সান্ত্বনা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সকালের আলো এই বাদলবাতাসে
                 মেঘে রুদ্ধ হয়ে আসে
           ভাঙা কণ্ঠে কথার মতন।
                    মোর মন
           এ অস্ফুট প্রভাতের মতো
      কী কথা বলিতে চায়, থাকে বাক্যহত।
              মানুষের জীবনের মজ্জায় মজ্জায়
      যে-দুঃখ নিহিত আছে অপমানে শঙ্কায় লজ্জায়,
                কোনো কালে যার অস্ত নাই,
                      আজি তাই
      নির্যাতন করে মোরে। আপনার দুর্গমের মাঝে
           সান্ত্বনার চির-উৎস কোথায় বিরাজে,
      যে উৎসের গূঢ় ধারা বিশ্বচিত্ত-অন্তঃস্তরে
                 উন্মুক্ত পথের তরে
                       নিত্য ফিরে যুঝে
               আমি তারে মরি খুঁজে।
                       আপন বাণীতে
               কী পুণ্যে বা পারিব আনিতে
      সেই সুগম্ভীর শান্তি, নৈরাশ্যের তীব্র বেদনারে
           স্তব্ধ যা করিতে পারে।
                 হায় রে ব্যথিত,
      নিখিল-আত্মার কেন্দ্রে বাজে অকথিত
      আরোগ্যের মহামন্ত্র, যার গুণে
                 সৃজনের হোমের আগুনে
      নিজেরে আহুতি দিয়া নিত্য সে নবীন হয়ে উঠে, —
      প্রাণেরে ভরিয়া তুলে নিত্যই মৃত্যুর করপুটে।
           সেই মন্ত্র শান্ত মৌনতলে
      শুনা যায় আত্মহারা তপস্যার বলে।
           মাঝে-মাঝে পরম বৈরাগী
      সে-মন্ত্র চেয়েছে দিতে সর্বজন লাগি।
              কে পারে তা করিতে বহন,
           মুক্ত হয়ে কে পারে তা করিতে গ্রহণ।
              গতিহীন আর্ত অক্ষমের তরে
      কোন্‌ করুণার স্বর্গে মন মোর দয়া ভিক্ষা করে
                     ঊর্ধ্বে বাহু তুলি।
      কে বন্ধু রয়েছ কোথা, দাও দাও খুলি
                       পাষাণকারার দ্বার —
           যেথায় পুঞ্জিত হল নিষ্ঠুরের অত্যাচার,
                    বঞ্চনা লোভীর,
                 যেথায় গভীর
      মর্মে উঠে বিষাইয়া সত্যের বিকার
                 আমিত্ববিমুগ্ধ মন যে দুর্বহ ভার
      আপনার আসক্তিতে জমায়েছে আপনার ‘পরে,
      নির্মম বর্জনশক্তি দাও তার অন্তরে অন্তরে।
                 আমার বাণীতে দাও সেই সুধা
      যাহাতে মিটিতে পারে আত্মার গভীরতম ক্ষুধা।
           হেনকালে সহসা আসিল কানে
      কোন্‌ দূর তরুশাখে শ্রান্তিহীন গানে
                       অদৃশ্য কে পাখি
           বার বার উঠিতেছে ডাকি।
      কহিলাম তারে, “ওগো, তোমার কণ্ঠেতে আছে আলো,
                       অবসাদ-আঁধার ঘুচাল।
                     তোমার সহজ এই প্রাণের প্রোল্লাস
                       সহজেই পেতেছে প্রকাশ।
         আদিম আনন্দ যাহা এ বিশ্বের মাঝে,
           যে আনন্দ অন্তিমে বিরাজে,
           যে পরম আনন্দলহরী
      যত দুঃখ যত সুখ নিয়েছে আপনা-মাঝে হরি,
          আমারে দেখালে পথ তুমি তারি পানে
                 এই তব অকারণ গানে।’

সকল অধ্যায়
১.
প্রশ্ন
২.
প্রণাম
৩.
বিচিত্রা
৪.
জন্মদিন
৫.
পান্থ
৬.
অপূর্ণ
৭.
আমি
৮.
তুমি
৯.
আছি
১০.
বালক
১১.
বর্ষশেষ
১২.
মুক্তি
১৩.
আহ্বান
১৪.
দুয়ার
১৫.
দীপিকা
১৬.
লেখা
১৭.
নূতন শ্রোতা
১৮.
আশীর্বাদ
১৯.
মোহানা
২০.
বক্‌সাদুর্গস্থ রাজবন্দীদের প্রতি
২১.
দুর্দিনে
২২.
ধর্মমোহ
২৩.
ভিক্ষু
২৪.
আশীর্বাদী
২৫.
অবুঝ মন
২৬.
পরিণয়
২৭.
চিরন্তন
২৮.
কণ্টিকারি
২৯.
আরেক দিন
৩০.
তে হি নো দিবসাঃ
৩১.
দীপশিল্পী
৩২.
মানী
৩৩.
রাজপুত্র
৩৪.
অগ্রদূত
৩৫.
প্রতীক্ষা
৩৬.
নির্বাক্‌
৩৭.
প্রণাম
৩৮.
শূন্যঘর
৩৯.
দিনাবসান
৪০.
পথসঙ্গী
৪১.
অন্তর্হিতা
৪২.
আশ্রমবালিকা
৪৩.
বধূ
৪৪.
মিলন
৪৫.
স্পাই
৪৬.
ধাবমান
৪৭.
ভীরু
৪৮.
বিচার
৪৯.
পুরানো বই
৫০.
বিস্ময়
৫১.
অগোচর
৫২.
সান্ত্বনা
৫৩.
ছোটো প্রাণ
৫৪.
নিরাবৃত
৫৫.
মৃত্যুঞ্জয়
৫৬.
অবাধ
৫৭.
যাত্রী
৫৮.
মিলন
৫৯.
আগন্তুক
৬০.
জরতী
৬১.
প্রাণ
৬২.
সাথী
৬৩.
বোবার বাণী
৬৪.
আঘাত
৬৫.
শান্ত
৬৬.
জলপাত্র
৬৭.
আতঙ্ক
৬৮.
আলেখ্য
৬৯.
সান্ত্বনা
৭০.
শ্রীবিজয়লক্ষ্মী
৭১.
বোরোবুদুর
৭২.
সিয়াম – ১
৭৩.
সিয়াম – ২
৭৪.
বুদ্ধদেবের প্রতি
৭৫.
পারস্যে জন্মদিনে
৭৬.
প্রাচী
৭৭.
আশীর্বাদ
৭৮.
আশীর্বাদ – ২
৭৯.
লক্ষ্যশূন্য
৮০.
প্রবাসী
৮১.
বুদ্ধজন্মোৎসব
৮২.
প্রথম পাতায়
৮৩.
নূতন
৮৪.
শুকসারী
৮৫.
সুসময়
৮৬.
নূতন কাল
৮৭.
পরিণয়মঙ্গল
৮৮.
জীবনমরণ
৮৯.
গৃহলক্ষ্মী
৯০.
রঙিন
৯১.
আশীর্বাদী – ২
৯২.
বসন্ত উৎসব
৯৩.
আশীর্বাদ – ৩
৯৪.
আশীর্বাদ – ৪
৯৫.
উত্তিষ্ঠত নিবোধত
৯৬.
প্রার্থনা
৯৭.
অতুলপ্রসাদ সেন

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%