দৈন্য (নিরালোক, স্তব্ধশোক, আয়ত নয়ানে)

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত

নিরালোক, স্তব্ধশোক, আয়ত নয়ানে
চেও না, চেও না মুখপানে,
দ্বিধাকম্প্র স্বরে
বোলো না, বোলো না মোরে
এ-সর্বনাশের দায় কেবলই তোমার;
বারংবার
কল্পিত কলুষ-নত শিরে
এনো না, এনো না ডেকে বিধির ধর্মিষ্ঠ অশনিরে;
ভেবো না, ভেবো না
মোর অন্ধ দুরাশারে সংহারিল তোমার বঞ্চনা;
জানায়ো না অনুতাপ আর অকারণে।।

আমি তো করিনি কভু মনে,
কখনও করিনি মনে প্রভুত্বের উন্মাত্র প্রমাদে,
রাগরিক্ত চিত্তপটে তব
অক্ষয় রেখায় আমি দীপ্র হয়ে রব;
মিলনের তন্ময় প্রসাদে
ভুলি নাই দুর্নিবার বিকারের কথা;
মানিনি ভঙ্গুর ভবে নিতান্ত সুলভ অমরতা।।

আমার অক্ষম বুদ্ধি দিবস-রজনী
শুনেছে অন্তরপথে বিপ্লবের নিত্য পদধ্বনি;
জানে আপনার দৈন্য। তাই ডোবে নির্বাক ধিক্কারে
বিপ্রলব্ধ হৃদয়ের দাম্ভিক বিলাপ;
তাই মোর উদ্বাস্তু সন্তাপ
পায় না প্রতিষ্ঠা আজ আত্মম্ভরি অসূয়ার দ্বারে;
তাই মোর প্রাণ
স্মৃতিশূন্য অন্ধকারে খুঁজে মরে নিশ্চিহ্ন নির্বাণ॥

১০ মার্চ ১৯৩১

সকল অধ্যায়
১.
হৈমন্তী (বৈদেহী বিচিত্রা আজি সংকুচিত শিশিরসন্ধ্যায়)
২.
চপলা (জনমে জনমে, মরণে মরণে)
৩.
অপচয় (প্রেয়সী, আছে কি মনে সে-প্রথম বাঙ্ময় রজনী)
৪.
কস্মৈ দেবায় (হায়, গৰ্বান্বিতা)
৫.
পণ্ডশ্রম (অভ্যস্ত লজ্জার ছল, আচারের ব্যর্থ ব্যবধান)
৬.
মূর্তিপূজা (মিলনার্ত বসন্তপ্রদোষে)
৭.
মহাসত্য (অসম্ভব, প্রিয়তমে, অসম্ভব শাশ্বত স্মরণ)
৮.
পুনর্জন্ম (নিশীথের নির্জন আঁধারে)
৯.
ভবিতব্য (শিপ্রার অপর তটে নেমে আসে সুদীর্ঘ রজনী)
১০.
বিকলতা (শেফালী অঙ্গুলি তব গণ্ডে মম বিচরে কৌতুকে)
১১.
অনুষঙ্গ (তোমারে যে কেন বাসি ভালো)
১২.
মহাশ্বেতা (মনে হয়েছিল বুঝি উদ্‌ভ্রান্ত হৃদয়)
১৩.
সঞ্চয় (আজি পড়ে মনে)
১৪.
প্রলাপ (জানি, জানি)
১৫.
উদ্‌ভ্রান্তি (সে-দিনে বৈশাখ)
১৬.
নাম (চাই, চাই, আজও চাই তোমারে কেবলই)
১৭.
জিজ্ঞাসা (দিলেম বিমুক্ত ক’রে পিষ্টপুষ্প নিকুঞ্জের দ্বার)
১৮.
সমাপ্তি (ভুলেছ কি তবে)
১৯.
দৈন্য (নিরালোক, স্তব্ধশোক, আয়ত নয়ানে)
২০.
ধিক্কার (ধিক্কারে বিষায়ে ওঠে মন)
২১.
সর্বনাশ (“বুঝি,” বলেছিলাম সে-দিন, “সবই বুঝি”)
২২.
মার্জনা (ক্ষমা? ক্ষমা? কেন চাও ক্ষমা)
২৩.
শাশ্বতী (শ্রান্ত বরষা, অবেলার অবসরে)
২৪.
বিস্মরণী (কেন ধাও মোর পাছে পাছে)
২৫.
অর্কেস্ট্রা (নিবে গেল দীপাবলী; অকস্মাৎ অস্ফুট গুঞ্জন)

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%