অতিক্রম (রাত্রির বিশাল মুখ বাতায়নে উঁকি দেয় কালো)

বিষ্ণু দে

রাত্রির বিশাল মুখ বাতায়নে উঁকি দেয় কালো,
একাকী রয়েছি বসে অরণ্যের বাংলোর ঘরে।
আকাশে নেইকো আলো, পৃথিবীর নিভে গেছে আলো
অরণ্যের অন্ধকার ছুটে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে ঘরে।
অন্ধকার সমুদ্রের মাঝে আমি ডুবে আছি একা।
কণ্টকিত অন্ধকারে চেতনায় অবসাদ ক্ষরে।
এ হৃদয়ে আশা নেই, হাস্যহীন জাগে শুধু ভয়।
ভয়ের তরঙ্গ ওঠে অরণ্যের অন্ধকার হতে।
অদূরে পর্বত কালো আগন্তুক দস্যুব ইঙ্গিত।
জনশূন্য অরণ্যের কণ্টকিত অন্ধকার স্রোতে
স্তব্ধতা মথিত করে পিছু থেকে মর্মরিত ভয়
মুঠিতে আমাব ক্লিষ্ট স্নায়ু চেপে মুখে চেয়ে রয়।

বিতৃষ্ণার তরণীতে তোমাকে করেছি কবে দূর,
আছে শুধু জনশূন্য অরণ্য ও পর্বত বন্ধুর।
আর আছে নবাগত অজ্ঞাত এ রাত্রির আঁধার,
নিদ্রাহীন ভয় আছে অগুণ্ঠিত পৃথিবীর পাশে,
বিনিদ্র আমার ভয় অরণ্যের বিদেশী নিঃশ্বাসে।
করেছি তোমাকে দূর বিধাতার কল্পিত আশ্বাসে—
সে কল্পনা পলাতকা জনহীন স্তব্ধ অন্ধকারে।

১৯৩১
সকল অধ্যায়
১.
পলায়ন (শফরী চোখের সরল চাহনি)
২.
কাব্যপ্রেম (তোমাকেই ঘিরে চলে রক্তস্রোত)
৩.
উদ্যাপন (স্বপ্নে আজ দেখেছি তোমাকে)
৪.
প্রেম (ফিরাও তোমার দৃষ্টি ফিরাও আমার চোখ হতে)
৫.
“অর্ধেক কল্পনা” (যেদিন জাগেনি বিশ্বে প্রাণস্পন্দে আদিম উৎসব)
৬.
প্রত্যক্ষ (সেইদিন দেখেছি তোমাকে)
৭.
বজ্রপাণি (কাল রজনীতে এসেছিল যবে বৈশাখী পূর্ণিমা)
৮.
অভীপ্সা (এ আকাশ মুছে দাও আজ)
৯.
অর্ধনারীশ্বর (সম্মুখে দুঃস্বপ্নরুক্ষ অসিধার কঠিন আকাশ)
১০.
সমুদ্র (ভাসিয়েছি প্রেম আজ নীলিমার অন্ধকার জলে)
১১.
সাগর উত্থিতা (সবুজ সমুদ্রে ওঠে অগণন ঢেউ)
১২.
উর্বশী (আমি নহি পুরূরবা)
১৩.
পর্যাপ্তি (যাক, আজ দূরে যাক তারা)
১৪.
সন্ধ্যা (বামদিকে গিরিশৃঙ্গ আকাশকে করেছে আহত)
১৫.
উর্বশী ও আর্টেমিস (সন্ধ্যার বর্ণের ছটা রয়েছে তো তবু)
১৬.
ছেদ (আমার হৃদয় হিম-অবজ্ঞায় করেছি বিকল)
১৭.
রাত্রিশেষে (আকাশের দুর্গে নেই পলাতকা অমাবস্যা আজ)
১৮.
অতিক্রম (রাত্রির বিশাল মুখ বাতায়নে উঁকি দেয় কালো)
১৯.
প্রত্যাবর্তন (আহা ষড়ঋতু! বনভবন!)
২০.
প্রজ্ঞাপারমিতা তাকে করে আশীর্বাদ
২১.
ভয় (বট আর অশথের ছায়াঘন কালো ভয়গুলি)
২২.
এপ্রিল (শুভ্রকেশ ঢেউ ছেড়ে, সমুদ্রের আলিঙ্গন ছিঁড়ে)
২৩.
গ্রীষ্ম (ঘন গ্রীষ্মতাপ)
২৪.
আলোক ছড়াও (শীতের উন্মুক্ত রৌদ্র কালো তার কেশে)
২৫.
সোহবিভেত্তস্মাদেকাকী বিভেতি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%