অন্তরভেদী অবলোকন

আল মাহমুদ

কাল মৃত্যু হাত বাড়িয়েছিলো আমার ঘরে। জানলার
ফাঁক দিয়ে সেই দীর্ঘ হাত অন্ধের অনুভব শক্তির মতো
বিছানার ওপর একটু একটু এগোল। আমার স্ত্রী শিশুটির
মাথায় পানির ধারা দিচ্ছিলেন। তার চোখ ছিল পলকহীন, পাথর।
স্তন দুটি দুধের ভারে ফলের আবেগে ঝুলে আছে!
পানির ধারা প্রপাতের শব্দের মতো হয়ে উঠে সবকিছুতে
কাঁপন ধরিয়ে দিলো। লুণ্ঠনের আলো ময়ূরের পালকের
অনুকরণে কাপতে লাগলো। অবিকল।

আর সেই হাত, বালিশের কাছে এসে পড়েছে, আমি
দেখলাম। স্ফীত শিরা, নখ কাটা হয়নি। রোমশ।
আমার চীৎকার করতে ইচ্ছে হলো। কিন্তু মৃত্যুর সামনে আমি
কোনদিন শব্দ করতে পারি না।
সেই হাত জাপটে ধরতে ক্রোধ হলো। কিন্তু মৃত্যুর শক্তি
সম্বন্ধে আমি জানতাম, আমার ধারণা ছিল।
তবে কি প্রার্থনা করবো? না, মৃত্যু তো চেঙ্গিসের
অন্ধের মতো দ্রুতগামী, বধির।
–কে? কে?

জলের ধারা থমকে গেল। আমার স্ত্রী চোখ তুলে
তাকালেন। তার নগ্ন হাতে শূন্য জলপাত্র। ব্লাউজের বোতাম
খুলে গিয়ে ‘ম’-এর আকারের মতো কণ্ঠা উদোম হয়ে আছে।
নির্জল চোখে অন্তরভেদী অবলোকন।
আমি মৃত্যুর দিকে তাকালাম। দেখি, কুকুরের লেজের
মতো সে জানলার দিকে গুটিয়ে যাচ্ছে। নখ কাটা হয়নি,
স্ফীতশিরা রোমশ।

সকল অধ্যায়
১.
প্রকৃতি
২.
সোনালী কাবিন
৩.
বাতাসের ফেনা
৪.
কবিতা এমন
৫.
প্রত্যাবর্তনের লজ্জা
৬.
দায়ভাগ
৭.
আসে না আর
৮.
অবগাহনের শব্দ
৯.
তোমার হাতে
১০.
এই সম্মোহনে
১১.
নতুন অব্দে
১২.
পলাতক
১৩.
অন্তরভেদী অবলোকন
১৪.
আভূমি আনত হয়ে
১৫.
স্বপ্নের সানুদেশে
১৬.
পালক ভাঙার প্রতিবাদে
১৭.
যার স্মরণে
১৮.
কেবল আমার পদতলে
১৯.
এক নদী
২০.
জাতিস্মর
২১.
চোখ যখন অতীতাশ্রয়ী হয়
২২.
আত্মীয়ের মুখ
২৩.
তোমার আড়ালে
২৪.
ভাগ্যরেখা
২৫.
শোণিতে সৌরভ
২৬.
সাহসের সমাচার
২৭.
চোখ
২৮.
স্বব্ধতার মধ্যে তার ঠোঁট নড়ে
২৯.
উল্টানো চোখ
৩০.
আমি আর আসবো না বলে
৩১.
নদী তুমি
৩২.
বোধের উৎস কই, কোন দিকে?
৩৩.
সত্যের দাপটে
৩৪.
আমার চোখের তলদেশে
৩৫.
ক্যামোফ্লাজ
৩৬.
খড়ের গম্বুজ
৩৭.
আঘ্রাণে
৩৮.
আমার প্রাতরাশে
৩৯.
আমিও রাস্তায়
৪০.
তরঙ্গিত প্রলোভন

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%