অভিরূপ সরকার
বালুরঘাট-শিলিগুড়ি ইন্টারসিটি ছাড়ে দুপুর একটায়৷ সেটা ধরতে পারলে সন্ধে আটটার মধ্যে শিলিগুড়ি পৌঁছে যাওয়া যেত৷ কিন্তু একটার মধ্যে মল্লিকার কাজ শেষ হবার কোনও সম্ভাবনাই ছিল না৷ তাই ইন্টারসিটি বাদ৷ অন্য ট্রেন ধরলে মালদায় বদল করে যেতে হবে৷ সময় লেগে যাবে অনেক বেশি৷ তার থেকে বাসে যাওয়া ভাল৷ আজকাল অনেক আধুনিক বাস সার্ভিস হয়েছে৷ ভোলভো বাস, এসি৷ এই বৈশাখ মাসের গরমে সেটাই ভাল হবে৷ মল্লিকা তার মোবাইল থেকে বাসের সিট বুক করে ফেলেছে৷ নিউ হরাইজন ট্র্যাভেলস-এর বাস, ইন্টারনেট জানাচ্ছে এরাই নাকি এই লাইনে সর্বশ্রেষ্ঠ৷ রাত্তির সাড়ে ন’টায় বাস ছাড়বে, ভোর পাঁচটা পঁচিশে পৌঁছে যাবে শিলিগুড়ি৷ মাঝে কোথাও থামবে না৷ শিলিগুড়ি পৌঁছতে পৌঁছতে নিশ্চয় আলো ফুটে যাবে৷
মল্লিকা যখন বাস গুমটিতে পৌঁছল তখন বাস ছাড়তে আর মিনিট দশেক বাকি৷ খালাসির সহায়তায় সঙ্গের সুটকেসটা বাসের পেটে চালান করে দিয়ে মল্লিকা বাসে উঠে পড়ল৷ বাসটা অর্ধেক ভর্তি হয়ে গেছে৷ নিদ্রাবিলাসী দু’চারজন, যারা বাড়তি পয়সা দিয়ে স্লিপারের টিকিট কিনেছে, তারা দোতলায় উঠে ঘুমোবার তোড়জোড় করছে৷ এক-এক সারিতে দুটো করে সিট, মল্লিকারটা বেশ পেছন দিকে, তবে জানলার ধারে৷ মল্লিকা তার সিটটা খুঁজে নিয়ে বসে পড়ল, হাতের ব্যাগটা পায়ের নীচে নামিয়ে রাখল৷ পাশের সিটটা এখনও খালি রয়েছে৷ জানলা দিয়ে একটা উত্তাল, কর্মব্যস্ত দিনের ক্ষয়ে আসা শেষটুকু চোখে পড়ে৷ গুমটির এক কোণে রোল-বিরিয়ানির দোকানে ভিড় পাতলা হয়ে এসেছে৷ বাইরে রাস্তায় ফুটপাতের ওপর উনুন জ্বেলে কেউ ভাত বসিয়েছে৷ এখনও লোক উঠতে পারে এই ভেবে বাসের দরজাটা খোলা, তাই এসিও চলছে না৷ মল্লিকার বেশ গরম লাগছিল৷
বালুরঘাট শহরটা বিকেল থেকে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে৷ আসার সময় নিচে হোটেলের লবিতে নেমে মল্লিকা দ্যাখে রিসেপশনের বড় টিভিটার সামনে বেশ ভিড়৷ হোটেলের বেয়ারা, বাবুর্চি, অন্যান্য কর্মচারী ছাড়াও কয়েকজন বোর্ডার হাঁ করে টিভি দেখছে৷ আজ দুপুরে এই শহরের একটা বনেদি গয়নার দোকানে বিরাট ডাকাতি হয়ে গেছে৷ দোকানটা নজরুল সরণিতে৷ ওই অঞ্চলেই তো মল্লিকার কাজ ছিল৷ ডাকাতির পরিমাণটা বিপুল৷ টিভিতে বলছে, সম্ভবত তিনজনের এই ডাকাত দলটাই মাস ছয়েক ধরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শহরের গয়নার দোকানে ডাকাতি চালাচ্ছে৷ কলকাতা, আসানসোল, বর্ধমান, শিলিগুড়ির ছ’টা গয়নার দোকানে ডাকাতি করার পর এবার তারা বালুরঘাটের মতো অপেক্ষাকৃত ছোট শহরে নজর দিয়েছে৷ তবে আগের ডাকাতিগুলোর থেকে আজকের ডাকাতিটা আলাদা৷ আলাদা এই কারণে যে ডাকাতি করতে গিয়ে এই প্রথম এই দলটা মানুষ মারল৷ ডাকাতদের গুলিতে দুজন সিকিউরিটি গার্ড জখম হয়েছিল৷ তার মধ্যে একজন হাসপাতাল যাবার পথে মারা গেছে৷ আর একজন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে৷ টিভিতে মৃত সিকিউরিটি গার্ডের স্ত্রীকে দেখাচ্ছিল৷ পাগলের মতো আছাড়ি-পিছাড়ি করছে৷
বাসের ভেতরেও ডাকাতি নিয়ে লোকে কথা বলছে৷ পুলিশের অকর্মণ্যতাকে গাল পাড়ছে৷ বালুরঘাট নিস্তরঙ্গ শহর, সেখানে এমন ঘটনা সচরাচর ঘটে না৷ মল্লিকা ঘড়ি দেখল, বাস ছাড়ার সময় হয়ে গেছে৷ ড্রাইভার দরজা বন্ধ করে দিতে যাচ্ছিল, একটা লোক বাসের দিকে আসছে দেখে থেমে গেল৷ লোকটা এই বাসেরই যাত্রী, হাঁপাতে হাঁপাতে বাসে এসে উঠেছে৷ সঙ্গে বিশেষ মালপত্র নেই মনে হয়৷ শুধু কাঁধে একটা ঝোলা৷ হাতে ধরা টিকিটের নম্বর খুঁজতে খুঁজতে লোকটা মল্লিকার দিকে এগিয়ে আসছে৷ কী আশ্চর্য! বাসে এতগুলো সিট ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও লোকটা মল্লিকার পাশে এসে বসল৷ খুব ঘেমেছে লোকটা, মল্লিকা একটু সরে বসল৷ কপালটাই খারাপ৷ সে ভেবেছিল পাশের সিটটা ফাঁকা যাবে৷ বাসটা চলতে শুরু করেছে৷
বাইরে শহরটা একটু একটু করে ঘুমিয়ে পড়ছে৷ সারাদিন খুব ধকল গেছে তাই মল্লিকার চোখ দুটোও লেগে গিয়েছিল৷ কিছুক্ষণ পরে বাসটা হঠাৎ থেমে যেতে মল্লিকার চটকাটাও ভেঙে গেল৷
‘গঙ্গারামপুর এল নাকি?’ একটি নারীকণ্ঠ সামনে থেকে বলল৷
‘আরে না না৷ এখনও আমরা বালুরঘাট থেকেই বেরোইনি৷’ তার সঙ্গী পুরুষকণ্ঠ বলল৷
‘তাহলে থামল কেন?’
‘মনে হয় লোক তুলবে৷’
অনুমান নির্ভুল৷ ড্রাইভার দরজা খুলে দিয়েছে৷ কিন্তু দরজা দিয়ে যে দুজন বাসের ভেতরে ঢুকেছে তারা সাধারণ যাত্রী নয়৷ দুজনেই পুলিশ৷ হাবেভাবে বোঝা যায় একজন পদস্থ অফিসার, অন্যজন তার অধস্তন৷ অফিসারটি বাসের কর্তৃত্ব নিয়ে নিয়েছে৷ সে ড্রাইভারকে গাড়ি চালাতে বলে যাত্রীদের মুখোমুখি দাঁড়াল৷ তার সঙ্গী খোলা পিস্তল হাতে তার পাশে৷
‘আপনারা প্রত্যেকে আপনাদের খালি দুটো হাত সামনের সিটের হেডরেস্ট-এর ওপরে রাখুন যাতে আমরা হাত দুটো দেখতে পাই৷ যারা সামনের সিটে বসে আছেন তারা হাত কোলের ওপর রাখুন৷ যারা ওপরের বাঙ্কে আছেন তারা নেমে আসুন৷ নীচে অনেক খালি সিট আছে৷ সেখানে বসুন৷ আপনারা নিশ্চয় জানেন বালুরঘাট শহরে আজ একটা ভয়ঙ্কর ডাকাতি হয়েছে৷ ডাকাতদের গুলিতে একজন মারাও গেছে৷ এই ডাকাত দলটা গত ছ’মাস ধরে রাজ্যের নানা জায়গায় ডাকাতি করে বেড়াচ্ছে৷ পুলিশ তাদের কাউকেই এখনও ধরতে পারেনি৷ কিন্তু আমাদের খবর আছে ডাকাত দলের কেউ কেউ বাস রাস্তায় শিলিগুড়ি পালাচ্ছে৷ আমরা আগের বাসগুলো দেখেছি, কেউ নেই৷ এটাই আজকের শেষ বাস৷ হয়ত এই বাসেই কেউ আছে৷ আমরা আপনাদের যাত্রার ব্যাঘাত ঘটাতে চাই না বলে ড্রাইভারকে গাড়ি চালাতে বলেছি৷ গাড়ি চলা অবস্থায় আমরা প্রত্যেকটি যাত্রীকে জেরা করব৷ দরকার হলে তাদের সঙ্গের মালপত্র সার্চ করব৷ লাগেজের জায়গায় যে মালপত্র আছে সেগুলোও সার্চ করতে হবে৷ আপনারা স্থির হয়ে বসুন৷’
মল্লিকার ঘুম একেবারে চলে গেছে৷ ভীষণ উৎকণ্ঠা হচ্ছে৷ পুলিশ দুজন সামনে থেকে জেরা শুরু করেছে৷ পুলিশ এবং যাত্রীদের মধ্যে চাপা গলায় কী কথাবার্তা হচ্ছে, মল্লিকা শুনতে পাচ্ছে না৷ বাস হেডলাইট জ্বালিয়ে অন্ধকারের মধ্যে দিয়ে চলেছে৷ মিনিট পাঁচ-সাত প্রথম রো-এর যাত্রীদের জেরা করার পর পুলিশ এখন দ্বিতীয় রো-এর যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলছে৷
গঙ্গারামপুর পেরোনোর ঠিক পরেই বাস আবার দাঁড়িয়ে পড়ল৷ পুলিশ ব্যারিকেড৷ বাসের পুলিশ দুজন নেমে গিয়ে রাস্তায় দাঁড়ানো পুলিশদের সঙ্গে কথা বলছে৷ রাস্তায় দাঁড়ানো পুলিশদের একজন বাসের পুলিশ কর্তাটিকে স্যালুট করল৷
‘আপনাদের সকলকে নামার জন্য অনুরোধ করছি৷ বাসটা ভাল করে সার্চ করা হবে৷ বাসের পেটে যে লাগেজগুলো আছে সেগুলোও খুলে দেখা হবে৷’ একজন পুলিশ বাসে উঠে বলল৷ ‘নামার সময় আপনারা আপনাদের লাগেজের চাবিগুলো সঙ্গে রাখবেন৷’
আধঘণ্টা হয়ে গেল এখনও খোঁজাখুঁজি চলছে৷ রাস্তার পুলিশ-বাহিনী বাসের ভেতরটা সার্চ করছে৷ বাসের দুজন পুলিশ লাগেজগুলো খুলে দেখছে৷ মল্লিকারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে৷ সামনে ধানখেত৷ মাঝে মাঝে হাওয়া দিচ্ছে বলে রক্ষে৷ নইলে গরমে দাঁড়ানো যেত না৷ মল্লিকার পাশের সিটের লোকটা একটু দূরে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে৷
খোঁজাখুঁজি করে কিছুই পাওয়া গেল না৷ বাস আবার চলতে শুরু করেছে৷ আগের দু’জন পুলিশ আবার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করল৷ ওরা ছাড়াও রাস্তার একজন পুলিশ এখন বাসে৷ সে এমনিই দাঁড়িয়ে রয়েছে৷ ড্রাইভারকে বলল, তাকে বুনিয়াদপুরে নামিয়ে দিতে৷ জিজ্ঞাসাবাদ করতে করতে কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসের পুলিশ দু’জন মল্লিকাদের কাছে পৌঁছে যাবে৷
‘দিদি একটা কথা বলব?’ মল্লিকার পাশের লোকটা নিচু গলায় বলল৷ লোকটাকে নার্ভাস দেখাচ্ছে৷
‘কী ব্যাপার?’ মল্লিকা লোকটার দিকে তাকিয়ে রইল৷ গালে চার-পাঁচদিনের না-কামানো দাড়ি৷ পোড়-খাওয়া চেহারা৷ তবে নজর করে দেখলে মনে হয় মানুষটা বড় ঘরের৷
‘দিদি, আমি ডাকাত-টাকাত কিছু নই৷ বাংলাদেশের লোক৷ হিলির কাছে বর্ডার পেরিয়ে ঢুকেছি৷ শিলিগুড়ি থেকে কিছু জিনিসপত্র কিনে আবার বাংলাদেশে ফিরে যাব৷ সঙ্গে অনেকগুলো ডলার আছে৷ শিলিগুড়ির বাজারে তো আর বাংলাদেশের টাকা চলবে না৷’
‘তা আমি কী করব?’ মল্লিকা ব্যাপারটা ঠিক ধরতে পারছে না৷
‘যদি সার্চ করে ডলারগুলো বেরিয়ে পড়ে পুলিশ নিয়ে নেবে৷ অনেক টাকার ক্ষতি হয়ে যাবে৷ তাছাড়া গারদে পুরে দেবে৷’
‘আমি এখনও ঠিক বুঝতে পারছি না আমার এ-ব্যাপারে কী করার আছে৷’ মল্লিকার গলায় বিস্ময়৷
‘দেখছি, পরিবারগুলোকে পুলিশ তেমন একটা সার্চ করছে না৷ যারা একা রয়েছে তাদের আগাগোড়া সার্চ করছে৷ দিদি, আপনি যদি একটু পুলিশকে বলেন, আপনি আর আমি এক সঙ্গে আছি৷’
আর কিছু না বলে লোকটা চুপ করে রইল৷ তার চোখ দিয়ে মিনতি ঝরে পড়ছে৷ দুটো চোখে খুব মায়া৷
‘আপনি কোথায় থাকেন? কী করেন? আধার কার্ড বা অন্য কোনও আই ডি সঙ্গে আছে?’ বড় পুলিশটি মল্লিকাকে জিজ্ঞেস করল৷
‘আমি শিলিগুড়িতে থাকি৷ একটা ডিসট্রিবিউটার কোম্পানিতে কাজ করি৷ বালুরঘাটে কাজে এসেছিলাম৷ ইনি আমার স্বামী৷ আমার সঙ্গে এসেছেন৷ আমি একা রাত্তিরে ট্র্যাভেল করতে পারি না৷’ মল্লিকা তার আধার কার্ডটা এগিয়ে দিতে দিতে অকম্পিত স্বরে বলল৷
অন্য পুলিশটি তার ব্যাগটা সার্চ করছে৷
‘আপনার আই ডি?’ বড় পুলিশ মল্লিকার সহযাত্রীর দিকে মন দিয়েছে৷
‘আমার কাছে আই-ডি কিছু নাই৷ তাড়াহুড়োতে সঙ্গে নিয়ে বেরোতে ভুলে গেছি৷’ লোকটা কাঁচুমাচু হয়ে বলল৷
‘আমি বলছি তো উনি আমার স্বামী৷ আমার কথাটা কি যথেষ্ট নয়? মল্লিকার গলা ঈষৎ কড়া৷
বুনিয়াদপুরে তৃতীয় পুলিশটি নেমে গেছে৷ তার আগেই অবশ্য মল্লিকাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ৷ প্রথম দুজন পুলিশ দুটো ফাঁকা সিট পেয়ে জিরিয়ে নিচ্ছে৷
‘আপনার নাম কী?’ মল্লিকা নরম গলায় জিজ্ঞেস করল৷
‘সাদিক মহম্মদ৷ ডাকনাম রন্টু৷ আপনার নামটা জানতে পারি, দিদি? আপনি আমার যে উপকারটা করলেন, জীবনে ভুলতে পারব না৷’
‘আমার নাম মল্লিকা, মল্লিকা ইয়াসমিন৷’ কেন কে জানে এই সহজ, সরল স্মাগলারটিকে তার ভাল লেগে গেছে৷
আরও কিছুক্ষণ একথা-সেকথার পর মল্লিকা চোখ বুজে ঘুমবার চেষ্টা করল৷ ঘুম কি অত সহজে আসে? মাথার মধ্যে নানান ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে৷ স্নায়ুগুলো উত্তেজিত৷ শেষ রাত্তিরে একটু ঘুম এসে গিয়েছিল, একটা হট্টগোলের শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল৷ বাস শিলিগুড়ি বাস স্টেশনে পৌঁছে গেছে৷ যাত্রীরা নামতে শুরু করেছে৷ মল্লিকার সহযাত্রী উঠে দাঁড়িয়েছে৷ দুজনে এক সঙ্গে বাস থেকে নামল৷
‘চলুন দিদি৷ আপনার সুটকেসটা ট্যাক্সি অবধি পৌঁছে দিই৷’
‘না, না৷ তেমন ভারী নয়৷ আমি নিজেই পারব৷’ মল্লিকার গলায় সংকোচ৷
তিন-চারটে লোক মল্লিকার খুব কাছে চলে এসেছে৷ তার মধ্যে একজন বেশ লম্বা-চওড়া লোক একেবারে গায়ের কাছে এসে বলল, ‘মল্লিকা ইয়াসমিন ওরফে মধুশ্রী পাল ওরফে পূজা সিং, আমরা আপনাকে ডাকাতি এবং খুনের চার্জে গ্রেফতার করছি৷ আমাদের ধারণা, আপনার ব্যাগ এবং সুটকেস খুঁজলেই গয়নাগুলো পাওয়া যাবে৷’
‘আমার আসল নাম আদিত্য মজুমদার৷ বেসরকারি গোয়েন্দা, তবে পুলিশকেও সাহায্য করি৷’ মল্লিকার সহযাত্রী মল্লিকার দিকে তাকিয়ে হাসছে৷ ‘ছ’মাস ধরে আপনাদের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছি৷ আজ পাকা খবর ছিল আপনারা তিনজনই এই বাসে পালাচ্ছেন৷ পুলিশ বাস কোম্পানিকে বলে আপনার পাশের সিটটা আমাকে জোগাড় করে দিল৷ আপনার দলের অন্য দুজন পুলিশের ছদ্মবেশে আপনাকে এবং ডাকাতির মালগুলোকে গার্ড দিতে দিতে নিয়ে যাচ্ছিল৷ যা সার্চ করার তারা নিজেরাই করছিল৷ তারা জানত অন্য কেউ সার্চ করলেই আপনার সুটকেস এবং ব্যাগের লাইনিং-এর ভেতরে যে গয়নাগুলো লুকোনো আছে সেগুলো বেরিয়ে পড়বে৷ গঙ্গারামপুরের পুলিশ ব্যারিকেডটাও পুলিশের ড্রেস পরা আপনার দুজন পার্টনার সামলাল৷ গঙ্গারামপুরের পুলিশদের সম্ভবত বলল তারা স্পেশাল ব্রাঞ্চের অফিসার৷ আমি আপনার ব্যাপারে একেবারে নিশ্চিত হবার জন্যে ডলারের গল্প ফাঁদলাম৷ কোনও নির্দোষ ভদ্রমহিলা জেনে শুনে কোনও স্মাগলারকে প্রশ্রয় দেবে না৷ কিন্তু আপনার মনে হল, বাসে যখন তৃতীয় একজন পুলিশ রয়েছে, যে কিনা আসল পুলিশ, তার সামনে বেআইনি ডলার বেরিয়ে পড়লে একটা গোলমালের সৃষ্টি হবে৷ তাতে আপনাদেরই বিপদ৷ তাই আমার সমস্ত অন্যায় আবদার আপনি মেনে নিলেন, যাতে নির্ঝঞ্ঝাটে আপনারা শিলিগুড়ি পৌঁছে যেতে পারেন৷ আপনার সহযোগী নকল পুলিশরাও আপনার সংকেত মেনে চুপ করে রইল৷ আমিও নিশ্চিন্ত হলাম আপনারা তিনজনই আসল দোষী৷’
মল্লিকার অসুস্থ লাগছে৷ সে দেখল, বাসের দুজন পুলিশকে জনা আষ্টেক অচেনা লোক ঘিরে রেখেছে৷
ফেব্রুয়ারি, ২০২২
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন