বিষ্ণুরুবাচ।
আসীদ্ দুন্দুভিনামাসা বসুরাথাং প্রভূত্তমঃ।
তেন জিতাঃ সুরাঃ সর্ব্বে ব্রহ্মবরপ্রভাবতঃ ॥৫৮
অজেয়ো-ব্রহ্ম-সূৰ্য্যাণাং যমস্যাস্মাকমেব চ।
তা নিৰ্জ্জিত্য দেবাংস্ত স্বর্গাচ্চ্যবিয়তে কিল।৫৯
তাবৎ তস্য মহাবাহো ঈশঃ শৈলঙ্গমোহভবৎ।
তদা পশ্যতি দেবেশীং * শঙ্করস্য তনুস্থিতাম।
বামভাগে মহারূপাং সৰ্ব্বদেবনমস্কৃতাম্। ৬০
তাং দৃষ্ট্বা ক্ষোভমাপন্নঃ কামবিহ্বলচেতনঃ।
দেবীং সমুদ্যতো বক্তৃং দেবেন চ স ঈক্ষিতঃ ॥৬১
ততঃ স সহসা দগ্ধো নেত্রজেনানলেন তু।
দেবদেবশ্য কোপেন দানবো ভস্মতাং গতঃ ॥৬২
সায়ুধঃ সরথঃ ক্রূরঃ সপাদাতিঃ সবাহনঃ।
সহসা ভস্মীভূতং তং দৃষ্ট্বা দেবস্ত্রিলোচনঃ।। ৬৩
রক্তপীতাসিতশ্যামা ভস্মাদ্ধরি তমেব চ।
গৃহীত্বা সিতভম্মেন দেবীঞ্চাপ্যবধূনয়ৎ ॥ ৬৪
তস্য হস্তকরাস্ফালা…নাবসানতঃ।
উদ্ধৃতা মহতী বৰ্ত্তি সৰ্ব্বর্ণকভূষিতা। ৬৫
তাং তপন্তীং সমালোক্য উমাং দেবনমস্কৃতাম্।
তস্মিন্ সমুদ্ভবচ্ছায়া সৰ্ব্বলক্ষণলক্ষিতা। ৬৬
দ্বিতীয়ং দেবভাগস্ত যাচমানা মহাবলা।
তদা উমা দদৌ শাপং স্থত্বা ঘোরং মহাসুরমা। ৬৭
গচ্ছ পাপ দুরাচার ভূতলং ত্বং মহাবল।
তথারূপো ভবেদেঘারো নীলমেঘসমপ্রভঃ।। ৬৮
মহারূপো ভয়ং দত্ত্বা সসুরাসুররক্ষসাম।
দেবেন তং তদা দৃষ্ট্ব। কিমেতদ্ ভবতীকৃতম্।
স এব নির্জ্জিতঃ শত্রুরস্মাকঃ বর্ধমুদ্যতঃ॥৬৯
ন যুক্তং শত্রুপক্ষস্য বৃদ্ধিং দাতুং কদাচন।
যশ্চ কারণদ্রব্যাণাং সবিশেষং কৃতং মুদা।
মোচতে কৃপয়া মূঢ়ঃ স এব নিধনং ব্রজেৎ। ৭০
নিপাত্য সাখিলং সৰ্ব্বং মূলং যস্য ন খন্যতে।
স এব স্যাদ্ বলী ভূয়ো বদরী ইব শোভতে ॥৭১
তথা ত্বমপি দুৰ্ব্বদ্ধে মমায়ং বিনিপাতিতঃ
দেবানাং বিঘ্নকৰ্ত্তা চ ঋষি-ব্রাহ্মণত্ৰাসকঃ।। ৭২
ন যুক্তং দ্বিজদেবানাং শত্রুবর্গস্য বৰ্দ্ধনম্।
মন্দবুদ্ধে সদা বালে স্ত্রীস্বভাবেন বৰ্ত্তসে। ৭৩
ইত্যুক্তা শম্ভুনা দেবী ক্রূদ্ধা তমদলোক্য সা।
মদ্ভক্তিপরমো ভূত্বা সর্ব্বদেবান্ জয়িষ্যতি ॥ ৭৪
বিষ্ণুভাবঃ পরো হোষ অবধ্যোইয়ং ভবিষ্যতি।
কুশদ্বীপপুরাবাসী চন্দ্রশোভাং ভবিষ্যতি ॥ ৭৫
সপ্ত দ্বীপাঃ সপাতালাঃ সপ্ত লোকাঃ সবাসবাঃ।
এতদাজ্ঞাকরা ভূতা অজেয়োঽরং ভবিষ্যতি ॥৭৬
নিশম্য বচনং দেব্যা উন্মার্গগতিভাষিতম।
শশাপ রোষর্মাবিশ্য ত্বঞ্চ মৰ্ত্তং গমিষ্যসি।
তত্র চৈষ দুরাচারঃ পতিত্ব যাচয়িষ্যতি।। ৭৭
তথা ক্রোধানলাদীপ্তা সা শপেতালুরাধিপম্।
নীলমেঘনিভাকারং যমাহিষমিবাপরম্।
ক্রীড়ামনি হনিষ্যামি পঞ্চাননব্যবস্থিতা।। ৭৮
