মন্ত্রেসে যে পূত রাখীররাঙা সুতো

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মন্ত্রেসে যে পূত
রাখীররাঙা সুতো
বাঁধন দিয়েছিনু হাতে,
আজ কিআছে সেটি সাথে।
বিদায়বেলা এল মেঘের মতো ব্যেপে,
গ্রন্থি বেঁধে দিতে দু হাত গেল কেঁপে,
সেদিন থেকে থেকে চক্ষুদুটি ছেপে
ভরে যে এল জলধারা।
আজকে বসে আছি পথের এক পাশে,
আমের ঘন বোলে বিভোল মধুমাসে
তুচ্ছ কথাটুকু কেবল মনে আসে
ভ্রমর যেন পথহারা–
সেই-যে বাম হাতে একটি সরু রাখী–
আধেক রাঙা, সোনা আধা,
আজো কি আছে সেটি বাঁধা।

পথ যে কতখানি
কিছুই নাহি জানি,
মাঠের গেছে কোন্‌ শেষে
চৈত্র-ফসলের দেশে।
যখন গেলে চলে তোমার গ্রীবামূলে
দীর্ঘ বেণী তব এলিয়ে ছিল খুলে,
মাল্যখানি গাঁথা সাঁজের কোন্‌ ফুলে
লুটিয়ে পড়েছিল পায়ে।
একটুখানি তুমি দাঁড়িয়ে যদি যেতে!
নতুন ফুলে দেখো কানন ওঠে মেতে,
দিতেম ত্বরা করে নবীন মালা গেঁথে
কনকচাঁপা-বনছায়ে।
মাঠের পথে যেতে তোমার মালাখানি
প’ল কি বেণী হতে খসে
আজকে ভাবি তাই বসে।

নূপুর ছিল ঘরে
গিয়েছ পায়ে প’রে–
নিয়েছ হেথা হতে তাই,
অঙ্গে আর কিছু নাই।
আকুল কলতানে শতেক রসনায়
চরণ ঘেরি তব কাঁদিছে করুণায়,
তাহারা হেথাকার বিরহবেদনায়
মুখর করে তব পথ।
জানি না কী এত যে তোমার ছিল ত্বরা,
কিছুতে হল না যে মাথার ভূষা পরা,
দিতেম খুঁজে এনে সিঁথিটি মনোহরা–
রহিল মনে মনোরথ।
হেলায়-বাঁধা সেই নূপুর-দুটি পায়ে
আছে কি পথে গেছে খুলে
সে কথা ভাবি তরুমূলে।

অনেক গীতগান
করেছি অবসান
অনেক সকালে ও সাঁজে
অনেক অবসরে কাজে।
তাহারি শেষ গান আধেক লয়ে কানে
দীর্ঘ পথ দিয়ে গেছ সুদূর-পানে,
আধেক-জানা সুরে আধেক-ভোলা তানে
গেয়েছ গুন্‌ গুন্‌ স্বরে।
কেন না গেলে শুনি একটি গান আরো–
সে গান শুধু তব, সে নহে আর কারো–
তুমিও গেলে চলে সময় হল তারো,
ফুটল তব পূজাতরে।
মাঠের কোন্‌খানে হারালো শেষ সুর
যে গান নিয়ে গেল শেষে,
ভাবি যে তাই অনিমেষে।

