৮০. ঘুম থেকে উঠে বিলুর হাতে

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ঘুম থেকে উঠে বিলুর হাতে বড় একটা সময় থাকে না। লাবু সকালে স্কুলে চলে যায়। অখণ্ড অবসর পেয়ে বিলু দ্বিতীয় দফা ঘুমিয়ে পড়ে। যখন ওঠে তখন আটটা সাড়ে আটটা। তাই তখন খুব তাড়াহুড়ো করে অফিসের জন্য তৈরি হয়ে নেয় সে।

বলতে কী এই সকালের অতিরিক্ত ঘুম, মুক্ত বিহঙ্গের মতো অফিসে বেরিয়ে পড়া, চাকরি— এই সবটাই তার কাছে ভারী উপভোগ্য। ভারী স্বাধীন, একলাএকলি জীবন। দায়-দায়িত্ব উদ্বেগ দুশ্চিন্তা বা কারও ভার বওয়া নেই। ফুরফুরে হালকা দিন কাটানো। বলতে নেই, তার অঢেল যৌবন আছে এখনও। ইদানীং তার শরীর একটু ফিরেছেও। ঢলঢলে লাবণ্য এসেছে রুক্ষ মুখটায়।

আজ সকালে স্নান সেরে এসে চুল আঁচড়ানোর সময় সে আয়নায় নিজেকে দেখছিল। নিজেকে দেখে আজকাল সে নিজেই মুগ্ধ হয়। আজেবাজে সিঁদুর দেওয়ায় সিঁথিতে চুলকুনি থেকে ঘা হয়েছিল। সেই থেকে সিঁদুরের বদলে একটু কুমকুম দিত সে সিঁথিতে। আজকাল সামান্য লিপস্টিক ঘেঁয়ায় মাত্র। আসলে তো সবটাই কুসংস্কার এবং অন্ধ বিশ্বাস।

প্রীতমের কথা প্রায় সারাক্ষণই তার মনে পড়ে। কিন্তু সে ঘটনাকে মেনে নিয়েছে। পৃথিবীতে কারও সঙ্গেই তো চিরস্থায়ী সম্পর্ক নয়। প্রীতমের নিরুদ্দেশের জন্য দায়ীও নয় সে। কাজেই অকারণ নিজেকে ভারাক্রান্ত করে লাভ কী?

একদিক দিয়ে দেখতে গেলে প্রীতম তাকে মুক্তি দিয়ে গেছে। যতদিন কাছে ছিল ততদিন উদ্বেগ উৎকণ্ঠা পরিশ্রমে বিলু শুকিয়ে গিয়েছিল। প্রীতম শিলিগুড়িতে থাকলেও তাকে কর্তব্যবশে মাঝে মাঝে যেতে হত সেখানে। এখন সেসব বালাই গেছে। সত্য বটে, প্রীতমের জন্য আজও তার কান্না পায়, কিন্তু সেই সঙ্গে বহুদিনের আকাঙিক্ষত এক মুক্তির আনন্দও ঘিরে ধরে তাকে।

সেই আনন্দেই সে গুনগুন করে গান গায়।

অসুস্থ স্বামী নিরুদ্দেশ, বেঁচে আছে কি না ঠিক নেই, এই অবস্থায় তোমার কি আর-একটু বিষণ্ণ হওয়া উচিত নয়? এই বলে সে নিজেকে মাঝে মাঝে মৃদু ধমকও দেয়। কিন্তু তাতে কাজ হয় না। আজকাল এক আনন্দই তাকে ভাসিয়ে নেয় যে! সে কি অবৈধ আনন্দ?

