কিউই

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

নিউজিল্যান্ডের একটি অদ্ভুত কৌতূহলী পাখির নাম কিউই। একে অদ্ভুত বলছি বিশেষ কয়েকটি কারণে। ডানাহীন পাখির কথা ভাবা যায় না। অথচ সত্যি সত্যি এই পাখির ডানা নেই, এমনকি লেজও নেই। এদের লম্বা ঠোঁট, ঠোঁটের শেষভাগে নাসারন্ধ্র। এদের বড় বড় পায়ের পাতা। সারা শরীরে এদের পশুর বড় বড় লোমের মতো পালকে ঢাকা থাকে। শরীরের রঙ অনুজ্জ্বল বাদামী। স্ত্রীকিউই পুরুষকিউই—এর চেয়ে আকারে বড়। সাধারণত স্ত্রীকিউই হয় ৪৫ সেন্টিমিটার লম্বা আর পুরুষকিউই হয় ৩৫ সেন্টিমিটার লম্বা। যেহেতু এদের ডানা নেই, তাই 'ভৌভৌ' (মরিশাসের উড্ডয়ন—ক্ষমতাহীন অধুনালুপ্ত পাখি), 'অ্যক' (উত্তর সমুদ্র অঞ্চলের ক্ষুদ্র ডানাওয়ালা পক্ষীবিশেষ। এরা ক্ষুদ্র ডানার সাহায্যে জলে সাঁতার কাটতে পারে, কিন্তু আকাশে উড়তে পারে না।) এবং অন্যান্য উড্ডয়ন—ক্ষমতাহীন পাখিদের মতো আকাশে উড়তে পারে না।

স্ত্রীকিউই—এর কণ্ঠস্বর কর্কশ, কিন্তু পুরুষকিউই—এর কণ্ঠস্বর ভারী মিষ্টি। পুরুষকিউই—এর মধুরতম কোমল স্বর 'কি'—র প্রত্যুত্তরে স্ত্রীকিউই বড্ড কর্কশ স্বরে উত্তর দেয় 'উই' শব্দ করে। এজন্যই নিউজিল্যান্ডবাসীরা এই অদ্ভুত পাখিটির নাম রেখেছে কিউই।

পুরুষকিউই সমস্ত কাজ করে। এরা খড় এবং ছোট ছোট ডালপালা দিয়ে বাসা তৈরি করে, বাসা মেরামত করে, খাদ্য সংগ্রহ করে, স্ত্রী ও বাচ্চাদের পরিচর্যা করে, সমস্ত বিপদ—আপদ থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। স্ত্রীকিউই—এর কাজ শুধু ডিম—পাড়া। কখনো কখনো অবশ্য এরা একটু—আধটু অন্যান্য কাজও করে। ডিম ফুটে বাচ্চা বেরোবার সময় পুরুষকিউই একটুও বাইরে না বেরিয়ে বাসায় থেকে এক সপ্তাহ ধরে সমস্ত কাজ করে ও ডিমের যত্ন নেয়।

নিউজিল্যান্ডবাসীদের কাছে কিউই—এর মাংস খুবই সুস্বাদু। তাই ওদেশে এই পাখিটিকে শিকার করা হয়। কোনো কিছু দিয়ে প্রলুব্ধ করে, বা তাদের কান্না নকল করে, বা গাছের গুঁড়ির কোটরে ও মাটির গর্তে কুকুরের ঘ্রাণশক্তি ব্যবহার করে অতর্কিতে আক্রমণ করে কিউই শিকার করা হয়। কিউই পাখিরা গন্ধ শুঁকে সন্দেহ করতে পারে। চোখে কিছু স্পষ্ট দেখতে পায় না বলেই এরা এমন পদ্ধতি গ্রহণ করে। মানুষের পদধ্বনি শুনেও এরা বুঝতে পারে, সম্মুখে বিপদ। এ সময় তারা অন্ধ—গতিতে ছুটতে গিয়ে অনেক সময় মানুষের বুটের তলায় চাপা পড়ে বা ঘেরা—বেড়াতে আটকা পড়ে বিপদ ডেকে আনে।

কিউইরা সাধারণত শান্ত থাকে। কিন্তু কোনো মুহূর্তে এরা ক্রোধে উত্তেজিত হয়ে উঠলে বা বিপদে পড়লে সম্মুখে সজোরে লাথি মেরে বা অন্য কোনোভাবে আঘাত করে মানুষের কোমল মাংস বিদীর্ণ করতে পারে। এরা লাথি মেরে বিড়াল, ইঁদুর, বেজি প্রভৃতি শত্রুদের প্রতিরোধ বা বিতাড়িত করতে পারে।

কিউইরা অত্যন্ত কর্মঠ, সাহসী এবং পরিশ্রমী। একজন আদর্শ বাবা ও স্বামী হিসেবেও এরা বেশ সুখ্যাত। কিউই নিউজিল্যান্ড দ্বীপের একটি আশাবাদী চিহ্ন। এরা মানুষকে বাঁচার মতো বাঁচবার এবং সমৃদ্ধশালী হবার শিক্ষা দেয়। তাই কিউই নিউজিল্যান্ডের জাতীয় প্রতীক।

সকল অধ্যায়
১.
ছোটমামার ব্যাপারটা
২.
কেন দেখা দিল না
৩.
হীরে কি গাছে ফলে
৪.
ঘোড়ার ডাক্তার
৫.
হীরে উধাও রহস্য
৬.
জলের তলার রাজপুরী
৭.
মাসতুতো ভাই
৮.
রাত্তির বেলা, একা একা
৯.
তেপান্তর
১০.
নীল মানুষের মন খারাপ
১১.
অমলের পাখি
১২.
ভয়ের পুকুর
১৩.
চার নম্বর ডাকাত
১৪.
আয়না নয়
১৫.
রাজপুত্তুরের অসুখ
১৬.
কাঞ্চনের দুঃখ
১৭.
রাজকুমার
১৮.
সুবর্ণরেখার তীরে
১৯.
একদম রূপকথা
২০.
বিশ্বমামার ম্যাজিক
২১.
ভালোবাসা
২২.
সুশীল মোটেই সুবোধ বালক নয়
২৩.
রবির কুকুর
২৪.
ইংরিজির স্যার
২৫.
নীল মানুষের পরাজয়
২৬.
নিউইয়র্কের সাদা ভল্লুক
২৭.
বেণী লস্করের মুন্ডু
২৮.
মাঝরাতে অতিথি
২৯.
রণজয়ের শহর অভিযান
৩০.
কাকাবাবু বনাম মূর্তিচোর
৩১.
ছোড়দির বড়দি
৩২.
আজব লড়াই
৩৩.
নীলমানুষ ও ছোট্ট বন্ধু
৩৪.
মেঘচোর
৩৫.
হাতিচোর
৩৬.
বন্দিনী
৩৭.
পৃথা ও চন্দ্র দেবতা
৩৮.
বিশুর কাণ্ড
৩৯.
ছবি পাহাড়
৪০.
কিউই
৪১.
মহিষাসুর
৪২.
শালিক ও ছোটকাকা
৪৩.
ছুটি
৪৪.
মহাকালের লিখন
৪৫.
তৃতীয় চক্ষু
৪৬.
পার্বতীপুরের রাজকুমার
৪৭.
পঞ্চম শক্তি
৪৮.
জোড়া সাপ
৪৯.
সাতজনের তিনজন
৫০.
আবার নীল মানুষ

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%