মৃত্যুদণ্ড

দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

Mrityudondo New

দোল-পূর্ণিমার সকালবেলা। শহর জুড়ে আজ রঙের উৎসব। বেশ কয়েক-বছর বাদ যাবার পর এ-বছর গৌড়ের রাজবাড়িতে এ-উৎসব ফিরে এল।

রাজা গোসাল-এর মুখে কেউ একজন এসে খানিক লাল আবির মাখিয়ে দিয়ে গেছে। কে সে তা চেনার উপায় নেই অবশ্য। রঙে মাখামাখি হয়ে আছে সবাই।

বৃদ্ধ প্রদ্যুম্নশর্মা তাঁর নধর টিকিটিতে একগুচ্ছ পলাশফুল বেঁধে হাতে একটি ছোট লাঠি নিয়ে শ্রীকৃষ্ণ সেজে ত্রিভঙ্গমুরারী ভঙ্গীতে দাড়াবার চেষ্টা করছিলেন। সেই করতে গিয়ে বৃদ্ধ বারবার মাটিতে পড়ে যাচ্ছেন বটে। কিন্তু তাতে তাঁর উৎসাহের ঘাটতি নেই। তাঁকে ঘিরে একটি বড় জটলা হয়েছে। স্বয়ং মহারাজ গোসাল পাশে দাঁড়িয়ে। উৎসবে মজেছেন তিনি নিজেও। হাতে গুটিকতক স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে সকলকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন। অবশ্য নানান রঙের আবীরের চূর্ণ মাখা জনতার ভিড়ে কোনটি যে মহারাজ তা বিশেষ করে ঠাহর না করলে বোঝা দুষ্কর।

শ্রীকৃষ্ণ সাজবার ব্যর্থ চেষ্টা করতে-করতেই মন্ত্রী প্রদ্যুম্নশর্মা একবার মহারাজের দিকে তাকিয়ে খুশিয়াল এক-টুকরো হাসি হাসলেন, “ললিতাদিত্যের আক্রমণের সেই ভয়ঙ্কর দিনগুলোর পর গৌড় যে কখনও এই আনন্দের দিনগুলো ফিরে পাবে…”

গোসাল তাঁর দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়লেন একবার। কিছুদিন আগে, কনৌজরাজ যশোবর্মনকে পরাস্ত করবার পর, ললিতাদিত্য যখন তাঁর দুর্ধর্ষ বাহিনী নিয়ে গৌড়ে হানা দিয়েছিলেন, তখন একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না গোসাল। রক্তের নদী বয়ে গিয়েছিল গৌড়ের পথে-পথে। সে-সময় এই প্রদ্যুম্নশর্মার বুদ্ধিতেই ললিতাদিত্যের কাছে হার মেনে নিয়েছিলেন তিনি। হয়তো দেশের স্বার্থে তা প্রয়োজনীয় ছিল, কিন্তু তবু সে-যন্ত্রণা তাঁর বুক থেকে আজও মুছে যায়নি।

প্রদ্যুম্নশর্মা যেন তাঁর মনের কথাগুলো পড়তে পারছিলেন। মাথা নেড়ে বললেন, “পিছিয়ে যাওয়াও যুদ্ধের একটা কৌশল মহারাজ। সেদিন পিছিয়ে গিয়েছিলেন বলেই আজ…”

গোসাল মাথা নাড়লেন। কথাটা ভুল নয়। সেদিন হার মেনে নিয়েছিলেন বলেই গৌড় রক্ষা পেয়েছে। সেই আক্রমণের শিক্ষা থেকেই তিনি গত ক’বছরে গড়ে তুলেছেন গৌড়ের দুর্ধর্ষ সৈন্যবাহিনী। তারই ভরসায় ফের স্বাধীনতা ঘোষণা করে, বন্ধুত্বের অনুরোধ জানিয়ে তাঁর পাঠানো চিঠি পৌঁছে গেছে ললিতাদিত্যের দরবারে। আজ তাই উৎসবের দিন।

“সবই আপনার সুপরামর্শের ফল প্রদ্যুম্নশর্মা। আপনি না থাকলে…”

“মহারাজ!”

হঠাৎ পেছন থেকে নীচুগলার ডাকটা পেয়ে চমক ভাঙল গোসাল-এর। তারপর সেদিকে ঘুরে দেখে উদ্বিগ্ন মুখে বললেন, “সুমন্ত্র! বলো। জরুরি কোনও খবর?”

