গোয়ায় গোগোলের প্রথম কীর্তি

পৌলোমী সেনগুপ্ত

গত বছরের জানুয়ারির ঘটনা। গোগোল বাবা-মায়ের সঙ্গে বম্‌বে বেড়াতে এসেছে। গোগোলের অবশ্য নিছক বেড়ানো আর নতুন জায়গা দেখার আনন্দ। অ্যানুয়েল পরীক্ষার পরে রেজাল্ট বেরিয়ে গিয়েছে। গোগোল পাশ করেছে ঠিকই। কিন্তু ওর মনটা একটু খারাপ ছিল। যতটা ভাল ভাবে পাশ করতে পারবে ভেবেছিল, তা পারেনি। একশো ছাত্রের মধ্যে, ওর স্থান ছিল একুশ। এটা মোটেই ভাল কথা নয়। গোগোল তো খুশি হতেই পারেনি। বাবা-মা’ও খুশি হয়নি।

কিন্তু বাবা-মা গোগোলকে বিশেষ দোষও দেয়নি। গোগোলদের ফার্স্ট টার্মের পরীক্ষা হয় সামারের ছুটির আগে, দেড় সপ্তাহ একটানা। কিংবা দু’সপ্তাহ। হাফ ইয়ারলি পরীক্ষা হয় তিন মাস ধরে, প্রতি সপ্তাহে। এই সাপ্তাহিক পরীক্ষাগুলো হয় পুজোর ছুটির আগে। সেই সময়েই গোগোলের শরীরটা বিশেষ ভাল ছিল না। প্রায় দিনই একটা-না-একটা কিছু অসুখ লেগেই থেকেছে। তা ছাড়া গোগোলের নিজের একটা বড় দোষ, অন্য সময় ও মুখস্থ বলতে পারে বা মনোযোগ দিলে চমৎকার ফল করতে পারে। কিন্তু পরীক্ষায় বসলেই দেখা যায়, সামান্য ছোট-খাটো ভুলে, খাতায় আন্টির প্রচুর লাল কালির আঁচড় পড়েছে। তার সঙ্গে আন্টির একটিমাত্র মন্তব্যই লেখা থাকে ‘আনমাইন্ডফুল’।

গোগোল নিজেও স্বীকার করে, এক এক সময় ওর মাথায় এত সব ঘটনা জট পাকাতে থাকে যে, দেখা গেল continents লিখতে গিয়ে ‘আই’ অক্ষরটাই বাদ পড়ে গিয়েছে। এ-সব অমনোযোগিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। হয়তো ইস্কুলে আসবার পথে, রাস্তায় এমন কোনও ঘটনা ওর চোখে পড়েছে, যা ভূতের মতো ওর ঘাড়ে চেপে থেকেছে। Asia লিখতে গিয়ে, বাদ পড়ে গেল হয়তো a। এ-সব ভুতুড়ে ভুল ছাড়া আর কিছুই নয়। সে জন্য বকুনিও কম খায় না। ইস্কুলে আন্টির কাছে তো বটেই, বাড়িতে বাবা, মা, মাস্টারমশাইয়ের কাছেও। গোগোলেরও মনে মনে খুব আফসোস হয়। কিন্তু তখন আর কিছুই করার থাকে না। অ্যানুয়েল পরীক্ষার রেজাল্টের সময় হাফ ইয়ারলি সাপ্তাহিক পরীক্ষার ফলগুলো নতুন করে দেখা হয়। কোনও কারণে অ্যানুয়েল পরীক্ষার ফল খারাপ হলে, হাফ ইয়ারলি সাপ্তাহিক পরীক্ষার ফলাফল দেখে, বিবেচনা করা হয়। এ-বছরটা গোগোলের পুরোপুরি নির্ভর করতে হয়েছে অ্যানুয়েল পরীক্ষার ফলের ওপরেই। কারণ হাফ ইয়ারলির সাপ্তাহিক পরীক্ষার রেজাল্ট বিশেষ সুবিধার হয়নি।

ইদানীং গোগোল প্রায়ই আজকালকার ইস্কুলের লেখাপড়ার পদ্ধতি নিয়ে বাবা-মাকে নানারকম আলোচনা আর তর্কবিতর্ক করতে শোনে। শুধু বাবা-মা কেন, ওঁদের বন্ধুবান্ধব যাঁরা বাড়িতে আসেন, সকলেই আজকালকার লেখাপড়ার পদ্ধতি নিয়ে খুব জোর তর্কবিতর্ক জুড়ে দেন। গোগোল অবশ্য সে-সব তর্কবিতর্কের বিশেষ কিছুই বোঝে না। কিন্তু বাবার কথাগুলোই ওর কেন যেন বেশ লাগসই লাগে। বাবা বলেন, ‘লেখাপড়া শেখা শুধু বই পড়া নয়। তার সঙ্গে ছেলেমেয়েরা সবরকমের কাজও শিখবে। আর সে-কাজ কেবল পি টি এবং ছবি আঁকা নয়। সব ছেলেমেয়ে যাতে বুঝতে পারে, তারা কেউ একা নয়, তারা যা কিছু করছে, সবই নিজের এবং সকলের জন্য, আর সে নিজে যা ভালবাসে, সেটাকে ভাল করে তালিম দেওয়া, এ-সবই দরকার। তা নইলেই দেখা যায়, তারা কেমন যেন একলা আর স্বার্থপরের মতো নিজেদের ভাবতে থাকে।’

বাবার এরকম টুকরো-টাকরা কথা গোগোলের মনে বেশ কাজ করে। তর্কবিতর্কের বাকি কথাবার্তার মধ্যে এত সব জটিল বিষয় এসে পড়ে, গোগোল কিছুই বুঝতে পারে না। তবে, যেমন বাবা বলেন, ‘যে ছেলেমেয়ে তার বাবা-মা’কে বুঝতে পারে, সে তার বন্ধুদের বাবা-মা’কেও বুঝতে পারে। কিন্তু বাবা-মা যদি ছেলেমেয়েদের চেনা দিতে না চান, সেটা খুবই খারাপ। তেমনি, প্রথম থেকেই যে-সব ছেলেমেয়ে নিজের দেশকে চিনতে আর বুঝতে পারে, সে অন্য দেশকেও চিনতে আর বুঝতে পারে। এইভাবে যাচাই করার ভিতর দিয়েই, ওরা দেশ ও বিদেশকে বুঝতে পারে। তার ফলে হয় কী, নিজেদের আর অপরদের চিনতে ওদের ভুল হয় না, আর ভুল না হলেই, একের সঙ্গে অন্যের ভুল-বোঝাবুঝির কোনও সম্ভাবনা থাকে না।’

গোগোলের কাছে বাবার কথাগুলো প্রায় বইয়ের লেখার মতো মনে হলেও আর খানিকটা আবছা অস্পষ্ট লাগলেও, ভিতরে ভিতরে বুঝতে পারে, বাবার কথার মধ্যে খুব একটা বড় সত্য রয়েছে। বিশেষ করে গোগোল যতই বড় হচ্ছে, নিজেদের বন্ধুদের মধ্যে স্বার্থপরতা বিষয়ে ওর মনটাও যেন একটু সজাগ হয়ে উঠছে। আর এই সজাগ হওয়ার মানেই, ও মনে মনে এক ধরনের কষ্ট পায়।

কিন্তু গোগোলের মনের এ-সব ভাবনা-চিন্তার কথা এখন থাক। ওর গত বছরের জানুয়ারির বম্‌বে বেড়াতে যাবার ঘটনার কথাই বলা যাক। ওর আর মায়ের বম্‌বে যাওয়াটা নিছক বেড়ানো আর ভারতবর্ষের পশ্চিমপ্রান্তটা দেখা। আর বাবা আসলে তাঁর অফিসের একটা বিশেষ কনফারেন্সে যোগ দিতেই এসেছেন। তিন দিনের কনফারেন্স শেষে, বম্‌বে দেখা আর বেড়ানোর জন্যই, বাবা মা’কে আর গোগোলকেও সঙ্গে নিয়ে এসেছেন।

বম্‌বেতে মায়ের এক মাসতুতো দিদি বান্দ্রা অঞ্চলে, সমুদ্রের ধারে টিলার ওপরে এক আটতলা অ্যাপার্টমেন্ট হাউসে থাকেন। মায়ের এই দিদির নাম হৈমন্তী। মায়ের থেকেও দেখতে সুন্দর। এত ফরসা, যেন মেমসাহেব বলে মনে হয়। কলকাতায় বম্‌বের মাসি ও মেসোমশায়কে ও দু’-তিনবার দেখেছে। মেসোমশাই মাসির তুলনায় একদম দেশীয় মানুষ। লম্বা চওড়া চেহারা, খুব হাসিখুশি লোক। মস্ত বড় অফিসের মস্ত এক পোস্টে চাকরি করেন। কিন্তু খাঁটি দেশি লোকের মতো, পোশাক আশাক। মেসোমশাই যতই সাহেব সাজুন, দেশি ভাবটা যেন তাঁর চেহারা থেকে যেতে চায় না। যেটা মাসির চেহারায় অন্যরকম। তবে মাসির মনটা খুব ভাল। যতই মেমসাহেব সেজে থাকুন, গোগোলকে খুব ভালবাসেন। হৈমন্তীমাসির একমাত্র মেয়ে, মানে গোগোলের মাসতুতো দিদির বিয়ে হয়ে গিয়েছে। থাকে পাটনায়। কারণ দিদির বর সেখানে চাকরি করেন।

প্রথমে ঠিক হয়েছিল, গোগোল ওর মায়ের সঙ্গে হৈমন্তীমাসির বান্দ্রার অ্যাপার্টমেন্টেই থাকবে, আর বাবা কনফারেন্সের তিন দিন, তাঁর অফিসের বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে শহরের কেন্দ্রে কোনও বড় হোটেলে থাকবেন। কলকাতা থেকে হৈমন্তীমাসির সঙ্গে চিঠিপত্রে যখন এ-সব নিয়ে চিঠি-লেখালেখি চলছিল, তখন হৈমন্তীমাসিই জানিয়েছিলেন, কনফেরেন্সের তিন দিন গোগোল আর মা বাবার সঙ্গে শহরের কেন্দ্রস্থলে বড় হোটেলেই থাকবে। তা নইলে বান্দ্রা থেকে রোজ রোজ বম্‌বের শহর-কেন্দ্রে দূরের পথে যাওয়ার অনেক ঝামেলা। তার চেয়ে গোগোলের বাবা তাঁর কনফারেন্স নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন, আর হৈমন্তীমাসি বান্দ্রা থেকে শহরের কেন্দ্র মেরিন ড্রাইভে এসে, রোজই গোগোল আর মাকে নিয়ে বম্‌বের নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াবেন, বাইরে ঘুরে খাওয়া-দাওয়া হবে, কেনাকাটা করার কিছু থাকলে সে-সবও হবে। তা ছাড়া বাবা যখন এখানে-ওখানে কনফারেন্সে ব্যস্ত থাকবেন মেসোমশায় তো তখন শহরের কেন্দ্রেই তাঁর অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকবেন।

গোগোল বম্‌বে শহর বেড়িয়ে বুঝতে পারেনি, অথচ শুনেছে, বম্‌বে শহরটা আসলে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে সমুদ্রে ঢুকে যাওয়া লম্বা এক ফালি জায়গা। সেইজন্য শহরটা চওড়ার থেকে লম্বাই বেশি। যে কারণে বম্‌বে শহরে বেড়াতে গেলে, যে-কোনও একদিক থেকেই সমুদ্রকে দেখতে পাওয়া যায়।

যাই হোক, বাবার তিন দিনের কনফারেন্স শেষ হবার পরেই, হোটেল থেকে সোজা হৈমন্তীমাসির বান্দ্রার বাড়িতে গোগোলরা এসে পড়েছে। মেরিন ড্রাইভ বা কোলাবা অঞ্চল গোগোলের খারাপ লাগেনি। কিন্তু বান্দ্রার সমুদ্রের ধারেই, টিলার ওপরে হৈমন্তীমাসির সাততলার অ্যাপার্টমেন্ট দারুণ সুন্দর। যে-কোনও ঘরে গেলেই সমুদ্র দেখা যায়। খাবার টেবিলে খেতে বসেও সমুদ্র চোখে পড়ে। দু’দিনের মধ্যেই অ্যাপার্টমেন্ট হাউসের অন্যান্য অ্যাপার্টমেন্টের অনেক ছেলেমেয়ের সঙ্গে গোগোলের বন্ধুত্ব হয়ে গেল।

বান্দ্রায় আসার পরেই, পুরনো পর্তুগিজ রাজ্য গোয়ায় বেড়াতে যাবার কথা হল। হৈমন্তীমাসি মা’কে বললেন, “ট্রেনে প্লেনে তো অনেক চেপেছ। গোয়াতে যেতে হলে, জাহাজে যাওয়াই ভাল। একটা নতুন ট্রিপ হবে।”

গোগোল তো হাততালি দিয়ে লাফিয়ে উঠল। বাবা-মা’ও খুশি হলেন। হৈমন্তীমাসির কথামতো বাবা মেসোমশায়ের সঙ্গে জাহাজের টিকেট কাটতে গেলেন। কিন্তু দু’জনেই সন্ধ্যাবেলা শুকনো মুখে গোয়ার রিটার্ন ফ্লাইটের প্লেনের টিকেট কেটে নিয়ে ফিরলেন। কারণ, জানা গেল বম্‌বে থেকে গোয়া যাতায়াত করে, এরকম দুটো জাহাজই নাকি যান্ত্রিক গোলযোগে অচল। বাকি দুটোর আগে থেকেই এত ঠাসা বুকিং হয়ে আছে যে, দু’সপ্তাহের মধ্যে কোনও টিকিটই পাওয়া যাবে না।

গোগোলের মনটা খুবই খারাপ হয়ে গেল। বাবা-মায়ের মনের অবস্থাও তাই। কিন্তু এ যাত্রাতেই গোয়া বেড়িয়ে ফিরতে গেলে, এ ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। অবশ্য হৈমন্তীমাসি বা মেসোমশায়ের যাবার কোনও কথা নেই। তাঁরা বেশ কয়েকবার গোয়া বেড়িয়ে এসেছেন। তাঁরা গোগোলের বাবাকে গোয়ার কোথায় কোন হোটেলে থাকতে হবে শুধু সে-কথাই বলে দিলেন না। দু’-একজন হোটেল-ম্যানেজারকে মেসোমশায় চিঠিও লিখে দিলেন।