হাজারিবাগ, ১০ চৈত্র, ১৩০৯

সকল অধ্যায়
১.
অচির বসন্ত হায় এল, গেল চলে
২.
অত চুপি চুপি কেন কথা কও
৩.
আকাশ-সিন্ধু-মাঝে এক ঠাঁই
৪.
আছি আমি বিন্দুরূপে, হে অন্তরযামী
৫.
আজ মনে হয় সকলেরই মাঝে
৬.
আজি হেরিতেছি আমি
৭.
আজিকে গহন কালিমা লেগেছে গগনে
৮.
আপনারে তুমি করিবে গোপন
৯.
আমাদের এই পল্লিখানি পাহাড় দিয়ে ঘেরা
১০.
আমার খোলা জানালাতে
১১.
আমার মাঝারে যে আছে কে গো সে
১২.
আমি চঞ্চল হে
১৩.
আমি যারে ভালোবাসি সে ছিল এই গাঁয়ে
১৪.
আলো নাই, দিন শেষ হল, ওরে
১৫.
আলোকে আসিয়া এরা লীলা করে যায়
১৬.
ওরে আমার কর্মহারা, ওরে আমার সৃষ্টিছাড়া
১৭.
ওরে পদ্মা, ওরে মোর রাক্ষসী প্রেয়সী
১৮.
কত দিবা কত বিভাবরী
১৯.
কাল যবে সন্ধ্যাকালে বন্ধুসভাতলে
২০.
কী কথা বলিব বলে
২১.
কুঁড়ির ভিতর কাঁদিছে গন্ধ অন্ধ হয়ে
২২.
কেবল তব মুখের পানে চাহিয়া
২৩.
ক্ষান্ত করিয়াছ তুমি আপনারে
২৪.
চিরকাল একি লীলা গো
২৫.
তুমি আছ হিমাচল ভারতের অনন্তসঞ্চিত
২৬.
তোমার বীণায় কত তার আছে
২৭.
তোমারে পাছে সহজে বুঝি
২৮.
তোমায় চিনি বলে আমি করেছি গরব
২৯.
দিয়েছ প্রশ্রয় মোরে, করুণানিলয়
৩০.
দুয়ারে তোমার ভিড় ক’রে যারা আছে
৩১.
দেখো চেয়ে গিরির শিরে
৩২.
ধূপ আপনারে মিলাইতে চাহে গন্ধে
৩৩.
নব বৎসরে করিলাম পণ
৩৪.
না জানি কারে দেখিয়াছি
৩৫.
নানা গান গেয়ে ফিরি নানা লোকালয়
৩৬.
পথের পথিক করেছ আমায়
৩৭.
পাগল হইয়া বনে বনে ফিরি
৩৮.
বাহির হইতে দেখো না এমন করে
৩৯.
বিরহবৎসর-পরে মিলনের বীণা
৪০.
ভারতসমুদ্র তার বাষ্পোচ্ছ্বাস নিশ্বসে গগনে
৪১.
ভারতের কোন্‌ বৃদ্ধ ঋষির তরুণ মূর্তি তুমি
৪২.
ভোরের পাখি ডাকে কোথায়
৪৩.
মন্ত্রেসে যে পূত রাখীররাঙা সুতো
৪৪.
মোর কিছু ধন আছে সংসারে
৪৫.
যদি ইচ্ছা কর তবে কটাক্ষে হে নারী
৪৬.
রোগীর শিয়রে রাত্রে একা ছিনু জাগি
৪৭.
শূন্য ছিল মন
৪৮.
সব ঠাঁই মোর ঘর আছে
৪৯.
সাঙ্গ হয়েছে রণ
৫০.
সে তো সে দিনের কথা, বাক্যহীন যবে
৫১.
সেদিন কি তুমি এসেছিলে ওগো
৫২.
হায় গগন নহিলে তোমারে ধরিবে কে বা
৫৩.
হে জনসমুদ্র, আমি ভাবিতেছি মনে
৫৪.
হে নিস্তব্ধ গিরিরাজ
৫৫.
হে পথিক, কোন্‌খানে চলেছ কাহার পানে
৫৬.
হে বিশ্বদেব, মোর কাছে তুমি
৫৭.
হে ভারত, আজি নবীন বর্ষে
৫৮.
হে রাজন তুমি আমারে
৫৯.
হে হিমাদ্রি, দেবতাত্মা, শৈলে শৈলে আজিও তোমার

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%