১৮. নাজনীন

হুমায়ূন আহমেদ

নাজনীন একটি ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন দেখেছে। স্বপ্নটি দেখেছে ছাড়া ছাড়াভাবে। তবু সব মিলিয়ে একটা অর্থ দাঁড় করানো যায়। এবং অর্থটি ভয়াবহ। নাজনীন দেখেছে–একটা ছোট ঘরের এক প্রান্তে একটি বিছানা। বিছানাটিতে সাদা চাদর মুড়ি দিয়ে এক জন লোক শুয়ে আছে। তার মুখ দেখা যাচ্ছে না। হঠাৎ আরেক জন লোক ঘরে ঢুকল। লোকটার হাতে একটা লোহার রড। লোকটি টান দিয়ে ঘুমিয়ে থাকা লোকটির ওপর থেকে চাদর সরিয়ে ফেলল। লোকটির মুখ দেখা যাচ্ছে। এবং সেটি একটি পরিচিত মুখ—– মিসির আলির মুখ। স্বপ্নের মধ্যেই প্রচণ্ড একটা শব্দ হল, এবং দেখা গেল মিসির আলির মাথা ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।

নাজনীন জেগে উঠল চিৎকার করে। স্বপ্ন এত ভয়াবহ হয়! নাজনীন বাকি রাতটা আর ঘুমুতে পারল না। ছ’ রাকাত নফল নামাজ পড়ল। কোরান শরিফ পড়ল। মন শান্ত হল না। নাজনীনের মা বললেন একটা ছদকা দিয়ে দিতে। প্রাণের বদলে প্রাণ। সেই ছদকা তো ভোর না-হবার আগে দেয়া সম্ভব নয়। কিন্তু ভোর হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই কঠিন। নাজনীন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে খানিকক্ষণ কাঁদল। সে জানে এটা স্বপ্ন। স্বপ্ন কখনো সত্যি হয় না। তবু এমন লাগছে কেন?

ভোর হবার সঙ্গে-সঙ্গেই সে একটি টেলিগ্রাম পাঠাল, ‘সাবধান থাকবেন।’ টেলিগ্রামটি পাঠিয়েই মনে হল, এর অর্থ তো উনি কিছুই বুঝবেন না। তিন ঘন্টা পর দ্বিতীয় একটি টেলিগ্রাম করল। এই টেলিগ্রামটি বেশ দীর্ঘ।

‘চাচা, আপনার সম্বন্ধে খুব খারাপ স্বপ্ন দেখেছি। একটি লোক লোহার রড দিয়ে আপনার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। আপনাকে অনুরোধ করছি, সাবধানে থাকবেন। নাজনীন।’

সকল অধ্যায়
১.
০১. মিসির আলির ধারণা
২.
০২. ফিরোজ মিসির আলির কাছে আসে
৩.
০৩. নীলুদের বাড়ি
৪.
০৪. সাইকোলজি বিভাগের সভাপতি
৫.
০৫. নীলুর বাবা জাহিদ সাহেব
৬.
০৬. হানিফাকে পিজিতে ভর্তি
৭.
০৭. বাড়ি না বলে রাজপ্রাসাদ
৮.
০৮. মোহনগঞ্জ স্টেশনে মিসির আলি
৯.
০৯. পুরানা পল্টনে আতঙ্ক
১০.
১০. পুলিশ কমিশনার
১১.
১১. মিসির আলি ঢাকা পৌঁছলেন
১২.
১২. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জন অধ্যাপক
১৩.
১৩. ওসমান সাহেব
১৪.
১৪. থার্ড ইয়ার ফাইনালের ডেট
১৫.
১৫. সাইদুর রহমান সাহেব
১৬.
১৬. সাজ্জাদ হোসেন
১৭.
১৭. ওসমান সাহেবের বসার ঘর
১৮.
১৯. এ এক অচেনা নীলু
১৯.
১৮. নাজনীন
২০.
২০. কাজের মেয়ে
২১.
২১. মিসির আলি ভেবেছিলেন
২২.
২২. ওসমান সাহেবের ঘুমের সময়
২৩.
২৩. জাহিদ সাহেব ডাক্তার ডেকে আনলেন
২৪.
২৪. অপরূপা নারীমূর্তি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%