বিলু খেতে বসতে যাচ্ছিল ঠিক এই সময়ে দরজায় কেউ মৃদু কড়া নাড়ল। রোজ না হলেও মাঝে মাঝেই অরুণ এসে তাকে তুলে নিয়ে পৌঁছে দেয় অফিসে। কিন্তু অরুণের কড়া নাড়ার ধরন আলাদা। তাতে আত্মবিশ্বাস থাকে। এ রকম মৃদু ভীরু আওয়াজ তার নয়।

দেখ তো কে?–অচলাকে বলল বিলু।

লাবুকে ইস্কুল থেকে আনতে যাওয়ার জন্য পোশাক পরছিল অচলা। একটু সময় নিল। কিন্তু এই ফাঁকটুকুতে আর একবারও কড়ায় নাড়া পড়ল না। অরুণ নয়। সে হলে এর মধ্যে আরও বার চারেক কড়া নাড়ত।

অচলা দরজা খুলে অবাক গলায় বলল, ও মা! শতম দাদাবাবু!

বিলু একটু থমকে গেল খাওয়ার মাঝখানে। বুকটা কেঁপে উঠল জোরে। ধড়াস ধড়াস করতে লাগল। খিদে ছিল খুব, কিন্তু হঠাৎ খিদের মাথায় জল ঢেলে দিল কে যেন।

উঠতে যাচ্ছিল, কিন্তু হাত-পা একটু কাঁপছিল বলে টক করে উঠতে পারল না। তার আগেই শতম এসে ঢুকল। তেমনি দাড়িওলা মুখ। রুক্ষ জোয়ান শরীর। ব্যাগটা মেঝেয় রেখে একটু শুকনো হেসে বলল, কেমন আছো বউদি?

বিলু খানিকক্ষণ শতমের দিকে চেয়ে থাকে। খারাপ খবর থাকলে শতমের মুখ দেখেই বোঝা যাবে।

কিন্তু কিছুই বুঝতে পারল না বিলু।

মাঝখানের ঘরে প্রীতমের চৌকিটা এক কোণে সরিয়ে দিয়ে ডাইনিং টেবিলটা পাতা হয়েছে। চৌকিটায় আজকাল অচলা শোয়। শতম বিছানায় বসে একটা ক্লান্তির শ্বাস ছাড়ল। বলল, খাওয়া থামালে কেন? খাও।

বিলু অপলক চোখে শতমকে দেখছিল। হাত-পা শরীরে ঢুকে আসবে যেন। বলল, কোনও খবর পেলে?

শতম মাথা নাড়ল, না। তবে হাল ছাড়িনি।

বিলু মাথা নিচু করে প্লেটে আঙুল দিয়ে কয়েকটা দাগ কাটল। খিদে মরে গেছে। বলল, তোমাকে আচমকা দেখে এত ভয় পেয়েছিলাম।

শতম বিষণ্ণ মুখে বলে, বুঝতে পেরেছি। কিন্তু কোনও খবর পেলে টেলিগ্রাম বা ট্রাংককল করতাম। নিজে এসে সময় নষ্ট করতাম না। আমি এসেছি কাজে। আজই সন্ধের গাড়িতে চলে যাব।

আজই?

আজই। বাড়ি ছেড়ে থাকার উপায় নেই। মা-বাবার অবস্থা তো জানো। কেউই বেশিদিন বাঁচবে বলে মনে হয় না।

খুব ভেঙে পড়েছেন?

তোমাকে জানাইনি ইচ্ছে করেই। বাবার সেরিব্রেল অ্যাটাক হয়ে গেছে একটা। মার প্রেশার দুশোর নীচে নামছেই না। মরম একটা চাকরি পেয়ে গৌহাটি চলে গেছে। রূপমকে আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট করে নিয়েছি। সে বেলকোবার সাইটে রয়েছে ক্যাম্প করে। বাড়িতে শুধু ছবি।

ছবির বিয়ের কিছু হল?

সেই কথাই বলতে আসা। বিয়ে ঠিক হয়েছে।

যদিও প্রীতমের বাড়ির সঙ্গে বিলুর সম্পর্ক খুবই ক্ষীণ তবু একটা গিঁট তো কোথাও আছে। ছবির যে বিয়ের আর দেরি করা উচিত নয় সেটা মাঝে মাঝে তারও মনে হয়। ছবি দেখতে সুন্দরী নয়। ভাল পাত্র পেলে সেটা কপাল। বিলু জিজ্ঞেস করল, পাত্র কেমন?