গোগোল জাহাজে না যেতে পারায় মন খারাপ করলেও, বাবা বললেন, “এবার চলো প্লেনেই ঘুরে আসি। পরে আবার যখন আসব, তখন মেসোমশায় আগে থেকে জাহাজে যাবার ব্যবস্থা করে রাখবেন।”

তা ছাড়া কোনও উপায়ও ছিল না। তবু একটা নতুন জায়গা দেখা হবে, সেটাও কম আনন্দের কথা নয়। আসলে গোগোল প্লেনে কয়েকবারই উড়েছে। জাহাজে চেপে কোথাও যায়নি। বিশেষ করে সমুদ্রের বুকে। অবিশ্যি বম্‌বেতে সমুদ্রের বুকে লঞ্চে চেপে এলিফ্যান্টা কেভ দেখে এসেছে। তবু গোয়ায় যাওয়া মানে জাহাজের কেবিনে আরাম করে যাওয়ার আনন্দটা আলাদা।

গোগোল বাবা-মায়ের সঙ্গে দু’দিন পরেই গোয়ার রাজধানী পাঞ্জিমে এসে পৌঁছুল। ওপরের প্লেন থেকে বিশেষ কিছু বুঝতে পারেনি। প্রায় ত্রিশ কিলোমিটার দূরে, গোয়ার বিমানবন্দরে নেমে ট্যাকসিতে আসতে আসতে গোগোল নতুন জায়গা দেখে রীতিমতো উত্তেজিত হয়ে উঠল। বিশেষ করে, গোয়ার নারকেল আর কাজুবাদামের বনের মাঝখান দিয়ে রাস্তা আর বিশাল নদী ওর মন ভুলিয়ে দিল। তারপরে যখন দেখল, একটা বড় ডেকওয়ালা জাহাজে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ল ওদের ট্যাকসি, সঙ্গে আরও কয়েকটা গাড়ি, ও তো হতবাক। দেখল, গাড়ির আশেপাশেই গায়ে গায়ে ঘেঁষে অনেক যাত্রীর ভিড়। আর সেই জাহাজটা বিরাট চওড়া নদী পেরিয়ে ওদের পৌঁছে দিল অন্য পারে। গোগোলের মনে হল, এগুলো যেন এক ধরনের বিরাট মোটর লঞ্চ, যাতে কম করে গোটা ছয়েক মোটরগাড়ি আর জনা পঞ্চাশ লোক একসঙ্গে পার হতে পারে।

নদীর অন্য পারে পৌঁছে, ট্যাকসি গোগোলদের নিয়ে ছুটল পাঞ্জিমের দিকে। অল্প সময়েই ওদের ট্যাকসি পাঞ্জিম শহরে মাণ্ডবী নদীর ধারে হোটেল মাণ্ডবীর দরজায় এসে দাঁড়াল। বাবা প্রথমে নামলেন। গোগোল ট্যাকসির ভিতর থেকেই দেখল, হোটেল মাণ্ডবীর রিসেপশন রুমে বেশ ভিড়। কেবল ভারতবর্ষের লোক নয়, সারা পৃথিবীর নানা দেশের লোক সেখানে ভিড় করেছিল। গোগোলদের মতোই কেউ নতুন বেড়াতে এসেছে, কেউ হোটেল ছেড়ে চলে যাচ্ছে। বাবা ভিড় ঠেলে, রিসেপশনে একজন অল্পবয়সি ভদ্রলোকের সঙ্গে কী কথা বললেন। তারপরে রিসেপশন কাউন্টারের পিছনে আড়ালে চলে গেলেন।

মা বললেন, “যা ভিড় দেখছি, এখানে থাকবার জায়গা পেলে হয়।”

গোগোল জিজ্ঞেস করল, “মা, বাবা ভেতরে কোথায় চলে গেলেন?”

মা বললেন, “কী করে জানব বলো। তুমি যেখানে বসে আছ, আমিও সেখানেই বসে আছি। পেছনে কী আছে, কে আছে, আমি কিছুই জানিনে।”

মায়ের কথা শেষ হতে-না-হতেই মাথায় পাকা চুল, কিন্তু শক্তসমর্থ চেহারা, স্যুট পরা এক ভদ্রলোকের সঙ্গে বাবা এলেন। ভদ্রলোক কাউন্টারের ভিড়ের মধ্যে, গলা তুলে, রিসেপশনের একজন মহিলা-কর্মচারীকে কিছু বললেন। মহিলা সঙ্গে সঙ্গে পিছন ফিরে আর একজনকে কী বললেন। ইতিমধ্যে বাবা সেই ভদ্রলোকের সঙ্গে ট্যাকসির দিকে এগিয়ে এলেন, বললেন, “গোগোলকে নিয়ে নেমে এসো।”

গোগোল শোনামাত্র, বলতে গেলে, নিজেই দরজা খুলে মা’কে নিয়ে নেমে এল। বাবা সেই ভদ্রলোকের সঙ্গে মায়ের আর গোগোলের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, “ইনি হলেন হোটেল মাণ্ডবীর ম্যানেজার।” বলে মা’কে আর গোগোলকে দেখিয়ে বললেন, “আমার স্ত্রী, আর ছেলে।”

ভদ্রলোক মা’কে হাতজোড় করে নমস্কার করে গোগোলের হাত ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে ইংরেজিতে বললেন, “স্বাগতম ছোট্ট ভদ্রলোক, তোমার নাম কী?”

“গোগোল—।” গোগোল উচ্চারণ করল মাত্র।

ভদ্রলোক গোগোলের হাতে ঝাঁকুনি দিয়ে বললেন, “সুন্দর নাম। জানো কি, তোমার নামে রাশিয়ায় একজন বিখ্যাত লোক ছিলেন?”

গোগোল সেটা ভালই জানত। বলল, “জানি।”

এই সময়ে হোটেলের একজন পোর্টার এসে দাঁড়াল। ম্যানেজার তাকে গোয়ার ভাষায় কিছু বললেন। পোর্টার ট্যাকসি-ড্রাইভারকে সেই ভাষাতেই কিছু বলে, গাড়ির পিছনে কেরিয়ারের দিকে গেল। ম্যানেজার বাবাকে বললেন, “আসুন। আপনার রিলেটিভ মিস্টার সরকার আমাকে আপনার হাত দিয়ে কেবল চিঠিই পাঠাননি, ট্রাংককলও করেছিলেন। সেই জন্যই আপনার জন্য আমি একটা ডাবল-বেডের ঘর রেখে দিয়েছি।”

গোগোল বুঝল, মি. সরকার মানে মেসোমশায়। ম্যানেজার রিসেপশনের কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে, তাঁর হাত থেকে একটা চাবি নিয়ে বাবাকে দিয়ে বললেন, “এই আপনার ঘরের চাবি। আপনি লিফটে করে, আপনার স্ত্রী আর ছেলেকে নিয়ে চলে যান। লিফটম্যান আর ওপরের বেয়ারা আপনার ঘর দেখিয়ে দেবে।”

বাবা ভদ্রলোককে অনেকবার ধন্যবাদ দিয়ে, গোগোল আর মা’কে নিয়ে, রিসেপশনের পিছনে গেলেন। দেখা গেল পিছনে, ডান দিক দিয়ে ওপরে ওঠার সিঁড়ি, বাঁ দিকে লিফট। লিফট আর লিফটম্যান নীচেই দাঁড়িয়ে ছিল। বাবা গোগোলদের নিয়ে লিফটে ওঠার পরে, লিফটম্যান ইংরেজিতেই জিজ্ঞেস করল, “স্যার আপনার ঘরের নম্বরটা জানতে পারি?”