সদ্য এসে তাঁর পেছনে দাঁড়ানো মানুষটার পরণে সাধারণ পোশাক। ছোট-খাটো মানুষটাকে দেখে, সে মহারাজের প্রধান দেহরক্ষী বলে কারও ঘুণাক্ষরেও সন্দেহ হবে না।

রসভঙ্গকারী মানুষটার দিকে প্রদ্যুম্নশর্মাও ঘুরে তাকিয়েছেন ততক্ষণে। কথাটা শুনে উপবিত বের করে নকল রাগের ভঙ্গীতে বলে উঠলেন, “ভো ভো রাজপুরুষ, বসন্তোৎসবের দিনে মহারাজকে রাজকার্যে লিপ্ত করবার ন্যায় পাপের কারণে তুমি রৌরব নরকে…”

কিন্তু তাঁর কথাটা শেষ করবার আগেই দেখা গেল মহারাজ বাগান ছেড়ে বের হয়ে গেছেন। সেইদিকে একনজর তাকিয়ে দেখে প্রদ্যুম্নশর্মা টিকিটি নাড়িয়ে গম্ভীরভাবে বললেন, “এই জন্যে শাস্ত্রে বলেছে, রাজা হওয়া সুখের নয়। এমন আনন্দের দিনেও নীরস রাজকার্য…”

অবশ্য কোন শাস্ত্রে যে এমন উক্তি আছে সে-কথা তাঁকে কেউ জিজ্ঞাসা করল না। সকলেই তখন উৎসবে মত্ত। পশ্চিম দিগন্তে যে মেঘ জমে উঠছে, সে খবর নেবার সময় কোথায় তাদের? ক্ষণস্থায়ী জীবন। তার চেয়েও ক্ষণস্থায়ী বসন্ত উৎসবের দিনটি। অতএব সবকিছু ভুলে দিনটিকে পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করবার চেষ্টায় আবার মেতে উঠল সকলে।

“রাজা চলে গেল তাতে কী হল? এসো ঠাকুরদাদা, আমি তোমার রাধা হব এখন।”

চপল হেসে রঙমাখা একটি কিশোরী প্রদ্যুম্নশর্মার দিকে একটা পলাশের মালা নিয়ে এগিয়ে আসছিল। চেনা মেয়ে। নগরপালের কন্যা ললিতা। প্রদ্যুম্নশর্মার সঙ্গে ভারি আহ্লাদের সম্পর্ক তার।

রঙের আড়ালে প্রদ্যুম্নশর্মার মুখ থেকে ততক্ষণে সমস্ত চাপল্যের চিহ্ন মিলিয়ে গেছে। আসলে মুখে যতই রঙ্গরসিকতা করুন না কেন, সুমন্ত্র কেন এসে এ-ভাবে উৎসবের মধ্যে থেকে মহারাজকে ডেকে নিয়ে গেছে তা তাঁর চাইতে বেশি কেউ জানে না। জানে না, কারণ, যে-কাজ থেকে ফিরে এসেছে সুমন্ত্র, প্রদ্যুম্নশর্মা নিজেই তাকে সে-কাজে পাঠিয়েছিলেন কয়েকদিন আগে।

মেয়েটির গলা শুনে নিজের গাম্ভীর্যকে ফের চপলতার আড়ালে একটুক্ষণের জন্য লুকিয়ে ফেললেন প্রদ্যুম্নশর্মা। তারপর মেয়েটির থুতনি ধরে নেড়ে দিয়ে বললেন, “ওরে বাস রে! মহারাজ মন্ত্রণাকক্ষে গেছেন আর আমি মন্ত্রী হয়ে এখন তোমার কৃষ্ণ সাজলে শেষে মন্ত্রীর কাজটা কি আর থাকবে? তুমি অন্য কৃষ্ণ খুঁজে নাও রাধিকে। আমি বরং খানিক মথুরা হয়ে ফিরে আসছি।”

বলতে-বলতে পেছন ঘুরে বাগানের দরজার দিকে পা বাড়ালেন প্রদ্যুম্নশর্মা। ততক্ষণে তাঁর মুখে ফের একটা আশঙ্কার অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছে। কী খবর বয়ে এনেছে সুমন্ত্র কে জানে? তিনি যা অনুমান করছেন তা যদি সত্যি হয়…

*

“ঠিক এক মাস আগে কনৌজে ললিতাদিত্যের এক ছদ্মবেশী চরের দেখা মিলেছিল মহারাজ। সেখান থেকে গণ্ডক পেরিয়ে সে পুবমুখে রওনা হয়।”

“জানি। আপনি আমাকে জানিয়েছিলেন।” প্রদ্যুম্নশর্মার দিকে মুখ ফিরিয়ে মাথা নাড়লেন গোসাল, “এখন নতুন কী খবর আছে তা বলুন।”

“সেই থেকে আমার গুপ্তচররা এর গতিবিধির ওপর নজর রেখে চলেছে। রাজমহল পাহাড় পার হবার পর আমি সুমন্ত্রকে পাঠিয়েছিলাম তার ওপর নজর রাখবার জন্য। এইবার বলো সুমন্ত্র।”

সুমন্ত্র মাথা নাড়লেন, “লোকটি গৌড় শহরে এসে সোমভদ্রর সরাইতে উঠেছে কাল রাত্রে। রাজবাড়ির কাছেই। গুপ্তঘাতক হওয়া অসম্ভব নয়।”

“সন্দেহের কারণ?”

