বজ্রপাণি (কাল রজনীতে এসেছিল যবে বৈশাখী পূর্ণিমা)

বিষ্ণু দে

কাল রজনীতে এসেছিল যবে বৈশাখী পূর্ণিমা,
আকাশের গায়ে লেগেছিল যবে শ্বেতচন্দন লেপ,
বাতাস দেখাল স্নিগ্ধ মধুর কুমারীর ভঙ্গিমা—
তোমার দূতেরে পাঠাইলে হায় রুদ্র বজ্রপাণি!

ফুলেরা শয়ান ড্যানায়ের মতো প্রতীক্ষ-দেহ-মনে,
নিঃশ্বাস মোর গন্ধে আতুর ভারাক্রান্ত মোহে,
রাধিকা চাঁদের আবেশ ঝরিছে সবুজ কুঞ্জবনে মু
ছে দিলে হায় পিঙ্গলিমায় অমোঘ বজ্রপাণি!

সুঠাম সুশ্ৰী মেদসুকোমল প্রিয়ারে বক্ষে ধরি
গলিতেছিলাম অর্থবিহীন সুমধুর কাকলিতে,
নাগরিকা মোর করুণ কোমল—মোদের লক্ষ্য করি
দধীচি-অস্থি হানিলে কঠোর কঠিন বজ্রপাণি!

সুগঠিত প্রেম, বাসনাবিলাস, উপবন পূর্ণিমা
দূর করে দিলে ঘোর ঝঞ্ঝায় চূর্ণ চূর্ণ করি,
যে ভুবনে মোরে নিয়ে এলে—কোথা নারীদেহরঙ্গিমা?
তোমারে আমার বন্ধু করিয়া কী লাভ বজ্রপাণি?

১৯৩০
সকল অধ্যায়
১.
পলায়ন (শফরী চোখের সরল চাহনি)
২.
কাব্যপ্রেম (তোমাকেই ঘিরে চলে রক্তস্রোত)
৩.
উদ্যাপন (স্বপ্নে আজ দেখেছি তোমাকে)
৪.
প্রেম (ফিরাও তোমার দৃষ্টি ফিরাও আমার চোখ হতে)
৫.
“অর্ধেক কল্পনা” (যেদিন জাগেনি বিশ্বে প্রাণস্পন্দে আদিম উৎসব)
৬.
প্রত্যক্ষ (সেইদিন দেখেছি তোমাকে)
৭.
বজ্রপাণি (কাল রজনীতে এসেছিল যবে বৈশাখী পূর্ণিমা)
৮.
অভীপ্সা (এ আকাশ মুছে দাও আজ)
৯.
অর্ধনারীশ্বর (সম্মুখে দুঃস্বপ্নরুক্ষ অসিধার কঠিন আকাশ)
১০.
সমুদ্র (ভাসিয়েছি প্রেম আজ নীলিমার অন্ধকার জলে)
১১.
সাগর উত্থিতা (সবুজ সমুদ্রে ওঠে অগণন ঢেউ)
১২.
উর্বশী (আমি নহি পুরূরবা)
১৩.
পর্যাপ্তি (যাক, আজ দূরে যাক তারা)
১৪.
সন্ধ্যা (বামদিকে গিরিশৃঙ্গ আকাশকে করেছে আহত)
১৫.
উর্বশী ও আর্টেমিস (সন্ধ্যার বর্ণের ছটা রয়েছে তো তবু)
১৬.
ছেদ (আমার হৃদয় হিম-অবজ্ঞায় করেছি বিকল)
১৭.
রাত্রিশেষে (আকাশের দুর্গে নেই পলাতকা অমাবস্যা আজ)
১৮.
অতিক্রম (রাত্রির বিশাল মুখ বাতায়নে উঁকি দেয় কালো)
১৯.
প্রত্যাবর্তন (আহা ষড়ঋতু! বনভবন!)
২০.
প্রজ্ঞাপারমিতা তাকে করে আশীর্বাদ
২১.
ভয় (বট আর অশথের ছায়াঘন কালো ভয়গুলি)
২২.
এপ্রিল (শুভ্রকেশ ঢেউ ছেড়ে, সমুদ্রের আলিঙ্গন ছিঁড়ে)
২৩.
গ্রীষ্ম (ঘন গ্রীষ্মতাপ)
২৪.
আলোক ছড়াও (শীতের উন্মুক্ত রৌদ্র কালো তার কেশে)
২৫.
সোহবিভেত্তস্মাদেকাকী বিভেতি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%