বাবা তাকে চাবিটা দেখিয়ে দিলেন। চাবির সঙ্গেই ঘরের নম্বর লেখা ছিল। ফোর্থ ফ্লোরে লিফট থামল। গোগোল বাবা মা’য়ের সঙ্গে লিফট থেকে নামতেই একজন বেয়ারা এগিয়ে এল। বাবা তার হাতে চাবিটা এগিয়ে দিলেন। বেয়ারা চওড়া বারান্দার ওপর দিয়ে, একটা ঘরের দরজা খুলে দিল। সামনেই মাণ্ডবী নদী। ঘরের ভিতর ঢুকেও, জানলা দিয়ে নদী দেখা যায়। গোগোলের মনে হল, যেন হোটেলের ঘরটা একটা জাহাজের কেবিন, মাণ্ডবী নদীর ওপরে দাঁড়িয়ে আছে। বাবা মা’ও খুব খুশি। এমনকী, মা পর্যন্ত বলে ফেললেন, ‘ঘরটা চমৎকার। নদীর ওপরেই। কিন্তু আমাদের মালপত্র?”

বাবা বললেন, “হোটেলের পোর্টার ঠিক নিয়ে আসবে।”

মায়ের কথা শেষ হবার আগেই পোর্টার দরজায় এসে দাঁড়াল।

পরের দিন সকাল থেকেই, ট্যাকসি ভাড়া করে বেড়ানো শুরু হয়ে গেল। আগের দিন স্থির হয়ে বসতে বসতেই সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। বেড়াতে যাবার কোনও ব্যাপারই ছিল না, কেবল মাণ্ডবী নদীর ধারে হেঁটে ঘোরা ছাড়া। গোগোলের সব থেকে ভাল লাগল, এখানকার গাছপালা, টিলা, নদী। সবই যেন ছবির মতো রং দিয়ে আঁকা। সেন্ট ফ্র্যান্সিস জেভিয়ারের পুরনো চার্চ দেখে তো গোগোল সেখান থেকে নড়তেই চায় না। কিন্তু বাবা-মায়ের তাড়া। একদিনে অনেক জায়গা দেখে নিতে হবে। এত তাড়াতাড়ি সব ঘুরে দেখলে কিছুই মনে থাকে না। তবু, পাঞ্জিম ঘুরতেই চারদিন কেটে গেল।

চার দিনের পর, একটা দিন শুধু হোটেলে বিশ্রাম করে, পরের দিন মারগাঁও যাওয়া স্থির হল। চার দিন ঘুরে ঘুরে বাবা মা যেন সত্যি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁরা ঘর ছেড়ে বেরোতেই চাইছিলেন না। কিন্তু গোগোলের ঘরে থাকতে মোটেই ইচ্ছে করল না। বাবা ওকে লিফটে নেমে কেবল রিসেপশন রুমে যাবার অনুমতি দিয়ে বললেন, “কিন্তু খবরদার, হোটেলের বাইরে রাস্তায় একদম যাবে না।”

গোগোল তাতেই রাজি। তবু তো সেখানে অনেক লোক দেখা যাবে। শুধু এ দেশের না, পৃথিবীর অনেক দেশের লোক, মহিলা পুরুষ, যাঁরা কেবল ইংরেজিতেই কথা বলেন না। তাঁদের অনেকের কথাই গোগোল বুঝতে পারে না। দু’জন লিফটম্যানের সঙ্গেই গোগোলের খুব ভাব হয়ে গিয়েছিল। রিসেপশন রুমে এলেও, গোগোল দরজার বাইরে পা দিয়ে, মাণ্ডবী নদীর ধারে রাস্তার লোকজন গাড়ি ঘোড়া না দেখে থাকতে পারল না। মাণ্ডবী নদী দিয়ে সব সময়েই নানারকমের জাহাজ, স্টিমার, লঞ্চ ভেসে চলেছে।

দুপুরে খাবার আগে, রিসেপশন রুমে গোগোল একটি রোগা লম্বা আর মাথায় কোঁকড়ানো ঝাঁকড়া চুল, পঁচিশ-ত্রিশ বছরের লোককে বসে থাকতে দেখেছে। সকালে, ব্রেকফাস্টের পরেও একবার দেখেছিল। কিন্তু এই ক’দিনে, ডাইনিং হলে বা হোটেলের ভিতর লোকটিকে ও একবারও দেখতে পায়নি। লোকটা রিসেপশনের এক কোণে, সোফায় বসে, খবরের কাগজ পড়তে পড়তে, বারে বারেই, চোখ পিটপিট করে চারদিকে তাকিয়ে দেখছিল। যেন কিছু একটা খুঁজে বেড়াচ্ছে।

সকাল থেকে লোকটা কী দেখছে? তার কোনও ব্যস্ততা নেই। রিসেপশনে গিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায়নি। লোকটার পোশাক-আশাক তেমন একটা ভাল বা খুব পরিচ্ছন্ন নয়, তবু তো তার পরনে স্যুট আর গলায় নেকটাই ছিল। তার মাজা-মাজা ময়লা রং দেখে, তাকে ইউরোপের বা আমেরিকার সাদা লোক মনে হচ্ছিল না। তবে পৃথিবীতে তো কত রকম লোক আছে। গোগোল বুঝতে পারল না, লোকটা গোয়ার অধিবাসী, না বাইরে থেকে এসেছে।

গোগোলের অবশ্য লোকটাকে নিয়ে মাথাব্যথা কিছু ছিল না। রিসেপশনে মহিলা পুরুষ কর্মচারীরা সব সময়েই হাজির রয়েছেন, বিভিন্ন লোকের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন, খাতা লিখছেন, টাইপ করছেন। তাঁরা যখন কোণের লোকটাকে কিছু বলছেন না, তখন নিশ্চয়ই সে চেনাশোনা কেউ হবে।

সকাল থেকে, দুপুরে খাবার আগে, তৃতীয়বার গোগোল ওপর থেকে নেমে নীচে এল। দেখল, সেই লোকটা একই রকমভাবে খবরের কাগজ হাতে বসে আছে। গোগোল দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে, রাস্তার দিকে তাকাল। আর ঠিক তখনই ওর মনে হল, লোকটা উঠে দাঁড়াল। ও মুখ ফিরিয়ে দেখল, সত্যি লোকটা উঠে দাঁড়িয়েছে। তখন রিসেপশনে ভিড় তেমন নেই। দু’জন বিদেশি মহিলা, পুরুষ রিসেপশন টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন। রিসেপশন টেবিলেও দু’জন ছাড়া কেউ নেই। তার মধ্যে একজন বিদেশি মহিলা পুরুষের সঙ্গে কথা বলছেন। আর একজন কিছু লিখছেন।