“কারণ সোমভদ্রকে কিছু স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে এ মহারাজের সঙ্গে দেখা করবার উপায় জানতে চেয়েছিল। এ-খবর পাবার পর আমি আর দেরি করিনি। চরকে ধরে আনা হয়েছে। এখন আপনি চাইলে একে…”

মুখটা শক্ত হয়ে উঠছিল গোসাল-এর। বন্ধুত্বের ডাকের জবাবে এতটা জঘন্য কাজ ললিতাদিত্যের মত বীর করতে পারেন বলে তিনি ভাবেননি। হঠাৎ আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন তিনি, “আমি একে দেখতে চাই।”

“মহারাজ, মানুষটা হয়তো খুনে…”

“থামুন প্রদ্যুম্নশর্মা। কতটা দুর্বল ভাবে আমাকে ললিতাদিত্য? একজন গুপ্তঘাতক পাঠিয়ে সে গোসালকে শেষ করে দেবে? আমি এর মাথাটা ছিঁড়ে নিয়ে ললিতাদিত্যকে উপহার পাঠাব আজ।” বলতে-বলতেই দেয়াল থেকে একটা তলোয়ার টেনে নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন রাজা গোসাল।

*

সন্ধ্যার মুখমুখ মন্ত্রণার ঘরে ফের ডাক পড়তে সেখানে গিয়ে প্রদ্যুম্নশর্মা একটু অবাকই হয়েছিলেন। মহারাজের সিংহাসনের ঠিক নীচে আরেকটা আসনে বসে আছে কাশ্মিরী মানুষটা। নিচুগলায় মহারাজের সঙ্গে কিছু রসিকতা করছিল সে। প্রদ্যুম্নশর্মা ঘরে ঢুকে আসতে মহারাজ তাঁকে ইশারায় কাছে ডাকলেন, “কাশ্মীররাজের দূত তীক্ষ্ণদেব-এর সঙ্গে আলাপ করুন। বড় একটা ভুল করতে চলেছিলাম আমি। স্বয়ং বিষ্ণু রক্ষা করেছেন।”

“ভুল? অর্থাৎ…”

“আমার চিঠির জবাবে ললিতাদিত্যের এই বন্ধুত্বের প্রস্তাবটা আমার কাছে লুকিয়ে পৌঁছে দেবার জন্যই দূতের এত সাবধানতা। পড়ে দেখুন।”

বাড়িয়ে ধরা চিঠিটা হাতে নিয়ে তাতে চোখ বুলিয়ে দেখলেন প্রদ্যুম্ন। তারপর একটু অবাক গলায় বললেন, “সামান্য কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে গোপনে গৌড় ছেড়ে কাশ্মীর যাওয়ার প্রস্তাব! আপনি তাতে রাজি?”

“ললিতাদিত্যের প্রস্তাবে যুক্তি আছে।” মাথা নাড়লেন গোসাল, “গৌড় ও কাশ্মীর এখন ভারতের দুই সেরা শক্তি। আমরা হাত মেলাতে চাইলে তা ভারতের অনেক রাজারই দুশ্চিন্তার কারণ হবে। যে-কোনও পথে তারা তা আটকাতে চাইবে। কাজেই লোকজানাজানি করে সদলবলে আমার সেখানে যাওয়া উচিৎ হবে না।”

“কিন্তু মহারাজ, এ-ভাবে অরক্ষিত অবস্থায়…”

গোসাল হাসলেন, “চিঠির শেষটুকু পড়ুন প্রদ্যুম্নশর্মা। তাঁর আরাধ্য দেবতা স্বয়ং পরিহাসকেশবের নামে শপথ করেছেন ললিতাদিত্য, তাঁর রাজ্যে কেউ আমার কোনও ক্ষতি করবে না। আজ দোল-পূর্ণিমার পবিত্র দিনে এই চিঠির এসে পৌঁছানো বোধ হয় বিষ্ণুরই ইঙ্গিত। গৌড় আর কাশ্মীর হাত মিলিয়ে ভারতবর্ষে সোনার দিন আনুক এই তাঁর ইচ্ছা।”

“তাহলে হুকুম দিন মহারাজ, আপনার ব্যক্তিগত রক্ষীর দলকে নিয়ে তৈরি হই…” সুমন্ত্র বলে উঠল।