উবাচ কৃপিতা দেবী দেবোঽপি চ তথৈব তাম্।
এব পূৰ্ব্বং সুরাধাক্ষ শম্ভুনা ‘বজ্ৰনিৰ্ম্মিতঃ।। ৭৯
দুন্দভেদেহতো ভূত্বা মম ভক্তিপরায়ণঃ।
চন্দ্রশোভাপুরবাসী মদীয়াৰ্চ্চাসদ্যোজাতঃ ॥ ৮০
তস্যেদং শাসনং প্রাপ্তং ব্রাহ্মৈরপি সুহঃসহম্।
কিং পুনঃ সৰ্ব্বযত্নেন সবলো যদি দানবঃ।। ৮১
আগুতো ঘোরনামাসৌ রুদ্রাদীনপি সংহরেৎ।
তচ্ছুত্বা তু হরেবাক্যং কিং করোমি প্রভো বদ।।
৮২ ত্বয়া দত্তং মম স্বর্গং যজ্ঞাঃ সর্ব্বাশ্চ রক্ষিতাঃ।
ইন্দ্ৰাণাং ত্বং প্রভুঃ স্বামী দেবানাং ত্বঞ্চ পালকঃ।।
৮৩ ইত্যুক্তে বদতে বিষ্ণুঃ শৃণ শত্রু সমাহিতঃ।
তত্ৰাগতো মহাবুদ্ধিৰ্বাচস্পতিবৃহস্পতিঃ ॥ ৮৪ ॥
(পঞ্চানন তর্করত্ন সম্পাদিত দেবীপুরাণ (১৩৩৪) পৃ ২১-২২)
বিষ্ণু, ইন্দ্রের কথা শুনিয়া কৃপা করিয়া সহাস্যে বলিলেন,– আমার নিকটে তোমাদের কোন ভয় নাই। কিন্তু হে দেবেন্দ্ৰ! যদিও উমা- দেহার্দ্বধারী দেবদেব ঈশ্বর, তোমার পক্ষে আসিয়াছেন, তথাপি এ যুদ্ধ তোমার পরিহার করা কর্তব্য। কেননা এ বিষয়ে বিশেষ কারণ আছে, তাহা শুন। পূৰ্ব্বে দুন্দুভি নামে অসুরদিগের এক মহারাজ ছিল, ব্রহ্মার বরপ্রভাবে দুন্দুভি, সূর্য্য, অগ্নি, যম এবং আমাদিগের অজেয় হইয়াছিল, সকল দেবতাকেই সে পরাজিত করিল। দেবগণকে পরাজিত করিয়া স্বর্গভ্রষ্ট করিল। হে মহাবাহো! এই সময়ে শিব পর্বতবিহার করিতেছিলেন, তখন দুন্দুভি শঙ্করশরীরের বামভাগে অবস্থিতা সৰ্ব্বদেব-নমস্কৃত মহারূপবতী উমাকে অবলোকন করিয়া ইন্দ্রিয়বিকার প্রাপ্ত হইয়া বিহ্বলচিত্তে সেই দেবীকে গ্রহণ করিবার জন্য উদ্যত হইবামাত্র, মহাদেব তাহার প্রতি রোষদৃষ্টি নিক্ষেপ করেন। অনন্তর, ক্রূরপ্রকৃতি দুন্দুভি দানব, শিবের রোষদৃষ্টিসম্ভূত অনলে, অস্ত্র-শস্ত্র রথ পদাতি এবং বাহন সমভিব্যাহারে তৎক্ষণাৎ দগ্ধ হইয়া ভস্মাবশেষ হইল। ত্রিলোচন দেব, দুন্দুভি দানবকে সহসা ভস্মীভূত অবলোকন করিয়া তাহার রক্ত, পীত, সিত, শ্যামল ভস্ম হইতে সত্বর শুক্ল ভস্ম গ্রহণ করিয়া দেবীকে তাহা মাখাইতে লাগিলেন। ভস্ম মাখান শেষ হইলে, শিবের করঘর্ষণে একটা ভস্মের বড় বর্ত্তি (বাতি) উদ্বৃত্ত হইল। তাহা নানাবর্ণে সুশোভিত হইল। সেই বৰ্ত্তিতে সৰ্ব্ব লক্ষণ- লক্ষিত দানবমূৰ্ত্তি প্রাদুর্ভূত হইল। মহাবলশালিনী সে মূৰ্ত্তিও শিবের বামভাগের অর্থাৎ উমার জন্য প্রার্থনা করিতে করিতে অগ্রসর হইতে লাগিল, দেব-নমস্কৃতা উমা তাহা দেখিয়া