ছোটোনীলপুরের ভূতুম

রতনতনু ঘাটী

আবিরের ছোড়দির নাম ফাগুন৷ আবির অবশ্য ছোড়দি বলেই ডাকে, কিন্তু পাড়ার সবাই ডাকে ফাগুনদি বলে৷ বড়োরা ডাকে ফাগু৷ ছোড়দির বিয়ে হয়েছে ছোটোনীলপুরে৷
এই নিয়ে আবিরের ছোটোনীলপুরে আসা দু-বার৷ একবার ছোড়দির প্রথম শ্বশুরবাড়ি আসার দিন, আর এবার ছোড়দির সঙ্গে৷
আবিরের অ্যানুয়াল পরীক্ষা হয়ে গেছে৷ তবু মা বলেছিলেন, 'ফাগুন, আবিরকে আবার কেন নিয়ে যাচ্ছিস? বাড়িতে থাকলে সেভেনের অঙ্ক বইটা একটু দেখত৷ পরপর তো পড়াশোনার চাপ বাড়ছে৷'
ছোড়দি বলেছিল, 'বাড়ুক তো! অত পড়া পড়া কোরো না তো! আবির আমাদের পড়াশোনায় যথেষ্ট ভালো৷ এক সপ্তাহ পরে দিয়ে যাব৷'
মা আর না করেননি৷ আবির এখন ছোটোনীলপুরে৷
আবির ছোটোনীলপুর এসেছে দুটো কারণে৷
এক, ছোড়দির পাতে ভাত খাওয়ার লোভ, দুই, ভূতুম৷ বরং বলা যায় আবিরের কাছে ভূতুমের আকর্ষণই সবচেয়ে বেশি৷
ছোটোনীলপুরে আসার পরই ছোড়দির কড়া হুকুম হয়েছে, 'আবির, একদম রোদে বেরোনো চলবে না৷ বেরোবে শুধু বিকেলে, একদম খেলার মাঠে৷'
জামাইবাবু অফিসের কীসব খাতাপত্র দেখছিলেন৷ মুখ তুলে বললেন, 'ফাগুন, তা ছাড়া আবির যাবেই বা কার সঙ্গে? ভূতুম তো নেই৷'
আবির অস্ফুটে বলে উঠল, 'নেই মানে?'
ছোড়দি বলল, 'ভূতুম মাস তিনেক হল মারা গেছে৷ বড়ো দুষ্টু ছিল ছেলেটা! অত গাছে-পালায় উঠলে...৷'
আবির বলল, 'কী হয়েছিল ভূতুমের?'
জামাইবাবু বললেন, 'সেসব তোমার না শোনাই ভালো আবির৷'
আবির আর কিছু জানতে চায়নি৷ কিন্তু মনে মনে কষ্ট পেল খুব৷ সেবার কত বন্ধুত্বই না হয়েছিল ভূতুমের সঙ্গে৷ আর ভূতুমটা ছিল অদ্ভুত৷ আবির যা বলত, তাই করত৷
সেবার যখন আবির ছোটোনীলপুরে এসেছিল তখন বর্ষা নামি নামি করছে৷ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দু-এক পশলা বৃষ্টিও হচ্ছে৷ আবির আর ভূতুম ঘুরছিল মাঠের ধারে৷ হঠাৎ আবির একটা তাল গাছের দিকে আঙুল দেখিয়ে বলেছিল, 'ভূতুম, তাল গাছে ওগুলো কী ঝুলছে?'
ভূতুম বলেছিল, 'তোরা শহরে থাকিস বলে কিচ্ছু জানিস না৷ ও তো বাবুই পাখির বাসা৷'
আবির বলেছিল, 'ও, বাবুই পাখির বাসা এরকম! বাঃ, বেশ তো৷ বাবুই পাখিকে কী বলে জানিস ভূতুম?'
ভূতুম ঠোঁট উলটে বলেছিল, 'কী জানি! বাবুই পাখিকে আবার কী বলবে? বাবুই পাখি বলবে৷'
আবির হেসে বলেছিল, 'না রে, হল না৷ বাবুই পাখিকে বলে 'তাঁতিপাখি৷' তুই কি বিজ্ঞানে শূন্য পাস?'
ভূতুম বলেছিল, 'বিজ্ঞান? আমি কি স্কুলে পড়ি যে বিজ্ঞানে শূন্য পাব?'
