স্বপ্নের সানুদেশে

আল মাহমুদ

একদা এক অস্পষ্ট কুয়াশার মধ্যে আমাদের যাত্রা
তারপর দিগন্তে আলোর ঝলকানিতে আমাদের পথ
উদ্ভাসিত হয়ে উঠলো। বাতাসে ধানের গন্ধ,
পাখির কাকলিতে মুখরিত অরণ্যানী।
আমাদের সবার হৃদয় নিসর্গের এক অপরাপ ছবি হয়ে
ভাসতে লাগলো।

নদী, নদী—
সন্তানেরা উল্লসিত আনন্দের মধ্যে আঙুল তুলে
যে স্পষ্ট জলধারা দেখালো, তা আমাদের প্রাণ।
এই সেই স্রোতস্বিনী, যার নকশায় আমাদের রমণীরা
শাড়ি বোনেন। ঐ সেই বাঁক যার অনুকরণে
আমার বোনেরা বমি রেখায় এঁটে দেহ আবৃত করেন।
দেখো সেই পুণ্যতোয়া,
যার কলস্বর আমাদের সঙ্গীতে নিমজ্জিত করে।
দেখো, দেখো।

আমরা যেখানে যাবো, সেই বিশাল উপত্যকার ছবি।
আমাদের সমস্ত অন্তরকে গ্রাস করে আছে। আমাদের পতাকায়
রূপকথার বাতাস ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ
আমাদের আশাকে দোলাচ্ছে সোনালি দোলকের মতো,
বার বার।

আনন্দে আপ্লুত হয়ে আমরা স্বপ্নের দিকে
রওনা দিয়েছি। দুঃখ
আমাদের ক্লান্ত করে না।
দুর্যোগের রাতে আমরা এক উজ্জ্বল দিনের দিকে
মুখ ফিরিয়েছি। বিঘ্ন
আমাদের বিবশ করেনি।

চীৎকার, কান্না ও হতাশার গোলকধাঁধা ছেড়ে
আমরা বেরিয়ে যাবো। মৃত্যু
আমাদের স্পর্শ না করুক।

স্বপ্নের সানুদেশে আমরা শস্যের বীজ ছড়িয়ে দেবো
বাম দিকে বয়ে যাবে রুপোলি নদীর জল, ডানে
তীক্ষ্ণ তুষিত পর্বত।

সকল অধ্যায়
১.
প্রকৃতি
২.
সোনালী কাবিন
৩.
বাতাসের ফেনা
৪.
কবিতা এমন
৫.
প্রত্যাবর্তনের লজ্জা
৬.
দায়ভাগ
৭.
আসে না আর
৮.
অবগাহনের শব্দ
৯.
তোমার হাতে
১০.
এই সম্মোহনে
১১.
নতুন অব্দে
১২.
পলাতক
১৩.
অন্তরভেদী অবলোকন
১৪.
আভূমি আনত হয়ে
১৫.
স্বপ্নের সানুদেশে
১৬.
পালক ভাঙার প্রতিবাদে
১৭.
যার স্মরণে
১৮.
কেবল আমার পদতলে
১৯.
এক নদী
২০.
জাতিস্মর
২১.
চোখ যখন অতীতাশ্রয়ী হয়
২২.
আত্মীয়ের মুখ
২৩.
তোমার আড়ালে
২৪.
ভাগ্যরেখা
২৫.
শোণিতে সৌরভ
২৬.
সাহসের সমাচার
২৭.
চোখ
২৮.
স্বব্ধতার মধ্যে তার ঠোঁট নড়ে
২৯.
উল্টানো চোখ
৩০.
আমি আর আসবো না বলে
৩১.
নদী তুমি
৩২.
বোধের উৎস কই, কোন দিকে?
৩৩.
সত্যের দাপটে
৩৪.
আমার চোখের তলদেশে
৩৫.
ক্যামোফ্লাজ
৩৬.
খড়ের গম্বুজ
৩৭.
আঘ্রাণে
৩৮.
আমার প্রাতরাশে
৩৯.
আমিও রাস্তায়
৪০.
তরঙ্গিত প্রলোভন

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%