প্রত্যক্ষ (সেইদিন দেখেছি তোমাকে)

বিষ্ণু দে

সেইদিন দেখেছি তোমাকে,
কোলাহল-কুৎসিত এ নগরের ভিড়ে
দুষ্টশ্বাস জনতা-আঁধারে
বার হয়ে এলে
সবাইকে পিছে রেখে,
সবাইকে রেখে এলে নিচে,
–সেইদিন দেখেছি তোমাকে।

সেইদিন আমাদের গান
ভুলেছে আপন সুর যবনের আগত বেসুরে
পদচারকম্পিত সে ভিড়ে।

দেখতে চেয়েছি আরবার।

বজ্রপাণি রুদ্রাঘাতে দিক আজ সব কিছু মুছে,
মৈনাক ডুবিয়ে দিক পৃথিবীর জনতাকে আজ,
–প্রভাতে দুচোখ মেলে অতীতকে বাতাসে উড়িয়ে
দেখি যেন অকস্মাৎ
আদিম ও স্তব্ধ সেই সঙ্গহীনতায়
এলে তুমি সদ্যস্মিত রজনীগন্ধার মতো একা,
শুভ্র মরুভূর মাঝে একান্ত বিস্ময়
তুমি এলে তরুণ তমাল,
হাতে নিয়ে দীর্ঘ অবকাশ, স্বাধীন জীবন,
এলে তুমি নীরব নির্ভরে
তনু, সঙ্গীহীন।

১৯৩০
সকল অধ্যায়
১.
পলায়ন (শফরী চোখের সরল চাহনি)
২.
কাব্যপ্রেম (তোমাকেই ঘিরে চলে রক্তস্রোত)
৩.
উদ্যাপন (স্বপ্নে আজ দেখেছি তোমাকে)
৪.
প্রেম (ফিরাও তোমার দৃষ্টি ফিরাও আমার চোখ হতে)
৫.
“অর্ধেক কল্পনা” (যেদিন জাগেনি বিশ্বে প্রাণস্পন্দে আদিম উৎসব)
৬.
প্রত্যক্ষ (সেইদিন দেখেছি তোমাকে)
৭.
বজ্রপাণি (কাল রজনীতে এসেছিল যবে বৈশাখী পূর্ণিমা)
৮.
অভীপ্সা (এ আকাশ মুছে দাও আজ)
৯.
অর্ধনারীশ্বর (সম্মুখে দুঃস্বপ্নরুক্ষ অসিধার কঠিন আকাশ)
১০.
সমুদ্র (ভাসিয়েছি প্রেম আজ নীলিমার অন্ধকার জলে)
১১.
সাগর উত্থিতা (সবুজ সমুদ্রে ওঠে অগণন ঢেউ)
১২.
উর্বশী (আমি নহি পুরূরবা)
১৩.
পর্যাপ্তি (যাক, আজ দূরে যাক তারা)
১৪.
সন্ধ্যা (বামদিকে গিরিশৃঙ্গ আকাশকে করেছে আহত)
১৫.
উর্বশী ও আর্টেমিস (সন্ধ্যার বর্ণের ছটা রয়েছে তো তবু)
১৬.
ছেদ (আমার হৃদয় হিম-অবজ্ঞায় করেছি বিকল)
১৭.
রাত্রিশেষে (আকাশের দুর্গে নেই পলাতকা অমাবস্যা আজ)
১৮.
অতিক্রম (রাত্রির বিশাল মুখ বাতায়নে উঁকি দেয় কালো)
১৯.
প্রত্যাবর্তন (আহা ষড়ঋতু! বনভবন!)
২০.
প্রজ্ঞাপারমিতা তাকে করে আশীর্বাদ
২১.
ভয় (বট আর অশথের ছায়াঘন কালো ভয়গুলি)
২২.
এপ্রিল (শুভ্রকেশ ঢেউ ছেড়ে, সমুদ্রের আলিঙ্গন ছিঁড়ে)
২৩.
গ্রীষ্ম (ঘন গ্রীষ্মতাপ)
২৪.
আলোক ছড়াও (শীতের উন্মুক্ত রৌদ্র কালো তার কেশে)
২৫.
সোহবিভেত্তস্মাদেকাকী বিভেতি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%