গোগোল দেখল, লম্বা ঢ্যাঙা লোকটা রিসেপশনের দিকে গেল। বিদেশি ভদ্রলোকের পায়ের কাছেই একটা অ্যাটাচি কেস দাঁড় করানো রয়েছে। ঢ্যাঙা লোকটা চট করে অ্যাটাচি কেসটা হাতে তুলে নিল। তাড়াতাড়ি নিল, রিসেপশনের কর্মচারীও দেখলেন না, তিনি তখন হাসতে-হাসতে কী বলছেন। এদিকে লম্বা লোকটা যেন আবার ঘরের কোণে বসতে গিয়েই, হঠাৎ দরজা দিয়ে বেরিয়ে পড়ল। বেরিয়ে পড়েই, একবার পিছন ফিরে দেখে, খুব তাড়াতাড়ি বাঁ দিকে হাঁটতে আরম্ভ করল।

গোগোলের মনটা কেমন ছাঁত করে উঠল। ব্যাপারটা ওর মোটেই ভাল লাগল না। ও ভাবল, রিসেপশনের দিকে ফিরে কিছু বলবে। কিন্তু তার আগে ওর মনে হল, লোকটা কোথায় যায়, তাই দেখা যাক। ভেবেই, ও লোকটার কয়েক হাত পিছনে-পিছনে চলতে লাগল। তবে গোগোল লোকটার লম্বা পায়ের সঙ্গে তাল রেখে চলতে গিয়ে এতই পিছিয়ে পড়তে লাগল, ওকে প্রায় দৌড়তে হল।

লোকটা কিছুটা গিয়ে, ডান দিকের রাস্তায় নেমে অন্য একটা রাস্তায় পা বাড়াতে গিয়েই, একবার পিছন ফিরে তাকাল। তখনই গোগোলের সঙ্গে তার চোখাচোখি হয়ে গেল। চোখাচোখি হতেই, লোকটার ভুরু দুটো কুঁচকে উঠল, মুখটাও যেন একটু শক্ত দেখাল। কিন্তু সে দাঁড়াল না, আরও তাড়াতাড়ি হাঁটতে আরম্ভ করল। গোগোলও না থেমে লোকটার পিছনে-পিছনে গেল। একবার ভেবে দেখল না, এরকম একটা অচেনা অজানা শহরে ও কোথায় চলেছে।

গোগোল দেখল, লোকটা আবার হঠাৎ ডান দিকে মোড় নিল। পাছে লোকটা হারিয়ে যায়, গোগোল সেই ভয়ে দৌড় দিল। মোড়ে এসে দেখল, রাস্তাটা সরু, আর দু’পাশে নানারকম মোটরগাড়ির গ্যারেজ কারখানা। হঠাৎ যেন শহরের রাস্তাটার চেহারাই বদলে গেল। গোগোল না থেমে লোকটার পিছনে এগিয়ে গেল। দেখা গেল, লোকটা যেন একটু আস্তে চলছে। কেন? এ-কথা ভাববার আগেই গোগোল দেখল, লোকটা বাঁ দিকে বেঁকে গেল। গোগোল দেখল, লোকটা যেদিকে বেঁকে গেল, সে রাস্তাটা আরও সরু, এখানে-ওখানে তেল মবিল পড়ে আছে। আশেপাশে ছড়ানো নানারকমের কৌটো টিন খালি বোতল।

গোগোল কি লোকটাকে কিছু বলবে বা জিজ্ঞেস করবে? ওর এই ভাবনার ফাঁকেই, লোকটা আবার ডান দিকে বেঁকে গেল। গোগোলও ছুটে ডান দিকের মোড়ে ঢুকতেই, একটা শক্ত হাত ওর ডান হাত ধরে, ঝটকা মেরে টেনে নিয়ে গেল। গোগোল কিছু বুঝে ওঠবার আগেই, হাত ছাড়াবার চেষ্টা করল। কিন্তু লোকটা—ততক্ষণে, রাস্তার ওপর থেকেই উঠে যাওয়া চওড়া কাঠের সিঁড়ি বেয়ে, গোগোলকে নিয়ে উঠতে লাগল। সিঁড়িটা মোটেই উঁচু নয়। দশ-বারোটা ধাপের ওপরেই একটা কাঠের ঘর দেখা যাচ্ছে।

গোগোল তখনও হাত ছাড়াবার চেষ্টা করছে। কিন্তু লোকটার হাত যেন সাঁড়াশির মতো শক্ত। সে পা দিয়ে ঠেলে, কাঠের ঘরের দরজাটা খুলে ফেলল, আর এক হ্যাঁচকা টানে, গোগোলকে সেই ঘরের মধ্যে টেনে নিয়ে, মেঝের ওপর ছুড়ে দিল। তখনও তার এক হাতে সেই অ্যাটাচিটা রয়েছে। গোগোল লাফ দিয়ে ওঠবার আগেই লোকটা পিছন ফিরে দরজাটা ভিতর থেকে বন্ধ করে দিল। তৎক্ষণাৎ ঘরটা একেবারে অন্ধকার হয়ে গেল। তবু গোগোল মেঝে থেকে উঠে, দরজার দিকে আন্দাজে পা বাড়াল।—হঠাৎ একটা কীসের শব্দ হল। মনে হল, কোথাও কিছু পড়ে গেল। তারপরেই অন্ধকারে আবার সেই সাঁড়াশি হাত গোগোলের হাত চেপে ধরে এক পাশে টেনে নিয়ে গেল এবং চাপা গর্জনে, কী একটা ভাষায় দুটো কথা শোনা গেল। যার কোনও অর্থই গোগোল বুঝতে পারল না।

গোগোল ইংরেজিতে বলল, “আমার হাতে লাগছে, আমাকে ছেড়ে দিন।”

ঘরের মধ্যে একটা আলো জ্বলে উঠল। খুব জোরালো আলো নয়, টিমটিমে। গোগোল সেই আলোয় দেখল, ঘরটার এক পাশে কতগুলো টিন। আর এক পাশে ছোট একটা তক্তপোশ। সেই তক্তপোশের ওপরেই অ্যাটাচিটা পড়ে রয়েছে। গোগোল কয়েক সেকেন্ড আগে, এটা ছুড়ে ফেলার শব্দই পেয়েছিল। কাঠের দেওয়ালে সিনেমা পোস্টারের মতো অনেক ছবি। লোকটার চুলগুলো এখন উসকো-খুসকো। চোখ দুটো যেন জ্বলছে। আর মুখটা পাথরের মতো। তার নিশ্বাস থেকে একটা পচা টকটক গন্ধ বেরোচ্ছে। সে ইংরেজিতে চিবিয়ে-চিবিয়ে যা বলল, তার অর্থ, “এই হতচ্ছাড়া ছোঁড়া, তুই আমার পিছু নিয়েছিস কেন? সত্যি করে বল, তা নইলে এখুনি তোর গলা টিপে শেষ করে দেব।”

গোগোলের বুকের মধ্যে কেঁপে উঠল। তবু ও বলল, “আমি আপনার পিছু নিইনি। এমনি ঘুরছিলাম।”

লোকটা গোগোলকে ঝটকা মেরে, এক পাক ঘুরিয়ে বলল, “আমার সঙ্গে চালাকি হচ্ছে? এখনও সত্যি করে বল তুই কেন আমার পিছু নিয়েছিস? তুই কে? কোথা থেকে এই হোটেলে এসেছিস?”

গোগোলের বুকের মধ্যে ধড়াস-ধড়াস করছে। তবু ও যতটা সম্ভব শান্তভাবে জবাব দিল, “আমি কলকাতা থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে এখানে বেড়াতে এসেছি।”

লোকটা গোগোলকে আবার একটা ঝাঁকুনি দিয়ে বলল, “কিন্তু তুই আমার পিছু নিয়েছিস কেন?”

