বিকলতা (শেফালী অঙ্গুলি তব গণ্ডে মম বিচরে কৌতুকে)

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত

শেফালী অঙ্গুলি তব গণ্ডে মম বিচরে কৌতুকে;
সুশীতল মুক্তিস্নানে নিমন্ত্রণ করে নিষ্পলক,
অকূল, পিঙ্গল আঁখি; অসংবৃত, কপিশ অলক
চুম্বন বিথারি যায় লঘু স্পর্শে আমার চিবুকে;

কম্প্র কুসুমাস্ত্র যেন, অধরের অঞ্চিত কার্মুকে
বিরল গুঞ্জনধ্বনি টংকারিছে, মথি কল্পলোক;
বিলাসবিহ্বল দেহে উপেক্ষিত লজ্জার বালক,
যূথীগন্ধসনে মিশে, রোমাঞ্চ বিস্তারে মোর বুকে।।

কক্ষের সংযত সজ্জা, হেমন্তের পক্ক পত্ৰ-সম,
আস্বচ্ছ বসন তব, দরদের বলি শুভ্র ভালে,
ভিন্ন ভিন্ন অবয়ব মনে আছে; শুধু নিরুপম
অখণ্ড আননখানি সীমাশূন্য শূন্যে যে লুকালে॥

তাই আজি তব স্মৃতি, মগ্নতরী জঞ্জালের মতো,
সহে না আশার ভার, করে, হায়, বিদ্রূপে বিব্ৰত।।

১৪ জুন ১৯২৯

সকল অধ্যায়
১.
হৈমন্তী (বৈদেহী বিচিত্রা আজি সংকুচিত শিশিরসন্ধ্যায়)
২.
চপলা (জনমে জনমে, মরণে মরণে)
৩.
অপচয় (প্রেয়সী, আছে কি মনে সে-প্রথম বাঙ্ময় রজনী)
৪.
কস্মৈ দেবায় (হায়, গৰ্বান্বিতা)
৫.
পণ্ডশ্রম (অভ্যস্ত লজ্জার ছল, আচারের ব্যর্থ ব্যবধান)
৬.
মূর্তিপূজা (মিলনার্ত বসন্তপ্রদোষে)
৭.
মহাসত্য (অসম্ভব, প্রিয়তমে, অসম্ভব শাশ্বত স্মরণ)
৮.
পুনর্জন্ম (নিশীথের নির্জন আঁধারে)
৯.
ভবিতব্য (শিপ্রার অপর তটে নেমে আসে সুদীর্ঘ রজনী)
১০.
বিকলতা (শেফালী অঙ্গুলি তব গণ্ডে মম বিচরে কৌতুকে)
১১.
অনুষঙ্গ (তোমারে যে কেন বাসি ভালো)
১২.
মহাশ্বেতা (মনে হয়েছিল বুঝি উদ্‌ভ্রান্ত হৃদয়)
১৩.
সঞ্চয় (আজি পড়ে মনে)
১৪.
প্রলাপ (জানি, জানি)
১৫.
উদ্‌ভ্রান্তি (সে-দিনে বৈশাখ)
১৬.
নাম (চাই, চাই, আজও চাই তোমারে কেবলই)
১৭.
জিজ্ঞাসা (দিলেম বিমুক্ত ক’রে পিষ্টপুষ্প নিকুঞ্জের দ্বার)
১৮.
সমাপ্তি (ভুলেছ কি তবে)
১৯.
দৈন্য (নিরালোক, স্তব্ধশোক, আয়ত নয়ানে)
২০.
ধিক্কার (ধিক্কারে বিষায়ে ওঠে মন)
২১.
সর্বনাশ (“বুঝি,” বলেছিলাম সে-দিন, “সবই বুঝি”)
২২.
মার্জনা (ক্ষমা? ক্ষমা? কেন চাও ক্ষমা)
২৩.
শাশ্বতী (শ্রান্ত বরষা, অবেলার অবসরে)
২৪.
বিস্মরণী (কেন ধাও মোর পাছে পাছে)
২৫.
অর্কেস্ট্রা (নিবে গেল দীপাবলী; অকস্মাৎ অস্ফুট গুঞ্জন)

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%