বঞ্চিত (রাজসভাতে ছিল জ্ঞানী)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বঞ্চিত

রাজসভাতে ছিল জ্ঞানী,
ছিল অনেক গুণী।
কবির মুখে কাব্যকথা শুনি
ভাঙল দ্বিধার বাঁধ,
সমস্বরে জাগল সাধুবাদ।
উষ্ঞীষেতে জড়িয়ে দিল
মণিমালার মান,
স্বয়ং রাজার দান।
রাজধানীময় যশের বন্যাবেগে
নাম উঠল জেগে।

দিন ফুরাল। খ্যাতিক্লান্ত মনে
যেতে যেতে পথের ধারে
দেখল বাতায়নে,
তরুণী সে, ললাটে তার
কুঙ্কুমেরি ফোঁটা,
অলকেতে সদ্য অশোক ফোটা।
সামনে পদ্মপাতা,
মাঝখানে তার চাঁপার মালা গাঁথা,
সন্ধেবেলার বাতাস গন্ধে ভরে।
নিশ্বাসিয়া বললে কবি,
এই মালাটি নয় তো আমার তরে।

শান্তিনিকেতন, ৩। ১২। ৩৮

সকল অধ্যায়
১.
আকাশপ্রদীপ (গোধূলিতে নামল আঁধার)
২.
জানা-অজানা (এই ঘরে আগে পাছে)
৩.
পঞ্চমী (ভাবি বসে বসে)
৪.
শ্যামা (উজ্জ্বল শ্যামল বর্ণ)
৫.
জল (ধরাতলে চঞ্চলতা সব-আগে নেমেছিল জলে)
৬.
বধূ (ঠাকুরমা দ্রুততালে ছড়া যেত প’ড়ে)
৭.
ধ্বনি (জন্মেছিনু সূক্ষ্ম তারে বাঁধা মন নিয়া)
৮.
স্কুল-পালানে (মাস্টারি-শাসনদুর্গে সিঁধকাটা ছেলে)
৯.
যাত্রাপথ (মনে পড়ে, ছেলেবেলায় যে বই পেতুম হাতে)
১০.
ভূমিকা (স্মৃতিরে আকার দিয়ে আঁকা)
১১.
প্রশ্ন (বাঁশবাগানের গলি দিয়ে মাঠে)
১২.
বঞ্চিত (রাজসভাতে ছিল জ্ঞানী)
১৩.
আমগাছ (এ তো সহজ কথা)
১৪.
কাঁচা আম (তিনটে কাঁচা আম পড়ে ছিল গাছতলায়)
১৫.
ময়ূরের দৃষ্টি (দক্ষিণায়নের সূর্যোদয় আড়াল ক’রে)
১৬.
তর্ক (নারীকে দিবেন বিধি পুরুষের অন্তরে মিলায়ে)
১৭.
ঢাকিরা ঢাক বাজায় খালে বিলে (পাকুড়তলির মাঠে)
১৮.
নামকরণ (একদিন মুখে এল নূতন এ নাম)
১৯.
সময়হারা (খবর এল, সময় আমার গেছে)
২০.
যাত্রা (ইস্‌টিমারের ক্যাবিনটাতে কবে নিলেম ঠাঁই)
২১.
বেজি (অনেকদিনের এই ডেস্কো)
২২.
পাখির ভোজ (ভোরে উঠেই পড়ে মনে)

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%