শূন্য ছিল মন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শূন্য ছিল মন,
নানা-কোলাহলে-ঢাকা
নানা-আনাগোনা-আঁকা
দিনের মতন।
নানা-জনতায়-ফাঁকা
কর্মে-অচেতন
শূন্য ছিল মন।

জানি না কখন এল নূপুরবিহীন
নিঃশব্দ গোধূলি।
দেখি নাই স্বর্ণরেখা
কী লিখিল শেষ লেখা
দিনান্তের তুলি।
আমি যে ছিলাম একা
তাও ছিনু ভুলি।
আইল গোধূলি।

হেনকালে আকাশের বিস্ময়ের মতো
কোন্‌ স্বর্গ হতে
চাঁদখানি লয়ে হেসে
শুক্লসন্ধ্যা এল ভেসে
আঁধারের স্রোতে।
বুঝি সে আপনি মেশে
আপন আলোতে
এল কোথা হতে।

অকস্মাৎ বিকশিত পুষ্পের পুলকে
তুলিলাম আঁখি।
আর কেহ কোথা নাই,
সে শুধু আমারি ঠাঁই
এসেছে একাকী।
সম্মুখে দাঁড়ালো তাই
মোর মুখে রাখি
অনিমেষ আঁখি।

রাজহংস এসেছিল কোন্‌ যুগান্তরে
শুনেছি পুরাণে।
দময়ন্তী আলবালে
স্বর্ণঘটে জল ঢালে
নিকুঞ্জবিতানে,
কার কথা হেনকালে
কহি গেল কানে–
শুনেছি পুরাণে।

জ্যোৎস্নাসন্ধ্যা তারি মতো আকাশ বাহিয়া
এল মোর বুকে।
কোন্‌ দূর প্রবাসের
লিপিখানি আছে এর
ভাষাহীন মুখে।
সে যে কোন্‌ উৎসুকের
মিলনকৌতুকে
এল মোর বুকে।

দুইখানি শুভ্র ডানা ঘেরিল আমারে
সর্বাঙ্গে হৃদয়ে।
স্কন্ধে মোর রাখি শির
নিস্পন্দ রহিল স্থির
কথাটি না কয়ে।
কোন্‌ পদ্মবনানীর
কোমলতা লয়ে
পশিল হৃদয়ে?

আর কিছু বুঝি নাই,শুধু বুঝিলাম
আছি আমি একা।
এই শুধু জানিলাম
জানি নাই তার নাম
লিপি যার লেখা।
এই শুধু বুঝিলাম
না পাইলে দেখা
রব আমি একা।

ব্যর্থ হয়, ব্যর্থ হয় এ দিনরজনী,
এ মোর জীবন!
হায় হায়, চিরদিন
হয়ে আছে অর্থহীন
এ বিশ্বভুবন।
অনন্ত প্রেমের ঋণ
করিছে বহন
ব্যর্থ এ জীবন।

ওগো দূত দূরবাসী, ওগো বাক্যহীন,
হে সৌম্য-সুন্দর,
চাহি তব মুখপানে
ভাবিতেছি মুগ্ধপ্রাণে
কী দিব উত্তর।
অশ্রু আসে দু নয়ানে,
নির্বাক্‌ অন্তর,
হে সৌম্য-সুন্দর।

সকল অধ্যায়
১.
অচির বসন্ত হায় এল, গেল চলে
২.
অত চুপি চুপি কেন কথা কও
৩.
আকাশ-সিন্ধু-মাঝে এক ঠাঁই
৪.
আছি আমি বিন্দুরূপে, হে অন্তরযামী
৫.
আজ মনে হয় সকলেরই মাঝে
৬.
আজি হেরিতেছি আমি
৭.
আজিকে গহন কালিমা লেগেছে গগনে
৮.
আপনারে তুমি করিবে গোপন
৯.
আমাদের এই পল্লিখানি পাহাড় দিয়ে ঘেরা
১০.
আমার খোলা জানালাতে
১১.
আমার মাঝারে যে আছে কে গো সে
১২.
আমি চঞ্চল হে
১৩.
আমি যারে ভালোবাসি সে ছিল এই গাঁয়ে
১৪.
আলো নাই, দিন শেষ হল, ওরে
১৫.
আলোকে আসিয়া এরা লীলা করে যায়
১৬.
ওরে আমার কর্মহারা, ওরে আমার সৃষ্টিছাড়া
১৭.
ওরে পদ্মা, ওরে মোর রাক্ষসী প্রেয়সী
১৮.
কত দিবা কত বিভাবরী
১৯.
কাল যবে সন্ধ্যাকালে বন্ধুসভাতলে
২০.
কী কথা বলিব বলে
২১.
কুঁড়ির ভিতর কাঁদিছে গন্ধ অন্ধ হয়ে
২২.
কেবল তব মুখের পানে চাহিয়া
২৩.
ক্ষান্ত করিয়াছ তুমি আপনারে
২৪.
চিরকাল একি লীলা গো
২৫.
তুমি আছ হিমাচল ভারতের অনন্তসঞ্চিত
২৬.
তোমার বীণায় কত তার আছে
২৭.
তোমারে পাছে সহজে বুঝি
২৮.
তোমায় চিনি বলে আমি করেছি গরব
২৯.
দিয়েছ প্রশ্রয় মোরে, করুণানিলয়
৩০.
দুয়ারে তোমার ভিড় ক’রে যারা আছে
৩১.
দেখো চেয়ে গিরির শিরে
৩২.
ধূপ আপনারে মিলাইতে চাহে গন্ধে
৩৩.
নব বৎসরে করিলাম পণ
৩৪.
না জানি কারে দেখিয়াছি
৩৫.
নানা গান গেয়ে ফিরি নানা লোকালয়
৩৬.
পথের পথিক করেছ আমায়
৩৭.
পাগল হইয়া বনে বনে ফিরি
৩৮.
বাহির হইতে দেখো না এমন করে
৩৯.
বিরহবৎসর-পরে মিলনের বীণা
৪০.
ভারতসমুদ্র তার বাষ্পোচ্ছ্বাস নিশ্বসে গগনে
৪১.
ভারতের কোন্‌ বৃদ্ধ ঋষির তরুণ মূর্তি তুমি
৪২.
ভোরের পাখি ডাকে কোথায়
৪৩.
মন্ত্রেসে যে পূত রাখীররাঙা সুতো
৪৪.
মোর কিছু ধন আছে সংসারে
৪৫.
যদি ইচ্ছা কর তবে কটাক্ষে হে নারী
৪৬.
রোগীর শিয়রে রাত্রে একা ছিনু জাগি
৪৭.
শূন্য ছিল মন
৪৮.
সব ঠাঁই মোর ঘর আছে
৪৯.
সাঙ্গ হয়েছে রণ
৫০.
সে তো সে দিনের কথা, বাক্যহীন যবে
৫১.
সেদিন কি তুমি এসেছিলে ওগো
৫২.
হায় গগন নহিলে তোমারে ধরিবে কে বা
৫৩.
হে জনসমুদ্র, আমি ভাবিতেছি মনে
৫৪.
হে নিস্তব্ধ গিরিরাজ
৫৫.
হে পথিক, কোন্‌খানে চলেছ কাহার পানে
৫৬.
হে বিশ্বদেব, মোর কাছে তুমি
৫৭.
হে ভারত, আজি নবীন বর্ষে
৫৮.
হে রাজন তুমি আমারে
৫৯.
হে হিমাদ্রি, দেবতাত্মা, শৈলে শৈলে আজিও তোমার

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%