তিন নম্বর চোখ ইত্যাদি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। ১৯৭২ ও ১৯৮৯-তে আনন্দ পুরস্কার এবং ১৯৮৩-তে সেই সময় উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন বঙ্কিম ও ১৯৮৫-তে অকাদেমি পুরস্কার।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়: ২ নভেম্বর ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে ময়মনসিংহ জেলায় জন্ম। পিতার রেলের চাকরির সূত্রে তাঁর শৈশব কেটেছে নানা জায়গায়। বড়দের জন্য লেখার পাশাপাশি তিনি সমান দক্ষতায় লেখেন ছোটদের জন্য। পাতালঘর, গজাননের কৌটো, গোঁসাই বাগানের ভূত, মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি ইত্যাদি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। ১৯৭৩ এবং ১৯৮৭-তে আনন্দ পুরস্কার, ১৯৭৫-এ বিদ্যাসাগর ১৯৮৮-তে ভুয়ালকা এবং ১৯৮৯-এ মানবজমিন গ্রন্থের জন্য পেয়েছেন অকাদেমি।
সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়: ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার বরাহনগরে জন্ম। শৈশব কেটেছে ছোটনাগপুরের পাহাড়ি অঞ্চলে। শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবনের শুরু। প্রথম প্রকাশিত গল্প সারি সারি মুখ। ছোটদের জন্যে ডোরাকাটা জামা, রুকুসুকু, ইতি পলাশ, কিশোর রচনা সম্ভার ইত্যাদি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন রসস্রষ্টা এই কথাশিল্পী। লোটাকম্বলের এই লেখক ১৯৮১-তে পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার।
বাণী বসু: ১১ মার্চ ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় জন্ম। ছাত্র জীবন থেকেই প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা ও অনুবাদে সিদ্ধহস্ত। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্য রচনা করেছেন অপারেশন অরিন্দম, ছোটদের গল্প সম্ভার ইত্যাদি গ্রন্থ। ১৯৯১-তে তারাশঙ্কর, ১৯৯৬-এ সাহিত্য সেতু, ১৯৯৭-এ শিরোমণি ও আনন্দ পুরস্কার এবং ১৯৯৯-এ তিনি ভূষিত হয়েছেন বঙ্কিম পুরস্কারে
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়: ২৫ ফাল্গুন ১৩৪৭ (১৯৪১) সালে মধ্য হাওড়ার খুরুট ষষ্ঠীতলায় জন্ম। ১৯৬১ সাল থেকে আনন্দবাজার পত্রিকার রবিবাসরীয় আলোচনীর সঙ্গে লেখালেখিসূত্রে যুক্ত থাকলেও ১৯৮১ সালে প্রকাশিত ছোটদের জন্য লেখা পাণ্ডব গোয়েন্দা লেখককে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। সোনার গণপতি হিরের চোখ, চতুর গোয়েন্দার চতুরাভিযান, সেরা রহস্য পঁচিশ, পঞ্চাশটি গল্প, পাণ্ডব গোয়েন্দা সমগ্র ইত্যাদি ছোটদের বহু গ্রন্থ লিখেছেন।
সমরেশ মজুমদার: ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে জলপাইগুড়িতে জন্ম। শৈশব কেটেছে উত্তরবাংলার চা-বাগানে। প্রথম উপন্যাস দৌড় বেরিয়েছে ১৯৭৬-এ। কিশোর সাহিত্যে তার অবদান অসামান্য। তাঁর সৃষ্ট অর্জুন পাঠকদের টানটান উত্তেজনায় ভরিয়ে তোলে। রত্নগর্ভা, ফুলে বিষের গন্ধ, জয়ন্তীর জঙ্গলে, দেড়দিন ইত্যাদি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। ১৯৮২-তে আনন্দ এবং ১৯৮৪-তে কালবেলা উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার।