আবির বলেছিল, 'ও, তুই স্কুলেও পড়িস না? কেন? তাহলে কী করিস?'
ভূতুম বলেছিল, 'আবির, আমরা যে খুব গরিব৷ বাবা নেই৷ মাকে লোকের বাড়ি কাজ করে তবে সংসার চালাতে হয়৷ স্কুলে পড়ব কী করে?'
আবির ভূতুমের চোখের দিকে তাকিয়ে দেখেছিল, ওর চোখ দুটো চিকচিক করছে৷ আবিরেরও কষ্ট হয়েছিল খুব৷ বলেছিল, 'বইয়ে পড়েছি, যাদের মা নেই, তাদের খুব কষ্ট৷ এখন দেখছি, যাদের বাবা নেই, তাদেরই খুব কষ্ট রে!'
ভূতুম চুপ করে থেকেছিল কিছুক্ষণ৷ তারপর বলেছিল, 'আবির, তুই একটা বাবুইবাসা নিবি?'
বলেই আবিরের উত্তরের অপেক্ষা না করে সোজা তরতর করে উঠে গিয়েছিল তাল গাছের মাথায়৷ অনেক কষ্ট করে একটা বাবুই পাখির বাসা পেড়ে এনে আবিরের হাতে দিয়ে বলেছিল, 'নে, শহরে নিয়ে গিয়ে তোর বন্ধুদের দেখাস৷'
খুব অবাক হয়ে গিয়েছিল আবির, বন্ধুত্বও গড়ে উঠেছিল ভূতুমের সঙ্গে৷ বয়সও তো দু-জনের প্রায় একই৷
সেবার আবিরকে ডাহুক বিলে নিয়ে গিয়েছিল ভূতুম৷ আবির বলেছিল, 'এত বড়ো দিঘি আমি জীবনে দেখিনি৷ আর এত পদ্ম ফুল!'
ভূতুম বলেছিল, 'হুঁ, আর কী আছে জানিস এই বিলের জলে?'
আবির বলেছিল, 'কী?'
ভূতুম বলেছিল, 'যখের রাখাল৷'
আবির খুব অবাক হয়েছিল ভূতুমের কথায়৷ বলেছিল, 'রাখাল বালক তো মাঠে গোরু চরায়৷ যখের রাখাল আবার কী?'
ভূতুম বলেছিল, 'এই দিঘির জলের নীচে আছে কলসি-ভরতি যখের টাকা৷ অনেক কলসি আছে৷ কোনো কলসিতে আছে খাঁটি রুপোর টাকা, কোনো কলসিতে অন্য জিনিস৷ সেই ঢাকনা-আঁটা কসলিগুলো সবই কিন্তু জীবন্ত৷ তারা জলের নীচে হেঁটে-চলে বেড়াতে পারে৷'
আবির অবাক হয়ে বলেছিল, 'তাই নাকি?'
ভূতুম বলেছিল, 'আর মাঝে মাঝে সেই কলসিগুলোকে নিয়ে জলের নীচে বেড়াতে বেরোতে হয়৷ সেজন্য যখ কী করে, সুন্দর দেখতে আমাদেরই বয়সি যে ছেলে সাঁতার জানে না, তাকে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে যায় জলের তলায়৷ তারপর থেকে সেই ছেলেটিই হয় যখের রাখাল৷'
আবির বলেছিল, 'তুই দেখেছিস?'
ভূতুম বলেছিল, 'হুঁ, কত্তবার৷'
আবির বলেছিল, 'তোকে যখের রাখাল করে নেয় না কেন?'
ভূতুম একটা আঙুল তার নিজের বুকে ঠেকিয়ে বলেছিল, 'আমাকে? ধুত, আমি তো সাঁতার জানি! আর আমি কি ফরসা দেখতে?'
আবির অবাক হয়ে বলেছিল, 'ও! কিন্তু এই যে এত পদ্ম ফুল ফুটে আছে, কেউ তোলে না?'
ভূতুম ঘাড় নেড়ে বলেছিল, 'তুলবে না কেন?'
আবির হাত তুলে দেখিয়েছিল, 'ওই যে, ওই দূরে, একদম মাঝখানে যে ফুলটা ফুটে আছে, ওটা তুলে আনবি? ভয় করবে না?'
ভূতুম হেসেছিল একগাল, 'ভয় কী? তোর ওই ফুলটা চাই?'
বলে আবিরের কথা তার কানে যাওয়ার আগেই ভূতুম ঝাঁপ দিয়েছিল জলে৷ একদম মাঝখানে ফুটে-থাকা পদ্ম ফুলটা তুলে এনে আবিরের হাতে দিয়েছিল ভূতুম৷
আবির বিস্ময়ে তাকিয়েছিল ভূতুমের দিকে৷ ভূতুম বলেছিল, 'এটা নিয়ে গিয়ে ফাগুনদিকে দিস, ফাগুনদি ঠাকুরের পায়ে দেবে৷'
ভূতুমটা ছিল এরকম৷ আবির ছোড়দির বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাঁটতে লাগল মাঠের দিকে৷ বেলা এখন দশটা হবে৷ জামাইবাবু অফিসে আর ছোড়দি তো রান্নাঘরে৷ হাঁটতে হাঁটতে মাঠের কাছে এসে দেখল, ছেলেরা মাঠে ফুটবল খেলছে৷ ভালো করে নজর করল আবির৷ না, কোথাও তো ভূতুম নেই৷ তাহলে সত্যিই কি...৷ সে-কথা কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারল না আবির৷ ভূতুমটা থাকলে বেশ হত৷ তার সঙ্গে তো কথাই ছিল, 'এরপর যখন ছোটোনীলপুরে আসবি, তোকে একটা সাদা কাকাতুয়ার বাচ্চা ধরে দেব,' বলেছিল ভূতুম৷
আর বলেছিল, 'আবির, তোকে না সেবার পায়রা ধরার ফাঁদ দেখাব, পায়রা ধরাও দেখাব৷ তবে ফাগুনদিকে বলে তোকে একটা দুপুর আমার সঙ্গে থাকতে হবে৷'
আর এখন কিনা সেই ভূতুম নেই৷ দেখতে কালো বলেই কি ওর নাম 'ভূতুম' রেখেছিল কেউ? তবে ভূতুমটা ছিল বড়ো ভালো৷
হাঁটতে লাগল আবির৷ ছোটোনীলপুর ছাড়িয়ে এগোলে পড়ে একটা নির্জন রাস্তা৷ রাস্তার দু-পাশে সাদা ধুতুরার ঝোপ৷ সেগুলো পেরোতে থাকলে পড়বে একটা বড়ো বট গাছ৷ আবির ভাবল, ওই বট গাছটার নীচে কিছুক্ষণ বসবে৷
হাঁটতে হাঁটতে বট গাছটার কাছাকাছি আসতেই আবির দেখল ভূতুমের মতো একটা ছেলে বসে বসে কী করছে যেন৷ ভূতুম যখন নেই, অন্য কারও সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছেও নেই আবিরের৷ এই ছোটোনীলপুরে আবিরের আর কোনো বন্ধু নেই, এক ভূতুম ছাড়া৷
আবির দূরের দিকে দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেল বট গাছটা৷ এমন সময় পেছন থেকে ছেলেটা ডাকল, 'এই আবির, কোথায় যাচ্ছিস?'
নাম শুনে পেছনে তাকিয়েই আবির একদম অবাক, 'আরে ভূতুম, তুই?'
ভূতুম সবজান্তার মতো ঘাড় নেড়ে বলল, 'হুঁ, তুই এসেছিস, সে-খবর পেয়েছি৷ তাই তো দেখ না পায়রা ধরার ফাঁদ বানাচ্ছি৷'
আবির দেখল, হ্যাঁ, ভূতুম ফাঁদই বানাচ্ছে৷ বলল, 'তুই আমার কাছে যাসনি কেন? আর আমার ছোড়দি আর জামাইবাবু বলেন কিনা, তুই...৷'
আবিরের কথা কেড়ে নিয়ে ভূতুম বলল, 'আসলে আমার সঙ্গে তোকে মিশতে দেবে না৷ সবাই ওরকম বলে, তাই ভালো লাগে না৷ একা একা থাকি, ঘুরে বেড়াই৷ কিন্তু ওরা সব বাজে কথা বলে৷ তাহলে তোকেও বলেছে!'
একটু চুপ করে থেকে ভূতুম বলেছিল, 'যাক, তুই যখন এসেছিস, ভালোই হয়েছে৷ তোর সঙ্গে তো আমার কথাই ছিল, এবার এলে পায়রা ধরা দেখাব৷ এই ফাঁদটা তৈরি হয়ে গেলেই আমি তোকে ডাকতে যেতাম৷'
আবির হেসে বলল, 'তাহলে খুব ভালো হত৷ আমি ছোড়দিকে বলে আসতে পারতাম৷'
ভূতুম গোরুর লেজের লম্বা চুল কেটে এনেছে৷ তাই দিয়ে ফাঁদ বানাচ্ছে৷ বলল, 'সে-কথা থাক৷ এবার তোর কী কী চাই বল? আচ্ছা আবির, সেই বাবুইবাসাটা তুই শহরে নিয়ে গিয়েছিলি? বন্ধুদের দেখিয়েছিস?'
আবির ঘাড় নেড়ে বলল, 'দেখাইনি আবার? সেই নিয়ে আমাদের খুব হইচই হল স্কুলে৷ আমাদের হাতের কাজের স্যার দেখিয়েছেন সবাইকে৷ এখন তো বাসাটা আছে আমাদের স্কুলের জাদুঘরে৷'
ভূতুম খুশি হল খুব৷ বলল, 'বাঃ, এবার তাহলে কী নিয়ে যাবি?'
আবির ভূতুমের হাতের দিকে দেখিয়ে বলল, 'ওই পায়রা ধরা ফাঁদটা৷'
ভূতুমও এককথায় রাজি৷ 'বেশ, তাই হবে৷' বলেই উঠে পড়ল ভূতুম৷ আমিও বললাম, 'চল, পায়রা ধরে দেখা এবার৷'
ভূতুম বলল, 'না, তার আগে তোর জন্য আর-একটা জিনিস এনেছি৷ এই দেখ৷'
আবির দেখল, একটা গোল কাচ৷ চশমা-টসমারই কাচ হবে হয়তো৷ বলল, 'এটা আবার কী?'
ভূতুম বলল, 'এটা না একটা অবাক জিনিস৷ এতে চোখ দিয়ে দেখলে সব ছোটো জিনিসই বড়ো দেখায়৷ চল না, আমরা ঘুরে ঘুরে ছোটো জিনিসগুলোকে বড়ো দেখি৷ চল৷'
বলেই ছুটতে লাগল ভূতুম৷ আবিরও ছুটল তার পিছু পিছু৷ ছুটে গিয়ে ধরে ফেলল ভূতুমকে৷
ভূতুম একটা খেজুর গাছের কাছে ঝুঁকে কী দেখছিল৷ বলল, 'এই দেখ, এটা তো একটা ছোটো খেজুর গাছ৷ আর এই দেখ তার একটা ছোটো কাঁটা৷ এবার তুই এই কাচটায় চোখ দিয়ে দেখ আবির, কেমন বড়ো দেখাচ্ছে৷'
আবির দেখল৷ তারপর বলল, 'এ তো আই গ্লাস৷ আমাদের শহরের রাস্তায় অনেক বিক্রি হয়৷'
তবু দমল না ভূতুম৷ বলল, 'হোক না৷ তবু আয় আমার সঙ্গে৷' বলেই আবার পাগলের মতো ছুটল কিছুক্ষণ৷ তারপর একটা শেওড়া গাছের কাছে এসে বলল, 'তুই যদি একটা দিন আর একটা রাত আমার সঙ্গে থাকিস, তোকে তাহলে অনেক কিছু দেখাব৷'
আবির বলল, 'কী অনেক কিছু?'
ভূতুম বলল, 'যেগুলো তুই কখনো দেখিসনি৷ শুধু তুই-বা কেন, কেউ কখনো দেখেনি৷'
আবির বলল, 'কী, তাই বল না!'
ভূতুম একবার এদিক-ওদিক তাকিয়ে নিল৷ তারপর বলল, 'যেমন ধর, পরি৷ যেমন ধর, আলেয়া৷ যেমন ধর...৷'
আবির বলল, 'ধুস৷ তুই কেমন করে পায়রা ধরিস, দেখা তো! দুপুর হয়ে এসেছে, বাড়ি ফিরতে হবে না? ছোড়দি আবার বকবে৷'
ভূতুম বলল, 'ফাগুনদি? ফাগুনদি কাউকেই বকে না৷ চল, আমার সঙ্গে৷ ছুটতে পারবি তো?'
আবির বলল, 'পায়রা ধরতে গেলে ছুটতে হয় খুব?'
ভূতুম ছোটো জিনিসকে বড়ো দেখার কাচটা প্যান্টের পকেটে রেখে দিয়ে বলল, 'হ্যাঁ, ছুটতে হবে৷ তিনটে মাঠ পেরোতে হবে৷ মাঝে পড়বে আলেয়ার মাঠ৷ তাও পেরোতে হবে৷ তারপর তো পায়রা ধরা৷'
আবির বলল, 'অত দূর গেলে তো ফিরতে দেরি হবে খুব৷ ছোড়দি ভাববে৷'
ভূতুম অভিমানের গলায় বলল, 'এত যদি ছোড়দি ছোড়দি করিস, তাহলে আর আমার সঙ্গে এলি কেন?'
নিরুপায় হয়ে আবির সায় দিল৷ তারপর ছুটতে লাগল দু-জনে৷
ভূতুম যেন পাগলের মতো ছুটছে, ভূতুম যেন কালবোশেখির ঝড়ের মতো ছুটছে৷ আবির আপ্রাণ ছুটেও ছুঁতে পারছে না ভূতুমকে৷ চেঁচিয়ে বলল আবির, 'ভূতুম, আমি আর দৌড়োতে পারছি না৷ তুই দাঁড়া৷'
ভূতুম অনেকটা দূর থেকে বলল, 'সবে তো একটা মাঠ পেরোলি৷ এবার দুটো মাঠ৷'
আবির বলল, 'আমি আর পারব না রে ভূতুম৷'
ভূতুম বলল, 'পারতেই হবে রে আবির৷ আরও জোরে, আরও জোরে ছোট৷'
অনেকটা ছোটার পর দাঁড়াল ভূতুম৷ আবির কাছে যেতে ভূতুম বলল, 'এর পর আলেয়ার মাঠ৷ ভয় পাস না যেন৷'
ভূতুমের চোখে-মুখে কেমন এক রহস্য৷ আবিরের জামা-টামা ভিজে একশা৷ বলল, 'আমি আর ছুটতে পারব না রে ভূতুম!'
কেমন আকাশ-ফাটানো হাসি হেসে উঠল ভূতুম৷ আবির ভাবল, তাহলে কি ভূতুম পাগল হয়ে গেল? নাহলে অমন করে হাসছে কেন?
ভূতুম হাসতে হাসতে বলল, 'এর পর আলেয়ার মাঠ৷ পারবি তো ছুটতে?'
ভূতুমকে এখন কেমন যেন রহস্যময় দেখাচ্ছে৷ মাথার ওপর দুপুরের সূর্য৷ কী মনে হতে আবির ভূতুমের চারপাশের মাটিতে তাকিয়ে দেখল৷ তারপর নিজের চারপাশের মাটিতে তাকাল৷ তারপর আবার ভালো করে ভূতুমের চারপাশের মাটিতে কী যেন খুঁজল আবির৷ তারপর সোজা ছুটল ছোটোনীলপুরের দিকে৷ পেছন থেকে কয়েকবার ভুতুমের চিৎকার শুনতে পেল, 'আবির, আবির৷' আর কিছু মনে নেই আবিরের৷
বিছানায় শুয়ে আছে এখন আবির৷ মাথার পাশে বসে আছে ফাগুনদি৷ জামাইবাবু কীসব কথা বলছেন ডাক্তারবাবুর সঙ্গে৷ আবির বলল, 'জানো ছোড়দি, মাটিতে ভূতুমের ছায়া খুঁজে পাইনি৷ বিশ্বাস করো৷'
ছোড়দি হেসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল, 'মাটিতে ছায়া না পড়লে কী হয়?'
সবাই হেসে উঠল হো-হো করে৷ ডাক্তারবাবু বললেন, 'ভয়ের কিছু নেই৷ সানস্ট্রোক৷'
ডাক্তারবাবু চলে গেলেন৷ ফাগুনদি বলছিল, মাঠের মাঝখান থেকে অজ্ঞান অবস্থায় আবিরকে বাড়ি নিয়ে আসার কথা৷
সে-কথা শুনতে শুনতে মনে মনে আবির ঠিকই করে ফেলল, এর পর কারও সঙ্গে যাওয়ার আগে ভালো করে দেখে নেবে, তার ছায়া মাটিতে পড়ছে কি না৷ তারপর যাবে৷ আর এই কথাটা ছোটোদের সবাইকে চুপিচুপি বলে দেবে৷
সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%