খ্যাতি নিন্দা পার হয়ে জীবনের এসেছি প্রদোষে

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

খ্যাতি নিন্দা পার হয়ে জীবনের এসেছি প্রদোষে,
বিদায়ের ঘাটে আছি বসে।
আপনার দেহটারে অসংশয়ে করেছি বিশ্বাস,
জরার সুযোগ পেয়ে নিজেরে সে করে পরিহাস,
সকল কাজেই দেখি কেবলি ঘটায় বিপর্যয়,
আমার কর্তৃত্ব করে ক্ষয়;
সেই অপমান হতে বাঁচাতে যাহারা
অবিশ্রাম দিতেছে পাহারা,
পাশে যারা দাঁড়ায়েছে দিনান্তের শেষ আয়োজনে,
নাম না’ই বলিলাম তাহারা রহিল মনে মনে।
তাহারা দিয়েছে মোরে সৌভাগ্যের শেষ পরিচয়,
ভুলায়ে রাখিছে তারা দুর্বল প্রাণের পরাজয়;
এ কথা স্বীকার তারা করে
খ্যাতি প্রতিপত্তি যত সুযোগ্য সক্ষমদের তরে;
তাহারাই করিছে প্রমাণ
অক্ষমের ভাগ্যে আছে জীবনের শ্রেষ্ঠ সেই দান।
সমস্ত জীবন ধরে খ্যাতির খাজনা দিতে হয়,
কিছু সে সহে না অপচয়;
সব মূল্য ফুরাইলে যে দৈন্য প্রেমের অর্ঘ্য আনে
অসীমের স্বাক্ষর সেখানে।

উদয়ন, ৯ জানুয়ারি, ১৯৪১ – সকাল

সকল অধ্যায়
১.
এ দ্যুলোক মধুময়, মধুময় পৃথিবীর ধূলি
২.
পরম সুন্দর আলোকের স্নানপুণ্য প্রাতে
৩.
নির্জন রোগীর ঘর
৪.
ঘন্টা বাজে দূরে
৫.
মুক্তবাতায়নপ্রান্তে জনশূন্য ঘরে
৬.
অতি দূরে আকাশের সুকুমার পান্ডুর নীলিমা
৭.
হিংস্র রাত্রি আসে চুপে চুপে
৮.
একা ব’সে সংসারের প্রান্ত-জানালায়
৯.
বিরাট সৃষ্টির ক্ষেত্রে
১০.
অলস সময়-ধারা বেয়ে
১১.
পলাশ আনন্দমূর্তি জীবনের ফাগুনদিনের
১২.
দ্বার খোলা ছিল মনে
১৩.
ভালোবাসা এসেছিল একদিন তরুণ বয়সে
১৪.
প্রত্যহ প্রভাতকালে ভক্ত এ কুকুর
১৫.
খ্যাতি নিন্দা পার হয়ে জীবনের এসেছি প্রদোষে
১৬.
দিন পরে যায় দিন
১৭.
যখন এ দেহ হতে রোগে ও জরায়
১৮.
ফসল কাটা হলে সারা মাঠ হয়ে যায় ফাঁক
১৯.
দিদিমণি– অফুরান সান্ত্বনার খনি
২০.
বিশুদাদা– দীর্ঘবপু, দৃঢ়বাহু, দুঃসহ কর্তব্যে নাহি বাধা
২১.
চিরদিন আছি আমি অকেজোর দলে
২২.
নারী তুমি ধন্যা
২৩.
নগাধিরাজের দূর নেবু-নিকুঞ্জের
২৪.
অলস শয্যার পাশে জীবন মন্থরগতি চলে
২৫.
বিরাট মানবচিত্তে
২৬.
এ কথা সে কথা মনে আসে
২৭.
বাক্যের যে ছন্দোজাল শিখেছি গাঁথিতে
২৮.
মিলের চুমকি গাঁথি ছন্দের পাড়ের মাঝে মাঝে
২৯.
এ জীবনে সুন্দরের পেয়েছি মধুর আশীর্বাদ
৩০.
ধীরে সন্ধ্যা আসে
৩১.
ক্ষণে ক্ষণে মনে হয় যাত্রার সময় বুঝি এল
৩২.
আলোকের অন্তরে যে আনন্দের পরশন পাই
৩৩.
এ আমির আবরণ সহজে স্খলিত হয়ে যাক

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%