দুলেন্দ্র ভৌমিক: ৬ আগস্ট ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলা দেশের ময়মনসিংহ-এ জন্ম। গল্প, উপন্যাস লিখে যেমন জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তেমনি ছোটদের গল্পে মামা চরিত্রটি তাঁর এক অনবদ্য সৃষ্টি। আনন্দমেলায় তিনি বহু গল্প লিখেছেন। গৌর নিতাই তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কিশোর গ্রন্থ। শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার হিসেবে তিনি পেয়েছেন বি এফ জে এ পুরস্কার।
রূপক সাহা: ৬ জানুয়ারি ১৯৪৯ সালে জন্ম। বাবা হারান সাহা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রাক্তন ফুটবলার। খেলাকে ভালবেসেই রূপক সাহার প্রবেশ ক্রীড়া সাংবাদিকতায়। আনন্দবাজার পত্রিকার ক্রীড়াসম্পাদক ছিলেন দীর্ঘ বারো বছর। বড়দের জন্য লেখার পাশাপাশি ছোটদের জন্যও লিখেছেন অনেক। বিদ্রোহী মারাদোনা তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ। ১৯৯২ সালে পেয়েছেন রাজ্য সরকারের সেরা সাংবাদিকের পুরস্কার।
সুচিত্রা ভট্টাচার্য: ১০ জানুয়ারি ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে ভাগলপুরে জন্ম। বহু ছোটগল্প ও উপন্যাসের স্রষ্টা এই লেখিকা কিশোর সাহিত্যেও সমান দক্ষ। ছোটদের জন্য সারান্ডায় শয়তান, জার্মান গণেশ, ভাঙা ডানার পাখি, কেরালায় কিস্তিমাত, জোনাথনের বাড়ির ভূত ইত্যাদি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। ১৯৯৬-এ দহন-এর জন্য পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার। ১৯৯৭-এ কথা ও ইন্দু বসু স্মৃতি পুরস্কার। এ ছাড়া পেয়েছেন সাহিত্য সেতু (১৯৯৮), তারাশঙ্কর স্মৃতি (২০০০) এবং দ্বিজেন্দ্রলাল স্মৃতি পুরস্কার।
হর্ষ দত্ত: ২৪ ডিসেম্বর ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় জন্ম। স্কুল জীবন থেকেই সাহিত্য চর্চার হাতেখড়ি। কলেজ-জীবনে গল্প লিখেছেন বিভিন্ন লিটিল ম্যাগাজিনে। ১৯৮৪-তে দেশ পত্রিকায় কামাদি কুসুম সকলে প্রকাশিত হলে তিনি জনপ্রিয়তা পান। আর সর্বস্তরের পাঠকদের জন্য অমল উপন্যাস লিখে তিনি বাংলা সাহিত্যে তাঁর আসনটি পাকা করে নিয়েছেন। ছোটদের জন্য লিখেছেন বহু গল্প উপন্যাস। তাঁর রঙিন ছাতা ছোটদের মন জয় করেছে। দেশ পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এবং বইয়ের দেশ-এর সম্পাদক। তিনি নানা সময়ে সমরেশ বসু সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯২), বিচয়ন সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৬), নিবেদিতা পুরস্কার (২০০০) ও আনন্দ-স্নোসেম পুরস্কার (২০০১) ইত্যাদি বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
তিলোত্তমা মজুমদার: ১১ জানুয়ারি ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে উত্তরবঙ্গের কালচিনি চা বাগানে জন্ম। ১৯৯৩ থেকে লেখালেখির শুরু। কালচিনি থেকে প্রকাশিত ‘উন্মেষ’ পত্রিকায় প্রথম গদ্য লেখা। প্রথম উপন্যাস ‘ঋ’। বড়দের জন্য উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ ইত্যাদি লেখার পাশাপাশি ছোটদের জন্যও লিখেছেন অনেক গল্প। বসুধারা উপন্যাসের জন্য ২০০৩-এ আনন্দ পুরস্কার পেয়েছেন।

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন