কাকলির অবস্থা নাকি খুব খারাপ,
ম্যাজিস্ট্রেট এলেন শেষ আর্জি নিতে,
অভিকে দেখিয়ে বলে ‘ও আমার বাপ,
মাথাটা ভাঙল নিজের আমাকে বাঁচাতে।’
ওইটুকুই ছিল কাকলির শেষকথা,
পরদিন সকল কাগজে ছেপেছিল,
তারপরও ‘কামান চোমুহুনী বার্তা’,
কাকলিকে নিয়ে কী নোংরা ঘাঁটছিল।
ডুকলীর ছেলেরা হকারদের ধরে,
‘আপনারা ওই কাগজটা বেচবেন না,’
হকাররা রাজি হলে সম্পাদক পরে,
জোড়হাতে বলেন এসব লিখবেন না।
মরুভূমির আকাশেও কালো মেঘ করে,
কালেভদ্রে সেখানেও কিছু বৃষ্টি পড়ে।
৬১
শ্যামল ও শিষ্যরা সেই দিন ছিল না,
কীসব কাজে নাকি গিয়েছিল বিহারে,
গোলমাল চলা কালে তারা ফিরল না,
ফিরে এসে শুনে পরে কী দুঃখ আহা রে।
সেই হরিদাস পাল গোরুর মালিক,
জমি-বাড়ি বেচে ডুকলী ছেড়েই দিল,
রবি নামে ছোঁড়াটার মাথায় খানিক,
গোলমালের চিহ্নই যেন দেখা দিল।
‘শ্যামলদা গোরু ওষুধ’ কী যেন বলে,
‘হরিদাস পাল’ বলে চীৎকার করে,
রবিকে তখন জানি কীসব কৌশলে,
কাঁকে না কোথায় পাঠানো হয় বাহিরে।
উৎসব সমাপ্ত হলে কাজ বাকি থাকে,
ধীরে ধীরে শেষ করে বাড়ি ঘরে লোকে।
৬২
সেই থেকে এইখানে ঘরটা আছে পড়ে,
ঘর নয় অর্ধ দগ্ধ স্মৃতির কঙ্কাল,
লকলকে লতাগুলি সস্নেহ আদরে,
ঢেকেঢুকে রাখে এক পবিত্র মশাল।
সেই থেকে এই নিয়ে কেউ কথা বলে না,
চুপচাপ হেঁটে যায় অন্যমনা হয়ে,
মনের মুকুতা নিয়ে কোনো খেলা চলে না,
হৃদয়ের ব্যথা থাকে কেবল হৃদয়ে।
সেই থেকে অভিরাম ডুকলীর ত্রাতা,
কামিনীর হৃদয়ের অধীশ্বর বীর,
সেই থেকে অভি কারো পিতা কারো ভ্রাতা,
সেই থেকে চলছে সে উঁচু করে শির।
জানটাকে রাখতে বেজান হয়ে থাকি,
বাঁচার মতো বাঁচি জান না হয় যাকই।
৬৩
সেই থেকে শ্যামলারা একটু সামাল,
ডুকলীর মা-বোন নয় এতটা বিপন্ন,
যার যার কাজ করে সকাল-বিকাল,
তড়িঘড়ি করে না বাড়ি ফেরার জন্য।
দূর থেকে অভিকে দেখে ওরা ঘরে যায়,
পারতপক্ষে অভির সামনে পড়ে না,
কিন্তু অন্যেরা তার পথটি আটকায়,
‘কাকা দাদা কোথা যাও’ না বলে ছাড়ে না।
অভি কিন্তু কারো সাথে খুব কথা কয় না,
বুঝতে পারে সবাই তারে ভালোবাসে,
কারো সঙ্গে সে বড়ো বেশি সময় দেয় না,
একটু হ্যাঁ, একটু না, একটু বা হাসে।
দেখে না কেউ ফাদার ক্রিসমাস আসে,
তবু যত ছেলে-মেয়ে তাঁকে ভালোবাসে।
৬৪
একবার তো একটা কান্ড ঘটে যায়,
কোথাকার উন্মাদ এক ষন্ড বিশাল
ডুকলীর গ্রামে ঢুকে। তখন সকাল,
হাঁস-মুরগি মেয়ে-ছেলে সব পালায়।
চীৎকার চেঁচামেচি লন্ডভন্ড কান্ড,
কে কোথায় যাচ্ছে দৌড়ে কোনো ঠিক নেই,
যার যার প্রাণটা বাঁচাচ্ছে সকলেই,
পেছনে আসছে তেড়ে মহাকায় ষন্ড।
অভি ঠিক তখন বাড়ি থেকে বেরুল,
বিষয়টা বুঝতে একটু সময় নিল,
তারপর ভয়ংকর চিৎকার সে দিল,
ষন্ড ঘুরে দেখল, অভিরাম দৌড়াল।
ঘরের খায় বনের মহিষ তাড়ায়,
কিছু কিছু লোক শুধু তবলা বাজায়।
৬৫
গেল গেল করে সবে হই হই চিৎকার,
ছোঁড়ারা বাসিমুখে লাঠি নিয়ে বেরোয়,
বাইরে এসে যাকে পায় ‘কী হল’ শুধায়,
আঙুল দিয়ে সবে দেখায় একবার।
ততক্ষণে অভি হারুদের কলাবাগে,
মহাষন্ড অতিপ্রচন্ড তার পিছনে,
কলাবাগে ঢুকে ষাঁড় অতিশয় রাগে,
কিন্তু বিশাল বপু নিয়ে চলে কেমনে।
ততক্ষণে পাড়া থেকে লাঠিসোটা নিয়ে,
দড়িদড়া যতকিছু এই কাজে লাগে,
পাড়ার যত মানুষ ছেলে-বুড়ো গিয়ে,
ষাঁড়টাকে কবজা করে নিয়ে আসে বাগে।
অন্যেরা আসবে বলে নিজে আছ বসে,
অন্যদের জন্য কি সময় থাকে বসে?
৬৬
সেইদিন তারপর সে কী কলরব,
অভিকে কাঁধে তুলে সকলে নিয়ে এলো,
নিতাইয়ের দোকানে হল উৎসব,
সকলে মিলে তবে অভিকে খাওয়াল।
হারু কিন্তু রেগে ছিল কলাবাগ শেষ,
তবু সে এসেছিল দোকানের সামনে,
কিন্তু তার রইল না যন্ত্রণার লেশ,
যখন শুনল সব ঘটল কেমনে।
অভি যদি ষাঁড়টাকে ফিরিয়ে না নিত,
মহাষন্ড সকালে আসছিল যেভাবে,
হারুর ভাগ্নেকে সে তবে থেঁতলে দিত,
ঈশ্বর বাঁচিয়েছেন তাঁকে এইভাবে।
ঈশ্বর মহাপ্রভু সব কৃতিত্ব তাঁর,
মারে ভালো রাখে ভালো আহা কী ব্যাভার।
৬৭
সেই দিন ন-টায় পুলিশ এলো গ্রামে,
অভির ঘরের সামনে জীপ দাঁড়াল,
সসৈন্য দারোগাবাবু সেইখানে নামে,
কামির সবজিবাগান সকলে মাড়াল।
অভিকে টেনে তুলে গাড়িটাতে বসিয়ে,
নিয়ে গেল হুস করে কেউ জানল না,
দুটো বাচ্চা এসে দিল কামিকে জানিয়ে,
কামি ছিল রান্নাঘরে সামনে ছিল না।
বাচ্চা দুটো ঘুরে ঘুরে সব বাড়ি বলল,
জিপ গাড়ি করে অভিকাকা নিয়ে গেছে,
একে একে সকলে ব্যাপারটা জানল,
মেয়ে-মদ্দ সকলে রাস্তায় দাঁড়িয়েছে।
বড়ো ভালো ছিল গো আগের ব্যবস্থায়,
মেয়েগুলো রাস্তায় এসে ফেলে যন্ত্রণায়।
৬৮
তখন ডুকলীবাসী মিটিং-এ বসল,
টাকা নেই টাকা ওরা দিতে পারবে না,
কানাকানি ফিসফাস কী কথা চলল,
শুনলাম শুধু অত্যাচার সইব না।
সবাই গম্ভীর মুখে ফিরে গেল ঘরে,
কামি শুধু জায়গাতেই বসে রইল,
দূর থেকে কে তাঁকে দেখল ঘাড় ফিরে,
ফিরে এসে হাত ধরে তাঁকে নিয়ে গেল।
সেদিন বিকেলে ডুকলী অন্যরকম,
শ’ পাঁচেক লোক সব ঘরের বাইরে,
দু-জায়গায় দাঁড়িয়ে মুখ থম থম,
আশ্চর্য, কারো মুখে কোনো কথা নাই রে।
বায়ুকোণে অন্ধকার পাতারা অনড়,
সকলে যা ঘরে এক্ষুণি আসবে ঝড়।
৬৯
সন্ধ্যা হয় হয় সূর্য তখনও ডোবেনি,
ফিরে যাচ্ছে বলে সূর্যটা লজ্জায় লাল,
সন্ধ্যার শ্রীঅঙ্গ ঘিরে লাল জামদানি,
অপূর্ব বিস্ময়ে দেখছে তাল তমাল।
পুবাকাশে যেখানে আলো প্রথম ফোটে,
সেখানে অন্ধকার গুঁড়ি মেরে উঠছে,
বাসরে বধূটির মুখ যেমন উঠে,
সেইমতো তারাগুলি আকাশে ফুটছে।
পাখিগুলি তাড়াতাড়ি কুলায়ে ফিরছে,
সন্ধ্যারানি ভীত হয় রাত্রির ঈর্ষায়,
পতঙ্গে কী রঙ্গে আলোর কাছে ভিড়ছে,
নিশাদেবী অধিষ্ঠিতা দিবার জায়গায়।
ঈশ্বরের মহিমাটা পলে পলে লেখা,
কাম-ক্রোধে ব্যস্ত থাকি হয় না গো দেখা।
৭০
ডুকলীর লোকেরা শুধু দাঁড়িয়ে ছিল,
দু-জায়গায় লোক শ-আড়াই করে হবে,
কোনো কথা কি তখন ওরা বলছিল?
না, চুপচাপ ওরা দাঁড়িয়েছিল সবে।
সাইরেন। সহসা চঞ্চল ওই জনতা,
যাচ্ছিল মন্ত্রীদের গাড়ির কনভয়,
শ-আড়াই লোক ও রাস্তায় গাছ পাতা,
দাঁড়াল গাড়ি পেছনেও লোক জড় হয়।
ভীষণ ব্যাপার রাষ্ট্রদ্রোহ ষড়যন্ত্র,
নেমে আসেন পুলিশ অফিসারগণ,
চলছে ওয়াকিটকিতে প্রেরণ মন্ত্র,
‘না প্রায় সব মহিলা, অস্ত্রধারী নন।’
মিথ্যে বলে লোকে পুলিশ কাজের নয়,
মন্ত্রী সামনে থাকলে খুব কর্মঠ হয়।
৭১
নেমে এলেন নিজে মন্ত্রী মুখ্য, কী দয়া!
