ভূমিকা (স্মৃতিরে আকার দিয়ে আঁকা)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভূমিকা

স্মৃতিরে আকার দিয়ে আঁকা,
বোধে যার চিহ্ন পড়ে ভাষায় কুড়ায়ে তারে রাখা,
কী অর্থ ইহার মনে ভাবি।
এই দাবি
জীবনের এ ছেলেমানুষি,
মরণেরে বঞ্চিবার ভান ক’রে খুশি,
বাঁচা-মরা খেলাটাতে জিতিবার শখ,
তাই মন্ত্র প’ড়ে আনে কল্পনার বিচিত্র কুহক।
কালস্রোতে বস্তুমূর্তি ভেঙে ভেঙে পড়ে,
আপন দ্বিতীয় রূপ প্রাণ তাই ছায়া দিয়ে গড়ে।
“রহিল” বলিয়া যায় অদৃশ্যের পানে;
মৃত্যু যদি করে তার প্রতিবাদ, নাহি আসে কানে।
আমি বদ্ধ ক্ষণস্থায়ী অস্তিত্বের জালে,
আমার আপন-রচা কল্পরূপ ব্যাপ্ত দেশে কালে,
এ কথা বিলয়দিনে নিজে নাই জানি
আর কেহ যদি জানে তাহারেই বাঁচা ব’লে মানি।

শান্তিনিকেতন, ১৬। ৩। ৩৯

সকল অধ্যায়
১.
আকাশপ্রদীপ (গোধূলিতে নামল আঁধার)
২.
জানা-অজানা (এই ঘরে আগে পাছে)
৩.
পঞ্চমী (ভাবি বসে বসে)
৪.
শ্যামা (উজ্জ্বল শ্যামল বর্ণ)
৫.
জল (ধরাতলে চঞ্চলতা সব-আগে নেমেছিল জলে)
৬.
বধূ (ঠাকুরমা দ্রুততালে ছড়া যেত প’ড়ে)
৭.
ধ্বনি (জন্মেছিনু সূক্ষ্ম তারে বাঁধা মন নিয়া)
৮.
স্কুল-পালানে (মাস্টারি-শাসনদুর্গে সিঁধকাটা ছেলে)
৯.
যাত্রাপথ (মনে পড়ে, ছেলেবেলায় যে বই পেতুম হাতে)
১০.
ভূমিকা (স্মৃতিরে আকার দিয়ে আঁকা)
১১.
প্রশ্ন (বাঁশবাগানের গলি দিয়ে মাঠে)
১২.
বঞ্চিত (রাজসভাতে ছিল জ্ঞানী)
১৩.
আমগাছ (এ তো সহজ কথা)
১৪.
কাঁচা আম (তিনটে কাঁচা আম পড়ে ছিল গাছতলায়)
১৫.
ময়ূরের দৃষ্টি (দক্ষিণায়নের সূর্যোদয় আড়াল ক’রে)
১৬.
তর্ক (নারীকে দিবেন বিধি পুরুষের অন্তরে মিলায়ে)
১৭.
ঢাকিরা ঢাক বাজায় খালে বিলে (পাকুড়তলির মাঠে)
১৮.
নামকরণ (একদিন মুখে এল নূতন এ নাম)
১৯.
সময়হারা (খবর এল, সময় আমার গেছে)
২০.
যাত্রা (ইস্‌টিমারের ক্যাবিনটাতে কবে নিলেম ঠাঁই)
২১.
বেজি (অনেকদিনের এই ডেস্কো)
২২.
পাখির ভোজ (ভোরে উঠেই পড়ে মনে)

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%