বিজ্ঞানী – জিরাল্ড অ্যাটকিন্স

রণেন ঘোষ

আমারই সৃষ্টিতে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় আমার স্নায়ুবৈকল্য ঘটেছে। বিশ্বাস করুন একটুও বাড়িয়ে বলছি না… অবিশ্বাস্য হলেও এর চেয়ে নির্মম সত্য বোধহয় আর কিছু নেই। আমি অবশ্য মানুষের মানসিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার কার্যকারণ কিছুই জানি না… আর জানি না বলেই আমার অবস্থার জন্যে কাকে দায়ী করব বুঝতে পারছি না… এর জন্যে কি অত্যধিক শারীরিক, মানসিক চাপ দায়ী নয়?… ধীরে ধীরে মানসিক বৈকল্যের শিকার হচ্ছি, যার নির্ভেজাল অর্থ হল, আমি উন্মাদ হওয়ার পথে। তা নয়ত অহোরাত্রি বিবেকের দংশনে জ্বলছি কেন? সুজলা সুফলা প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা পৃথিবীর বুকে ধ্বংসের দামামা কেন। বাজিয়েছিলাম? কোন শত্রুতার বশে! আমি পৃথিবীর বুক থেকে প্রাণের অস্তিত্ব মুছে দেবার মারণযজ্ঞে মেতে উঠলাম। না না… আজ আমাকে অকপটে স্বীকার করতেই হবে… বলতে হবে আমার সকল কীর্তিকলাপ… তারপর সার্বিক ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে আপনারাই আমার বিচার করুন যে, আমি উন্মাদ না নিরপরাধ। বিচার করুন আমার কৃতকর্মের, যার ফলে পৃথিবীর বুকে ধ্বংসের বীজ বোনা হয়ে গেছে আর… আর যার ওপরে আমার কেন, কারোরই কোনও নিয়ন্ত্রণ খাটবে না।

আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না যে, আপনাদের জীবন এখন এক গভীর সঙ্কটের মুখে। শুধুই কি সঙ্কট? না না… অবশ্যম্ভাবী ধ্বংসের মুখে। বিশ্বাস করুন মৃত্যু আপনাদের অবধারিত… ইতোমধ্যে অনেকেই হয়তো মৃত্যুবরণ করেছেন… কী সে ভয়ঙ্কর মৃত্যুযন্ত্রণা… উঃ, ওর চেয়ে প্রকৃত মৃত্যু যেন ভগবানের পরম আশীর্বাদ বলে মনে হবে। আমি স্বীকার করছি ক্ষমার অযোগ্য এক ঘৃণ্য অপরাধে আমি অপরাধী। অথচ প্রথম প্রথম অন্য এক ধরনের এক্সপেরিমেন্টের মতোই মনে হয়েছিল। অসংখ্য গবেষণাগারে প্রতিনিয়ত যে এক্সপেরিমেন্ট হয়ে থাকে ঠিক সেইরকম। ভগবান আমাকে ক্ষমা করবেন কিনা জানি না; বিশ্বাস করুন আমি কিন্তু এক সময়ে এই সব পরীক্ষা ছেড়ে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। ভীষণ বিরক্তিকর বলে মনে হয়েছিল… অথচ সেই সময়ে অন্যরা কিন্তু যথারীতি এক্সপেরিমেন্ট চালিয়ে গিয়েছিল। সেই সময়ে প্রতিদিনের প্রতিটি ঘণ্টা যেন অনন্তকাল বলে মনে হয়েছিল… মনে হয়েছিল কবে এর থেকে মুক্তি পাব! কিন্তু একদিন কী যেন সব হয়ে গেল… হঠাৎ মনে হল এক অসীম শক্তি আমার মুঠোর মধ্যে… মনে হল আমার সমকক্ষ আর কেউ নয়… পরম শক্তিমান আমি। আমার সাফল্য আমার অহংবোধকে সহস্রগুণ বাড়িয়ে দিল… মোহগ্রস্ত নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লাম। আমার জীবনের আশা আকাঙ্ক্ষা সুখ স্বাচ্ছন্দ্য সবই তখন করায়ত্ত শক্তির মোহে আচ্ছন্ন। আমার আত্মা, আমার বিবেকও বুঝি সেই রসে মজে গিয়েছিল। কী ভয়ঙ্কর সেই জ্ঞান… ভয়াবহ তার ফলশ্রুতি! প্রতিদিনই নতুন নতুন বিভীষিকার শিকার হল বহু মানুষ। আর ততই আমার জেদ চেপে গেল… শক্তির শেষ রহস্য আমাকে জানতেই হবে…আর তখনই সম্পূর্ণ শক্তি আমার আজ্ঞাবহ হয়ে উঠবে। প্রতিদিন বিভীষিকার মাত্রা বাড়তে থাকল। আজকের বিভীষিকা যেন আগামীকালের বিভীষিকার তুলনায় নেহাৎই শিশু। মনে হল… না থাক… হে করুণাময় ঈশ্বর তুমি আমাকে মার্জনা করো… দিনে দিনে আমার আবিষ্কৃত শক্তি আরও দুর্জয় আরও বীভৎস হয়ে দেখা দিল। গবেষণাগারে পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিদিনই আমি উল্লসিত হয়ে উঠতাম। কেবলই সাফল্য আর সাফল্য… অর্থাৎ ধ্বংসের নব নব মাত্রা বৃদ্ধি। প্রাণস্পন্দনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে আমি অবৈধ হস্তক্ষেপ করে ফেলেছি। জঘন্য কাজে আমি হাত দিয়ে ফেলেছিলাম আর সেই কাজে আমার সাফল্য এসেছে। ঈশ্বরের সমতুল্য হিসাবে নিজেকে গণ্য করেছিলাম। ক্রমাগত সাফল্য আমাকে উন্মাদ করে তুলেছিল। মনে হয়েছিল ঈশ্বরের জীবন সৃষ্টি করার ক্ষমতা আছে… আর আমার ওপরে অভিশাপ রয়েছে যে, আমার দ্বারাই ঈশ্বরের সৃষ্টি ধ্বংস হবে। বিশ্বাস করুন আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারিনি… অহোরাত্রি আমি নরকযন্ত্রণা ভোগ করছি। ও আমার সাফল্যের জন্যে আমার আত্মা নরকগামী হবে। কিন্তু হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর… অপরাধ স্বীকার করলে কি আমার মুক্তি হবে?… বলো বলো ঈশ্বর… কিন্তু আমি তো জানি আজ তো কোনও কিছুতেই ধ্বংসের তাণ্ডবলীলা সংবরণ করা যাবে না… এই অপরাধবোধ যদি একটু আগে জাগত… একটু আগে যদি আমার বিবেক আমাকে সাবধান করে দিত। কিন্তু আজ আর এ সব ভেবে লাভ নেই। আমার ওপরওয়ালারা আমার পিঠ চাপড়ে বলেছিল এক যুগান্তকারী কাজ করেছি আমি। হ্যাঁ, যুগান্তকারীই বটে! আরও বলেছিল ধ্বংসের এই চূড়ান্ত অস্ত্র আবিষ্কারের কথা জাতি কোনওদিনই ভুলবে না… ভুলতে চেষ্টা করলেও ভুলতে পারবে না। অবশ্য মনে রাখা বা ভোলার মতো তখন কোনও জীবনের রেশ থাকবে না পৃথিবীর বুকে। জানি ঈশ্বরের ক্ষমা। আমি কোনওদিনই পাব না… আর আপনারাও কোনওদিনই ক্ষমা করতে পারবেন না… কারণ সভ্যতার ধ্বংস্কৃপের মধ্যে প্রাণের শেষ বিন্দুও যে ধীরে ধীরে নিভে যাবে পৃথিবীর বুক থেকে। সমস্বরে আপনারা তখন চিৎকার করে অভিশাপ দিয়ে বলবেন… নরকেও তোর স্থান হবে না! ঠিকই তো আমি তো মনুষ্যরূপী এক ভয়ঙ্কর দানব… আমিই তো প্রকৃতির অন্তর্নিহিত প্রলয়ঙ্করী শক্তিকে জাগিয়ে তুলেছি। আমিই তো সেই মানুষ যে আণবিক বোমার জন্ম দিয়েছি। বিশ্বাস করুন… দোহাই আপনাদের… আমার কথাগুলো মন দিয়ে শুনুন আপনারা…

সকল অধ্যায়
১.
রাখে হরি মারে কে – আইজাক আসিমভ
২.
ভবিষ্যৎ – ডব্লিউ হিল্টন ইয়ং
৩.
মানুষ এক ভিন্ন জীব – এলান ব্লচ
৪.
গণিতজ্ঞ – আর্থার ফেল্ডম্যান
৫.
ব্যাবসা – ম্যাক রেনল্ড
৬.
চিড়িয়াখানা – এডোয়ার্ড ডি. হচ
৭.
ডক্টর – হেনরি সেলসার
৮.
অভিজ্ঞ – রবার্ট টি, কুরোসাকা
৯.
আবিষ্কার – জর্জ আর আর. মার্টিন
১০.
দেশপ্রেমিক – অ্যামব্রোস বিয়ার্স
১১.
বাছাই – হেনরি সেলসার
১২.
বিষের পেয়ালা – লি. কিলাও
১৩.
শিকারিরা – ওয়াল্ট সেন্ডন
১৪.
ক্রিকেট বল – অ্যাভ্রো ম্যানহাটান
১৫.
অ্যাপয়েন্টমেন্ট – এরিক ফ্র্যাঙ্ক রাসল
১৬.
রমণী – রবার্ট শেকলে
১৭.
পুনরুজ্জীবন – ডান্নি প্লাচটা
১৮.
অস্ত্র – ফ্রেডরিক ব্রাউন
১৯.
বিজ্ঞানী – জিরাল্ড অ্যাটকিন্স
২০.
ব্যবসায়ী – হেনরি সেলসার
২১.
জেদি – স্টিফেন গোল্ডিন
২২.
ওঁ – মার্টিন গার্ডনার
২৩.
কে ভালো – রে রাসেল
২৪.
চুলকানি দিয়ে শুরু – রবার্ট শেকলে
২৫.
নিয়ম – বেন বোভা
২৬.
প্রাগৈতিহাসিক এক ভোরের গল্প – জন, পি. ম্যাকনাইট
২৭.
কিউব রহস্য – নেলসন বন্ড
২৮.
অমনোনীত – কে. ডব্লিউ. ম্যাকান
২৯.
এমন যদি হত – র‍্যালফ মিলনে ফারলে
৩০.
হারানো সেই দিনের কথা – আইজাক আসিমভ
৩১.
উত্তর – ফ্রেডরিক ব্রাউন
৩২.
মানুষ ক্রীতদাস হবে – সিদ্ধার্থ নারলেকার
৩৩.
প্রহরী – লরেন্স এস. জ্যানিফার
৩৪.
একটি মর্মান্তিক মৃত্যু – সমরজিৎ কর
৩৫.
আমি কে – অমিতানন্দ দাস
৩৬.
এস্প – এইচ. জি. ওয়েলস
৩৭.
নেপথ্যে – আর্থার সি. ক্লার্ক
৩৮.
কিন্ডারগার্টেন – জেমস-ই-গান
৩৯.
অমৃত – আর্থার সি. ক্লার্ক
৪০.
পলাতক তুফান – জগদীশচন্দ্র বসু
৪১.
টেলিপ্যাথদের জন্য সায়েন্স ফিকশন – ই. মাইকেল ব্লেক

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%