“মাপ করবেন মহারাজ।” তীক্ষ্ণদেব মুখ খুললেন হঠাৎ, “সুমন্ত্র ঢালির নেতৃত্বে আপনার কুড়িজন দেহরক্ষীর বীরত্বের খ্যাতি কাশ্মীর অবধি ছড়িয়েছে। এঁরা একসঙ্গে প্রাসাদ ছেড়ে উধাও হলে আপনার যাত্রার কথা…”

“গোপন থাকবে না। ঠিকই বলেছেন।” মৃদু হেসে মাথা নাড়লেন গোসাল, “প্রদ্যুম্নশর্মা, বন্দোবস্ত করুন। প্রচার করুন মহারাজ অসুস্থ। ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে কয়েকজন সাধারণ সঙ্গী নিয়ে আমি তীক্ষ্ণদেবের সঙ্গে যাব। ভয় নেই। আমায় রক্ষার দায়িত্বে স্বয়ং পরিহাসকেশব রইলেন।”

*

“প্রণাম মহারাজ।”

বাইরে তীব্র বাতাস বইছিল। ছুরির মত ধারালো, বরফের মত ঠান্ডা এই হাওয়ায় বাষ্পের ছিটেফোঁটা থাকে না। শরীরের যেখানে তা স্পর্শ করে, মরুভূমির বালির মতই শুকনো করে দেয় তাকে। গত দেড় মাস ধরে দিগ্বিজয় অভিযানে তিব্বতের ঊষর পার্বত্য অঞ্চলের এই রুক্ষ আবহ ললিতাদিত্যের শরীরেও ছাপ ফেলেছে। শরীরের রাজকীয় লালিত্য হারিয়ে গিয়েছে তাঁর। সামনে বসে থাকা কঠোর চেহারার মানুষটার পেশীবদ্ধ শরীর, তাঁর শীর্ণ মুখের উঁচু হনু আর কোটরে ঢুকে যাওয়া উজ্জ্বল চোখ-দু’টির দিকে তাকিয়ে শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে এল তীক্ষ্ণদেবের। মহারাজের দুই জ্যেষ্ঠ ভাই চন্দ্রপীড় এবং তারাপীড় সুশাসক ছিলেন হয়তো, কিন্তু এ-হেন কষ্ট সহ্য করে দিগ্বিজয়ের রথ ছুটিয়ে কাশ্মীর সাম্রাজ্যকে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে দেবার ক্ষমতা তাঁদের ছিল না। কূটবুদ্ধি ও বাহুবল, এই দুয়ের মিশ্রণে তাঁর প্রিয় সম্রাট ললিতাদিত্য যেন স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের অবতার।

“তীক্ষ্ণদেব! স্বাগত। আমার শিবির খুঁজে বের করতে সমস্যা হয়নি তো?”

মাথা নাড়লেন তীক্ষ্ণদেব, “কাশ্মীরের সীমান্ত অতিক্রম করবার পর মহারাজের দিগ্বিজয় অভিযানের চিহ্ন ধরে এইখানে এসে পৌঁছোতে কোনও অসুবিধাই হয়নি মহারাজ।”

“বেশ। কাজ হয়েছে?”

একটু হেসে ললিতাদিত্যের সেরা গুপ্তঘাতক তীক্ষ্ণদেব শুকনো রক্তের দাগ লাগা একটা রাজপোশাক তাঁর সামনে বিছিয়ে দিলেন। তার বুকে একটা ছেঁড়া গর্ত।

“এক পক্ষকাল আগে রাত্রে ঘুমের মধ্যেই কাজ শেষ করেছি মহারাজ। গোসালার অনুচররা টেরও পায়নি। তারপর দিনরাত ঘোড়া চালিয়ে এইমাত্র এসে পৌঁছেছি। ”

“ধন্য তীক্ষ্ণদেব।” বলতে-বলতেই চওড়া একটা হাসি ছড়িয়ে পড়ছিল ললিতাদিত্যের মুখে, “মূর্খ বাঙালিটা ভেবেছিল, কিছু সৈন্য জড়ো করেই ললিতাদিত্যের সঙ্গে টক্কর নেবে। এবার অরাজক গৌড়কে বশ মানাতে বেশি সমস্যা হবে না। কী বলেন অগ্রক?”

“কিন্তু মহারাজ, আপনি যে চিঠিতে স্বয়ং পরিহাসকেশবের নামে শপথ করেছিলেন…” পাশে বসে নক্ষত্র-গণনার কাজ করতে-করতেই পুরোহিত অগ্রক উত্তেজিত হয়ে ঘুরে তাকালেন ললিতাদিত্যের দিকে।

ললিতাদিত্য মৃদু হেসে তীক্ষ্ণদেবের দিকে ফিরলেন, “কাজটা কোনখানে সমাধা করেছ?”