খুব কিছু নয়। দাদারই এক বন্ধু।

দাদার বন্ধু? তা হলে তো বয়সে অনেক বড় হবে।

শতম হাসল, আমরা পিঠোপিঠি ভাই বোন। বয়সের ফারাক খুব একটা নয়। বড় জোর বছর দশেক।

দশ বছর! বলো কী? সে তো ছবির জ্যাঠামশাই।

শতমের মুখ থেকে হাসি গেল না, দশ বছরও আমার মতে কম। স্বামী আর স্ত্রীর মধ্যে বয়সের অনেকটা পার্থক্য না থাকলে ইয়ার বন্ধুর মতো সম্পর্ক হয়। স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধাভক্তিও থাকে না। জানো তো, পতি আর পিতা একই ধাতু নিষ্পন্ন শব্দ?

ও বাবা, তুমি তো আবার শাস্ত্র পড়া মানুষ! কার সঙ্গে কী বলছিলাম!

শতম মাথা নেড়ে বলল, আমি হাওয়ায় ভেসে যেতে পছন্দ করি না। যা ভাল যা মঙ্গলপ্রদ সেটা লোকে উড়িয়ে দিলেও আমি পরীক্ষা করে দেখতে ভালবাসি।

বিয়েটা কী করে ঠিক হল?

আচমকা। দাদা নিরুদ্দেশ হওয়ায় আমরা ছবির বিয়ের কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। হঠাৎই দাদার আর-এক বন্ধু সম্বন্ধটা আনল।

পাত্র কী করে?

ইঞ্জিনিয়ার। জলঢাকা প্রজেক্টে আছে।

বলো কী? তা হলে তো খুব ভাল পাত্র।

আমাদের তুলনায় ভালই। পাত্র এতদিন বিয়ে না করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে ছিল। কিন্তু দাদার খবর এবং আমাদের পরিবারের অবস্থা শুনে নিজেই ঠিক করে যে, ছবিকে বিয়ে করবে।

বাঃ, খুব ভাল লোক তো!

খুবই ভাল। কোনও ডিমান্ড নেই। বরং আমাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছে কিছু দিলেও সে নেবে না।

তুমি চেনো ভদ্রলোককে?

ছেলেবেলায় দেখেছি। তারপর উনি বাইরে চলে যান।

বাইরে বলতে বিদেশে নাকি?

না। রাউরকেল্লা, দুর্গাপুর আরও কোথায় যেন।

দেখতে কেমন?

কালো। তবে বেশ স্বাস্থ্যবান। লম্বাও অনেকটা।

মা-বাবা আছে?

মা আছে।

ভাইবোন?

অনেকগুলি। চারজন বিয়ের যুগ্যি মেয়ে রেখে বাবা মারা যান। শিবেনদা চাকরি করে বোনেদের বিয়ে দিয়েছেন। তিনটি ভাইও ভাল চাকরি করছে এখন।

ঘরবাড়ি?

কোন্নগরে বাড়ি করেছে ইদানীং।

ছবিকে কোথায় রাখবে?

অতশত জানি না। জিজ্ঞেস করিনি।

নামটা কী বললে? শিবেন?

হ্যাঁ।

বড্ড পুরনো নাম। অবশ্য নামে কীই-বা এসে যায়! ছবি খুশি?

খুশি হওয়ার মতো মনের অবস্থা নয়। মা-বাবা এখন-তখন, দাদা নিরুদ্দেশ, এই অবস্থায় আর কতটা খুশি হওয়া যায় বলো? বিয়েই করতে রাজি হচ্ছিল না। ওকে রাজি করাতেই বিস্তর ধকল গেছে।

বিয়ে না হলেই বা কী করত?

ওর ধারণা বিয়ে হয়ে গেলে আমাদের আর দেখার কেউ থাকবে না।

বিলু মৃদু স্বরে বলল, কথাটা তো মিথ্যে নয়। বাড়িতে আর মেয়েমানুষ বলতে কে রইল বলো!

শতম মাথা নেড়ে বলে, ওসব ভাবলে চলবে কেন? ছবি না থাকলেও দেখো আমরা ঠিক চালিয়ে নেব।

কী ভাবে নেবে? দুই ভাই বাইরে, তুমিও মাঝে মাঝে বেরোও, মা বাবাকে দেখবে কে?

