জিব্রল্টার বর্জন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গ্যাম্বিয়র সাহেব বলিতেছেন, ইংরাজ জিব্রল্টারের উপর দুর্গ ফাঁদিয়া ভারতবর্ষের পথ আগলাইয়া বসিয়া আছে, কিন্তু সে তাহার পণ্ডশ্রম মাত্র। কারণ, যুদ্ধের সময় যদি সুয়েজখালের পথ ব্যবহার করা সম্ভব হয় তবে জিব্রল্টার দুর্গের উপযোগিতা থাকে; কিন্তু লেখকের মতে তাহা সম্ভব নহে। কেননা, রুশিয়া প্রভৃতি কোনো য়ুরোপীয় সাম্রাজ্যের সহিত ইংরাজের যদি যুদ্ধ বাধে, তবে ইজিপ্ট কোনো পক্ষ অবলম্বন করিতে না পারিয়া সন্ধির নিয়মানুসারে ইংরাজকে খালের পথে প্রবেশ করিতে দিবে না। ফ্রান্স (ফরাসি) এবং রুশিরা যদি কখনো একত্র মিলিত হইয়া তুরস্ক আক্রমণ করে তবে তুরস্কের অধীনস্থ ইজিপ্ট আক্রমণে বাধা দিবার অধিকার ইংরাজের নাই, কারণ, ইংরাজ সেখানে অতিথি মাত্র। অতএব বিপদের সময় সুয়েজপথের কোনো মূল্য দেখা যায় না। কেবল তাহাই নহে। লেখক বলেন,জিব্রল্টার প্রণালী দিয়া অন্য য়ুরোপীয় সৈন্যপ্রবেশ প্রতিহত করা সহজ নহে, কারণ, প্রণালীটি যথেষ্ট প্রশস্ত। এবং আটলান্টিক ও ভূমধ্যসাগরের যোগসাধন করিয়া ফ্রান্স যে খাল খনন করিতে প্রস্তুত হইয়াছে তাহা সমাধা হইলে জিব্রাল্টরের কোনো মূল্যই থাকে না।

আরও একটা কথা আছে। সুয়েজখাল বালির মধ্য দিয়া একটা সামান্য নালা মাত্র। সের দেড়েক ডাইনামাইট লাগাইলেই তাহাকে ধ্বংস করা যায় এবং একটা জাহাজ যদি ইঁট ও লোহার রেলে বোঝাইপূর্বক আড় করিয়া মাঝখানে ডুবাইয়া দেওয়া যায় তাহা হইলেই পথ বন্ধ।

লেখক বলেন, ভূমধ্যসাগরের পথ ছাড়িয়া ইংলণ্ড যদি উত্তমাশা অন্তরীপ দিয়া পথ ঘুরাইয়া লন তাহা হইলে আর কোনো চিন্তার কারণ থাকে না। তাহা হইলে য়ুরোপের সহিত আর কোনো সংস্রবই থাকে না, সমস্ত পথ খোলসা পাওয়া যায়।

লেখক প্রস্তাব করেন, স্পেনকে জিব্রল্টার ছাড়িয়া দিয়া তৎপরিবর্তে তাহার নিকট হইতে ক্যানারি দ্বীপ লওয়া হউক। সেখানে পথের মধ্যে দিব্য একটি দুর্গ ফাঁদিয়া বেশ শক্ত হইয়া বসা যায় এবং জাহাজ মেরামত, কয়লাতোলা এবং সৈন্যনিবাসের পক্ষে একটি সুবিধামতো আড্ডা হয়।

পর্টুগালের নিকট হইতে ম্যাডেরা দ্বীপটাও পাঁচরকম প্রলোভন দ্বারা জোগাড় করিয়া লওয়া যাইতে পারে।

তাহার পর ইজিপ্টের দখল ছাড়িয়া দিয়া ফ্রান্সের নিকট হইতে তৎপরিবর্তে ম্যাডাগাস্কর চাহিয়া লইলে ফ্রান্স নারাজ হইবে না।

তাহার পর ইংলণ্ড হইতে বুক ফুলাইয়া ধূমোদ্‌গার করিয়া রণতরী ছাড়িবে এবং অবাধে সমস্ত আটলান্টিক কর্ষণ করিয়া ভারতসমুদ্র উত্তীর্ণ হইয়া একেবারে ভারতবর্ষের ঘাটে আসিয়া লাগিবে; য়ুরোপের চোখরাঙানিকে আর কিছুমাত্র কেয়ার করিতে হইবে না। ভারতবর্ষের কণ্ঠলগ্ন লৌহশৃঙ্খলটি বরাবর নিরাপদ সমুদ্রমধ্যে দিয়া একটানে চলিয়া গিয়া ইংলণ্ডের দ্বারদেশে দৃঢ়পাকে বদ্ধ হইয়া থাকিবে।

সাধনা, ভাদ্র, ১৩০০

সকল অধ্যায়
১.
মণিপুরের বর্ণনা
২.
আমেরিকার সমাজচিত্র
৩.
পৌরাণিক মহাপ্লাবন
৪.
মুসলমান মহিলা
৫.
প্রাচ্য সভ্যতার প্রাচীনত্ব
৬.
ক্ষিপ্ত রমণীসম্প্রদায়
৭.
সীমান্ত প্রদেশ ও আশ্রিতরাজ্য
৮.
ভিক্ষায়াং নৈব নৈব চ
৯.
স্ত্রী-মজুর
১০.
প্রাচীন-পুঁথি উদ্ধার
১১.
ক্যাথলিক সোশ্যালিজ্‌ম্‌
১২.
আমেরিকানের রক্তপিপাসা
১৩.
সুখ দুঃখ
১৪.
সোশ্যালিজ্‌ম্‌
১৫.
প্রাচীন শূন্যবাদ
১৬.
পরিবারাশ্রম
১৭.
মানুষসৃষ্টি
১৮.
জিব্রল্টার বর্জন
১৯.
পলিটিক্স্‌
২০.
কন্‌গ্রেসে বিদ্রোহ
২১.
ভারত কৌন্সিলের স্বাধীনতা
২২.
পুলিস রেগুলেশন বিল
২৩.
ভারতবর্ষীয় প্রকৃতি
২৪.
ধর্মপ্রচার
২৫.
ইণ্ডিয়ান রিলিফ সোসাইটি
২৬.
উদ্দেশ্য সংক্ষেপ ও কর্তব্য বিস্তার
২৭.
হিন্দু ও মুসলমান
২৮.
কন্‌গ্রেসে বিদ্রোহ
২৯.
রাষ্ট্রীয় ব্যাপার
৩০.
ফেরোজ শা মেটা
৩১.
বেয়াদব
৩২.
কথামালার একটি গল্প
৩৩.
চাবুক-পরিপাক
৩৪.
জাতীয় আদর্শ
৩৫.
অপূর্ব দেশহিতৈষিতা
৩৬.
কুকুরের প্রতি মুগুর
৩৭.
ইংলন্ডে ও ভারতবর্ষে সমকালীন সিবিল সর্বিস পরীক্ষা
৩৮.
মতের আশ্চর্য ঐক্য
৩৯.
ইংরাজি ভাষা শিক্ষা
৪০.
জাতীয় সাহিত্য
৪১.
ভ্রম স্বীকার
৪২.
চিত্রল অধিকার
৪৩.
ইংরাজের লোকপ্রিয়তা
৪৪.
ইংরাজের স্বদোষ-বাৎসল্য
৪৫.
ইংরাজের লোকলজ্জা
৪৬.
প্রাচী ও প্রতীচী
৪৭.
নূতন সংস্করণ
৪৮.
জাতিভেদ
৪৯.
বিবাহে পণগ্রহণ
৫০.
ইংরাজের কাপুরুষতা

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%