সেই ঘোর মহাসুরকে স্মরণ করিয়া দারুণ অভিসম্পাত প্রদান করিলেন,–রে মহাবল। পাপিষ্ঠ দুরাচার! তুই মর্ত্যলোকে পতিত হ। নীলমেঘ সদৃশ প্রভাসম্পন্ন ঘোর দৈত্য তদ্রূপেই পৃথিবীতে উৎপন্ন হয়। তাহার রূপ দেখিয়া দেব, দানব, কি রাক্ষস সকলেরই ভয় হইয়াছিল। শিব তাহা দেখিয়া বলিলেন, তুমি এ কি করিলে! সেই শত্রুকে একেবারে ধ্বংস করিলেই হইত। সেই পরাজিত শত্রুই এখন আমাদের বধের জন্য উদ্যত হইয়াছে। শত্রুপক্ষের বৃদ্ধি হইতে দেওয়া উচিত নহে। যে ব্যক্তি কৃপাবশত শত্রুর শেষ পরিত্যাগ করে, সেই মূঢ় নিশ্চয় নিধন প্রাপ্ত হয়। সমুদয় বিনষ্ট হইলেও যাহার মূলোৎপাটন করা না হয়, শাদ্বল ভূমিতে মূলমাত্রাবিশিষ্ট বদরীবৃক্ষের ন্যায়, কালক্রমে তাহা সুপ্রবৃদ্ধ হইয়া উঠে। তুমিও দুৰ্ব্বদ্ধিবশতঃ এই দেব্বিঘ্নকৰ্ত্তা, ঋষিব্রাহ্মণত্রাসকারী অসুরের বধের ভার আমার উপরেই নিক্ষেপ করিলে। দেবদ্বিজগণের শত্রুপক্ষ বাড়ান কদাচিৎ উচিত নহে। হে মন্দবুদ্ধে! বালে! স্ত্রীলোকের স্বভাব তোমাতে সম্পূৰ্ণ বৰ্ত্তমান। ৭৩।। শিব এই কথা বলিলে ভগবতী বড়ই ক্রুদ্ধা হইলেন, অনন্তর তিনি সেই অঙ্কুবের দিকে দৃষ্টিপাত করিয়া বলিলেন, এই অসুর, বিষ্ণু-ভক্তিবলে, সকল দেবগণকে জয় করিবে এবং অবধ্য হইবে। কুশদ্বীপের চন্দশোভাপুরে ইহার বাসস্থান হইবে। সপ্তদ্বীপা বসুমতী, সপ্তপাতাল এবং ইন্দ্রাদি লোকপালগণের সহিত সপ্তলোক ইহার আজ্ঞাকর হইবে। এই অসুর, অজেয় হইবে। শিব, ক্রোধপরতন্ত্রা দেবীর এই অসুরোন্নতিকর অনুচিত বাক্য শ্রবণ করিয়া সক্রোধে দেবীকে অভিশাপ দিলেন, তুমিও মৰ্ত্তবাসিনী হইবে, তখন এই দুরাচার দৈত্য তোমার পতি হইতে উদ্যত হইবে। তখন দেবী, ক্রোধে প্রজ্বলিতা ও আরক্তমুখী হইয়া, সেই অসুরেন্দ্রকে শাপ দিলেন,— এমন হইলে আমি ‘সিংহারূঢ়া হইয়া ক্রীড়া করিতে করিতে, অপর যমের ন্যায়, নীল-মেঘসঙ্কাশ এই দ্বৈত্যকে বিনষ্ট করিব। এইরূপে, শিব-কোপিতা দেবী অসুরকে অভিশাপ দিলেন, শিবও ক্রুদ্ধ হইয়া দেবীকে অভিশাপ দিলেন। হে সুরেন্দ্র। শিবকর্তৃক ভস্মদ্বারা নির্ম্মিত এবং দুন্দুভির দেহ-সম্ভূত, চন্দ্রশোভাপুরবাসী এই অসুর আমার ভক্ত এবং আমার প্রতিমূর্তি স্বরূপ। তাহার আদেশ ব্রাহ্মণদিগেরও পালনীয়। এখন ত সেই ঘোর দৈত্য, সৈন্যসামন্ত সমভিব্যাহারে সর্ব্বপ্রকার যত্নে আসিয়া উপস্থিত হইয়াছে, এখন সে রুদ্রাদিকেও সংহার করিতে পারে।