কেন এই রাস্তা রোকা মন্ত্রী জিজ্ঞাসেন,
উত্তর দিল মায়া দশ বছরের মেয়ে,
অভি জেঠুকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছেন।
ছাড়িয়ে আনতে হবে তাঁকে টাকা দিয়ে,
অভি জেঠু বড়ো ভালো নেই কোনো দোষ,
পুলিশরা তবু তাঁকে গেল ধরে নিয়ে,
আমরা দেব না পুলিশকে কোনো ঘুষ।
তোমাদের আমরা আটকেছি সেজন্য,
অভিজেঠুকে না এনে দিলে ছাড়বো না,
আমরা তোমার কাছে চাই না কিছু অন্য,
তোমরা বোসো আমরা কিছু করব না।
জয় জয় গাও ভাই ডুকলীর জয়,
মেয়ে-মদ্দ সবে হোক সত্যেতে নির্ভয়।
৭২
দৌড়ে এলেন অফিসার কথা বলতে,
মন্ত্রীবর তাঁর কথা তো শুনলেন না,
জেনে নিলেন কার সাথে কথা বলতে,
ওকেও কোনো কথা বলতে দিলেন না।
শোনা গেল বললেন, ‘পাঠান অভিকে,
দশ মিনিটে তাদের এসে পৌঁছানো চাই’,
তার পর কোলে নিয়ে ওই মেয়ে মায়াকে,
ঘুরছেন মুখ্যমন্ত্রী দেখল সবাই।
একে-ওকে এটা-সেটা জিজ্ঞাসা করেন,
কথা বলেন আমাদের মায়ার সাথে,
এর কাঁধে ওর গালে একটু ধরেন,
কোনো মতে কাটান ওরা ওই দশ মিনিটে।
মানুষ আর মন্ত্রীতে তফাত কম না,
মানুষ মন্ত্রী হয় মন্ত্রী মানুষ হয় না।
৭৩
কতক্ষণ গেল? কী জানি ঘড়ি দেখিনি,
জগৎ জানান দিয়ে জিপ গড়ি এলো,
রাস্তা থেকে লোক কিন্তু একটা সরেনি,
জিপ থেকে অভিরাম একা নেমে এলো।
মুখ্য বললেন,’ ‘এবার আমরা যাই,
আমাদের দেরিই একটু হয়ে গেল,
কাল ক-জন অফিসে আসবেন ভাই,
দেখব অভির কেসটা কী করে হল।’
ডুকলির জনতা নিস্পন্দ বাক্যহীন,
উত্তর দিল মায়া ওই দশ বছরের,
যাবে যখন আপনি নিজে বলছেন,
কিন্তু গেলেও কিছু হয় না গরিবের।
কথাটা ছোটো নয় তার দাম দেদার,
কথা বেচে খায় মন্ত্রী উকিল মাস্টার।
৭৪
ওরা ক-জন সত্যি অফিসে গিয়েছিল,
মুখ্যমন্ত্রী নিজেই কথাও বলেছেন,
তবে একটু অপেক্ষা করতে হয়েছিল,
এই ঘণ্টা তিনেক পরে ডেকেছিলেন।
কিন্তু মায়ার কথাই ঠিক ফলেছিল,
সত্যিই মামলার কিছুই হয় নাই,
মন্ত্রীকেও ঘুরিয়ে বলতে হয়েছিল,
এখানে কারও কিছু করবার নাই।
তবে ডুকলীর ক-জন বাপকা বেটা,
ওখানে বসেই তাঁকে বলে এসেছিল,
শুনে রাখুন আপনি সত্যি একথাটা,
অভির কিছু হল কি ডুকলী প্রাণ দিল।
সত্য কথা দশের লাঠি একের বোঝা,
সারা গাঁও সামাল দেওয়া নয় সোজা।
৭৫
অনেক পরে সেসব কথা জানা গেছে,
রেশন শপে আদৌ হয়নি কোনো চুরি,
তবু যে মালিক এজাহার দিতে গেছে,
পেছনে ছিল যে শ্যামলের কারিগরি।
অভিকে তাড়াতে শ্যামল বদ্ধপরিকর,
সুযোগ সময় কেবল খুঁজতে ছিল,
চুরি দরকার রেশনের দোকানির,
ইনস্পেক্টার আসার তারিখ পড়েছিল।