“আপনি যেমন বলেছিলেন! ত্রিগামী শহরের কাছে।”

এইবার অগ্রকের দিকে তাকিয়ে একটু হাসলেন ললিতাদিত্য, “চিঠির বয়ান তো আপনাকে দিয়েই লিখিয়েছিলাম অগ্রক। তাতে পরিহাসকেশবের নামে শপথ করেছিলাম, আমার রাজ্যে তাঁর কোনও ক্ষতি কেউ করবে না। ত্রিগামী…”

“কাশ্মীরের সীমানার বাইরে!” উত্তেজিত হয়ে উঠে দাঁড়ালেন অগ্রক, “ধন্য আপনার কূটবুদ্ধি মহারাজ।”

ললিতাদিত্যের মুখের হাসিটা চওড়া হল এবার, “আমি পরিহাসকেশব কৃষ্ণের দেখানো পথেই চলি অগ্রক। মহাভারতের যুদ্ধে তিনি যে-পথে দ্রোণের মৃত্যু এনেছিলেন আমি কেবল তাকে অনুসরণ করেছি। অধর্ম আমি করি না।”

খেতে বসেছিলেন সুমন্ত্র ঢালী। বেলা সবে দুপুর পেরিয়েছে। মাটির বারান্দায় কলাপাতার ওপরে ভাতের স্তূপ, সামান্য ঘি, পাটশাক আর মহানন্দা থেকে ধরে আনা মৌরলা মাছের ঝোল।

এমনিতে দুপুরবেলা বাড়ির ভাত খাওয়া সুমন্ত্রর হয় না। স্বয়ং রাজার দেহরক্ষী। দিন-রাত রাজবাড়িতেই কেটে যায় তাঁর। তবে এখন কয়েকটা দিন কাজ খানিক হালকা পড়েছে। মহারাজ রাজ্যে নেই। তবে খবরটা গোপন রাখা আছে। ফলে রাজবাড়িতে থাকতে হলেও মাঝেমাঝে বাড়িতে আসার সুযোগ মেলে।

আজ সন্ধ্যায় বুদ্ধনাটকের অনুষ্ঠান হবে গৌড়ের পাশের এই অভিরামপুর গ্রামে। সুমন্ত্র একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি। অতএব বিহারে আজ সন্ধ্যায় তাঁর সস্ত্রীক নিমন্ত্রণ। বহুকাল বাদে রাজকার্যের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে এমন কোনও অনুষ্ঠানে যাবার সুযোগ মিলেছে আজ। সন্ধেবেলার সেই আসন্ন অনুষ্ঠানের কথা ভাবতে-ভাবতেই অলস চোখে মহানন্দার বুকের দিকে তাকিয়ে দেখছিলেন সুমন্ত্র। অজস্র ছোট-বড় নৌকার ভিড় সেখানে।

সেদিকে তাকিয়ে থাকতে-থাকতেই হঠাৎ মাঝারি আকারের একটা নৌকার দিকে চোখ গেল তাঁর। কয়েক মুহূর্ত সেদিক নজর করেই হঠাৎ অসমাপ্ত খাবার থালা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে পড়লেন সুমন্ত্র। নদীর মূল স্রোত ছেড়ে তিরের মত নৌকাটা তাঁর বাড়ির সামনে অভিরামপুর ঘাটের দিকেই এগিয়ে আসছিল।

একটু অবাক হয়েই সেদিকে তাকিয়ে রইলেন সুমন্ত্র ঢালী। খানিক দূরেই গৌড়ের প্রধান ঘাট ছেড়ে অভিরামপুরের স্নানঘাটে কোনও নৌকার তো…

আর তারপরেই হঠাৎ ভাতের থালা ভুলে এঁটো হাতেই উঠোনের ওপর নেমে এলেন তিনি। নৌকার মাথায় উড়িয়ে দেয়া রাজচিহ্ন দেয়া কালো পতাকাটা এইবার চোখে পড়েছে তাঁর। মেরুদণ্ড দিয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল সুমন্ত্রর। একমাত্র রাজা গুরুতর আহত হলে বা তাঁর মৃত্যু হলে…

কয়েক-মুহূর্তের মধ্যে নৌকা যখন এসে ঘাটে ভিড়েছে ততক্ষণে সুমন্ত্র সেখানে একটা ঘোড়ায় টানা গাড়ি নিয়ে এসে দাঁড়িয়েছেন। নৌকা থেকে নেমে আসতে থাকা হা-ক্লান্ত, বিধ্বস্ত মানুষগুলোর মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি বারংবার খোঁজেন… মহারাজ…

আস্তে-আস্তে নৌকা ছেড়ে তাঁর পাশে এসে দাঁড়ালেন রাজপুরোহিত পরাশর শর্মা। গোসালার সঙ্গে তিনিও রওনা হয়েছিলেন কাশ্মীরের পথে। তার কাঁধে হাত রেখে বললেন, “মহারাজ আর নেই। প্রাসাদে চলো।”

*

“সুমন্ত্র?”

রাতের অন্ধকারে উনিশজন মানুষের একটা দল এসে তার উঠোনে দাঁড়িয়েছে।

“আমাদের ডেকেছিলে?”

সুমন্ত্র ইশারায় তাঁদের ঘরে উঠে আসতে বললেন। গত তিনমাস তিনি এই ঘরের চৌহদ্দি ছেড়ে বের হননি। গত তিনমাস তিনি চোখের সামনে দেখেছেন গোসালার সাধের সাম্রাজ্যের টুকরো-টুকরো হয়ে যাবার ছবিটা। দেখেছেন, সিংহাসন খালি হতেই ক্ষমতার দখল নিয়ে রাজ্যজোড়া রক্তঝরা যুদ্ধ।

“হ্যাঁ। আমরা যে কুড়িজন রক্ষী রাজার জন্য দরকারে প্রাণ দেবার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, শুধু তাদেরই আমি ডেকেছি। একটা প্রশ্ন করবার জন্য। রাজার মৃত্যুর প্রতিশোধ কি আমরা নেব না?”

“কিন্তু কী-ভাবে? ললিতাদিত্য হিন্দুকুশ পেরিয়ে দিগ্বিজয়ে গিয়েছেন। তাঁকে…” হাজির হওয়া দলটার ভেতর থেকে একটা পরিচিত গলা উঠে এল।

“জানি লক্ষ্মণবর্মা। কিন্তু রাজার নিরাপত্তার আশ্বাস যিনি দিয়েছিলেন সেই পরিহাসকেশব কাশ্মীরের মন্দিরেই রয়েছেন।”

“সুমন্ত্র! তিনি স্বয়ং ভগবান…”

“বিশ্বাসঘাতক স্বয়ং ভগবান হলেও ছাড় পাবেন না। আমি ঠিক করেছি, আমি নিজে কাশ্মীরে যাব তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিতে। হয়ত পারব না। কিন্তু সে-চেষ্টা করতে-করতে নিজের প্রাণটা তো দিতে পারব! যাঁকে রক্ষা করবার জন্য প্রাণ দিতে তৈরি হয়েছিলাম তিনি তাঁর ভরসায় পথে বের হয়ে পশুর মত প্রাণ দিলেন, আর আমি জীবিত থেকে…” উঠে আসা কান্নায় বাকি কথাগুলো হারিয়ে গেল তাঁর।

তখন সেই অন্ধকারে একের-পর-এক হাত এসে তাঁর শরীরে ঠেকছিল। উনিশজোড়া হাত একত্র হয়ে প্রতিজ্ঞা করছিল, রাজার খুনের বদলে বিশ্বাসঘাতক পরিহাসকেশবের মৃত্যুদণ্ড দেবে তারা। অথবা সেই চেষ্টায় নিজেদের প্রাণ দেবে। এ তাদের কর্তব্য।

*

বর্ষা শেষ। এখানে, ঘননীল আকাশের নীচে, হিমালয়ের ধবধবে চুড়োগুলোকে ভারি সুন্দর দেখায়। তাদের মাঝখানে এক-টুকরো হিরের মতই জ্বলজ্বল করে ললিতাদিত্যের রাজধানী শ্রীনগর। মহারাজ দিগ্বিজয়ে গিয়েছেন। শহরে ছুটির আমেজ। সেখানে, পথচলতি মানুষজনের ভিড়ে কুড়িজন তীর্থযাত্রীর একটা দল ইতিউতি ঘুরে বেড়ায়। তাদের গায়ে লম্বা পথ চলবার ধুলো। ঘুরতে-ঘুরতেই পথের পাশের একটা সরাইখানায় এসে বসেছে তারা। কিছু খেয়ে নেবার জন্য।

“বলি, ঠান্ডা কোথায় হে, যে গায়ে এমন গরম জিনিস চাপিয়েছ?” তাদের খাওয়া দেখতে-দেখতে কৌতুহলী দোকানওয়ালি জিজ্ঞাসা করল।

রুটির শেষ টুকরোটা মুখে পরে তাদের একজন উঠে দাঁড়ালেন। তারপর একটা থলে থেকে ক’টি তামার মুদ্রা বের করে মেয়েটার হাতে দিয়ে বললেন, “আমরা গঙ্গাপাড়ের মানুষ কিনা, তাই অল্পতেই ঠান্ডা লাগে।”

শুনে দোকানদারনি হেসে বলে, “তা... দেশ দেখতে বুঝি?”

“উঁহু। তীর্থে এসেছি। পরিহাসকেশবের মন্দিরের পথটা কোনদিকে বলো দেখি!”

“ওইতো ডাইনে দেখো। চুড়ো দেখা যাচ্ছে। তবে দূর অনেকটা। শহর ছেড়ে একেবারে সেই টিলার মাথায়। সময়…”

বলতে-বলতেই একটু বিরক্ত হয়ে মাথা নাড়ল সে। লোকগুলো দোকান ছেড়ে এর মধ্যেই রাস্তাটা ধরে বড়-বড় পায়ে রওনা দিয়েছে। দাঁড়িয়ে সুস্থির হয়ে দুটো কথা বলবি কোথায়, তা না! আরে মন্দির কি পালাচ্ছে নাকি কোথাও?

*

সূর্য তখন মাথার ওপরে। মন্দিরের মূল দরজার সামনে এসে হাজির হল তীর্থযাত্রীর দলটা। তারপর দরজায় দাঁড়ানো পুরোহিতের হাসিমুখ ডাকটা যেন শুনতেই পায়নি এমন ভঙ্গীতে সোজা এগিয়ে গেল সামনে দাঁড়ানো মন্দিরটার দরজার দিকে।

তাদের একেবারে শেষের মানুষটা যখন সেই দরজা পেরোচ্ছে, তখন হঠাৎ হোঁচট খেয়ে মন্দিরের ভেতরে উবু হয়ে পড়ে গিয়েই ফের উঠে দাঁড়ালো সে। কিন্তু ততক্ষণে এক-মুহূর্তের জন্য তার গা থেকে সরে যাওয়া কম্বলের নীচ থেকে উঁকি দেয়া তিরের তূণটা নজরে পড়ে গেছে পুরোহিতের। আর তারপরই হঠাৎ তাঁর খেয়াল হল, মানুষগুলোর হেঁটে যাবার ভঙ্গীতে তীর্থযাত্রীর নম্রতা নেই। যুদ্ধযাত্রা তিনি কম দেখেননি। অবিকল সেই যোদ্ধাদের ভঙ্গীতে সার বেঁধে তালে-তালে পা ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে তারা।

“কোনও ছদ্মবেশী দস্যুদল? অসম্ভব নয়। তবে হোক বা না হোক সাবধানের মার নেই। তাড়াতাড়ি বাইরে বের হয়ে এসে দরজাটা প্রাণপণে টেনে বন্ধ করে দিলেন পুরোহিত। তারপর সেটাকে ভালোভাবে আটকে দিয়ে জোর-পায়ে হেঁটে চললেন কাছের সেপাইদের চৌকির দিকে।

মন্দিরের গর্ভগৃহে এসে দাঁড়ানো দলটার চেহারায় আমূল বদল এসেছে ততক্ষণে। কম্বলগুলো পাথরের মেঝেতে খসে পড়েছে। তাদের পরনে হাঁটু অবধি আঁটো ধুতি। গায়ে বর্ম। কোমরে তলোয়ার। হাতে ধনুক। চোখে প্রতিশোধের আগুন।

দলটার নেতা এইবার সামনে সিংহাসনে বসা রুপোর তৈরি বিরাট বিষ্ণুমূর্তির দিকে আঙুল তুলে গম্ভীর গলায় বললেন, “মহারাজ গোসালার প্রাণরক্ষার শপথ নিয়ে তুমি তা পালন করোনি পরিহাসকেশব। কর্তব্যচ্যূতির অপরাধে আমি তাই তোমার মৃত্যুদণ্ড দিলাম।”

সঙ্গে-সঙ্গেই উনিশটা ধনুকের টঙ্কার উঠে সমর্থন জানাল তাঁকে। তাদের দিকে ঘুরে সুমন্ত্র বললেন, “মৃত্যুদণ্ডকে কার্যকরী করবে শ্রীমন্ত ও লক্ষ্মণবর্মা। তবে, মন্দিরের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে ওরা। অর্থাৎ ওরা জানে। রাজার সেপাইরা আসবে এইবার। আমরা আঠারোজন পাহারায় থাকব। আজ কাশ্মীরের সৈন্যরা গৌড়ের ধনুকের আসল স্বাদ পাবে।”

