যতিহীন

জীবনানন্দ দাশ

বিবেলবেলা গড়িয়ে গেলে অনেক মেঘের ভিড়
কয়েক ফলা দীর্ঘতম সূর্যকিরণ বুকে
জাগিয়ে তুলে হলুদ নীল কমলা রঙের আলোয়
জ্বলে উঠে ঝরে গেল অন্ধকারের মুখে।
যুবারা সব যে যার ঢেউয়ে–
মেয়েরা সব যে যার প্রিয়ের সাথে
কোথায় আছে জানি না তো;
কোথায় সমাজ অর্থনীতি?–স্বর্গগামী সিড়ি
ভেঙে গিয়ে পায়ের নিচে রক্তনদীর মতো–
মানব ক্রমপরিণতির পথে লিঙ্গশরীরী
হয়ে কি আজ চারি দিকে গণনাহীন ধুসর দেয়ালে
ছড়িয়ে আছে যে যার দ্বৈপসাগর দখল ক’রে!
পুরাণপূরুষ, গণমানুষ, নারীপুরুষ, মানবতা, অসংখ্য বিপ্লব
অর্থবিহীন হয়ে গেলে–তবু আরেক নবীনতর ভোরে
সার্থকতা পাওয়া যাবে ভেবে মানুষ সঞ্চারিত হয়ে
পথে পথে সবের শুভ নিকেতনের সমাজ বানিয়ে
তবুও কেবল দ্বীপ বানাল যে যার নিজের অবক্ষয়ের জলে।
প্রাচীন কথা নতুন ক’রে এই পৃথিবীর অনন্ত বোনভায়ে
ভাবছে একা একা ব’সে
যুদ্ধ রক্ত রিরংসা ভয় কলরোলের ফাঁকে:
আমাদের এই আকাশ সাগর আঁধার আলোয় আজ
যে দোর কঠিন; নেই মনে হয়–সে দ্বার খুলে দিয়ে
যেতে হবে আবার আলোয় অসার আলোর ব্যসন ছাড়িয়ে।

সকল অধ্যায়
১.
আমাকে একটি কথা দাও
২.
তোমাকে
৩.
মাঘসংক্রান্তির রাতে
৪.
সময়সেতুপথে
৫.
যতিহীন
৬.
অনেক নদীর জল
৭.
শতাব্দী
৮.
সূর্য নক্ষত্র নারী
৯.
চারিদিকে প্রকৃতির
১০.
মহিলা
১১.
সামান্য মানুষ
১২.
প্রিয়দের প্রাণে
১৩.
তার স্থির প্রেমিকের নিকট
১৪.
অবরোধ
১৫.
পৃথিবীর রৌদ্রে
১৬.
সূর্য রাত্রি নক্ষত্র
১৭.
জয়জয়ন্তী সূর্য
১৮.
প্রয়াণপটভূমি
১৯.
হেমন্তের রাতে
২০.
নারীসবিতা
২১.
উত্তরসাময়িকী
২২.
বিস্ময়
২৩.
ইতিহাসযান
২৪.
মৃত্যু স্বপ্ন সংকল্প
২৫.
পৃথিবী সূর্যকে ঘিরে
২৬.
পটভূমির
২৭.
অন্ধকার থেকে
২৮.
একটি কবিতা
২৯.
সারাৎসার
৩০.
সময়ের তীরে
৩১.
যতদিন পৃথিবীতে
৩২.
মহাত্মা গান্ধী
৩৩.
যদিও দিন
৩৪.
দেশ কাল সন্ততি
৩৫.
মহাগোধূলি
৩৬.
মানুষ যা চেয়েছিল
৩৭.
আজকে রাতে
৩৮.
হে হৃদয়
৩৯.
গভীর এরিয়েলে

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%