লোক রাখব।

লোক পাওয়াই কি সোজা! এখন ববং সংসারের দিকে তাকিয়ে ছবির পর তোমারও একটা বিয়ে করা উচিত।

আমার বিয়ে!—বলে খুব হোঃ হোঃ করে হাসে শতম।

সেই হাসি শুনে অচলার চা চলকে গেল। এক ফাঁকে সে শতমের জন্য এক কাপ চা করে নিয়ে আসছিল।

প্লেটের চা-টুকু বেসিনে ঢেলে অচলা কাপটা এনে শতমের হাতে দেয়। বলে, আপনি কড়া লিকার পছন্দ করেন। তাই দিয়েছি।

শতম চায়ে একটা চুমুক দিয়ে বলে, বাঃ।

অট্টহাসির রেশটা তখনও তার স্মিতমুখে লেগে আছে। সে নিজের কবজির ঘড়িটার দিকে চেয়ে বলল, তোমার তো আজ অফিসের দেরিই হয়ে যাবে দেখছি। তো এক কাজ করো না!

কী কাজ?

আজ কামাই দাও।

দিয়ে?

ছবির নেকলেস আর বেনারসিটা এখান থেকে কিনে নিয়ে যাব ভাবছিলাম। দু’জনে মিলে চলো জিনিস দুটো কিনে ফেলি।

এক কথায় উজ্জ্বল হল বিলু। শাড়ি বা গয়না কেনার ব্যাপারে কোন মেয়েই বা খুশি না হয়? সে উঠে বেসিনে মুখ ধুয়ে বলল, শিগগির স্নান করে দুটো খেয়ে নাও আগে।

তা হলে কামাই করছ?

করছি। কিন্তু বিয়ে কবে সেটা তো বললে না?

সেটা বলতেই আসা। চিঠি দিলে সময়মতো পেতে না হয়তো। বিয়ের আর ঠিক ছ’দিন বাকি।

এত তাড়া?

তাড়া পাত্রপক্ষেরই। শিবেনদার এক বোন আমেরিকায় থাকে। সে ছুটি কাটাতে এসেছে। যাওয়ার সময় হয়ে এল। সে দাদার বিয়ে দিয়েই রওনা হবে। শ্রাবণের পঁচিশ তারিখের পর আর দিনও নেই।

আমেরিকার কথায় বিলুর মুখটা ম্লান হল, সেজদা আমেরিকায় যাচ্ছে জানো?

দীপুদা?

হ্যাঁ। অফিসের কাজে। সেজদা না থাকলে কী যে একা লাগবে আমার। আর তো বাপের বাড়ির কেউ খোঁজ নেয় না সেজদা ছাড়া।

দীপুদা একটা দারুণ চাকরি পেয়েছে শুনলাম।

হ্যাঁ। চার হাজার টাকা মাইনে।

বলো কী! ভাল মানে এত ভাল তা তো জানতাম না!

চাকরি তো ভাল কিন্তু কার জন্য? বিয়ের কথা বললেই রেগে যায়।

সেই যে কী একটা কেস হয়েছিল সেটা মিটে গেছে?

ও বাবা, কে জিজ্ঞেস করবে? যা সিরিয়াস মানুষ।

কেসটা কী?

আগের কোম্পানির বসের বউয়ের সঙ্গে জড়িয়ে একটা কথা রটেছিল। আমার মনে হয় সেটা তেমন বেশিদূর গড়ায়নি। সেজদা তো ভীশ মরালিস্ট।

দীপুদা ভীষণ মরালিস্ট আমি জানি। তাই ঘটনাটা শুনে বিশ্বাস হয়নি।

কিছু একটা হয়েছিল। তুমি স্নানে যাও তো!

জামা-কাপড় পালটাতে পালটাতে শতম জিজ্ঞেস করে, তুমি কবে রওনা হবে বলো তো?

দেখি। কালই ছুটির অ্যাপ্লিকেশন দেব।

কিন্তু ট্রেনের রিজার্ভেশন কি এত অল্প সময়ে পাবে?

পেয়ে যাব। নইলে প্লেন তো আছেই। ছবির বিয়েতে যেতে তো হবেই।

দীপুদাকেও নিয়ে যেতে হবে। আজই যাব একবার অফিসে। কোথায় বলো তো?

সানফ্লাওয়ার বোধহয় রাসেল স্ট্রিটে। ঠিক জানি না। খুব বড় কোম্পানি।

বিলু বউদিকে বহুকাল পর আবার খুব ভাল লাগল শতমের। কোনও মানুষই আগাপাশতলা নিষ্ঠুর বা খারাপ হতে পারে না। এই যে বউদি ছবির বিয়েতে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছে এতেই ভারী খুশি শতম। শিলিগুড়ি থেকে আসার সময় বউদি খুব খারাপ ব্যবহার করে এসেছিল। সেই মনোভাবটা কেটে গেছে।

শতম স্নান করল, খেল। তারপর পোশাক পরে বউদির সঙ্গে যখন বেরোল তখন মেঘলা কেটে রোদ উঠেছে।

বিলু বলল, কাল রাতেও বৃষ্টি হয়েছে। আজ তোমার ভাগ্যে রোদ উঠল।

শতম হাসল, হ্যাঁ, আমাদের ভাগ্য কত ভাল তা তোতা জানোই!

দুপুরবেলা কাজের খুব একটা চাপ ছিল না আজ। বস্তুতপক্ষে লাঞ্চের পর নিজের আরামদায়ক চেয়ারখানায় গা ছেড়ে কয়েক মিনিটের জন্য চোখ বুজেছিল দীপনাথ। এমন সময় শতমের টেলিফোন এল।

ছবির বিয়ে শুনে ভীষণ তটস্থ হয়ে ওঠে সে, ছবির বিয়ে! তাই তো! এ তো আমারও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।

সে জিজ্ঞেস করল, তুই কোথা থেকে ফোন করছিস?

গড়িয়াহাটা থেকে। সঙ্গে বউদিও আছে।

বিলু!—বলে হাঁফ ছাড়ল দীপনাথ। যাক তা হলে বিলু শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক এখনও চুকিয়ে ফেলেনি। সে বলল, আমাকে কিছু করতে হবে? বল তো।

না, না। আপনাকে শুধু একবার যেতে হবে।

যাব! ছুটি যে এখনও পাওনা হয়নি।

ট্যুর নিয়ে নিন না!

দূর পাগলা। টুর নেওয়া যেত আগের কোম্পানিতে। এখানে ওরকম নিজের ইচ্ছেয় টুর নেওয়া যায় না।

তা হলে কী হবে? ছবির বিয়েতে আপনি যাবেন না? আমাদের দাদা নেই—

শেষ দিকটায় গলা কেঁপে বেঁধে গেল শতমের। কিন্তু দীপনাথকে পাগল করার পক্ষে ওইটুকুই যথেষ্ট। সে চাপা ক্রুদ্ধ গলায় ধমক দিল, দূর বোকা। যাব না কী রে? ছবির বিয়েতে যাবই। ভাবিস না।

শতমের হাত থেকে টেলিফোন নিয়ে বিলু বলে, সেজদা, তুমি কবে যাবে?

আর তো মোটে ছ’দিন সময়।

আমি তা হলে তোমার সঙ্গে যাব।

যাবি?

যাব না?

প্রীতমের কোনও খবর?

না, নেই।

ও। আচ্ছা তা হলে আমার সঙ্গে যাস।

রিজার্ভেশন কি তুমিই করবে?

হ্যাঁ। প্লেনে। তোর টিকিট আমি করে রাখব।

বাঁচলাম। ট্রেনে বাচ্চা নিয়ে একা যাওয়া যে কী ঝকমারি!

তা তোর বাচ্চাটা কেমন আছে?

ভাল। খুব পড়াশুনোয় মন হয়েছে।

গান শেখা, নাচ শেখা?