সুতরাং শ্যামলদার সাহায্য নিয়ে,
অভিরামের নামটা দিয়েছিল জুড়ে,
শ্যামল কাঁটা তুলে ফেলল কাঁটা দিয়ে,
তবে ষন্ড দিল সব লন্ডভন্ড করে।
ভাবছ বসে ভাব ভাবতে তুমি পারো,
ভাবার ফল পাওয়া সাধ্যে নয় কারো।
৭৬
সেদিন শ্যমল প্রায় জিতে গিয়েছিল,
বিচারে হয়তো অভির শাস্তি হত না,
দু-বছর হাজতবাস নিশ্চিত ছিল,
জামিন লওয়া কামির সাধ্য ছিল না।
কিন্তু সেই ষন্ড কান্ড ঘটল সকালে,
প্রাণ বাজি ধরে অভি শিশুকে বাঁচাল,
শ্যামলের অঙ্ক সব ভুল করে দিলে,
সারা ডুকলী অভির পক্ষেতে দাঁড়াল।
সারা গাঁয়ের সেই এক হয়ে যাওয়া,
মন্ত্রীর গাড়ি এইভাবে আটকে ফেলা,
মুখ্যপাত্রী সেই দশ বছরের মায়া,
প্রচার যন্ত্রে হল অভাবনীয় পালা।
অঘটন আজও ঘটে বুঝি না দেখে,
বাদশা বেড়ায় ঘুরে মুখে ছাই মেখে।
৭৭
ওই ঘটনার ফলে দুটো বিষয় হল,
গাঁয়ের লোক বুঝল নিজেদের শক্তি,
শ্যামলারা শেষে আগরতলা চলল,
ডুকলী গাঁয়ে মা-মেয়ের মিলল স্বস্তি।
কেবল অভি আগের মতোই রইল,
কামির সঙ্গে রোজ সে কাজে বের হয়,
পরে আবার একটা দোকান করল,
চাল-ডাল লাকড়ি সবই বিক্রি হয়।
তবে দোকানটা বেশি দিন টিকল না,
অভির বসে থাকার সময় কোথায়,
একটার পর একটা ঘটে ঘটনা,
শুনলেই অভিরাম ছুটে ছুটে যায়,
কিছু কিছু চোখ আছে সব কিছু দেখে,
কিছু কিছু লোক আছে ঠেকেও না শেখে।
৭৮
যতীন্দ্র ডুকলীর রিকশা চালায় বেটা,
যা রোজগার তাতে চলে না সংসার,
তিনটা বাচ্চা, নিজে, ঘরে আছে বউটা,
রোজ মদ খায় রোজ বউটাকে দেয় মার।
প্রায় প্রতিদিন চলে যতীন্দ্র ঘটনা,
সকলে বিরক্ত, কত কথা সবে বলে,
কিন্তু যতীন্দ্রর বউয়ের এই যন্ত্রণা,
আর যতীন্দ্রের বীরত্ব সমানে চলে।
একদিন সকলে বসে ঠিক করল,
এর একটা বিহিত করতে হবে,
সেদিন বউকে সে এমন মার মারল,
সকলে ভাবল বউটা আজ মরবে।
ভালো মানুষের একটা দুর্গুন থাকে,
অনর্থক ঢুকে পড়ে পরের বিপাকে।
৭৯ সেই দিন অভিরাম ভীষণ রাগল,
চুপচাপ চলে যায় যতীন্দ্রর ঘরে,
রাস্তায় অন্ধকারে কাঁদছে বাচ্চাগুলো,
উত্তম-মধ্যম দিল যতীন্দ্রকে ধরে।
নেশা কেটে গেল তার এ কী ব্যবহার,
যতীন্দ্র প্রথমটায় হকচকিয়ে যায়,
কিছুক্ষণ পর পৌরুষ জাগল তার,
চিৎকার করে পাড়ার লোক জাগায়।
সকলে বেরিয়ে এসে শুনল কাহিনি,
অভিরাম যতীন্দ্রকে ভীষণ মেরেছে,
মাতাল মুখ নিসৃত অশ্লীল সে বাণী,
তাড়িয়ে তাড়িয়ে সব দাঁড়িয়ে শুনেছে।
দুষ্টা নষ্টা বৃদ্ধা হলে রাস্তা নষ্ট করে,
ভদ্র জনে র্যালা শোনে বসে অন্ধকারে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন