৬.৮.৩ ঋজুপক্ষ পতঙ্গ : আরসুলা

জগদানন্দ রায়

আর্‌সুলা

এইবার আর্‌সুলার কথা বলিব। ইহারাও ফড়িংদের দলের প্রাণী। এখানে আর্‌সুলার একটা ছবি দিলাম। ইহাদের ছয়খানা পায়ের মধ্যে কোনোটাই ফড়িঙের পায়ের মত লম্বা নয়। এইজন্য আর্‌সুলারা লাফাইতে পারে না, খুব তাড়াতাড়ি দৌড়িয়া বেড়ায়। ইহাদের মুখ মাথার নীচে লাগানো থাকে, উপর হইতে মুখ দেখাই যায় না। যদি আর্‌সুলার মুখের আকৃতি দেখিতে চাও, তবে তোমরা ইহাকে চিৎ করিয়া ফেলিয়া দেখিয়ো। ইহাদের মাথার উপরকার শুঁয়ো দুটি ভয়ানক লম্বা হয়। আর্‌সুলারা নিশাচর প্রাণী; রাত্রির অন্ধকারে চারিদিক্ শুঁয়ো দিয়া ছুঁইতে ছুঁইতে চলা-ফেরার পথ আবিষ্কার করে।

আর্‌সুলার গায়ে তোমরা হাত দিয়া দেখিয়াছ কি? ইহাদের গা খুব তেলা। তাই ধরিতে গেলে প্রায়ই হাত হইতে ফস্‌কাইয়া যায় এবং দেওয়ালের সামান্য ফাটালের মধ্যে অনায়াসে প্রবেশ করিয়া লুকাইয়া থাকিতে পারে। যাহাদের ডানা হয় না, এ-রকম আর্‌সুলাও আছে। আমরা যে ছবিটি দিয়াছি, তাহা ডানাওয়ালা আর্‌সুলার ছবি। তোমাদের ভাণ্ডার ঘরে খোঁজ করিলে, এই রকম আর্‌সুলা অনেক দেখিতে পাইবে।

অন্য পোকা-মাকড় খাদ্যাখাদ্য বিচার করিয়া চলে, কিন্তু আর্‌সুলাদের সে বিচার-শক্তি নাই। পৃথিবীর কোনো জিনিসই ইহাদের অখাদ্য নয়। ভালো বাঁধানো বইয়ের পাতা ও মলাট ইহারা কি রকমে কুরিয়া থায়, তাহা তোমরা দেথ নাই কি? মানুষ অকাতরে রাত্রিতে ঘুমাইতেছে এবং আর্‌সুলারা আসিয়া ঘুমন্ত মানুষের আঙুলের মাংস ধীরে ধীরে কুরিয়া খাইতেছে, ইহাও আমরা স্বচক্ষে দেখিয়াছি।

তোমরা হয় ত আর্‌সুলার ডিম দেখিয়াছ। যদি না দেখিয়া থাক, তবে তোমাদের ভাণ্ডার ঘরে খোঁজ করিয়ো;—দেখিবে, যেখানে আর্‌সুলা আছে তাহারি কাছে দেওয়ালের গায়ে সীমের বীজের মত লম্বা বাদামী রঙের কতকগুলি জিনিস আট্‌কানো আছে। এইগুলিই আর্‌সুলাদের ডিমের কোষ। আর্‌সুলারা ইহা প্রসব করিয়া দেওয়ালে বা বাক্স-পেটরার গায়ে আঠার মত একরকম জিনিস দিয়া আট্‌কাইয়া রাখে। এই কোষের ভিতরে উহাদের আট দশটা ডিম বেশ পৃথক্ ভাবে থাকে-থাকে সাজানো দেখা যায়।

ডিম ফুটিয়া বাচ্চা জন্মিলে, তাহারা আর কোষের ভিতরে থাকিতে চায় না। তখন মুখ হইতে এক রকম রস বাহির করিয়া তাহারা কোষের প্রাচীর গলাইয়া বাহিরে আসে।

আর্‌সুলার বাচ্চা তোমরা দেখ নাই কি? ইহারা ফড়িংদের মতই ডিম হইতে প্রায় সম্পূর্ণ আকারে বাহির হয়। তখন ইহাদের ডানা থাকে না। জন্মিয়াই ইহারা খুব খাইতে আরম্ভ করে এবং শীঘ্র আকারে বড় হইয়া বার-বার গায়ের খোলস ছাড়ে। যে-সকল জায়গায় বেশি আর্‌সুলা আছে, সেখানে তোমরা খোঁজ করিয়ো। দেখিবে, বাদামী রঙের আর্‌সুলা ছাড়া সেখানে অনেক সাদা রঙের আর্‌সুলাও আছে। ইহারাই সদ্য খোলস-ছাড়া আর্‌সুলা। পুরানো খোলস খসিয়া পড়িলে, উহাদের গায়ের নূতন আবরণটা ঐরকম সাদা দেখায়। যাহা হউক, আর্‌সুলারা পাঁচ-ছয় বার গায়ের খোলস বদ্‌লাইয়া বড় হইলে, তাহাদের ডানা গজায়। এই অবস্থাতেই তাহারা সম্পূর্ণ পতঙ্গ হইয়া দাঁড়ায়। যাহাদের ডানা হয় না, এই রকম আর্‌সুলাও কয়েক রকম দেখা যায়। ইহারা কিন্তু আকারে খুব বড় হয় না।

সকল অধ্যায়
১.
১. এক-কোষ প্রাণী – খড়িমাটির পোকা
২.
২. স্পঞ্জ
৩.
৩.১ হাইড্রা
৪.
৩.২ রাবণচ্ছত্র
৫.
৩.৩ প্রবাল
৬.
৪. তারা-মাছ – স্নায়ুমণ্ডলী
৭.
৫.১ কেঁচো
৮.
৫.২ পরাশ্রিত অকেজো প্রাণী
৯.
৫.৩ জোঁক
১০.
৫.৪ ক্রিমি – গোল ক্রিমি
১১.
৬.০ কীট-পতঙ্গ, প্রাণীদের বিভাগ
১২.
৬.১.১ কঠিনবর্ম্মী : চিংড়িমাছ
১৩.
৬.১.২ কঠিনবর্ম্মী : কাঁকড়া
১৪.
৬.১.৩ কঠিনবর্ম্মী : পতঙ্গ
১৫.
৬.২.১ ঝিল্লীপক্ষ পতঙ্গ : বোলতা
১৬.
৬.২.২ ঝিল্লীপক্ষ পতঙ্গ : ভীমরুল
১৭.
৬.২.৩ ঝিল্লীপক্ষ পতঙ্গ : কুমরে-পোকা
১৮.
৬.২.৪ ঝিল্লীপক্ষ পতঙ্গ : কাঁচ-পােকা
১৯.
৬.২.৫ ঝিল্লীপক্ষ পতঙ্গ : মৌমাছি
২০.
৬.২.৬ ঝিল্লীপক্ষ পতঙ্গ : পিপীলিকা
২১.
৬.৩.১ শিরা-পক্ষ পতঙ্গ : উই
২২.
৬.৩.২ শিরা-পক্ষ পতঙ্গ : জল-ফড়িং
২৩.
৬.৩.৩ শিরা-পক্ষ পতঙ্গ : ভুঁই-কুমীর
২৪.
৬.৩.৪ শিরা-পক্ষ পতঙ্গ : পাখীর গায়ের উকুন
২৫.
৬.৪.০ কঠিন-পক্ষ পতঙ্গ
২৬.
৬.৪.১ কঠিন-পক্ষ পতঙ্গ : গোবরে পোকা
২৭.
৬.৪.২ কঠিন-পক্ষ পতঙ্গ : ধামসা পোকা
২৮.
৬.৪.৩ কঠিন-পক্ষ পতঙ্গ : জোনাক পোকা
২৯.
৬.৫.০ শল্ক-পক্ষ পতঙ্গ
৩০.
৬.৫.১ শল্ক-পক্ষ পতঙ্গ : প্রজাপতি
৩১.
৬.৫.২ শল্ক-পক্ষ পতঙ্গ : গুটিপোকা
৩২.
৬.৬.০ দ্বিপক্ষ পতঙ্গ
৩৩.
৬.৬.১ দ্বিপক্ষ পতঙ্গ : মাছি
৩৪.
৬.৬.২ দ্বিপক্ষ পতঙ্গ : মশা
৩৫.
৬.৭.০ গান্ধী পোকা
৩৬.
৬.৭.১ ছারপোকা
৩৭.
৬.৮.০ ঋজুপক্ষ পতঙ্গ
৩৮.
৬.৮.১ ঋজুপক্ষ পতঙ্গ : ফড়িং
৩৯.
৬.৮.২ ঋজুপক্ষ পতঙ্গ : উচ্চিংড়ে ও ঘুর্‌ঘুরে পোকা
৪০.
৬.৮.৩ ঋজুপক্ষ পতঙ্গ : আরসুলা
৪১.
৬.৯.০ লূতা
৪২.
৬.৯.১ মাকড়সা
৪৩.
৬.৯.২ কাঁকড়া-বিছা
৪৪.
৬.১০.১ সহস্রপদী : তেঁতুলে-বিছা
৪৫.
৬.১০.২ সহস্রপদী : কেন্নো
৪৬.
৭. কোমলাঙ্গী : শঙ্খ, শামুক, গুগলি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%