গোগোলের পক্ষে বেশিক্ষণ মিথ্যে কথা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ও তক্তপোশের ওপরে রাখা অ্যাটাচি কেসটা দেখিয়ে বলল, “আমার মনে হয়েছিল, আপনি অন্যের অ্যাটাচি কেস নিয়ে চলে এসেছেন।”

লোকটা এক ধাক্কায় গোগোলকে তক্তপোশের দিকে ঠেলে দিল, আর তারপরেই হেসে উঠে বলল, “তার মানে তুই আমাকে চোর ভেবেছিস? আর তাই গোয়েন্দার মতো পিছু নিয়ে দেখতে এসেছিস, আমি কোথায় যাই?”

গোগোল এ-কথার কোনও জবাব দিল না। কিন্তু লোকটা খুব হাসতে লাগল আর হাসতে-হাসতেই বলল, “তুই একটা মস্ত বোকা। এ শহরে সবাই আমাকে চেনে, আমি হচ্ছি মোটর মেকানিক এন্ডরুজ। হোটেল মাণ্ডবীতে আমি রোজই গিয়ে বসে থাকি, কারও গাড়ি খারাপ হলে সারিয়ে দিই। আমি তো সকাল থেকেই রিসেপশনে বসে ছিলাম। ওই অ্যাটাচি কেসটা হচ্ছে আমার। আসবার সময় ওটা হাতে করে নিয়ে চলে এসেছি। তুই কোথাকার একটা ছেলে, ভাবলি, আমি পরের অ্যাটাচি চুরি করে পালিয়েছি?”

গোগোল লোকটার কথা মন থেকে বিশ্বাস করতে পারল না। আবার এও ভাবল, সত্যি, লোকটা তো সকাল থেকেই রিসেপশনে বসেছিল। এমনি-এমনি কেউ সেখানে বসে থাকলে, রিসেপশনের লোকেরা কেউ কি কিছু বলতেন না? কিন্তু ও লোকটার ছোট-ছোট চোখের দিকে তাকিয়ে রইল, কোনও জবাব দিল না। লোকটাও যেন কিছু ভাবল, তারপরে বলল, “দেখ কলকাতার পুঁচকে ছেলে, তোকে আমি ছেড়ে দিতে পারি। কিন্তু তুই হোটেলে ফিরে একটা কথাও বলবি না। কী, কথা দিচ্ছিস? তা নইলে তুই কোনওদিনই এখান থেকে ফিরে যেতে পারবি না।”

গোগোল ভাবল, এর মধ্যেই বাবা-মা নিশ্চয় ওকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন। দুপুরের খাবার সময় হয়ে গিয়েছে। কোনওদিন এখান থেকে ফিরে না-যেতে পারার চেয়ে, লোকটাকে মিথ্যা কথা বললে নিশ্চয় দোষ হবে না। আসলে ও যে চোর, তাতে কোনও সন্দেহই নেই। তা না হলে, গোগোলকে কোনও কথা বলতে বারণ করত না। গোগোল একবার ছাড়া পেলে, তারপরে ও সব কথাই বলতে পারবে। ও বলল, “আমি কোনও কথাই বলব না।”

লোকটা আবার একটু ভাবল, তারপরে গোগোলের দিকে তাকিয়ে মাথা নেড়ে বলল, “না, তোকে ছাড়াটা ঠিক হবে না। তুই হোটেলে ফিরে গিয়েই একটা হইচই বাঁধিয়ে দিবি। এখন তুই এ ঘরেই থাক, আমি বাইরে গিয়ে ব্যাপারটা সব বুঝে আর দেখে, যখন বুঝব, তখন তোকে ছাড়ব।” বলেই সে অ্যাটাচিটা টেনে নিয়ে ঘরের বাইরে গিয়ে দরজাটা টেনে বন্ধ করে দিল।

গোগোল বুঝল, লোকটা তাকে ঘরের মধ্যে বন্ধ করে অ্যাটাচিটা নিয়ে অন্য কোথাও পালাচ্ছে। কিন্তু তার চেয়ে বড় কথা, ভয়ে ওর প্রাণ উড়ে গেল! এ বন্ধ ঘর থেকে কী করে ও হোটেলে ফিরবে? লোকটা কি সত্যি আর ফিরবে? ও দরজার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে অনেক টানাটানি করল। খুলতে পারল না। জোরে-জোরে ঘুসি মারল, আর চিৎকার করে ইংরেজিতে বলল, “কে আছেন, আমাকে বাঁচান। আমাকে এই ঘরের মধ্যে বন্ধ করে রাখা হয়েছে।”

কিন্তু বাইরে কোথাও কোনও শব্দ পাওয়া গেল না। গোগোলের গলার কাছে কান্না ঠেলে এল। এখন ও দরদর করে ঘামছে। জানুয়ারি মাস হলেও, এখানে মোটেই তেমন শীত নেই। ওর চোখের সামনে শুধু হোটেল মাণ্ডবীর ঘরে বাবা-মায়ের মুখ ভাসছে। ও ওর ছোট-ছোট হাতে, দরজার ভিতরের হাতলটা ধরে জোরে জোরে অনেকবার টানাটানি করল, চিৎকারও করল। কোনও ফলই হল না। গোগোল ঘরটার চারদিকে তাকাতে লাগল। কাঠের দেওয়ালের কোথাও একটা জানালাও কি নেই?

ঘরের মেঝেটাও কাঠের। গোগোল চারদিকে ঘুরতে-ঘুরতে তক্তপোশের একদিকের দেওয়ালে ছোট একটা বন্ধ জানালা দেখতে পেল, যার পেতলের ছিটকিনিটা চিকচিক করছে। ও ছিটকিনিটার ওপর লাফিয়ে পড়ে টান দিতে সেটা খুলে গেল। কিন্তু জানালাটা খুলল না। ও জানালার ওপর দিকে তাকিয়ে দেখল, আরও একটা ছিটকিনি আঁটা রয়েছে। সেটা খোলবার জন্য ওকে তক্তপোশের ওপর উঠতে হল, আর সামান্য চেষ্টাতেই ছিটকিনিটা খুলে ফেলল। পাল্লা ধরে টান দিতেই এক রাশ হাওয়া এসে ওর মুখে লাগল। গোগোল প্রথমেই দেখল, জানালাটার কোনও গরাদ নেই। সামনেই একটা দোতলা বাড়ির পিছন দিক, সরু একটা গলি। গলিটা বেশ ময়লা। নানারকম খালি কাগজ, পিজবোর্ডের বাকস, রুটির টুকরো, ছোটখাটো কৌটো ছড়ানো।

গোগোল নীচের দিকে উকি দিয়ে দেখল। ওর অনুমান, জানালা থেকে নীচে প্রায় বারো ফুট নিচু। কিন্তু ওর এখন মাথার ঠিক নেই। যা হয় হবে। লোকটা আসবার আগেই এই জানালা টপকেই ওকে পালাতে হবে। নিশ্চয়ই জানালার কথা লোকটার মনে ছিল না। মনে পড়লেই ছুটে আসবে।

