উপসংহার

হুমায়ুন আজাদ

আমাদের শক্তিকেন্দ্রগুলোতে রাষ্ট্র-ও-জন-ভাষা বাঙলা কেমন বিরোধিতার সম্মুখীন হচ্ছে, তার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এ-পুস্তকে, একটি বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে যে আমাদের শক্তিশালী ব্যক্তিগণ ও শ্রেণীসমূহ নিজেদের স্বার্থ বিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনায় বাঙলা ভাষার সাথে প্রত্যেক্ষ-পরোক্ষ সক্রিয়-নিষ্ক্রয় শত্রুতায় লিপ্ত। বাঙলাদেশের শাসক প্রশাসক পরিচালকগণ একটি ক্ষুদ্র শ্রেণী, কিন্তু অত্যন্ত শক্তিমান শ্রেণী, এবং ইংরেজি তাঁদের স্বার্থ-সুবিধার ভাষা। আর বাঙলাদেশের শাসিত-শোষিত জনমণ্ডলি বিশাল হ’লেও প্রত্যক্ষ শক্তিহীন এবং বাঙলা তাঁদের স্বার্থ-সুবিধার ভাষা। রাজনীতিকেরা বিশাল জনমগুলিকে ‘শক্তির উৎস’ ব’লে স্তুতি ক’রে থাকেন, তবে এ-জনমণ্ডলি ‘শক্তির প্রতারিত উৎস’ রূপেই সমাজে বিরাজ করে। শক্তিকেন্দ্রে যাঁদের অবস্থান সে-রাজনীতিক (নির্বাচিত বা অভ্যুত্থিত), প্রশাসক, ব্যবস্থাপক, প্রযুক্তিবিদ প্রভৃতিকে নির্দেশ করা যায় ‘শক্তির পরিণতি রূপে। শক্তির উৎস ও পরিণতিদের মধ্যে নানারকম সংঘর্ষের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে বাঙলাদেশে- প্রথম সংঘর্ষটি সম্ভবত বাঁধবে ভাষা কেন্দ্র ক’রে; যেমন পাকিস্তানে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটেছিলো উনিশ শো বায়ান্নো সালে।

সকল অধ্যায়
১.
অবতরণিকা
২.
শত্রুমিত্র শনাক্তকরণ
৩.
শত্রুমিত্রতার ইতিকথা
৪.
পাকিস্তানি শত্রুতা ও কয়েকজন কুখ্যাত শত্রু
৫.
ঔপনিবেশিক ঘোর
৬.
কানা নিতাই ও খোঁড়া অদ্বৈতের উত্তরাধিকারীরা
৭.
বাঙলা প্রচলনের সমস্যাটি ভাষাতাত্ত্বিক নয়
৮.
ইংরেজি ও বাঙলা : শ্ৰেণীদ্বন্দ্ব ও শ্রেণী-উত্তরণ
৯.
ইংরেজি : পশ্চিমের জানালা- কার জন্যে খোলা থাকা দরকার?
১০.
কতো টাকা জমলে বাঙলাকে ঘৃণা করতে ইচ্ছে হয়?
১১.
ইংরেজি : চক্রান্ত ও শোষণের ভাষা
১২.
বাঙলা : তোষণ ও প্রতারণার ভাষা
১৩.
ফেব্রুয়ারি : উৎসব ও স্নিগ্ধ ছলনার মাস
১৪.
বাঙলা প্রচলনের বর্তমান অবস্থা
১৫.
সরকার ও বাঙলা
১৬.
রাজনীতিক ও বাঙলা
১৭.
আমলা ও বাঙলা
১৮.
বিচারালয় ও বাঙলা
১৯.
বাঙলা একাডেমি ও বাঙলা
২০.
বিশ্ববিদ্যালয় ও বাঙলা
২১.
খেলোয়াড় ও বাঙলা
২২.
নামকরণ ও বাঙলা
২৩.
পণ্য ও বাঙলা
২৪.
জ্ঞান ও বাঙলা ও ইংরেজি
২৫.
ভাষা-পরিকল্পনার সর্বজনীন বৈশিষ্ট্য
২৬.
উপসংহার
২৭.
পরিশিষ্ট : এক – ভাষা-আন্দোলন : নূরুল আমীনের দৃষ্টিতে
২৮.
পরিশিষ্ট : দুই – ভাষা-আন্দোলন ১৯৮২
২৯.
গ্রন্থপঞ্জি – ভাষা-বিতর্ক ও ভাষা-আন্দোলন বিষয়ক

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%