শিখছে।

শতমকে আবার টেলিফোনটা দে।

দিচ্ছি।

শতম ফোন ধরলে দীপনাথ চাপা গলায় বলে, হ্যাঁরে, কিছু টাকা দিতে পারি। নিবি?

না, তার দরকার নেই।

অনেক খরচ তো বিয়ের।

সে তো বটেই, কিন্তু হয়ে যাবে। আমি গোটা দুয়েক বড় পেমেন্ট পেয়েছি।

অসুবিধে হলে কিন্তু বলিস।

বলব।

আমার কাছে হার্ড ক্যাশ আছে। পাত্র কীরকম?

আপনি বোধহয় চেনেন।

কে বল তো?

আপনাদেরই বন্ধু। শিবেন চৌধুরি।

শিবেন! শিলিগুড়ির শিবেন নাকি?

হ্যাঁ। আগে ওঁরা শিলিগুড়িতেই থাকতেন।

খুব লম্বা? কালো?

হ্যাঁ, সেই।

দীপনাথ একটা শ্বাস ছেড়ে বলল, প্রীতমের সঙ্গে গলাগলি ভাব ছিল। খুব ভাল ছেলে।

আপনি যাচ্ছেন তো?

যাচ্ছি।

সকল অধ্যায়
১.
০১. পুতুলরাণী হাপিস হয়ে যাওয়াতে
২.
০২. দাওয়াতে দাঁড়িয়েই ঘটিভরা জলে
৩.
০৩. শিলিগুড়ির হোটেল সিনক্লেয়ার
৪.
০৪. এই শীতে অন্ধকার বারান্দায়
৫.
০৫. তৃষা বিছানা ছাড়ে শেষ রাতে
৬.
০৬. মালদা থেকে গভীর রাতে দার্জিলিং মেল
৭.
০৭. প্রীতমের ঘুম ভাঙে খুব ভোরবেলায়
৮.
০৮. বিয়ের পর যখন অরুণ এ বাড়িতে আসত
৯.
০৯. দীপের ঘুম ভাঙল
১০.
১০. রেসের মাঠে
১১.
১১. এখানে দু’কাঠা চার ছটাক জমি
১২.
১২. কুয়াশামাখা জ্যোৎস্নায় নদীর ধারে
১৩.
১৩. বদ্রীর ইনফ্লুয়েনজা হয়েছিল
১৪.
১৪. চাবিটার কথা
১৫.
১৫. শ্রীনাথ নিজেকে সামলে নিয়ে বলল
১৬.
১৬. রবিবার দিনটা দীপনাথের নিরঙ্কুশ ছুটি
১৭.
১৭. সজল এসে প্রণাম করে
১৮.
১৮. তৃষা দীপনাথকে বসিয়ে রেখে
১৯.
১৯. তুমি বেলুন ফোলাবে
২০.
২০. হাসিমুখে, স্নিগ্ধ মনে
২১.
২১. কম্বল গায়ে দিয়ে শুয়ে
২২.
২২. রতনপুরে পাঁচখানা নতুন সাইকেল রিকশা
২৩.
২৩. আমি যদি এই কোম্পানি ছেড়ে দিই
২৪.
২৪. পরদিন অফিসে এসেই দীপনাথ শুনল
২৫.
২৫. দীপ একটু থতমত খেয়েছিল
২৬.
২৬. গর্তের মধ্যে পড়ে গেছে দীপনাথ
২৭.
২৭. বেজি জাতটা কিছুতেই পোষ মানে না
২৮.
২৮. আড়াল থেকে দেখতে পাচ্ছিল সজল
২৯.
২৯. শ্রীনাথ বাড়ির ফটক পেরিয়ে
৩০.
৩০. বোসোহেবের মুখে খুব ছেলেমানুষি হাসি
৩১.
৩১. হুইলচেয়ারে
৩২.
৩২. টালিগঞ্জ ফাঁড়িতে নামবার মুখে
৩৩.
৩৩. ট্রেনের কথা একদম খেয়াল থাকে না
৩৪.
৩৪. দৈহিক দিক থেকে পঙ্গু
৩৫.
৩৫. চেম্বারে ঢুকতেই বোস সাহেব
৩৬.
৩৬. ওপরে আজকের তারিখ
৩৭.
৩৭. অন্ধকার উঠোন ভরতি জোনাকি
৩৮.
৩৮. রাতের নিস্তব্ধতায় নানা গ্রামীণ শব্দ
৩৯.
৩৯. শ্রীনাথ অবাক হয়ে বলে
৪০.
৪০. প্রীতম কখনও দুরে কোথাও যায়নি
৪১.
৪১. কলকাতায় এবার খুব বৃষ্টি হচ্ছে
৪২.
৪২. কতকাল পরে রেলগাড়ি দেখছে প্রীতম
৪৩.
৪৩. পরদিন ভাইবোনে অফিসে বেরোল
৪৪.
৪৪. বেয়ারাকে কিছু বলতে হয়নি
৪৫.
৪৫. পুরনো গোয়ালঘরটা ফাঁকা পড়ে থাকে
৪৬.
৪৬. মরা বা জ্যান্ত
৪৭.
৪৭. নিজের ঘরে দু’জনকে বসাল তৃষা
৪৮.
৪৮. এ বাড়িটা অভিশপ্ত কি না
৪৯.
৪৯. ঝোপড়ার দরজায় দীপনাথ
৫০.
৫০. কথা শুনে একটু গম্ভীর হতে গিয়ে
৫১.
৫১. প্রীতম জিজ্ঞেস করে
৫২.
৫২. দক্ষিণের খোলা বারান্দায়
৫৩.
৫৩. বিলু কোনওদিনই খুব সুন্দরী ছিল না
৫৪.
৫৪. টেলিফোন রেখে মণিদীপা
৫৫.
৫৫. সাড়ে তিন ভরি আছে
৫৬.
৫৬. তৃষা তার ঘরের উত্তরের জানালা দিয়ে দেখছিল
৫৭.
৫৭. একদিন বিকেলে দুই বুড়োর দেখা
৫৮.
৫৮. কুঠে সামন্তর বাড়িটা
৫৯.
৫৯. ফেয়ারলি প্লেসে ব্ল্যাকারদের সঙ্গে হাতাহাতি
৬০.
৬০. সাতসকালে কে যেন
৬১.
৬১. কোনও মহিলা যদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা চায়
৬২.
৬২. মণিদীপা অনেক পুরুষকে পার হয়ে
৬৩.
৬৩. নিজের টেবিলে এসে অপেক্ষা
৬৪.
৬৪. এই ফ্ল্যাটে ঢুকতে আজ ভারী লজ্জা আর অস্বস্তি
৬৫.
৬৫. শরীরে আবদ্ধ এই জীবন
৬৬.
৬৬. গীতা পড়তে পড়তে
৬৭.
৬৭. চিত্রার বিয়ে কেমন হল
৬৮.
৬৮. তৃষা যখন তার জন্য চা করতে গেল
৬৯.
৬৯. দীপনাথ কিছুক্ষণ হাঁ করে থেকে
৭০.
৭০. অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল বিকেলে
৭১.
৭১. বহুদিন বাদে ছবির কাছে
৭২.
৭২. প্রীতম নিজে থেকেই মাস দুই আগে
৭৩.
৭৩. এক-একটা সর্বনাশের সময় আসে
৭৪.
৭৪. প্রীতমের বাবা-মা আরও বুড়ো
৭৫.
৭৫. আকাশে অনেক ওপরে
৭৬.
৭৬. অন্ধকারে জল ভেঙে
৭৭.
৭৭. মালটিন্যাশনাল কোম্পানির যত দোষ
৭৮.
৭৮. সানফ্লাওয়ারের শীততাপনিয়ন্ত্রিত বিশাল রিসেপশন
৭৯.
৭৯. শমিতা চিৎকার করেই অজ্ঞান
৮০.
৮০. ঘুম থেকে উঠে বিলুর হাতে
৮১.
৮১. পৃথিবীর রং অনেকটাই পালটে গেছে
৮২.
৮২. কী খাচ্ছে, রান্না কেমন হয়েছে
৮৩.
৮৩. সুখেনের সঙ্গে সন্ধেটা কাটল

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%