দেবীপুরাণ থেকে উপজীব্য এই যে, যেখানে স্বয়ং শিব, দেবীকে ‘মন্দবুদ্ধে সদা বালে স্ত্রীস্বভাবেন বৰ্ত্তসে!’ বলে ভর্ৎসনা করছেন, তার আগে রেগেমেগে অসুরের ভষ্ম নিয়ে গায়ে মাখিয়ে দিচ্ছেন, সেখানে ঘোরাসুর বা মহিষাসুরের এই দুর্গাকে বিয়ে করতে চাওয়ার ব্যাপারে দেবীর কোনো ভূমিকা নেই সেটা বলা যাবে না, তাই নবগঠিত হুদুড়দুর্গা-পুরাণকে এক-তরফা দোষ দেওয়া চলে না; অসুরের সাথে তাঁকে জড়িয়ে বাজে কথা নতুন শুরু হয়নি—তাঁর সতীন আর সম্পর্কিত মেয়ে দুজনেই অন্তত শ-তিনেক বছর আগে পাতি বাঙলা ভাষায় তাঁকে নিয়ে এবিষয়ে কুৎসা করেছেন! জগজ্জীবনের মনসামঙ্গল-এ গঙ্গা এবং মনসা দুজনেই দুর্গাকে অসুরভাতার বলে গাল পেড়েছেন। কলিকাতা বিশ্বিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত সুরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য ও আশুতোষ দাস সম্পাদিত কবি জগজ্জীবন বিরচিত মনসামঙ্গল (১৯৬০), পুস্তকের পৃষ্ঠা ৭০-এ দেখা যাবে—
গঙ্গা বোলে দুর্গা তোর নিস্ফল জীবন।
তুমার অসুর ছিল ভাতার কেমন।।
এবং পৃষ্ঠা ৩০৬এ—
দুর্গা বলে কি বলিলে ঢেট মুরূদারি।
তোর মত নই আমি ঢেমনভাতারি।।
পদ্মা বোলে কহিলে উকুটা যায় যায়।
কারো হেন নাহি করি অসুর ভাতার।।
দুর্গা বোলে অসুর মারিনু বাহুবলে।
তর হেন নাহি ধরি বাপের আঁচল।।
মনসামঙ্গল নিয়ে বেশ কয়েকবছর ধরে পড়াশোনা করলেও এখনও পর্যন্ত অন্য কোনো কবির রচিত মনসামঙ্গল-এ দেবীদের ঝগড়াকালে এই উল্লেখ পাইনি। জগজ্জীবন উত্তরবঙ্গের কবি, দিনাজপুরের কুচিয়ামোড়ে ছিল তাঁর বাস, আর যে অসুরগ্রামের শোকের কথা প্রথম শুনেছি সেটিও দিনাজপুরের কোথাও অবস্থিত! নাঃ, এসব থেকে কোনো সিদ্ধান্ত করা যায় না ঠিকই, কিন্তু বাঙালি চিরকাল বিশ্বাস করে, যা রটে তার কিছু তো ঘটে বটে। আর তাহলেই যথেষ্ট কেলো।
বর্তমানে বিভিন্ন প্রজাতির হিন্দুবাদীরা হুদুড়দুর্গার গল্পটাকে স্রেফ আধুনিক ‘আর্বান মাকু ঘাওরামি’ হিসাবে চিহ্নিত করে দিয়েছেন, তার মাঝে আংশিক সত্য হয়তো আছে, কিন্তু বহুকাল আগে ডি ডি কোসাম্বির প্রাচীন ভারত কি সংস্কৃতি আউর সভ্যতা নামক বইয়ে (রাজকমল প্রকাশন) মহিষাসুর প্রসঙ্গে পাই—
মহিষ-অসুর (মাসোবা) হল কৃষকের দেবতা যা সমগ্র অঞ্চলে (দাক্ষিণাত্যে) সাধারণ, যদিও প্রতিটি কৃষকের দ্বারা বিবিধ হয়ে ওঠেন।
