আমগাছ (এ তো সহজ কথা)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমগাছ

এ তো সহজ কথা,
অঘ্রানে এই স্তব্ধ নীরবতা
জড়িয়ে আছে সামনে আমার
আমের গাছে;
কিন্তু ওটাই সবার চেয়ে
দুর্গম মোর কাছে।
বিকেল বেলার রোদ্‌দুরে এই চেয়ে থাকি,
যে রহস্য ওই তরুটি রাখল ঢাকি
গুঁড়িতে তার ডালে ডালে
পাতায় পাতায় কাঁপনলাগা তালে
সে কোন্‌ ভাষা আলোর সোহাগ
শূন্যে বেড়ায় খুঁজি।
মর্ম তাহার স্পষ্ট নাহি বুঝি,
তবু যেন অদৃশ্য তার চঞ্চলতা
রক্তে জাগায় কানে-কানে কথা,
মনের মধ্যে বুলায় যে অঙ্গুলি
আভাস-ছোঁওয়া ভাষা তুলি
সে এনে দেয় অস্পষ্ট ইঙ্গিত
বাক্যের অতীত।

ওই যে বাকলখানি
রয়েছে ওর পর্দা টানি
ওর ভিতরের আড়াল থেকে আকাশ-দূতের সাথে
বলাকওয়া কী হয় দিনে রাতে,
পরের মনের স্বপ্নকথার সম
পৌঁছবে না কৌতূহলে মম।
দুয়ার-দেওয়া যেন বাসরঘরে
ফুলশয্যার গোপন রাতে কানাকানি করে,
অনুমানেই জানি,
আভাসমাত্র না পাই তাহার বাণী।
ফাগুন আসে বছরশেষের পারে,
দিনে-দিনেই খবর আসে দ্বারে।
একটা যেন চাপা হাসি কিসের ছলে
অবাক শ্যামলতার তলে
শিকড় হতে শাখে শাখে
ব্যাপ্ত হয়ে থাকে।
অবশেষে খুশির দুয়ার হঠাৎ যাবে খুলে
মুকুলে মুকুলে।

শান্তিনিকেতন,৫। ১২। ৩৮

সকল অধ্যায়
১.
আকাশপ্রদীপ (গোধূলিতে নামল আঁধার)
২.
জানা-অজানা (এই ঘরে আগে পাছে)
৩.
পঞ্চমী (ভাবি বসে বসে)
৪.
শ্যামা (উজ্জ্বল শ্যামল বর্ণ)
৫.
জল (ধরাতলে চঞ্চলতা সব-আগে নেমেছিল জলে)
৬.
বধূ (ঠাকুরমা দ্রুততালে ছড়া যেত প’ড়ে)
৭.
ধ্বনি (জন্মেছিনু সূক্ষ্ম তারে বাঁধা মন নিয়া)
৮.
স্কুল-পালানে (মাস্টারি-শাসনদুর্গে সিঁধকাটা ছেলে)
৯.
যাত্রাপথ (মনে পড়ে, ছেলেবেলায় যে বই পেতুম হাতে)
১০.
ভূমিকা (স্মৃতিরে আকার দিয়ে আঁকা)
১১.
প্রশ্ন (বাঁশবাগানের গলি দিয়ে মাঠে)
১২.
বঞ্চিত (রাজসভাতে ছিল জ্ঞানী)
১৩.
আমগাছ (এ তো সহজ কথা)
১৪.
কাঁচা আম (তিনটে কাঁচা আম পড়ে ছিল গাছতলায়)
১৫.
ময়ূরের দৃষ্টি (দক্ষিণায়নের সূর্যোদয় আড়াল ক’রে)
১৬.
তর্ক (নারীকে দিবেন বিধি পুরুষের অন্তরে মিলায়ে)
১৭.
ঢাকিরা ঢাক বাজায় খালে বিলে (পাকুড়তলির মাঠে)
১৮.
নামকরণ (একদিন মুখে এল নূতন এ নাম)
১৯.
সময়হারা (খবর এল, সময় আমার গেছে)
২০.
যাত্রা (ইস্‌টিমারের ক্যাবিনটাতে কবে নিলেম ঠাঁই)
২১.
বেজি (অনেকদিনের এই ডেস্কো)
২২.
পাখির ভোজ (ভোরে উঠেই পড়ে মনে)

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%