দিন পরে যায় দিন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দিন পরে যায় দিন, স্তব্ধ বসে থাকি;
ভাবি মনে, জীবনের দান যত কত তার বাকি
চুকায়ে সঞ্চয় অপচয়।
অযত্নে কী হয়ে গেছে ক্ষয়,
কী পেয়েছি প্রাপ্য যাহা, কী দিয়েছি যাহা ছিল দেয়,
কী রয়েছে শেষের পাথেয়।
যারা কাছে এসেছিল, যারা চলে গিয়েছিল দূরে,
তাদের পরশখানি রয়ে গেছে মোর কোন্‌ সুরে।
অন্যমনে কারে চিনি নাই,
বিদায়ের পদধ্বনি প্রাণে আজি বাজিছে বৃথাই।
হয়তো হয় নি জানা ক্ষমা করে কে গিয়েছে চলে
কথাটি না ব’লে।
যদি ভুল করে থাকি তাহার বিচার
ক্ষোভ কি রাখিবে তবু যখন রব না আমি আর।
কত সূত্র ছিন্ন হল জীবনের আস্তরণময়,
জোড়া লাগাবারে আর রবে না সময়।
জীবনের শেষপ্রান্তে যে প্রেম রয়েছে নিরবধি
মোর কোনো অসম্মান তাহে ক্ষতচিহ্ন দেয় যদি,
আমার মৃত্যুর হস্ত আরোগ্য আনিয়া দিক তারে,
এ কথাই ভাবি বারে বারে।

উদয়ন, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪১ – বিকাল

সকল অধ্যায়
১.
এ দ্যুলোক মধুময়, মধুময় পৃথিবীর ধূলি
২.
পরম সুন্দর আলোকের স্নানপুণ্য প্রাতে
৩.
নির্জন রোগীর ঘর
৪.
ঘন্টা বাজে দূরে
৫.
মুক্তবাতায়নপ্রান্তে জনশূন্য ঘরে
৬.
অতি দূরে আকাশের সুকুমার পান্ডুর নীলিমা
৭.
হিংস্র রাত্রি আসে চুপে চুপে
৮.
একা ব’সে সংসারের প্রান্ত-জানালায়
৯.
বিরাট সৃষ্টির ক্ষেত্রে
১০.
অলস সময়-ধারা বেয়ে
১১.
পলাশ আনন্দমূর্তি জীবনের ফাগুনদিনের
১২.
দ্বার খোলা ছিল মনে
১৩.
ভালোবাসা এসেছিল একদিন তরুণ বয়সে
১৪.
প্রত্যহ প্রভাতকালে ভক্ত এ কুকুর
১৫.
খ্যাতি নিন্দা পার হয়ে জীবনের এসেছি প্রদোষে
১৬.
দিন পরে যায় দিন
১৭.
যখন এ দেহ হতে রোগে ও জরায়
১৮.
ফসল কাটা হলে সারা মাঠ হয়ে যায় ফাঁক
১৯.
দিদিমণি– অফুরান সান্ত্বনার খনি
২০.
বিশুদাদা– দীর্ঘবপু, দৃঢ়বাহু, দুঃসহ কর্তব্যে নাহি বাধা
২১.
চিরদিন আছি আমি অকেজোর দলে
২২.
নারী তুমি ধন্যা
২৩.
নগাধিরাজের দূর নেবু-নিকুঞ্জের
২৪.
অলস শয্যার পাশে জীবন মন্থরগতি চলে
২৫.
বিরাট মানবচিত্তে
২৬.
এ কথা সে কথা মনে আসে
২৭.
বাক্যের যে ছন্দোজাল শিখেছি গাঁথিতে
২৮.
মিলের চুমকি গাঁথি ছন্দের পাড়ের মাঝে মাঝে
২৯.
এ জীবনে সুন্দরের পেয়েছি মধুর আশীর্বাদ
৩০.
ধীরে সন্ধ্যা আসে
৩১.
ক্ষণে ক্ষণে মনে হয় যাত্রার সময় বুঝি এল
৩২.
আলোকের অন্তরে যে আনন্দের পরশন পাই
৩৩.
এ আমির আবরণ সহজে স্খলিত হয়ে যাক

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%