“[…] আমাদের উপকূলের কাছাকাছি পর্বতশ্রেণীতে গবাদি পশু, লবণ, উপকূলে প্রবেশাধিকার, পাথরের হাতিয়ার, আগুন নিয়ন্ত্রণ, সর্বাধিক বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক পণ্য (শিকারের পাশাপাশি সবজি) রয়েছে। দাক্ষিণাত্যে ইতিহাসের মঞ্চ তৈরি হয়ে ছিল, যেটি শুরু হবে যখন আদিবাসীরা আগুনের মাধ্যমে ‘লাল মাটি’ থেকে লোহা বের করতে শিখবে। মূল উদ্দীপক ও কৌশল যে উত্তর থেকে এসেছে তা পরে দেখানো হয়েছে। তবে প্রাচীনতম পশুপালকদের উত্তরের সাথেও কিছু সম্পর্ক ছিল কিনা তা জানা যায়নি। তাদের ট্র্যাকগুলি উপদ্বীপ জুড়ে, দক্ষিণের প্রধান নদী উপত্যকাগুলি উপরে এবং নীচে চলে গেছে। শেষ তরঙ্গগুলি মেগালিথিক কাল্ট স্পটগুলিকে তাদের নিজস্ব হিসাবে পুনরায় ব্যবহার করেছে, যেখানে আধুনিক গ্রামবাসীরা এখনও দেবতাদের পূজা করে থাকে; কিন্তু পশুপালক (গাভালি) লোকেরা যারা বর্তমান দেবতাদের নিয়ে এসেছিল তারা মূল মেগালিথগুলি তৈরি করেনি, শুধুমাত্র তাদের ধর্ম বা কবরের জন্য খোদাই করা পাথরের সাথে মেগালিথিক উপাদানগুলিকে পুনরায় ব্যবহার করেছিল। তাদের পুরুষ দেবতা, পরে মাসোবা বা তার সমতুল্য হয়ে ওঠে, তার মূলত কোন সহধর্মিণী ছিল না এবং কিছু সময়ের জন্য খাদ্য-সংগ্রাহকদের পূর্ব্বর্তী মাতৃদেবীর সাথে বিরোধ ছিল। তবে শীঘ্রই দুটি দল একত্রিত হয় এবং দেবতারা সেই অনুসারে পরস্পর বিবাহিত হয়। কখনও কখনও, হয়তো কোনও অশিষ্ট মন্দিরে দেবীকে মহিষ-অসুর মাসোবাকে পিষে ফেলতে দেখা যায় যখন ৪০০ মিটার দূরে তিনি সামান্য পরিবর্তিত নামে একই মাসোবাকে বিয়ে করেন। এর ব্রাহ্মণ্য প্রতিফলন হল পার্বতী শিবের সহধর্মিণী, কিন্তু মহিষাসুরকে চূর্ণ করেন; আবার কখনও তিনি শিবকে পদদলিত করার বিপরীত মূর্তিতে ফিরে আসেন। এটি তাৎপর্যপূর্ণ যে সিন্ধু উপত্যকায় প্রাপ্ত তিনমুখী আদি শিবের সিলটিতে তাঁর শিরস্ত্রাণের অংশ হিসাবে মহিষের শিং রয়েছে।”
“প্রাগৈতিহাসিক টিকে থাকা বিষয়গুলো যা উৎপাদনের মাধ্যম এবং ধর্মীয় উপকাঠামো উভয়কেই প্রভাবিত করে তা সাম্প্রতি চিহ্নিত হচ্ছে। দীর্ঘ ঐতিহাসিক বিকাশের সময়েও প্রাক-ইতিহাসের অদ্ভুত টিকে থাকা এবং সম্প্রসারণ অন্য কোনো দেশের ক্ষেত্রে এতটা স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। এটি ভারতের বিশেষ ঐতিহাসিক ও সামাজিক চরিত্র। বিবর্তনের ধারা আজকের জটিল ভারতীয় সমাজে তার স্পষ্ট, অনপনীয় চিহ্ন রেখে গেছে।”
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন