এ কথা সে কথা মনে আসে

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এ কথা সে কথা মনে আসে,
বর্ষাশেষে শরতের মেঘ যেন ফিরিছে বাতাসে।
কাজের বাঁধনহারা শূন্যে করে মিছে আনাগোনা;
কখনো রুপালি আঁকে, কখনো ফুটায়ে তোলে সোনা।
অদ্ভুত মূর্তি সে রচে দিগন্তের কোণে,
রেখার বদল করে পুনঃ পুনঃ যেন অন্যমনে।
বাষ্পের সে শিল্পকাজ যেন আনন্দের অবহেলা–
কোনোখানে দায় নেই, তাই তার অর্থহীন খেলা।
জাগার দায়িত্ব আছে, কাজ নিয়ে তাই ওঠাপড়া।
ঘুমের তো দায় নেই, এলোমেলো স্বপ্ন তাই গড়া।
মনের স্বপ্নের ধাত চাপা থাকে কাজের শাসনে,
বসিতে পায় না ছুটি স্বরাজ-আসনে।
যেমনি সে পায় ছাড়া খেয়ালে খেয়ালে করে ভিড়,
স্বপ্ন দিয়ে রচে যেন উড়ুক্ষু পাখির কোন্‌ নীড়।
আপনার মাঝে তাই পেতেছি প্রমাণ–
স্বপ্নের এ পাগলামি বিশ্বের আদিম উপাদান।
তাহারে দমনে রাখে, ধ্রুব করে সৃষ্টির প্রণালী
কর্তৃত্ব প্রচণ্ড বলশালী।
শিল্পের নৈপুণ্য এই উদ্দামেরে শৃঙ্খলিত করা,
অধরাকে ধরা।

উদয়ন, ২৩ জানুয়ারি, ১৯৪১ – দুপুর

সকল অধ্যায়
১.
এ দ্যুলোক মধুময়, মধুময় পৃথিবীর ধূলি
২.
পরম সুন্দর আলোকের স্নানপুণ্য প্রাতে
৩.
নির্জন রোগীর ঘর
৪.
ঘন্টা বাজে দূরে
৫.
মুক্তবাতায়নপ্রান্তে জনশূন্য ঘরে
৬.
অতি দূরে আকাশের সুকুমার পান্ডুর নীলিমা
৭.
হিংস্র রাত্রি আসে চুপে চুপে
৮.
একা ব’সে সংসারের প্রান্ত-জানালায়
৯.
বিরাট সৃষ্টির ক্ষেত্রে
১০.
অলস সময়-ধারা বেয়ে
১১.
পলাশ আনন্দমূর্তি জীবনের ফাগুনদিনের
১২.
দ্বার খোলা ছিল মনে
১৩.
ভালোবাসা এসেছিল একদিন তরুণ বয়সে
১৪.
প্রত্যহ প্রভাতকালে ভক্ত এ কুকুর
১৫.
খ্যাতি নিন্দা পার হয়ে জীবনের এসেছি প্রদোষে
১৬.
দিন পরে যায় দিন
১৭.
যখন এ দেহ হতে রোগে ও জরায়
১৮.
ফসল কাটা হলে সারা মাঠ হয়ে যায় ফাঁক
১৯.
দিদিমণি– অফুরান সান্ত্বনার খনি
২০.
বিশুদাদা– দীর্ঘবপু, দৃঢ়বাহু, দুঃসহ কর্তব্যে নাহি বাধা
২১.
চিরদিন আছি আমি অকেজোর দলে
২২.
নারী তুমি ধন্যা
২৩.
নগাধিরাজের দূর নেবু-নিকুঞ্জের
২৪.
অলস শয্যার পাশে জীবন মন্থরগতি চলে
২৫.
বিরাট মানবচিত্তে
২৬.
এ কথা সে কথা মনে আসে
২৭.
বাক্যের যে ছন্দোজাল শিখেছি গাঁথিতে
২৮.
মিলের চুমকি গাঁথি ছন্দের পাড়ের মাঝে মাঝে
২৯.
এ জীবনে সুন্দরের পেয়েছি মধুর আশীর্বাদ
৩০.
ধীরে সন্ধ্যা আসে
৩১.
ক্ষণে ক্ষণে মনে হয় যাত্রার সময় বুঝি এল
৩২.
আলোকের অন্তরে যে আনন্দের পরশন পাই
৩৩.
এ আমির আবরণ সহজে স্খলিত হয়ে যাক

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%