ঘোড়া ঘোড়া খেলা

ঘোড়া ঘোড়া খেলা

মা যশোদা উনুনে দুধ জ্বাল দিচ্ছিলেন—দুধ ঘন হতেই উনুন থেকে দুধ নামিয়ে তাতে মিছরী চূর্ণ করে মিশিয়ে দিলেন। গঙ্গী নামে এক গাভীর দুধ গোপাল খেতে খুব ভালোবাসে। তাই মা সকাল হতেই স্নান করে শুভ্র রেশমী বস্ত্র পরে গঙ্গী-গাভীর দুধ জ্বাল দিয়ে তাতে মিছরী মিশিয়ে তা ঠাণ্ডা করার জন্য একটি শীতল জলের পাত্রে দুধভর্তি বাটিটা ডুবিয়ে রেখে গোপালকে ডাকছেন, গোপাল আয় বাবা দুধটুকু খেয়ে যা।

গোপাল খেলায় মত্ত সাথীদের সঙ্গে। মায়ের কথা কানে তোলেই না। গোপালের অগ্রজ বলরামের মা রোহিনী এবং অন্যান্য গোপীরা গোপাল ও তার সঙ্গীদের খেলা দেখছেন—তাদের নানারকম রঙ্গে গোপীরাও বিভোর—আনন্দরসে অবগাহন করছেন।

গোপাল কখনও ঘোড়া ঘোড়া খেলছে। সখারা কেউ ঘোড়া সেজে হামাগুড়ি দিয়ে চলছে—আর গোপাল তার পিঠে চড়ে বলছে, ‘এই ঘোড়া চল চল আরও জোরে চল।’ তার ছোট্ট মুঠিকে চাবুক করে মৃদু মৃদু আঘাত করছে—কখনও বা গোপাল ঘোড়া সেজে সখাদের পিঠে চাপিয়ে নিয়ে উঠোন জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে—তা দেখে ব্রজগোপীরা হেসে লুটিয়ে পড়ছে। কখনও বা সখাদের পিঠে করে চাপিয়ে নিয়ে যেতে যেতে গোপাল হুমড়ি খেয়ে পড়ে গিয়ে ধুলোয় লুটোপুটি খাচ্ছে—তা দেখে সখারা সব বলছে ঘোড়া ভালো নয়। ঘোড়া খোঁড়া হয়ে পড়ে আছে। এমন সময় মা যশোদা সেখানে উপস্থিত হয়ে ধূলা ঝেড়ে গোপালকে কোলে নিয়ে বলছেন, ‘বাবা গোপাল, তোমার দাদা বলরাম তার সাথীদের সঙ্গে যমুনার তীরে খেলতে গেছে-এখুনি এসে পড়বে। তোমার জন্য যে গঙ্গী গাভীর দুধ জ্বাল দিয়ে রেখেছি—তা দাদা এসে খেয়ে নেবে। তাই বলছি দাদা আসার আগে তুমি দুধটুকু খেয়ে নেবে চল। তারপর এসে বন্ধুদের সাথে খেলবে, কেমন?’

গোপাল বলে, ‘এখন আমি দুধ খাবো না। আমার এখন দুধ-খিদে পায়নি। এখন আমার খেলা-খিদে পেয়েছে—এখন শুধুই খেলবো।’

—বেটা গোপাল শোন, দুধ খেলে তোমার গায়ে শক্তি হবে। তোমার রঙ তো কালো—দুধ খেলে ফর্সা হয়ে যাবে।

—আর কি হবে মা?

—তোমার মাথার চুলগুলো তো খুব ছোট, দুধ খেলে তোমার চুলগুলো সব বড় হয়ে যাবে। চল দুধটুকু খেয়ে নেবে চল। গোপাল মা যশোদার কথায় ভুলে মায়ের কোলে চেপে দুধ খেতে যায়।

মা গোপালকে দুধ খাওয়ায়। গোপাল এক ঢোঁক করে দুধ খায় আর দেখে তার গায়ের রঙ দাদার মতো গৌরবর্ণ হয়েছে কিনা—আবার এক ঢোঁক খায় আর দেখে মাথার চুল বাড়ছে কিনা—দু-এক ঢোঁক খেয়ে গোপাল মায়ের চালাকি বুঝতে পেরে মায়ের কোল থেকে সহসা লাফিয়ে পড়ে এক দৌড়ে সখাদের কাছে গিয়ে বলে, ”নে শুরু কর—ঘোড়া ঘোড়া খেলা।”

সকল অধ্যায়
১.
যুদ্ধের অবসরে
২.
ইন্দ্র ও শ্রীকৃষ্ণ
৩.
যুধিষ্ঠির ও শ্রীকৃষ্ণ
৪.
শান্তির দূত শ্রীকৃষ্ণ
৫.
বহুরূপে বহুরূপী তুমি
৬.
মুক্তি কাঁদে বৃন্দাবনে
৭.
যশোদার ভাবনা
৮.
ঘোড়া ঘোড়া খেলা
৯.
গল্প শোনে গোপাল
১০.
কৃষ্ণরূপে শুধুই নিমন্ত্রণ
১১.
ননীচোর কানাই
১২.
বাকপটু কানহাইয়া
১৩.
রসিক কানাই
১৪.
সবার অলক্ষ্যে
১৫.
গোঠের মাঠে একঝলক
১৬.
শ্রীকৃষ্ণ ও দেবাঙ্গনা
১৭.
পঞ্চ আশ্চর্য্য
১৮.
একটি রাতের কথা
১৯.
বোনের দাদা—দাদার ভাই
২০.
মুক্তি
২১.
কৃষ্ণ ও বিদুর পত্নী
২২.
রক্ষা বন্ধন
২৩.
গুরু দিলেন বর
২৪.
ভাই-বোনের লড়াই
২৫.
দ্বারকায় প্রার্থী অশ্বত্থামা
২৬.
কৃষ্ণের অতিথি সৎকার
২৭.
কৃষ্ণের অতিথি সৎকার
২৮.
সূচীশিল্পী গুণক ও কৃষ্ণ
২৯.
সুদামা মালী
৩০.
অভিন্ন সখা কৃষ্ণ
৩১.
ন পারয়েহং
৩২.
সব বোধের অবোধ লীলা
৩৩.
বৃন্দাবনের ধূলিতে কুম্ভস্নান
৩৪.
ঘরে বাইরে লুকোচুরি
৩৫.
প্রতীক্ষায় কাঁদে জননী
৩৬.
সুলভার বেদনা
৩৭.
যাজ্ঞসেনী প্রসঙ্গে
৩৮.
সত্যাশ্রয়ী শ্রীকৃষ্ণ
৩৯.
ননীচুরির সূচনা
৪০.
যদি ব্রজে যাও, অভিমান শূন্য হও
৪১.
নামের বাঁধনে বাঁধা ভগবান
৪২.
প্রথম গো-দোহন
৪৩.
রাখাল রাজা
৪৪.
অভিনব মুক্তালীলা
৪৫.
কৃষ্ণের বাঁধন
৪৬.
তপস্বী কৃষ্ণ
৪৭.
দর্পচূর্ণ
৪৮.
প্রেমের আদর্শ গোপী
৪৯.
বউ নিয়ে খেলে গোপাল
৫০.
বাৎসল্যপ্রীতির বন্ধনে
৫১.
মহাভারতের মহাযুদ্ধের আগে
৫২.
রাতের অরণ্যে
৫৩.
রোহিণী মায়ের সাথে
৫৪.
ভীম, কৃষ্ণ ও কৃষ্ণমায়া
৫৫.
বিরাট রাজার অন্তঃপুরে
৫৬.
যশোদার অঙ্গনে
৫৭.
জগৎ চায় কৃষ্ণকৃপা, কৃষ্ণ চান…
৫৮.
গিরিরাজের পদপ্রান্তে
৫৯.
”দ্বা সুপর্ণা সযুজা সখায়া সমানং বৃক্ষং…”
৬০.
জগতে দুঃখ কেন?
৬১.
ব্রজের ব্রজনাথ, পুরীধামে জগন্নাথ
৬২.
বাঁশীর সুরে অশ্রু ঝরে
৬৩.
বিচিত্র বরদান

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%