অবসাদ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দয়াময়ি, বাণি, বীণাপাণি,
জাগাও — জাগাও, দেবি, উঠাও আমারে দীন হীন।
ঢালো এ হৃদয়মাঝে জ্বলন্ত অনলময় বল।
দিনে দিনে অবসাদে হইতেছি অবশ মলিন;
নির্জীব এ হৃদয়ের দাঁড়াবার নাই যেন বল।
নিদাঘ-তপন-শুষ্ক ম্রিয়মাণ লতার মতন
ক্রমে অবসন্ন হয়ে পড়িতেছি ভূমিতে লুটায়ে,
চারিদিকে চেয়ে দেখি শ্রান্ত আঁখি করি উন্মীলন —
বন্ধুহীন-প্রাণহীন-জনহীন মরু মরু মরু —
আঁধার — আঁধার সব — নাই জল নাই তৃণ তরু,
নির্জীব হৃদয় মোর ভূমিতলে পড়িছে লুটায়ে;
এসো দেবি, এসো, মোরে
রাখো এ মূর্ছার ঘোরে;
বলহীন হৃদয়েরে দাও দেবি, দাও গো উঠায়ে।
দাও দেবি সে ক্ষমতা, ওগো দেবি, শিখাও সে মায়া —
যাহাতে জ্বলন্ত, দগ্ধ, নিরানন্দ মরুমাঝে থাকি
হৃদয় উপরে পড়ে স্বরগের নন্দনের ছায়া —
শুনি সুহৃদের স্বর থাকিলেও বিজনে একাকী।
দাও দেবি সে ক্ষমতা, যাহে এই নীরব শ্মশানে,
হৃদয়-প্রমোদ-বনে বাজে সদা আনন্দের গীত।
মুমূর্ষু মনের ভার —
পারি না বহিতে আর —
হইতেছি অবসন্ন — বলহীন — চেতনা-রহিত —
অজ্ঞাত পৃথিবী-তলে — অকর্মণ্য-অনাথ-অজ্ঞান —
উঠাও উঠাও মোরে — করহ নূতন প্রাণ দান।
পৃথিবীর কর্মক্ষেত্রে যুঝিব — যুঝিব দিবারাত —
কালের প্রস্তরপটে লিখিব অক্ষয় নিজ নাম।
অবশ নিদ্রায় পড়ি করিব না এ শরীর পাত,
মানুষ জন্মেছি যবে করিব কর্মের অনুষ্ঠান।
দুর্গম উন্নতিপথে পৃথ্বীতরে গঠিব সোপান,
তাই বলি দেবি —
সংসারের ভগ্নোদ্যম, অবসন্ন, দুর্বল পথিকে
করো গো জীবন দান তোমার ও অমৃত-নিষেকে।

বালক, চৈত্র, ১২৯২

সকল অধ্যায়
১.
অভিলাষ
২.
হোক্‌ ভারতের জয়!
৩.
হিন্দুমেলায় উপহার
৪.
প্রকৃতির খেদ – প্রথম পাঠ
৫.
প্রকৃতির খেদ – দ্বিতীয় পাঠ
৬.
জ্বল্‌ জ্বল্‌ চিতা! দ্বিগুণ, দ্বিগুণ
৭.
প্রলাপ ১
৮.
প্রলাপ ২
৯.
প্রলাপ ৩
১০.
ভারতী
১১.
দিল্লি দরবার
১২.
হিমালয়
১৩.
আগমনী
১৪.
আকুল আহ্বান
১৫.
অবসাদ
১৬.
মেঘ্‌লা শ্রাবণের বাদ্‌লা রাতি
১৭.
হা বিধাতা — ছেলেবেলা হতেই এমন
১৮.
শারদা
১৯.
এসো আজি সখা
২০.
পার কি বলিতে কেহ
২১.
ছেলেবেলাকার আহা, ঘুমঘোরে দেখেছিনু
২২.
আমার এ মনোজ্বালা
২৩.
উপহার-গীতি
২৪.
পাষাণ-হৃদয়ে কেন সঁপিনু হৃদয়
২৫.
ভেবেছি কাহারো সাথে
২৬.
হা রে বিধি কী দারুণ অদৃষ্ট আমার
২৭.
ও কথা বোলো না সখি
২৮.
কী হবে বলো গো সখি
২৯.
এ হতভাগারে ভালো কে বাসিতে চায়
৩০.
জানি সখা অভাগীরে ভালো তুমি বাস না

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%