উপসংহার

যুদ্ধ শেষ হয়েছে। আমি কলকাতা থেকে ১৭ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে আসতে চাই, কিন্তু কর্নেল ওসমানী আমাকে আসতে দিতে চাচ্ছিলেন না। তিনি ইতিমধ্যে সিলেট থেকে কলকাতায় চলে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই একসঙ্গে বাংলাদেশে যাব।’ আমি দ্রুত আসতে চাচ্ছিলাম, কারণ যুদ্ধে ঢাকা বিমানবন্দর এমনভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল যে অতিদ্রুত এর পুনর্গঠনের কাজ শুরু করা খুব জরুরি ছিল। স্বাধীন দেশের সঙ্গে বহির্বিশ্বের যোগাযোগের এটিই ছিল একমাত্র মাধ্যম। যাহোক, ১৯ বা ২০ ডিসেম্বরে আমি একটি অটার বিমানে ঢাকায় চলে আসি। তখন সম্ভবত আমার পরিবারের সঙ্গে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রেজার পরিবারও ছিল।

রাজনৈতিক নেতারা বিজয়ের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত বাংলাদেশে আসেননি। কলকাতায় থাকাকালে শুনেছি যে ভারতীয় বাহিনী রাজনৈতিক নেতাদের ঢাকায় আসা তখনো নিরাপদ মনে করছিলেন না। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশে একটি সরকারকে প্রতিষ্ঠিত ও কার্যকর করার জন্য ব্যাপক নিরাপত্তার প্রয়োজন হয়। ভারতীয় বাহিনী নতুন সরকার ও রাজনীতিবিদদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পর তাঁদের ঢাকায় আসার পরামর্শ দেয়। কর্নেল ওসমানীও ভারতীয় বাহিনীর প্রস্তাব মেনে নেন। ফলে বেশ কয়েক দিন পর তাঁরা সবাই একসঙ্গে ঢাকায় ফিরে আসেন।

ঢাকা থেকে তিন-চার দিন পর মা-বাবার সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি পাবনায় যাই। বাড়ি ফিরে দেখি, আমাদের বাড়িঘরে যা ছিল, যুদ্ধের সময় তা বিহারিরা লুট করে নিয়ে গেছে। আমাদের বাড়ির পাশেই বিহারিরা থাকত। মা, বাবা, চাচা, ফুফুরা অন্য গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। যুদ্ধের সময় যারা দেশ থেকে কলকাতায় আসত, আমি তাদের মাধ্যমে আত্মীয়স্বজনের খবর পেতাম। যুদ্ধের মধ্যে আমার এক ফুফু, যিনি আমাকে খুব স্নেহ করতেন, ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর এ মৃত্যু যুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না। যুদ্ধের সময় এ খবর শুনে আহত হয়েছি। এ ছাড়া যুদ্ধের সময় আমার স্ত্রীর খালাতো বোনের স্বামীকে পাকিস্তানিরা হত্যা করে।

আমি যুদ্ধে অংশ গ্রহণের পর আমার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য আমার বড় ভাই ও মেজো ভাইকে পাকিস্তানি বাহিনী ধরে নিয়ে যায়। তবে তারা আমার ভাইদের সঙ্গে কোনো দুর্ব্যবহার বা তাদের শারীরিক নির্যাতন করেনি। পাকিস্তান বিমানবাহিনী জানতে চেয়েছিল যে আমি কোথায় আছি। আমি অফিস থেকে ছুটি নিয়ে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলাম। আমি কাউকে এমনকি পরিবারের কোনো সদস্যকেও মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের কথা বলে যাইনি। ভাইদের বলেছিলাম, আমরা ঠাকুরগাঁও যাচ্ছি। পাকিস্তানিরা আমার ভাইদের বলে যে আমি যেন দ্রুত বিমানবাহিনীতে ফেরত আসি।

মে মাসের পরিস্থিতি বিশ্লেষণের পর আমার পরিষ্কার একটা ধারণা হয়েছিল যে ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ দেশ পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হবে। এ ধারণার পেছনে আমার তিনটি কারণ ছিল। প্রথমত, ভারত যত বড় দেশই হোক, তার পক্ষে খুব বেশি দিন ধরে লাখ লাখ শরণার্থীকে স্থান, খাবার ও চিকিৎসা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত করা খুব দুরূহ হবে। এসব তারা বছরের পর বছর চালিয়ে যেতে পারবে না। এমনকি যদি সেটা হতো, তাহলে ভারতের সাধারণ মানুষজনও আমাদের প্রতি ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত হয়ে উঠত অর্থাৎ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তারা শুধু আর্থিকভাবে নয়, সামাজিক দিক থেকেও অস্থিতিশীল হতে পারত। তাই ভারত যত দ্রুত সম্ভব এই যুদ্ধ শেষ করবে।

দ্বিতীয়ত, নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে চীন পাকিস্তানকে সাহায্য করতে চাইলে ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা সে করতে পারবে না। তখন চীন-ভারত সীমান্তে বরফ পড়ে যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে চীন সীমান্ত এলাকায় সৈন্য সমাবেশ করতে পারবে না। তাই এই সময় ছিল ভারতের জন্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামার উপযুক্ত সময়। তৃতীয়ত, পাকিস্তানের দুই অংশকে আলাদা করে পাকিস্তানকে দুর্বল করা ভারতের অনেক দিনের ইচ্ছা। তাই ভারত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সময়কে যুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য নির্ধারণ করবে। এই সব দিক বিবেচনা করে আমি নিশ্চিত ছিলাম যে ভারতের জন্য যুদ্ধের উৎকৃষ্ট সময় হলো শীতকাল। আমি আরও ভেবেছিলাম, শীতকালে পাকিস্তান যদি ভারতের ওপর আক্রমণ না-ও করে, ভারত সরকার কোনো-না-কোনোভাবে পাকিস্তানের ওপর আক্রমণ করবে এবং পাকিস্তানকে পরাজিত করবে। আমি যুদ্ধের সময় অনেককে বলেছি যে বছরের শেষে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশে যেতে পারব। যাহোক, পাকিস্তানই ৩ ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করে। পাকিস্তান ভেবেছিল যে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে জাতিসংঘের দ্বারস্থ হবে, তারপর আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানে তার মেয়াদ দীর্ঘায়িত করবে।

যুদ্ধে নিয়মিত বাহিনী থেকে গণবাহিনী বা গেরিলাযোদ্ধার সংখ্যা বেশি ছিল। আমার মতে, মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধটা ছিল প্রকৃত অর্থে গেরিলাযুদ্ধ। সম্মুখযুদ্ধ বা প্রচলিত যুদ্ধ করার মতো ভারী সমরাস্ত্র আমাদের ছিল না। তাই বেশির ভাগ সময়ই আমাদের গেরিলাযুদ্ধের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। যদিও শেষের দিকে আমরা কিছু কনভেনশনাল বা প্রথাগত যুদ্ধ করেছি। আমার বিবেচনায় গেরিলাযোদ্ধারাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রাণ।

যুদ্ধ চলাকালে আমি বিভিন্ন সেক্টর পরিদর্শনে যাই এবং মাঠপর্যায়ের অনেক ক্যাম্প পরিদর্শন করি। সেখানে আমার এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির সৃষ্টি হতো। সেখানে খাবার নেই, বৃষ্টিতে সব ভিজে গেছে কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের কারও মুখে কোনো হতাশা নেই। কোনো অভিযোগ নেই। তারা শুধু চেয়েছে অস্ত্র। তারা বলেছে, ‘স্যার, আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। আমরা যুদ্ধ করতে চাই, দেশকে স্বাধীন করতে চাই, আমাদের অস্ত্র দিন।’ মুক্তিযোদ্ধাদের এ ধরনের প্রবল আগ্রহ ও উদ্দীপনা ছিল।

আগস্ট মাসের কোনো একদিন আমি কুড়িগ্রাম জেলার কাছে ভুরুঙ্গামারীতে যাই। তখন রাত প্রায় সাড়ে ১২টা। মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিতে আমি সম্পূর্ণ ভিজে গিয়েছি। ক্যাম্পটি ছিল ছেঁড়া ত্রিপল দিয়ে তৈরি। তাতে ছিল শ তিনেক যুবক। এদের মধ্যে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ছাত্র, কৃষক, দোকানদার, রিকশাচালকসহ সব পেশারই যোদ্ধা ছিল। ক্যাম্পের ভেতরে ঢুকে দেখি, গেরিলারা একটি টিনের থালায় ঠান্ডা ডাল দিয়ে ঠান্ডা ভাত খাচ্ছে। আমি ধারণা করেছিলাম, তারা ডেপুটি চিফ অব স্টাফকে পেয়ে তাঁর কাছে এ বিষয়গুলো, অর্থাৎ তাদের দুঃখকষ্ট নিয়ে অভিযোগ করবে, যেমন, ‘আমাদের থাকার জায়গা দিচ্ছে না’, ‘খাওয়াদাওয়া দিচ্ছে না’ ইত্যাদি। আমি অবাক হয়ে গেলাম, একটি ছেলেও কোনো অভিযোগ করল না। বরঞ্চ তারা বলল, ‘স্যার, আমাদের অস্ত্র কবে আসবে। আমাদের অস্ত্র দিন। আমরা যুদ্ধে যেতে চাই।’ শত সমস্যা থাকা সত্ত্বেও স্বাধীনতার জন্য কতটুকু যুদ্ধের স্পৃহা থাকলে যুবকেরা ওই ধরনের উৎসাহব্যঞ্জক কথা বলতে পারে, তা এখন আমি অনুভব করতে পারি। বুঝতে পারতাম যে দেশের ক্রান্তিকালে কোনো অভিযোগ মনে আসে না, বরং জিজ্ঞাসা, স্বাধীনতার আর কতটুকু বাকি। এক ক্যাম্পে একজন অসুস্থ যুবক দেখি। সেখানে ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই, তবু সে ক্যাম্প ছাড়তে নারাজ। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দিই।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে লাখ লাখ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ভিড় করে আছে। যুদ্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল সাধারণ মানুষের দুঃখ, কষ্ট, আনন্দ, বেদনা ও ত্যাগ। মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, ধৈর্য এবং ত্যাগের ফলে দেশ স্বাধীন হয়েছে। এটা কোনো ব্যক্তিবিশেষের ত্যাগের বিনিময়ে বা একক কোনো দলের জন্য হয়নি। এটি ছিল আমাদের সম্মিলিত প্রয়াস। তাই সম্মিলিতভাবে বিজয় অর্জন করার লক্ষ্যে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত যে আমরা যদি এই দেশকে এগিয়ে নিতে চাই, তাহলে মুক্তিযোদ্ধাদের মতো আমাদেরও একতাবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে সেনাবাহিনীর প্রধান করা হয় কে এম সফিউল্লাহকে। সেনাবাহিনীর প্রচলিত আইন অনুযায়ী জিয়াউর রহমানের সেনাবাহিনীর প্রধান হওয়ার কথা ছিল। এর ফলে সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের এই ঘটনাটি না হলে হয়তো স্বাধীনতা-পরবর্তী সেনাবাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা আরও ভালো থাকত।

মুক্তিযুদ্ধের আগে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। পাকিস্তানিরা বাঙালি ও বাংলাদেশের উন্নয়নকে বিবেচনায় আনেনি। আমি স্বপ্ন দেখতাম, দেশ স্বাধীন হবে, সত্যিকারভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে, আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি হবে। দেশের সরকার কাজ করবে শুধু মানুষের উন্নয়নের জন্য, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আজ আমার সেই স্বপ্ন সার্বিকভাবে কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, সেটা বলা কঠিন।

বাঙালি এক বিদ্রোহী জাতির নাম। এ জাতির মধ্যে মিশে লীন হয়ে আছে বহু জাতি-গোষ্ঠী, যারা বাংলায় এসেছিল। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়,

হেথায় আর্য, হেথা অনার্য, হেথায় দ্রাবিড় চীন—
শক-হুন-দল পাঠান মোগল এক দেহে হল লীন।

তুর্কি, আফগান, মোগল, ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ একই সুতায় গাঁথা। ঐতিহাসিকভাবেই বাঙালি জাতি শত অত্যাচার-নির্যাতনে কখনো কারও কাছে মাথা নত করেনি। তারা অত্যাচারী শাসক আর শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে যুগ যুগ ধরে। এই লড়াইয়ে কখনো তারা জয়ী হয়েছে, আবার কখনো বা পরাজিত। কিন্তু হার স্বীকার করেনি। সময় এবং সুযোগের অপেক্ষায় থেকেছে, প্রস্তুতি নিয়েছে, পাল্টা আঘাত হেনেছে। সাম্রাজ্যবাদী শৃঙ্খল ভাঙার জন্য তারা অসমসাহসের সঙ্গে ঢেলে দিয়েছে বুকের রক্ত। তাদের কৃতি রবে চির অম্লান। দ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায়,

আমি গাই তারি গান—
দৃপ্ত-দম্ভে যে-যৌবন আজ ধরি’ অসি খরশান
হইলো বাহির অসম্ভবের অভিযানে দিকে দিকে।
লক্ষ যুগের প্রাচীন মমির পিরামিডে গেল লিখে
তাদের ভাঙার ইতিহাস-লেখা।
যাহাদের নিঃশ্বাসে
জীর্ণ পুঁথির শুষ্ক পত্র উড়ে গেল এক পাশে।

পরিশেষে বলা যায়, ভাষার ভিত্তিতে যে জাতীয়তাবোধ গড়ে উঠেছিল, এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাওয়া স্বাধীনতায় তা পূর্ণতা পেল। এত অল্প সময়ে কোনো দেশের স্বাধীনতা অর্জন পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। আমার ধারণা, আমাদের স্বাধীনতা অর্জন আরও স্বল্প সময়ে হতে পারত, যদি সঠিক সময়ে রাজনৈতিক নেতারা স্বাধীনতার প্রস্তুতি নিতেন এবং আমাদের নির্দেশনা দিতেন। সর্বস্তরের মানুষের সাহসী পদক্ষেপ ও অংশগ্রহণ তা-ই প্রমাণ করে।

ঢাকায় আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান শেষে হেলিকপ্টারযোগে যখন আগরতলা যাচ্ছিলাম, তখন সন্ধ্যা নেমে আসায় হেলিকপ্টারের জানালা দিয়ে সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশটির ভূখণ্ড দেখতে পারিনি। ওখান থেকে বিমানে করে যখন কলকাতা পৌঁছাই, তখন রজনীর প্রথম প্রহর। বাংলাদেশের আকাশসীমা পেরিয়ে দমদম বিমানবন্দরে যখন পা রাখি, তখন স্বতন্ত্র পরিচয়ে একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে পরিচিত হলাম। যে আত্মপরিচয় ছিল সাড়ে সাত কোটি জনতার আকাঙ্ক্ষা।

কলকাতায় ফিরে আসার সময়টুকুতে দীর্ঘ নয় মাসের স্মৃতিগুলো মনের আয়নায় ভেসে উঠছিল। বিমানটি যখন কুয়াশাচ্ছন্ন ধূসর মেঘরাশিকে ভেদ করে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তখন কল্পনার সাগরে হাতছানি দিতে লাগল আগামীর স্বপ্ন। স্বপ্ন দেখি এই মেঘকে অপসারিত করে উদয় হবে আগামী প্রভাতের সোনালি সূর্য। সেই নতুন সূর্যের আলোয় উদ্ভাসিত হবে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটি, জনপদ ও মানুষ। আজ স্বাধীনতার ৪৩ বছরে পা রেখে নিজের মনের ভেতর প্রশ্ন জাগে, কতটুকু আলোকিত হয়েছে প্রিয় মাতৃভূমি?

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%