*

মন্দিরের দরজাটা খুলতেই কাশ্মিরী সেনাপতির পায়ের কাছে একটা তির উড়ে এসে গেঁথে গেল। ভেতরে হাঁটু গেড়ে ধনুক উঁচিয়ে থাকা আঠারোজন গৌড়ীয় সৈনিকের একজন গম্ভীর গলায় বলে উঠলেন, “গৌড়রাজ গোসালাকে আশ্বাস দিয়েও তা রক্ষা করেননি এই পরিহাসকেশব। তাই আমরা তাঁর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছি। আমাদের কর্তব্যে বাধা দেবেন না সেনাপতি।”

“কিন্তু এটা… এটা তো…”

প্রায় সঙ্গে-সঙ্গেই আরেকটা তির উড়ে এসে তাঁর মাথা থেকে শিরস্ত্রাণটাকে মাটিতে ফেলে দিল। দ্রুত পিছিয়ে এলেন সেনাপতি। চত্বরে ঢুকে প্রথমেই এই রামস্বামীর মন্দির। ললিতাদিত্যের আরাধ্য পরিহাসকেশবের আসল মন্দির এর পেছনে। এরা রামস্বামীকে পরিহাসকেশব বলে ভুল করেছে! সেটা ভালো। সম্রাটের আরাধ্য দেবতা ধ্বংস হলে তা হাজারটা যুদ্ধে পরাজয়ের থেকেও বেশি ক্ষতিকর হত সাম্রাজ্যের পক্ষে।

তাঁর নির্দেশে পঞ্চাশজন সৈনিকের একটা দল ততক্ষণে ছুটে গিয়ে পরিহাসকেশবের মূল মন্দিরকে ঘিরে দাঁড়িয়েছে। বাকিরা প্রাণপণে মন্দিরের দরজার দিকে ছুটে যাবার চেষ্টা করছিল, কিন্তু বারেবারেই নিখুঁত লক্ষ্যে ছুটে আসা আঠারোটা করে তিরের ঝাঁক খুঁজে নিচ্ছিল তাদের লক্ষ্যবস্তুকে।

আর তারপর, ছড়িয়ে থাকা মৃতদেহগুলোর ওপরে হঠাৎ মন্দিরের ভেতর থেকে উড়ে এল রামস্বামীর রুপোর তৈরি বিশাল ক্ষতবিক্ষত মাথাটা।

এইবার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল সৈন্যদের। মৃত্যুকে উপেক্ষা করে তারা খোলা তলোয়ার হাতে ধেয়ে গেল মন্দিরের দরজার দিকে।

দূর অতীতের সেই হেমন্তের দুপুর এরপর এক আশ্চর্য যুদ্ধের সাক্ষী থেকেছিল কাশ্মীরের মাটিতে। একদিকে কুড়িজন বাঙালি সৈন্য আর অন্যদিকে ললিতাদিত্যের বিরাট সেনাদল। না। গৌড়ের যোদ্ধাদের তূণের শেষ তিরটা থাকা অবধি মন্দিরের ভেতরে পা রাখতে পারেনি তারা। আঠারোজন যোদ্ধার মরণপণ আত্মঘাতী আক্রমণের আড়ালে দু’জন শক্তিমান যোদ্ধার ধারালো কুঠারের ক্রমাগত আঘাতে খণ্ড-খণ্ড হয়ে মন্দিরের মেঝেতে ছড়িয়ে গিয়েছিল দেবতার শরীর। প্রতিজ্ঞাভঙ্গকারী দেবতাকে এইভাবেই মৃত্যুদণ্ড দিয়ে চলেছিল তারা। তারপর, এক-সময় তির ফুরোলে মুখোমুখি অসম তলোয়ারযুদ্ধে শহিদ হল সেই কুড়িজন মানুষ। কিন্তু একের-পর-এক সঙ্গী যখন তলোয়ারের আঘাতে জমি নিচ্ছিল তখনও তাদের রক্তে পিচ্ছিল গর্ভগৃহের পাথরে পা রেখে অবিচল ভাবে সেই দেবমূর্তিকে ধ্বংস করবার ব্রত পালন করে চলেছিল দুই বীর। এক-সময় তাদের মৃতদেহও লুটিয়ে পড়ল তাদের হাতে প্রাণ দেয়া অসংখ্য কাশ্মিরী সৈন্যের শরীরের ওপর। কিন্তু ততক্ষণে তাদের ব্রত সম্পূর্ণ হয়েছে।

*

নিজের রাজার মৃত্যুর জন্য স্বয়ং ভগবানকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া বাঙালি বীরদের একটা সম্মান কিন্তু দেখিয়েছিল কাশ্মীর। রামস্বামীর মন্দিরে তারা নতুন করে কখনও আর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেনি। আর, এ-যুদ্ধের গৌরবের কাহিনিকে তারা অমর করে রেখে গেছে তাদের কালজয়ী পুঁথি রাজতরঙ্গিনীতে।

_

Aparajeya 2 New

অধ্যায় ৩ / ৩
সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%