প্রাচ্য সভ্যতার প্রাচীনত্ব

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মে মাসের পত্রিকায় আচার্য ম্যাক্সমূলার লিখিতেছেন প্রচীনতার একটি বিশেষ গৌরব আছ সন্দেহ নাই কিন্তু প্রাচ্যতত্ত্ব আলোচনায় সেইটেকেই মুখ্য আকর্ষণ জ্ঞান করা উচিত হয় না। যাহা-কিছু বহুকেলে এবং সৃষ্টিছাড়া তাহাই যে বিশেষ আদরের সামগ্রী তাহা নহে। বরঞ্চ প্রাচীনের সঙ্গে যখন নবীনের যোগ দেখা যায়, যখন সম্পর্কসূত্রে নবীন প্রাচীন হইয়া যায় এবং প্রাচীন নবীন হইয়া আসে, তখনই আমাদের যথার্থ আনন্দ বোধ হয়। আর্য সভ্যতা আবিষ্কারের প্রধান মাহাত্ম্য এই যে, ইহার দ্বারা দূর নিকটবর্তী হইয়াছে এবং যাহাদিগকে পর মনে করিতাম তাহাদিগকে আপনার বলিয়া জানিয়াছি। মনুষ্যপ্রেম বিস্তারের, পৃথিবীর দেশ-বিদেশের মধ্যে সম্বন্ধ স্থাপনের একটি প্রাচীন পথ পাওয়া গিয়াছে। অতএব এ কেবল একটি শুষ্ক তত্ত্বমাত্র নহে, মনুষ্যত্বই ইহার আত্মা, মানবই ইহার লক্ষ্যস্থল।

তিনি বলিতেছেন একবার ভাবিয়া দেখো “ইণ্ডো-য়ুরোপিয়ান’ শব্দটার মধ্যে কতটা মহত্ত্ব আছে। এই নামে ইংরাজি, জর্মান, কেল্টিক্‌, স্লাভোনিক, গ্রীক এবং লাটিন-ভাষীদের সহিত সংস্কৃত, পারসিক এবং আর্মানি-ভাষীরা এক হইয়া গিয়াছে। এই নামে এমন একটি বৃহৎ মিলমণ্ডলীর সৃষ্টি হইয়াছে পৃথিবীর সমস্ত মহত্তম জাতি যাহার অঙ্গ– এই নামের প্রভাবে সেই-সমস্ত জাতি আপনাদের অন্তরের মধ্যে বৃহৎ ইণ্ডো-য়ুরোপীয় ঐক্যের, প্রাচীন আর্য ভ্রাতৃত্ব-বন্ধনের একটি মহৎ মর্যাদা অনুভব করিতে পারিতেছে।

ম্যাক্সমূলার মহাত্মার মতো কথা বলিয়াছেন। হায়, তিনি জানেন না তাঁহার প্রতিষ্ঠিত এই “আর্য শব্দ লইয়াই আমাদের দেশে দূরে নিকটে, মানবে মানবে কাল্পনিক ব্যবধান স্থাপিত হইতেছে। বাঙালি পণ্ডিতের মুখে যখন এই “আর্য’ নাম উচ্চারিত হয় তখন তাহার সুদূরব্যাপী উদারতা ঘুচিয়া গিয়া তাহা একটা গ্রাম্য দলাদলির কলহকোলাহলে পরিণত হয়। নামের দোষ নাই, যাহার যেমন প্রকৃতি, ভাষা তাহার মুখে তেমনি আকার ধারণ করে।

এই উপলক্ষে শ্রদ্ধাস্পদ শ্রীযুক্ত দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয়ের রচিত “আর্যামি এবং সাহেবিয়ানা’ পুস্তিকাখানি আমরা পাঠকগণকে পড়িতে সবিনয় অনুরোধ করি।

সাধনা, অগ্রহায়ণ, ১২৯৮

সকল অধ্যায়
১.
মণিপুরের বর্ণনা
২.
আমেরিকার সমাজচিত্র
৩.
পৌরাণিক মহাপ্লাবন
৪.
মুসলমান মহিলা
৫.
প্রাচ্য সভ্যতার প্রাচীনত্ব
৬.
ক্ষিপ্ত রমণীসম্প্রদায়
৭.
সীমান্ত প্রদেশ ও আশ্রিতরাজ্য
৮.
ভিক্ষায়াং নৈব নৈব চ
৯.
স্ত্রী-মজুর
১০.
প্রাচীন-পুঁথি উদ্ধার
১১.
ক্যাথলিক সোশ্যালিজ্‌ম্‌
১২.
আমেরিকানের রক্তপিপাসা
১৩.
সুখ দুঃখ
১৪.
সোশ্যালিজ্‌ম্‌
১৫.
প্রাচীন শূন্যবাদ
১৬.
পরিবারাশ্রম
১৭.
মানুষসৃষ্টি
১৮.
জিব্রল্টার বর্জন
১৯.
পলিটিক্স্‌
২০.
কন্‌গ্রেসে বিদ্রোহ
২১.
ভারত কৌন্সিলের স্বাধীনতা
২২.
পুলিস রেগুলেশন বিল
২৩.
ভারতবর্ষীয় প্রকৃতি
২৪.
ধর্মপ্রচার
২৫.
ইণ্ডিয়ান রিলিফ সোসাইটি
২৬.
উদ্দেশ্য সংক্ষেপ ও কর্তব্য বিস্তার
২৭.
হিন্দু ও মুসলমান
২৮.
কন্‌গ্রেসে বিদ্রোহ
২৯.
রাষ্ট্রীয় ব্যাপার
৩০.
ফেরোজ শা মেটা
৩১.
বেয়াদব
৩২.
কথামালার একটি গল্প
৩৩.
চাবুক-পরিপাক
৩৪.
জাতীয় আদর্শ
৩৫.
অপূর্ব দেশহিতৈষিতা
৩৬.
কুকুরের প্রতি মুগুর
৩৭.
ইংলন্ডে ও ভারতবর্ষে সমকালীন সিবিল সর্বিস পরীক্ষা
৩৮.
মতের আশ্চর্য ঐক্য
৩৯.
ইংরাজি ভাষা শিক্ষা
৪০.
জাতীয় সাহিত্য
৪১.
ভ্রম স্বীকার
৪২.
চিত্রল অধিকার
৪৩.
ইংরাজের লোকপ্রিয়তা
৪৪.
ইংরাজের স্বদোষ-বাৎসল্য
৪৫.
ইংরাজের লোকলজ্জা
৪৬.
প্রাচী ও প্রতীচী
৪৭.
নূতন সংস্করণ
৪৮.
জাতিভেদ
৪৯.
বিবাহে পণগ্রহণ
৫০.
ইংরাজের কাপুরুষতা

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%