মুরলীধর বসু-কে

কাজী নজরুল ইসলাম

হুগলি,
১৫ নভেম্বর, ১৯২৫
প্রিয় মুরলীদা!

আজ তোমার চিঠি পেয়ে জ্বরজ্বর মনটা বেশ একটু ঝরঝরে হয়ে উঠল। দুটো কথাতেই তোমার যে প্রীতি উপচে পড়েছে, তা আমার হৃদয়-দেশ পর্যন্ত গড়িয়ে এসেচে। দিন ছয়েক থেকে ১০৩- ৪- ৫ ডিগ্রি করে জ্বরে ভুগে আজ একটু অ-জ্বর হয়ে বসেছি। পঞ্চাশ গ্রেন কুইনাইন মস্তিষ্কে ঊনপঞ্চাশ বায়ুর ভিড় জমিয়েছে। আমার একটা মাথাই এখন হয়ে উঠেছে দশমুণ্ড রাবণের মতো ভারী, হাত দুটো নিসপিস করছে – সেই সঙ্গে যদি বিশটা হাতও হয়ে উঠত! তাহলে আগে দেবতাগুষ্ঠীর নিকুচি করে আমাদের ভাঙা ঘরে সত্যিকারের চাঁদের আলো আসে কিনা দেখিয়ে দিতাম। মুশকিল হয়েছে মুরলীদা, আমরা কুম্ভকর্ণ হতে পারি, বিভীষণ হতে পারি – হতে পারিনে শুধু রাবণ। দেবতা হওয়ার লোভ আমার কোনো দিনই নেই – আমি হতে চাই তাজা রক্ত-মাংসের শক্ত হাড্‌ডিওয়ালা দানব-অসুর! দেখেছ কুইনাইনের গুণ!…

যাক, এখন ভাবছি শৈলজার মাটির ঘর তুলি কী করে? মাথা তো একবারে তুর-র-র-ভোঁ!… ‘লাঙল’-এর ফাল আমার হাতে – ‘লাঙল’-এর শুধু বা কাঠেরটাই বেরোয় প্রথমবার। শুধু একটা ‘কৃষাণের গান’ দিয়েছি। নলিনীদাও নাকি চিদানন্দকে স্মরণ করেছেন। – জ্বরে চিত। অফিসটা বোধ হয় চিৎপুরে উঠিয়ে নিয়ে যেতে হবে। অফিসের দোরে একটা আস্ত লাঙল টাঙিয়ে দিতে বলেছি। ওই হবে সাইন বোর্ড। বেশ হবে, না? যাক শৈলজাকে বোলো একটা কিছু করবই।

তোমাদের এক দিন আসতে হবে কিন্তু এখানে। Sincerely-র বাংলা যা হয় – তাই করে বলেছি।… ‘দোলন-চাঁপা’৫ পেয়েছ নৃপেনের৬ কাছ থেকে? তোমাদের সবাইকে দিয়েছি তার হাতে।…

হাঁ, তোমাকে লিখতে হবে কিন্তু ‘লাঙল’-এ। প্রথমবারই দিতে হবে। সকলে মিলে কাঁধ দেওয়া যাক।…শৈলজা, প্রেমেন, অচিন্ত্যকে তাড়া দিয়ো লেখার জন্যে।… আর জায়গা নেই।…

নজরুল

সকল অধ্যায়
১.
মৌলবি আবদুল গফুরকে
২.
সম্পাদক, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা-কে
৩.
পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়কে
৪.
আলি আকবর খান-কে
৫.
মোহাম্মদ আফজলউল হক-কে
৬.
মাহফুজুর রহমান-কে
৭.
বলাই দেবশর্মা-কে
৮.
হবীবুল্লাহ বাহার-কে
৯.
মুরলীধর বসু-কে
১০.
আনওয়ার হোসেন-কে
১১.
ইব্রাহিম খাঁ-কে
১২.
শচীন কর-কে
১৩.
শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়-কে
১৪.
শামসুন নাহার-কে
১৫.
গোপাললাল সান্যাল-কে
১৬.
মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন-কে
১৭.
ব্রজবিহারী বর্মণ-কে
১৮.
মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিন-কে
১৯.
উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-কে
২০.
আবুল হোসেন-কে
২১.
নওরোজ সম্পাদক-কে
২২.
মন্মথ রায়-কে
২৩.
কাজী মোতাহার হোসেন-কে
২৪.
মিস ফজিলতুন্নেসা-কে
২৫.
আবদুল কাদির-কে
২৬.
নবশক্তি সম্পাদক-কে
২৭.
আজিজুল হাকিম-কে
২৮.
ড. কাজী মোহাম্মদ আবদুল হামিদ-কে
২৯.
এম সিরাজুল হক-কে
৩০.
নারায়নগঞ্জ সংগীত-সংসদের অভ্যর্থনা-সমিতির সভাপতি-কে
৩১.
বিরজাসুন্দরী দেবী-কে
৩২.
কাজী কায়েম হোসেন সাহেব-কে
৩৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-কে
৩৪.
মাহমুদা খাতুন-কে
৩৫.
জসীমউদ্দীন-কে
৩৬.
অতুলচন্দ্র দত্ত-কে
৩৭.
কুমুদরঞ্জন মল্লিক-কে
৩৮.
বাংলা মাদ্রাসা ও মক্তবের মৌলভী সাহেবদের প্রতি
৩৯.
নার্গিস আসর খানম ওরফে সৈয়দা খাতুন-কে
৪০.
বরদাচরণ মজুমদার-কে
৪১.
কাজী অনিরুদ্ধ ইসলাম-কে
৪২.
ইজাবউদ্দীন আহমদ-কে
৪৩.
বঙ্গীয় মুসলিম সভায় পাঠের জন্য
৪৪.
মীজানুর রহমান-কে
৪৫.
সুফী জুলফিকার হায়দর-কে
৪৬.
ব্রজেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী-কে
৪৭.
কার্ত্তিকচন্দ্র চক্রবর্তী-কে
৪৮.
কালিদাস রায়-কে
৪৯.
মতিলাল রায়-কে
৫০.
ড. কাজী মোহাম্মদ আবদুল হামিদ-কে
৫১.
নিখিল বঙ্গীয় তরুণ মুসলমান সমিতির উদ্দেশ্যে
৫২.
সুবোধ রায়-কে
৫৩.
প্রাণতোষ চটোপাধ্যায়-কে
৫৪.
বাংলার তৎকালীন হক মন্ত্রীসভার প্রধান মন্ত্রী-কে
৫৫.
শ্যামলাল সরকার-কে
৫৬.
বীরেন্দ্রকুমার সেনগুপ্ত-কে

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%