গোগোল দরদর করে ঘামতে আরম্ভ করেছে। এতটা নীচে লাফিয়ে পড়তে ভয়ও করছে। কিন্তু কোনও উপায় নেই। ভাবা মাত্রই ও জানালার নীচের চৌকাঠ ধরে বাইরে শরীরটাকে ঝুলিয়ে দিল। তাকাল নীচের দিকে। এখন কিছুটা কম উঁচু মনে হলেও, মাটি বেশ পিছল দেখাচ্ছে।

গোগোল যখন উচ্চতা মাপছে, তখনই ঘরের দরজায় শব্দ হল আর দরজাটা খুলে গেল। এক পলকের জন্য লোকটার মুখ ও দেখতে পেয়েই, চৌকাঠ ছেড়ে দিল। নীচের মাটিতে পড়তেই খানিকটা পিছলে গেল আর দুটো হাঁটুই কাঠের দেওয়ালে ছড়ে গেল। তা যাক। গোগোল কোনও দিকে না তাকিয়ে ডান দিকে মোড় নিয়ে ছুটল। ছুটতে ছুটতে এসে পড়ল একটা মাঝারি চওড়া রাস্তায়। ডাইনে যাবে না বাঁয়ে যাবে ভাবতেই, দেখল, ওর ডান দিক থেকে সেই লোকটা ছুটে আসছে। হাতে তার সেই অ্যাটাচিটা এখন আর নেই।

গোগোল বাঁ দিকে দৌড় দিল। লোকটার দৌড়ে আসবার জুতোর শব্দ ওর পিছনে শোনা যাচ্ছে। আর লোকটা যেন চেঁচিয়ে কিছু বলছিল, যে-ভাষা ও বুঝতে পারে না। কিন্তু ও থামল না। আশেপাশে কেউ-কেউ ওর দিকে দেখছিল, অথচ তারা কী করবে যেন ভেবে পাচ্ছিল না। গোগোল হঠাৎ ডাইনে একটা রাস্তা দেখে সেদিকে মোড় ফিরে ছুটল। লোকটার পায়ের শব্দ আর চিৎকার তখনও শোনা যাচ্ছে। গোগোল খানিকটা ছোটবার পরেই, বাঁ দিকে তাকিয়ে দেখল, মাণ্ডবী নদী দেখা যাচ্ছে, আর সামনেই বড় রাস্তা। মোড়ে একজন পুলিশ দাঁড়িয়ে রয়েছে। গোগোল দৌড়ে গিয়ে পুলিশের কোমর জড়িয়ে ধরে ইংরেজিতে বলল, “আমাকে বাঁচান। আমাকে হোটেল মাণ্ডবীতে নিয়ে চলুন। পিছনে একটা চোর আমাকে তাড়া করেছে।”

রাজধানী পাঞ্জিমের পুলিশ রীতিমতো হকচকিয়ে গেল। সে গোগোলের একটা হাত ধরল। আশপাশ থেকেও কিছু মহিলা পুরুষ জড়ো হলেন। গোগোলের কথা শুনে তাঁরা বলাবলি করতে লাগলেন, “কী ব্যাপার? কোথায় চোর? কী ঘটেছে?”

গোগোল অবাক হয়ে আশেপাশে তাকিয়ে দেখল, সেই লোকটার কোনও চিহ্ন নেই। কিন্তু পুলিশকে ছাড়ল না। বলল, “আমাকে হোটেল মাণ্ডবীতে নিয়ে চলুন। সেখানে আমার বাবা-মা রয়েছেন। আমি সেখানে গিয়ে সব কথা বলব।”

এক ভদ্রলোক বলেন, “ওই তো হোটেল মাণ্ডবী। তুমি তো হোটেলের কাছেই এসেছ।”

গোগোল ভদ্রলোকের কথামতো তাকিয়ে হোটেল চিনতে পারল। ও পুলিশের হাত টেনে ধরে সেদিকে ছুটল। দেখা গেল হোটেলের সামনেও তখন বেশ ভিড়। পুলিশের গাড়ি এসেছে। কয়েকজন পুলিশ অফিসার সেখানে রয়েছেন। সেই ভিড়ের মধ্যেই, হোটেলের ম্যানেজারের পাশ থেকে গোগোলের বাবা আর মা ছুটে এলেন। মায়ের চোখ ছলছল করছে। বাবার মুখ ভয়ে শুকিয়ে গিয়েছে। গোগোল প্রথমেই ম্যানেজারকে বলল, “এখান থেকে একটা লোক এক ভদ্রলোকের অ্যাটাচি কেস চুরি করে পালিয়েছে। আমি তার পিছু নিয়েছিলাম। সে আমাকে ধরে একটা ঘরে আটকে রেখেছিল। সেখান থেকে আমি পালিয়ে এসেছি।”

গোগোলের কথা শোনামাত্রই পুলিশ অফিসার এগিয়ে এসে বললেন, “লোকটাকে দেখলে তুমি চিনতে পারবে? কোনদিকে সে গেছল, কোথায় তুমি তার পিছু নিয়েছিলে?”

গোগোল বলল, “আমি সবই দেখিয়ে দিতে পারব। লোকটাকে দেখলে, চিনতেও পারব। সে বলেছে, তার নাম মোটর মেকানিক এন্ডরুজ।”

মা তখনও গোগোলের হাত চেপে ধরে রেখেছিলেন। পুলিশ অফিসার ম্যানেজারকে বললেন, “লোকটা একটা বাজে নাম বলেছে। আমি এই ছেলেটিকে নিয়ে এখনই সেই লোকটার ডেরায় যেতে চাই। এর অভিভাবক কে? তিনিও আমার সঙ্গে যেতে পারেন।”

ম্যানেজার গোগোলের বাবার সঙ্গে পুলিশ অফিসারের পরিচয় করিয়ে দিলেন। পুলিশ অফিসার বাবাকে অনুরোধ করে বললেন, “আপনিও আমাদের সঙ্গে চলুন, আমাদের একটু সাহায্য হবে। বুঝতেই পারছেন, একজন বিদেশির অ্যাটাচি কেস চুরি যাওয়া মানে আমাদের দেশের কত বড় দুর্নাম। আর সেই অ্যাটাচিতে ভদ্রলোক আর তাঁর স্ত্রীর পাসপোর্ট ভিসা, টাকাপয়সা সবকিছু রয়েছে। আপনার ছেলের কাছে আমরা সব গোয়াবাসীরা কৃতজ্ঞ থাকব।”

ম্যানেজার বাবার হাত ধরে বললেন, “ওঁর ছেলে যাবে আর উনি যাবেন না? নিশ্চয়ই যাবেন। আমিও যাব। চলুন।”

গোগোল লক্ষ করল, বিদেশিদের মধ্যে অনেকেই তখন ওদের ফোটো তুলতে ব্যস্ত। গোগোল বাবার হাত ধরে পুলিশ অফিসারের সঙ্গে তাঁর জিপে গিয়ে উঠল। ম্যানেজারও সঙ্গে এলেন। পিছনে পুলিশের আর-একটা গাড়ি ছাড়াও, দু’-তিনটে গাড়ি সঙ্গে সঙ্গে চলল। আসলে জায়গাটা মোটেই বেশি দূর নয়। দু’-তিন মিনিটের মধ্যেই সেই মোটর গ্যারেজ আর কারখানার ছোটরাস্তায় গোগোলরা এসে পৌঁছুল। তারপরে গোগোল জিপ থেকে নেমে সেই দোতলা কাঠের ঘরটা দেখিয়ে বলল, “লোকটা প্রথম ওই ঘরে ঢুকেছিল, আর আমাকে ওখানেই আটকে রেখেছিল।”

