(অনুবাদকের সংযোজন)
মহান আল্লাহর দরবারে হাজারো শুকরিয়া জানাই যে, তিনি ইমাম যাহাবীর বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থ “কিতাবুল কাবায়ির”এর ন্যায় একটি অতি জরুরী ও মহোপকারী গ্রন্থের অনুবাদ করার তাওফীক এই অধমকে দান করেছেন। এই গ্রন্থে তিনি যে সব “কবীরা গুনাহ” সংগ্রহ করেছেন, খুব সম্ভব তার প্রায় সব কটিই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সকল দলমত ও মাযহাবের নিকট সর্বসম্মতভাবে কবীরা গুনাহ। এ ধরনের সর্বসম্মত ও মৌলিক কবীরা গুনাহর তালিকা তৈরী করতে গিয়েই তাকে সম্ভবতঃ তালিকাটি ৭০ এর মধ্যে সীমিত রাখতে হয়েছে। নচেত এ তালিকা আরো দীর্ঘ হতে পারতো।
আলোচ্য ৭০টি ব্যতীত আরো কিছু কবীরা গুনাহ আমার দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুতর বিবেচিত হওয়ায় অত্র উপসংহারে কুরআন ও হাদীসের সংক্ষিপ্ত দলীল প্রমাণ সহকারে তুলে ধরছি। আশা করি সর্ব শ্রেণীর পাঠক এ দ্বারা উপকৃত হবেন।
.
ধর্মীয় ব্যাপারে বাড়াবাড়ি বা অমূলক জোর জবরদস্তিকে ইসলামী পরিভাষায় “গুলু ফিদ্দীন” বা “ইকরাহ ফিদ্দীন” বলা হয়। এটি সর্বসম্মতভাবে হারাম ও কবীরা গুনাহ। মূল আল কুরআন ও হাদীসে যে জিনিসকে যতটুকু গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, তার চেয়ে বেশী গুরুত্ব দেয়াকেই বাড়াবাড়ি বলা যায়। যেমন কোন নফল বা মুস্তাহাব কাজকে ফরয বা ওয়াজিবের ন্যায় বাধ্যতামূল মনে করতঃ অন্যদেরকে তা পালনে বাধ্য করা, জোরজবরদস্তি করা ও পালন না করলে শাস্তি দেয়া বা তিরস্কার করা বাড়াবাড়ির শামিল। অনুরূপভাবে মাকরূহকে হারাম গণ্য করতঃ অন্যদেরকে তা বর্জন করতে বাধ্য করাও বাড়াবাড়ির পর্যায়ভুক্ত।
ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদেরকে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালনে বাধা দান, তাদের ধর্মীয় সামাজিক ও নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, তাদের দেবদেবীকে গালি দেয়া বা তাদেরকে জোরপূর্বক ইসলামে দীক্ষিত করাও বাড়াবাড়ির পর্যায়ভুক্ত। আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ “হে আহলে কিতাব! তোমরা ধর্মে বাড়াবাড়ি করোনা।” (সূরা আল মায়েদা) তিনি আরো বলেছেন : “ধর্মে কোন জোরজবরদস্তি নেই।” (সূরা আল বাকারা) অন্যত্র বলেছেনঃ “হে মুমিনগণ! যে সব পবিত্র জিনিস আল্লাহ তোমাদের জন্য হালাল করেছেন, তাকে হারাম করোনা এবং সীমা অতিক্রম করোনা। আল্লাহ সীমা অতিক্রমকারীদেরকে পসন্দ করেন না।” (সূরা আল মায়েদা) অন্যত্র আল্লাহ বলেছেন : “যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর উপাসনা করে তাদেরকে গালি দিওনা। তাহলে মুর্খতাবশতঃ তারাও আল্লাহকে গালি দেবে।” (সূরা আল আনয়াম) রাসূল (সা) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি শান্তিপ্রিয় অমুসলিম নাগরিকের ক্ষতি সাধন করবে, কিয়ামতের দিন আমি স্বয়ং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করবে।”
