গল্প শোনে গোপাল

সন্ধ্যার আকাশে উঠেছে চাঁদ। মা যশোদা দধি মন্থন করছেন। এমন সময় গোপাল চুপি চুপি এসে পিছন দিক থেকে মায়ের চুলের গোছা টেনে ধরে।—’আরে ও লালা ছাড় ছাড়, মাথায় লাগছে’। মা ঘুরে গোপালকে ধরতে যান গোপাল অন্যদিকে সরে মায়ের চুল টানতেই থাকে। তখন মা পিছু ঘুরে গোপালকে চেপে ধরে কোলে তুলে নেন। গোপালের মুখ চুমোয় চুমোয় ভরে দিয়ে মা জিজ্ঞাসা করেন—কিরে লালা মাখন খাবি?

গোপাল বলে, ‘না’।

—তবে তোর কি চাই? হাতী না ঘোড়া?

গোপাল আকাশের দিকে আঙুল তুলে বলে, ‘মা আমি ঐ চাঁদ-খেলনাটা নেব।

যশোদা বলেন, বেটা ওটা খেলনা নয়।

—ওটা তবে কি মা?

—মাখনের ডেলা। ওটা খাওয়ার জিনিস, খেলনা নয়।

—মা, আমি তাহলে ঐ মাখনের ডেলাটাই খাবো—অন্য খাবার আজ খাবো না। গোপাল কাঁদতে শুরু করে। মায়ের কাপড়ের আঁচল ধরে টানে, কখনও বা চুল ধরে টানে, কখনও কচি কচি দুটি হাত দিয়ে মায়ের মুখটি চেপে ধরে। মা বলেন—ছাড় ছাড় গোপাল।

গোপাল বলে, ‘মা আমি ওটাই খাবো।’ মা বলেন,—ঐ মাখনটাই খাবি?’

—তুমি আমাকে মিছে কথা বলেছো ওটা মাখন নয়।

—নারে বেটা ওটা মাখনের ডেলা।

—আচ্ছা মা, কত গাই দুধ দিয়েছে তবে ঐ মাখনের ডেলাটা হয়েছে?

—বেটা গাইয়ের দুধে এ মাখনের ডেলাটা তৈরী হয় নাই।

—তবে কি করে ঐটা মাখনের ডেলা হল?

—ভগবানের যে ক্ষীরসাগর আছে সেই ক্ষীরসাগর থেকে এই মাখনটা তৈরী হয়েছে।

—আচ্ছা মা, দুধের বুঝি সমুদ্র হয়?

—হ্যাঁ বেটা দুধের সমুদ্র হয়।

—আচ্ছা মা, কততো গাই দুধ দিলে তবে দুধের সমুদ্র হয়?

—গাইয়ের দুধে এ সমুদ্র হয় না বাবা। যে ভগবান গাই-এর স্তনে দুধ দিয়েছেন সেই ভগবানই এই ক্ষীর সমুদ্র বা দুধের সমুদ্র তৈরী করেছেন।

—তাহলে তো মা ঐ মাখনটা খেতে খুব মিষ্টি হবে? মা আমি ওটাই খাবো—আমাকে তাড়াতাড়ি ওটা আকাশ থেকে নামিয়ে এনে খাইয়ে দাও।

—না বাবা, ওটা খেতে নেই।

—কেন কেন মা?

—দেখছ না ওই মাখনের ডেলাটার গায়ে কেমন কালো কালো দাগ।

—হ্যাঁ মা—কালো কালো দাগ দেখা যাচ্ছে—ঐ গুলো কি মা?

—ওগুলো বিষের দাগ বাবা। ঐ মাখনের ডেলাটার সারা গায়ে বিষের কালো কালো দাগ লেগে আছে-ও মাখন খেতে নেই। ও মাখন কেউ খায় না তুমিও খেতে চেয়ো না, কেমন?

—মা ঐ মাখনের ডেলাটা তো আকাশে গায়ে লেগে আছে, ওতে বিষ কে লাগাল মা।

বাবা শোন তবে সে এক গল্পকথা। আমি যেমন দধিমন্থন করে ননী বের করি। তেমনি একবার দেবতা ও অসুরেরা মিলে সমুদ্র মন্থন করে সেই মন্থন থেকে বিষ বেরিয়ে আসে।

—তারপর?

মা গোপালকে সমুদ্র মন্থনের কাহিনী শোনাতে থাকেন। গোপাল সে কাহিনী শুনতে শুনতে মায়ের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে।

সকল অধ্যায়
১.
যুদ্ধের অবসরে
২.
ইন্দ্র ও শ্রীকৃষ্ণ
৩.
যুধিষ্ঠির ও শ্রীকৃষ্ণ
৪.
শান্তির দূত শ্রীকৃষ্ণ
৫.
বহুরূপে বহুরূপী তুমি
৬.
মুক্তি কাঁদে বৃন্দাবনে
৭.
যশোদার ভাবনা
৮.
ঘোড়া ঘোড়া খেলা
৯.
গল্প শোনে গোপাল
১০.
কৃষ্ণরূপে শুধুই নিমন্ত্রণ
১১.
ননীচোর কানাই
১২.
বাকপটু কানহাইয়া
১৩.
রসিক কানাই
১৪.
সবার অলক্ষ্যে
১৫.
গোঠের মাঠে একঝলক
১৬.
শ্রীকৃষ্ণ ও দেবাঙ্গনা
১৭.
পঞ্চ আশ্চর্য্য
১৮.
একটি রাতের কথা
১৯.
বোনের দাদা—দাদার ভাই
২০.
মুক্তি
২১.
কৃষ্ণ ও বিদুর পত্নী
২২.
রক্ষা বন্ধন
২৩.
গুরু দিলেন বর
২৪.
ভাই-বোনের লড়াই
২৫.
দ্বারকায় প্রার্থী অশ্বত্থামা
২৬.
কৃষ্ণের অতিথি সৎকার
২৭.
কৃষ্ণের অতিথি সৎকার
২৮.
সূচীশিল্পী গুণক ও কৃষ্ণ
২৯.
সুদামা মালী
৩০.
অভিন্ন সখা কৃষ্ণ
৩১.
ন পারয়েহং
৩২.
সব বোধের অবোধ লীলা
৩৩.
বৃন্দাবনের ধূলিতে কুম্ভস্নান
৩৪.
ঘরে বাইরে লুকোচুরি
৩৫.
প্রতীক্ষায় কাঁদে জননী
৩৬.
সুলভার বেদনা
৩৭.
যাজ্ঞসেনী প্রসঙ্গে
৩৮.
সত্যাশ্রয়ী শ্রীকৃষ্ণ
৩৯.
ননীচুরির সূচনা
৪০.
যদি ব্রজে যাও, অভিমান শূন্য হও
৪১.
নামের বাঁধনে বাঁধা ভগবান
৪২.
প্রথম গো-দোহন
৪৩.
রাখাল রাজা
৪৪.
অভিনব মুক্তালীলা
৪৫.
কৃষ্ণের বাঁধন
৪৬.
তপস্বী কৃষ্ণ
৪৭.
দর্পচূর্ণ
৪৮.
প্রেমের আদর্শ গোপী
৪৯.
বউ নিয়ে খেলে গোপাল
৫০.
বাৎসল্যপ্রীতির বন্ধনে
৫১.
মহাভারতের মহাযুদ্ধের আগে
৫২.
রাতের অরণ্যে
৫৩.
রোহিণী মায়ের সাথে
৫৪.
ভীম, কৃষ্ণ ও কৃষ্ণমায়া
৫৫.
বিরাট রাজার অন্তঃপুরে
৫৬.
যশোদার অঙ্গনে
৫৭.
জগৎ চায় কৃষ্ণকৃপা, কৃষ্ণ চান…
৫৮.
গিরিরাজের পদপ্রান্তে
৫৯.
”দ্বা সুপর্ণা সযুজা সখায়া সমানং বৃক্ষং…”
৬০.
জগতে দুঃখ কেন?
৬১.
ব্রজের ব্রজনাথ, পুরীধামে জগন্নাথ
৬২.
বাঁশীর সুরে অশ্রু ঝরে
৬৩.
বিচিত্র বরদান

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%