দেখতে দেখতে সেখানে অন্যান্য অনেক লোকের ভিড় জমে গেল। পুলিশ অফিসার কাঠের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে দেখলেন, ঘরটা বাইরে থেকে বন্ধ। তিনি নীচে নেমে এসে গোগোলকে বললেন, “গোগোল, তুমি আগাগোড়া ঘটনাটা বলো আর কেনই বা লোকটাকে তুমি সন্দেহ করে পিছু নিয়েছিলে, তাও বলো।”

গোগোল সব কথাই বলল। পুলিশ অফিসার শুনে হোটেলের ম্যানেজারকে বললেন, “গোগোল আর ওর বাবাকে নিয়ে আপনি হোটেলে ফিরে যান। আমি আশা করছি, আজ বিকেলের মধ্যেই চোরটাকে আমরা ধরে ফেলতে পারব। আমি এখানকার সমস্ত থানায় খবর দিয়ে রাস্তা আটকে দিচ্ছি।” বলে তিনি গোগালের গাল টিপে, মাথার চুলে হাত বুলিয়ে বললেন, “যদি চোরটা ধরা পড়ে, তোমার জন্যই পড়বে।”

গোগোল বাবা আর ম্যানেজারের সঙ্গে অন্য একটা গাড়িতে হোটেলে ফিরে গেল। ও বুঝতে পারল, বাবা ব্যাপারটাতে মোটেই খুশি হননি, বরং বিরক্ত হয়েছেন। কিন্তু গোগোলের আর কী করার উপায় ছিল?

সন্ধ্যাবেলা হোটেল মাণ্ডবীর ঘরে গোগোল বাবা-মায়ের মাঝখানে শুয়ে ছিল। মা তো কথাই বলছেন না। বাবাও অনেকক্ষণ গোগোলকে নানারকম উপদেশ দিয়ে এখন চুপ করে আছেন। আগামীকাল মারগাঁওয়ে যাওয়া হবে কি না, তাই নিয়েই ভাবা হচ্ছে।

এই সময়ে হোটেলের ম্যানেজার ছুটে এসে দরজায় নক করে বললেন, “গোগোল, সেই অ্যাটাচিটা সুদ্ধ একটা ছোকরাকে ধরা হয়েছে। তুমি এসে দ্যাখো তো সে-ই আসল লোক নাকি?”

গোগোল বাবার সঙ্গেই ম্যানেজারের পিছনে পিছনে লিফটে এসে উঠল। রিসেপশন রুমে এসে দেখল, পুলিশ অফিসারের পাশে, সেই লোকটাই দাঁড়িয়ে রয়েছে। গোগোল বলল, “হ্যাঁ, এ লোকটাই অ্যাটাচি নিয়ে পালিয়েছিল।”

ঘরের ভিড়ের মধ্যে নানারকম হাসি কথাবার্তা শোনা গেল। রিসেপশনের কর্মচারী বলল, “আরে, লোকটা তো সকাল থেকে এখানে অপেক্ষা করছিল। ওর কে নাকি বাইরে থেকে এই হোটেলে আসবে, তার সঙ্গে দেখা করবে বলে অপেক্ষা করছিল।”

ইতিমধ্যে অ্যাটাচির মালিক সেই ভদ্রলোক আর তাঁর স্ত্রী গোগোলকে জড়িয়ে ধরে খুবই আদর করতে শুরু করেছেন। ক্লিক-ক্লিক করে ফোটো উঠছিল। বিদেশি সেই মহিলা গোগোলকে আদর করতে গিয়ে কেঁদেই ফেললেন, আর কী সব বলতে লাগলেন, গোগোল কিছুই বুঝতে পারল না। ভদ্রলোক হোটেলের ম্যানেজারকে কী জিজ্ঞেস করলেন। তিনি গোগোলের বাবা-মা’কে দেখিয়ে দিলেন। ভদ্রলোক গোগোলের বাবা-মায়ের হাত ধরে তাঁর ভাষায় অনেক কিছু বলতে লাগলেন।

সকলের চোখের দিকে তাকিয়ে গোগোলের ভীষণ লজ্জা করছিল। প্রায় সকলেই তার দিকে তাকিয়ে হাসছিলেন, আর প্রত্যেকেই ওর গাল টিপে, মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করছিলেন।

পুলিশ অফিসার তখন চোরটাকে চালান করে দিয়ে গোগোলের কাছে এসে হাত বাড়িয়ে বললেন, ‘আওয়ার গ্রেট হিরো, তুমি আমাদের মান রক্ষা করেছ।” বলে গোগোলকে একেবারে ঘাড়ে তুলে নিলেন।

সবাই হাততালি দিয়ে উঠলেন। গোগোলের অবিশ্যি খুব লজ্জা করছিল।

১৩৮৫
সকল অধ্যায়
১.
প্রোফেসর হিজিবিজ্‌বিজ্
২.
বাহাদুর
৩.
কুমির
৪.
ননীদা
৫.
হর্ষবর্ধনের ভাগনে ভাগ্য
৬.
কর্ভাস
৭.
বেণী লস্করের মুণ্ডু
৮.
টুম্পুর গল্প
৯.
বারীন ভৌমিকের ব্যারাম
১০.
বীর হওয়ার বিড়ম্বনা
১১.
নন্দগুপি
১২.
পালোয়ান ভূত
১৩.
হিসাব
১৪.
গান
১৫.
জ্যান্ত খেলনা
১৬.
মুড়ি
১৭.
কর্নেল মিত্র
১৮.
গুল-ই ঘনাদা
১৯.
ভয়ঙ্কর মুখোশ
২০.
দিনে ডাকাতি
২১.
গন্ধটা খুব সন্দেহজনক
২২.
মেজকর্তার খেরোখাতা
২৩.
গোয়েন্দা বরদাচরণ
২৪.
সাধু কালাচাঁদের ফলাও কারবার
২৫.
একটি ভুতুড়ে ঘড়ি
২৬.
বুনো হাতির বন্ধুত্ব
২৭.
গোয়ায় গোগোলের প্রথম কীর্তি
২৮.
ইঁদারায় গণ্ডগোল
২৯.
চোর সাধু
৩০.
টোরি জঙ্গলের ভক্ত-বাঘ
৩১.
জোনাকি-ভূতের বাড়ি
৩২.
বনবিড়াল
৩৩.
ভয় ও ভূত
৩৪.
সুপারমেন
৩৫.
রাত যখন বারোটা
৩৬.
প্রেতাত্মার উপত্যকা
৩৭.
আলুর চপ
৩৮.
হাবুলমামার ভূতের ব্যবসা এবং…
৩৯.
অশোকের কাণ্ড
৪০.
হারাধন
৪১.
হয়তো এইরকমই
৪২.
মহারাজা তারিণীখুড়ো
৪৩.
খুড়ো-ভাইপো
৪৪.
সহযাত্রী
৪৫.
দারিৎসু
৪৬.
চার বুড়োর আড্ডা
৪৭.
রামপলের অন্তর্ধান রহস্য
৪৮.
দেয়ালা
৪৯.
শুভ জন্মদিন
৫০.
ইন্দ্রনাথ সামন্তের বাড়ি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%