প্রসংগত উল্লেখযোগ্য যে, নিজে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে সকল ফরয আদায় করার পর বেশী করে নফল ইবাদাত করা ও অন্যদেরকে উপদেশ দিয়ে তা করতে আগ্রহী করে তোলা দোষণীয় নয়। অনুরূপভাবে, অমুসলিমদের কাছে ইসলাম প্রচার করায় তার ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়না। আর ফরয ও ওয়াজিব তরককারী ও হারাম কাজ করতে অভ্যস্ত মুসলমানকে ফরয ও ওয়াজিব পালনে ও হারাম কাজ বর্জনে বাধ্য করা বাড়াবাড়ি নয়। তবে শরীয়ত সম্মত ও আইনানুগ ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ ব্যতীত অন্য কারো এরূপ বলপ্রয়োগের অধিকার নেই। বস্তুতঃ বলপ্রয়োগ ও বাড়াবাড়ি দ্বারা প্রকৃত পক্ষে মানুষের মনকে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া ছাড়া আর কোন লাভ হয়না।
এটি প্রথমোন্ত বাড়াবাড়ির ঠিক বিপরীত। ইসলামী পরিভাষায় একে “মুদাহানাত ফিদ্দীন” বলা হয়। বিজয়ী ও প্রতিষ্ঠিত খোদাদ্রোহী শক্তির মানসিক গেলামীর কারণে এক শ্রেণীর দুর্বল মুসলমান এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এই রোগের আলামত বা লক্ষণ তিনটিঃ (১) ফরয, ওয়াজিব ও সুন্নাতে মুয়াক্কাদাকে নফল বা মুস্তাহাবের ন্যায় ইচ্ছাধীন মনে করা ও পালনে গড়িমসি করা এবং হারাম কাজকে মাকরুহ বা মুবাহের ন্যায় বিবেচনা করা, আর তা বর্জনে শৈথিল্য প্রদর্শন করা। (২) প্রকাশ্য পাপাচার ও কবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের সাথে এবং মুনাফিকদের সাথে আন্তরিকতার সাথে মেলামেশা করা ও সহযোগিতা করা। (৩) অমুসলিমদের সাথে আন্তরিক প্রীতি ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক রাখা।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ “যারা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাসী, তাদেরকে তুমি কখনো আল্লাহ ও রাসূলের অবাধ্য লোকদের সাথে প্রীতি ও ভালোবাসার সম্পর্ক রাখতে দেখবেনা, যদিও ঐ অবাধ্য লোকেরা তাদের পিতামাতা, সন্তান-সন্ততি, কিংবা আত্মীয়স্বজন হয়।” (সূরা মুজাদালা) রাসুল (সা) বলেছেনঃ “তোমাদের কেউ ততক্ষণ মুমিন হতে পারবেনা যতক্ষণ আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান ও সকল মানুষের চেয়ে প্রিয় না হব।”
আল্লাহ বলেনঃ “সেই সকল মুনাফিককে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিয়ে দাও, যারা মুমিনদেরকে বাদ দিয়ে কাফেরদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করে।” (সূরা আন নিসা)
আল্লাহ আরো বলেছেনঃ “হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদী ও খৃষ্টানদেরকে বন্ধু বা অভিভাবক হিসাবে গ্রহণ করোনা। তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি তা করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।”
অমুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে তাদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন এবং তাদের চালচলন, রীতিনীতি ও আইনকানুন অনুসরণ করাও হারাম। (প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লোক দেখানো বন্ধুত্ব করা দোষের নয়।)
ইসলাম বহির্ভূত কোন আকীদা বিশ্বাস, ধ্যানধারণা, রীতিনীতি, আইনকানুন প্রভূতিকে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত মনে করা, অনুসরণ করা, চালু করা ও সওয়াবের কাজ মনে করা বিদয়াত। রাসূল (সা) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি ইসলামের ভেতরে কোন নতুন জিনিস সংযোজন করবে, সে প্রত্যাখ্যাত হবে।”
আল্লাহ বলেনঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধান অনুসারে ফায়সালা করেনা সে কাফের সে যালেম , . . সে ফাসেক।” (সূরা আল মায়েদা)
রাসূল (সা) বলেছেনঃ “বিদয়াতকারীর তওবা ও দোয়া বিদয়াত ত্যাগ না করা পর্যন্ত কবুল হয়না।”
উল্লেখ্য যে, ইসলাম ও মুসলমানদের কল্যাণার্থে যুগেপযোগী কোন নতুন পন্থা ও পদ্ধতি অবলম্বন করা বিদয়াত নয়, যেমন ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়া, আধুনিক অস্ত্র ও কৌশল প্রয়োগে ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা, বিনা অন্ত্রে নির্বাচনী ও রাজনৈতিক যুদ্ধ করা ইত্যাদি। তবে এরূপ ক্ষেত্রে শরীয়তের মূল নীতির অনুসরণ করা জরুরী।
গীবত একটি মারাত্মক কবীরা গুনাহ। পবিত্র আল কুরআনে বলা হয়েছেঃ “তোমরা পরস্পরের গীবত (অসাক্ষাতে নিন্দা সমালোচনা) করোনা। তোমাদের কেউ কি নিজের মৃত ভাই-এর গেশত খাওয়া পছন্দ করবে! নিশ্চয়ই তোমরা এটা অপছন্দ করবে।” (সূরা আল হুজুরাত)
এক হাদীসে আছে, রাসূল (সা) বলেনঃ তোমরা কি জান, গীবত কি? সাহাবীগণ বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালো জানেন। রাসূল (সা) বললেনঃ তোমার মুসলমান ভাই এর অসাক্ষাতে তার সম্পর্কে এমন কিছু বলা, যা সে পছন্দ করেনা। সাহাবীগণ বললেনঃ হে রাসূল, আমি যা বলি তা যদি ঐ ভাই এর মধ্যে যথার্থই বিদ্যমান থাকে তাহলেও রাসূল (সা) বললেনঃ হাঁ, যা তার মধ্যে আছে তা বললে তুমি গীবত করলে। আর যা নেই তা বললে তুমি অপবাদ আরোপ করলে। (যা আরো বড় গুনাহ)
অপর হাদীসে আছেঃ হযরত আয়িশাহ (রা) হযরত সাফিয়ার অপেক্ষাকৃত বেঁটে আকৃতির প্রতি ইংগিত করলে রাসূল (সা) তাকে বললেনঃ “তুমি যা বললে তা সমুদ্রে মিশিয়ে দিলে তার সেই রাশি রাশি পানিও কলুষিত হয়ে যেত।”
তবে ছয়টি ক্ষেত্রে গীবত বৈধ। যথাঃ (১) মযলুম কর্তৃক উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে অত্যাচারীর বিরুদ্ধে অভিযোেগ দায়ের করা, (২) অব্যাহতভাবে কবীরা গুনাহর মধ্যে নিমজ্জিত ব্যক্তি যাতে গেটা সমাজকে খারাপ কাজে জড়িত করে ফেলতে না পারে, সে জন্য জনমত গঠন করতঃ অপরাপর প্রতিরোধের পরিবেশ সৃষ্টি করা, (৩) মুফতীর নিকট ফতোয়া চাওয়ার সময় ঘটনার বিশদ বিবরণ দিতে গিয়ে কারো দোষ বলা, (৪) সাধারণ মুসলমানদেরকে কোন ছদ্মবেশী ক্ষতিকর লোকের কবল থেকে রক্ষা করা যথা ভন্ডপীর, অযোগ্য ও ফাসেক আলেম বা ইমাম, মিথ্যা সাক্ষ্যদাতা বা বানোয়াট হাদীস বর্ণনাকারী, বিয়ে, শরীকী ব্যবসা বা অন্য কোন ব্যাপারে কাউকে ক্ষতিকর লোকের হাত থেকে বাঁচার জন্য পরামর্শ দান এবং অসৎ ক্ষমতালিপ্সু ব্যক্তি ভোট পেয়ে যাতে নির্বাচিত হতে না পারে, সে জন্য তার অপকর্মের ফিরিস্তি প্রকাশ করা, (৫) ক্ষমতাসীন অত্যাচারী শাসকের পতন ঘটানোর জন্য জনমত গঠন করা, (৬) কারো অনিচ্ছাকৃত দোষত্রুটি যদি তার পরিচয়ের অংশ হয়ে যায়, যেমন অন্ধ, খোড়া, বধির ইত্যাদি।
কোন ব্যক্তির নামোল্লেখ না করে দোষত্রুটি আলোচনা করলে গীবত হবেনা
রাসূল (সা) বলেছেনঃ ছয় ব্যক্তিকে আমি অভিশাপ দিয়েছি, আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন এবং প্রত্যেক নবী অভিশাপ দিয়েছেন। (১) যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবে নতুন কিছু সংযোজন করে, (২) যে ব্যক্তি অদৃষ্টকে অস্বীকার করে, (৩) যে ব্যক্তি আমার উম্মতের ওপর জোরপূর্বক ক্ষমতাসীন হয় এবং আল্লাহ যাদেরকে সম্মানিত করেছেন তাদেরকে অপদস্ত করে, আর যাদেরকে আল্লাহ অপমানিত করেছেন তাদেরকে সম্মানিত করে, (৪) যে ব্যক্তি আল্লাহর নিষিদ্ধ ঘোষিত জিনিসকে বৈধ গণ্য করে, (৫) যে ব্যক্তি আমার বংশধরকে অপমানিত করে এবং (৬) যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে বর্জন করে। (তাবরানী)
রাসূল (সা) আরো বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি কোন পদের প্রার্থী হয়, সে ঐ পদের অযোগ্য।”
আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ “তুমি শাসন কার্যে মুসলমানদের সাথে পরামর্শ কর।” (সূরা আলে ইমরান)
সূরা আল মায়েদায় আল্লাহ বলেনঃ “বনী ইসরাইলের মধ্য থেকে যারা কুফরীতে লিপ্ত হয়েছে, তাদেরকে দাউদ ও ঈসা ইবন মারিয়ামের মুখ দিয়ে অভিসম্পাত করা হয়েছে। এর কারণ, এই যে, তারা নাফরমানী করতো, সীমা অতিক্রম করতো এবং অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করতোনা।”
সুরা আল মায়েদার অপর আয়াতে আল্লাহ বলেনঃ “সং কাজ ও খোদাভীরুতায় সহযোগিতা কর, গুনাহ ও বাড়াবাড়িতে সহযোগিতা করেনা।”
রাসূল (সা) বলেছেনঃ “যে আল্লাহর হাতে আমার প্রাণ, তার শপথ করে বলছিঃ তোমরা অবশ্যই সৎ কাজের আদেশ দেবে ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে, নচেত অচিরেই তোমাদের সকলের ওপর আল্লাহ সর্বব্যাপী আযাব নাযিল করবেন। তখন তোমরা দোয়া করলেও তা কবুল হবেনা।” (তিরমিযী)
রাসূল (সা) আরো বলেছেন : “লোকেরা যখন কোন অত্যাচারীকে অত্যাচার করতে দেখে কিন্তু বাধা দেয়না তখন আল্লাহ তাদের ওপর সর্বব্যাপী আযাব নাযিল করেন।” (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী)
রাসূল (সা) আরো বলেছেনঃ “তোমাদের কেউ কোন খারাপ কাজ হতে দেখলে তাকে শক্তি দিয়ে বাধা দেয়া উচিত, তা না পারলে মুখ দিয়ে নিষেধ করা উচিত, তা না পারলে মনে মনে তা প্রতিরোধের চিন্তা করা বা ঘৃণা করা উচিত। আর এই শেষের পন্থাটা হচ্ছে ঈমানের দুর্বলতম স্তর।”
রাসূল (সা) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কারো নামাযের সামনে দিয়ে যায়, সে যদি জানতো এর কী পরিণাম, তাহলে সে সামনে দিয়ে যাওয়ার চেয়ে চল্লিশ দিন দাঁড়িয়ে থাকা অগ্রগণ্য মনে করতো।”
হযরত জাবির (রা) বলেন যে, “রাসূল (সা) বদ্ধ জলাশয়ে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন।” (সহীহ মুসলিম)
রাসূল (সা) আরো বলেছেন : “মানুষের চলাচলের পথে ও গাছের ছায়ার নিচে, বিশেষতঃ ফলবান গাছের নিচে যে ব্যক্তি পেশাব পায়খানা করে, তার সম্পর্কে সাবধান থাকো।”
হযরত আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, বনু মাখযুম গেত্রের ফাতিমা নান্মী যে মহিলা চুরি করে ধরা পড়েছিল, কুরাইশরা তার (হাত কাটার) ব্যাপারটিকে অত্যধিক গুরুত্ব দেয়। তারা বলাবলি করতে লাগলো যে, এ ব্যাপারে রাসূল (সা) এর কাছে সুপারিশ করতে কাকে পাঠানো যায়। সবাই বললো, রাসূলের প্রিয়তম ব্যক্তি উসামা বিন যায়েদ ছাড়া আর কাউকে দিয়ে কাজ হবেনা। অগত্যা উসামা সুপারিশ করতে গেল। রাসূল (সা) বললেনঃ “তুমি আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তির ব্যাপারে সুপারিশ করতে এসেছ?” অতঃপর তিনি দাড়িয়ে বক্তৃতা করতে শুরু করলেন। বললেনঃ “তোমাদের পূর্ববর্তীরা এ জন্যই ধ্বংস হয়ে গেছে যে, কোন অভিজাত ব্যক্তি অপরাধ করলে তাকে তারা ছেড়ে দিত। আর কোন দুর্বল লোক অপরাধ করলে তাকে শাস্তি দিত। আল্লাহর কসম, আমার মেয়ে ফাতিমাও যদি চুরি করতো, তবে আমি তার হাতও কেটে দিতাম। অতঃপর উক্ত মহিলার হাত কেটে দেয়া হলো।” (সহীহ আল বুখারী, সহীহ মুসলিম)
আবু আইয়ুব আনসারী বলেন যে, রাসূল (সা) বলেছেনঃ “কোন মুসলমান ভাই – এর সাথে তিন দিনের বেশী সম্পর্ক ছিন্ন রাখা হারাম। তবে দুই জনের মধ্যে যে ব্যক্তি প্রথমে সালাম দিয়ে সম্পর্ক পুনর্বহাল করবে, সেই ব্যক্তিই উত্তম।” (সহীহ আল বুখারী, সহীহ মুসলিম)
আল্লাহ বলেনঃ “হে মুমিনগণ, আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসূলের ও তোমাদের মধ্যকার নেতার আনুগত্য কর।” (সূরা আন নিসা)
রাসূল (সা) বলেছেনঃ “প্রত্যেক মুসলমানের উচিত নেতার আদেশ – তা পছন্দ হোক বা না হোক, যতক্ষণ কোন গুনাহর কাজের আদেশ না হয়, ততক্ষণ মেনে চলা। গুনাহর কাজের আদেশ দেয়া হলে তা মানা যাবেনা।” (সহীহ আল বুখারী, সহীহ মুসলিম)
রাসূল (সা) আরো বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি কোন ইসলামী জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে মারা যাবে, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করবে।”
উল্লেখ্য যে, রাসূল (সা) এর জীবদ্দশায় ইসলামী জামায়াত মাত্র একটাই ছিল, যার নেতা স্বয়ং রাসূল (সা) ছিলেন। পরবর্তীকালে ৪টি বৈশিষ্টের অধিকারী যে কোন সংগঠন ইসলামী জামায়াত বলে গণ্য হবেঃ
(১) আল কুরআন ও সুন্নাহ অনুসারে দলের যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
(২) আল কুরআন ও সুন্নাহ থেকে স্পষ্ট কোন হেদায়াত পাওয়া যায় না এমন ক্ষেত্রে পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ চলবে।
(৩) দলের লক্ষ্য হবে দেশে পূর্ণাংগ ইসলাম প্রতিষ্ঠা।
(৪) দলে নেতা ও কর্মীদের পারস্পরিক সমালোচনার ব্যবস্থা থাকবে।
উল্লেখ্য যে, সরকারের যে সব আদেশ ও আইন শরীয়ত বিরোধী নয়, তাও অমান্য করা জায়েজ নেই।
মিহি ও করুণ সুরের যাবতীয় বাজনা বাজানো ও শোনা হারাম ও কবীরা গুনাহ। গান যদি নিষিদ্ধ কাজে উদ্বুদ্ধকারী বক্তব্য সম্বলিত হয়, নারী কন্ঠে গাওয়া হয় এবং নিষিদ্ধ বাদ্য সহকারে গাওয়া হয় তবে তা হারাম ও কবীরা গুনাহ। পবিত্র আল কুরআনের সূরা লুকমানে যে “লাহওয়ালহাদীস’ এর নিন্দা করা হয়েছে, সে প্রসংগে হযরত ইবনে মাসউদ জোর দিয়ে বলেছেন যে, তার অর্থ গান। রাসূল (সা) বলেছেন, গায়ক-গায়িকাদের উপার্জিত অর্থ হালাল নয়। (তিরমিযী) একই কারণে অর্থাৎ নিষিদ্ধ কাজে তথা ব্যভিচারে প্ররোচিত করে বিধায় নৃত্যও হারাম। এ সব অনুষ্ঠান দেখা, শুনা ও আয়োজন করা কবীরা গুনাহ।
অনুরূপভাবে অশ্লীল ও হারাম কাজে উদ্বুদ্ধকারী গল্পগুজব, নাটক উপন্যাস ও খেলাধুলা ইত্যাদিও হারাম। রাসূল (সা) বলেছেনঃ আমি বাদ্যযন্ত্র ধ্বংস করার জন্য দুনিয়ায় এসেছি।
উল্লেখ্য যে, অশ্লীল বিষয়সম্বলিত নয়, এমন গান পুরুষকণ্ঠে বাদ্য ছাড়া গাওয়া হলে গুনাহ হবেনা।
সমাজ থেকে ব্যভিচারের সম্ভাবনা দূর করার জন্য ইসলামে পর্দার বিধান নাযিল করা হয়েছে এবং নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতার বিস্তার ঘটানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই বিধান লংঘন করা কবীরা গুনাহ। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ”মুমিন পুরুষদেরকে বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে ও লজ্জাস্থানের হেফাজাত করে।… মুমিন নারীদেরকে বলে দাও, তারা যেন দৃষ্টি সংযত রাখে, লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং তাদের রূপসৌন্দর্য ভিন্ন পুরুষের সামনে প্রকাশ না করে।”
রাসূল (সা) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি কোন পরস্ত্রীর প্রতি কু-দৃষ্টি দেবে, কিয়ামতের দিন তার চোখে গলিত সীসা ঢালা হবে।” রাসূল (সা) আরো বলেছেনঃ “কোন বেগানা পুরুষ ও স্ত্রী নিভৃতে সাক্ষাত করলে সেখানে শয়তান হয় তাদের তৃতীয় সংগী।”
আল্লাহ বলেনঃ”যারা মুমিনের মধ্যে নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতার বিস্তার ঘটানো পছন্দ করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।”
সুতরাং পর্দা লংঘনে প্ররোচনাকারী ও অশ্লীলতার বিস্তার সহায়ক যে কোন কাজ, কথা, লেখা, ছবি, নাটক, উপন্যাস বা সিনেমা সবই হারাম ও কবিরা গুনাহ।
রাসূল (সা) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি কোন খাদ্যদ্রব্য চল্লিশ দিনের বেশী গোলাজাত করে রাখবে, সে উক্ত খাদ্য সদকা করে দিলেও তার গোলাজাত করার গুনাহ মাফ হবেনা।”
তবে সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষ মুকাবিলার জন্য সরকারী উদ্যোগে প্রয়োজনাতিরিক্ত খাদ্য মওজুদ করা জায়েয।
রাসূল (সা) বলেছেনঃ “ধনী ব্যক্তি কর্তৃক পাওনা পরিশোধে গড়িমসি করা। যুলুমের শামিল। (সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিম)
রাসূল (সা) আরো বলেছেনঃ “শ্রমিকের মজুরী তার ঘাম শুকাবার আগে পরিশোধ করে দাও।”
কারো ইহকালীন বা পরকালীন, বৈষয়িক বা নৈতিক – যে কোন ধরনের সম্পদের ধ্বংস বা ক্ষয়ক্ষতি কামনা করা, এবং তার উন্নতি ও সুখসমৃদ্ধিতে কষ্ট পাওয়ার নামই হিংসা।
রাসূল (সা) বলেছেনঃ “তোমরা হিংসা থেকে দূরে থাক। কেননা আগুন যেভাবে শুকনো কাঠকে জ্বালিয়ে দেয়, হিংসা ঠিক সেভাবে কৃত সৎকাজকে ধ্বংস করে দেয়।”
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ”হে মুমিনগণ, তোমাদের এক গেষ্ঠী কর্তৃক অপর গেষ্ঠীকে ঠাট্টা বিদ্রুপ করা উচিত নয়। তারা অচিরেই তাদের চেয়ে ভালো হয়ে যেতে পারে। . . . একে অপরকে তিরস্কার করোনা এবং খারাপ উপাধিতে ভূষিত করোনা। ঈমানের পর গালিগালাজ ভীষণ গুনাহ।”
আল্লাহ আরো বলেনঃ “তোমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আল্লাহর রজ্জু ধারণ কর। এবং ছিন্নভিন্ন হয়োনা।” (আলে ইমরান)
রাসূল (সা) বলেনঃ “এক ব্যক্তি বলেছিল, আল্লাহর কসম আল্লাহ অমুককে কখনো মাফ করবেন না। তখন আল্লাহ বললেন, আমি ক্ষমা করবোনা এ কথা বলার তুমি কে? আমি তাকে ক্ষমা করেছি এবং তোমার সৎ কাজ বাতিল করে দিয়েছি।” (সহীহ মুসলিম)
রাসূল (সা) বলেছেনঃ “তোমার মুসলমান ভাই-এর বিপদে খুশী হয়োনা। তাহলে আল্লাহ তাকে বিপদমুক্ত করবেন এবং তোমাকে বিপদে আক্রান্ত করবেন।” (তিরমিযী)
রাসূল (সা) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি ছোটদেরকে স্নেহ করেনা ও বড়দেরকে সম্মান করেনা, সে আমার উম্মতভুক্ত নয়।”
তবে নামায ও সদাচার শেখানোর জন্য ছোটদেরকে শাসন করা অবশ্য কর্তব্য।
হাকীম ইবনে হিযাম (রা) বলেন, আমি তিনবার রাসূল (সা) এর কাছে সাহায্য চেয়েছিলাম। প্রতিবারই তিনি সাহায্য দিলেন এবং বললেনঃ “হে হাকীম, শোন! এই সকল সম্পদ খুবই লোভনীয় ও মজাদার। যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় গ্রহণ করে তার জন্য কল্যাণকর নয়। মনে রেখ, ওপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আপনার পর আমি আর কারো কাছে কিছু চাইবনা। অতঃপর হযরত আবু বকর ও উমর তাকে সাহায্য করতে চাইলেও হাকীম তা গ্রহণ করেননি।” (সহীহ আল বুখারী, সহীহ মুসলিম)
রাসূল (সা) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি ভিক্ষা করে, কিয়ামতের দিন তার মুখে গেশত থাকবেনা।”
রাসূল (সা) আরো বলেছেনঃ আল্লাহ যাকে দুনিয়াতে আযাবে নিক্ষেপ করতে চান, তাকে ঋণগ্রস্ত করেন।
রাসূল (সা) আরো বলেছেন : “যে ব্যক্তি নিশ্চয়তা দেবে যে সে কোন মানুষের কাছে কিছু চাইবে না, আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব।” (আবু দাউদ)
রাসূল (সা) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি তার মুসলমান ভাইকে তার এমন কোন গুনাহ ফাস করে লজ্জা দেবে যা সে পরিত্যাগ ও তওবা করেছে। সেই ব্যক্তি ঐ গুনাহে লিপ্ত না হয়ে মৃত্যু বরণ করবেনা।”
আল্লাহ বলেনঃ “হে মুমিনগণ! বেশী ধারণা পোষণ থেকে বিরত থাক। কেননা কিছু কিছু ধারণা পোষণ গুনাহ।” (সূরা আল হুজরাত)
রাসূল (সা) বলেছেনঃ “তোমরা ধারণা পোষণ থেকে বিরত থাক। কেননা ধারণা পোষণ করা সবচেয়ে বড় মিথ্যাচার।” (সহীহ আল বুখারী, সহীহ মুসলিম)
রাসূল (সা) বলেছেনঃ “মুমিনদের সম্পর্কে ভালো ধারণা পোষণ কর।”
উল্লেখ্য যে, কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন খারাপ ধারণা পোষণই অবৈধ। কোন সংগত কারণে স্বতস্ফূর্তভাবে খারাপ ধারণার সৃষ্টি হলে তাতে গুনাহ হবেনা। কিন্তু বিনা প্রমাণে তার ভিত্তিতে কোন পদক্ষেপ নেয়া জায়েজ নয়।
মসজিদকে সাধারণ ভবনে পরিণত করা, থুথু ফেলা ও অপবিত্র করা, বেচাকেনা ও হারানো জিনিসের বিজ্ঞাপন দেয়া, উচ্চৈস্বরে কথা বলা ও ঝগড়া করা, মসজিদে ইসলামী কার্যকলাপ চালাতে বাধা দেয়া, মসজিদকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা এবং কাফের বা ফাসেক লোককে মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করা। আল্লাহ বলেনঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহর মসজিদগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণে বাধা দেয় এবং মসজিদকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে, তার চেয়ে যালিম আর কে?” (সূরা আল বাকারাহ)
আমর ইবনে শা’ব বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সা) মসজিদে বেচাকেনা ও হারানো জিনিসের বিজ্ঞাপন দিতে নিষেধ করেছেন।
রাসূল (সা) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (কাঁচা) পেয়াজ বা রসুন খাবে, সে যেন মসজিদের কাছেও না আসে।
রাসূল (সা) আরো বলেছেনঃ মসজিদে থুথু ফেলা গুনাহ এবং তার কাফফারা হলো তা সরিয়ে ফেলা।
তবে মসজিদে শিক্ষাদান, বিচার অনুষ্ঠান পরামর্শ করা ও আলাপ আলোচনা দোষণীয় নয়। ঋতুবতী মহিলা এবং গেছল করা ফরয বা ওয়াজিব এমন অপবিত্র পুরুষের মসজিদে প্রবেশ করা অবৈধ।
আল্লাহ বলেনঃ “তুমি যা জাননা তার অনুসরণ করোনা।” (সূরা বনী ইসরাঈল)
রাসূল (সা) বলেছেনঃ “কোন মানুষের মিথুক হওয়ার জন্য সে যা শোনে তাই প্রচার করে বেড়ানোই যথেষ্ট।” (সহীহ মুসলিম)
রাসূল (সা) আরো বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি জনগণের প্রয়োজনীয় কোন জ্ঞান রাখে অথচ তা গেপন করে, কিয়ামতের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরানো হবে।
একাধিক স্ত্রী থাকলে প্রত্যেকের প্রতি সমান আচরণ না করা, সবার প্রতি সুবিচার করতে পারবে কিনা নিশ্চিত না হয়ে একাধিক বিয়ে করা, স্ত্রীকে এক সাথে তিন তালাক দেয়া, ঋতুবতী অবস্থায় তালাক দেয়া, ইদ্দতকালে বাড়ী থেকে বের করে দেয়া। স্ত্রীকে ঝুলন্ত রেখে দেয়া অর্থাৎ তালাকও না দেয়া এবং স্বাভাবিক সম্পর্কও না রাখা, সন্তানদের কাউকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা বা কমবেশী দেয়া, জীবিতবস্থায় সন্তানদের প্রতি লেনদেনে বৈষম্য করা বিশেষতঃ মেয়েদের প্রতি, স্ত্রীকে যৌতুক এনে দেয়ার জন্য চাপ দেয়া, স্ত্রীকে মোহরানা না দেয়া, প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়েকে বিনা ওযরে বিয়ে না দেয়া, বিনা ওযরে চিরকুমার থাকা। রাসূল (সা) বলেছেনঃ বিয়ে আমার সুন্নাত। যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত্ব অবজ্ঞা করবে সে আমার উম্মতভুক্ত নয়। রাসূল (সা) আরো বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর নিকট ভালো, সে আল্লাহর নিকটও ভালো।”
আল্লাহ বলেনঃ “যাকে আমি আমার স্মরণ থেকে উদাসীন করে দিয়েছি ও যে ব্যক্তি নিজের প্রবৃত্তির অনুসারী, তার আনুগত্য করোনা।” (সূরা আল কাহাফ)
রাসূল (সা) বলেছেনঃ “কোন ফাসিকের যখন প্রশংসা করা হয় তখন আল্লাহ রাগান্বিত হন এবং আরশ কেঁপে উঠে।”
আল্লাহ বলেনঃ “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সর্বাধিক খোদাভীরু, সে-ই সর্বাধিক সম্মানিত।”
রাসূল (সা) বলেছেনঃ “ইসলামের জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিম নরনারীর ওপর ফরয।”
দুই ঈদ, ও আইয়ামে তাশরীকে (১১, ১২ ও ১৩ই জিলহজ্জ) রোযা রাখা, ইচ্ছাকৃতভাবে অপবিত্র অবস্থায় নামায পড়া, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় নামায পড়া, পায়খানা ও পেশাবখানায় থাকা অবস্থায় ও মলমূত্র ত্যাগ করার সময়ে কোরআন পাঠ করা বা দোয়া পাঠ ও জিকির করা ইত্যাদি। বহু সংখ্যক হাদীসে এ কাজগুলিকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আল্লাহ বলেনঃ “অভাবের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করোনা।” (বনী ইসরাইল)
ইমামের খুতবা দেয়ার সময় কথাবলা, নামায পড়া বা দোয়াদরুদ পড়া, মসজিদে বিলম্বে এসে যারা আগে এসেছে তাদেরকে ডিংগিয়ে আগে যাওয়ার চেষ্টা করা। আল্লাহ বলেনঃ”হে মুমিনগণ! জুময়ার দিন যখন নামাযের জন্য ডাকা হয় তখন আল্লাহর স্মরণের জন্য দ্রুত চলে যাও এবং কাজ কারবার বন্ধ কর।” (সূরা জুময়া)
রাসূল (সা) বলেছেনঃ “ইমাম মিম্বরে আরোহণ করার পর কোন নামায বা কথাবার্তা বলবেনা।”
আল্লাহ বলেনঃ “যখন কোরআন পাঠ করা হয় তখন তা শ্রবণ কর ও নীরব থাক। হয়তো তোমাদের ওপর রহমত বর্ষণ করা হবে।”(আরাফ)
“আমার আয়াত তেলাওয়াত করা হলে কাফেরদের মুখে তুমি বিরক্তির চিহ্ন দেখতে পাবে।”(সূরা হাজ্জ)
আল্লাহ বলেন; “সেইসব যালেমের ওপর আল্লাহর অভিশাপ, যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে।” (সূরা আরাফ)
রাসূল (সা) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিনা ওযরে কোরবানী দেয় না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।”
আল্লাহ বলেনঃ “যখন তোমাদেরকে কেউ দোয়া করে, তখন তার চেয়ে উত্তম দোয়া কর অথবা তদ্রুপ দোয়া কর।” (সূরা নিছা) সালামও একটি দেয়া। তাই এর জবাব দেয়া জরুরী।
রাসূল (সা) বলেছেনঃ “যখন নারীর হাতে কর্তৃত্ব অর্পণ করা হবে তখন তোমাদের জন্য ভূপৃষ্ঠের চেয়ে ভূগর্ভই উত্তম হবে।”
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ “পুরুষরা নারীদের ওপর কর্তৃত্বশীল।”(সূরা নিসা)
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন