জ্যান্ত পাথর

কৃষ্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

লুকোচুরি খেলতে খেলতে এতদূরে এসে পড়বে, টুইঙ্কল একথা ভাবেইনি৷ হঠাৎ চারিদিকে তাকিয়ে ওর গা-টা কেমন ছমছম করে উঠল৷ এ কী? এ কোথায় এসে পড়েছে ও? চারপাশে শুধু বড়ো বড়ো কয়েকটা গাছ, ঝোপঝাড় আর তার মাঝে মাঝে বিশাল বিশাল পাথরের চাঁই৷ এ তো একদম অচেনা জায়গা ওর কাছে৷ কী হবে এবার? কী করে বাড়ি ফিরবে ও? বন্ধুরাই বা জানবে কী করে যে, ও এখানে এসে পড়েছে? ভাবতেই যেন কান্না পেয়ে যায় টুইঙ্কলের৷

খেলতে বেরোবার আগে মা পইপই করে বলে দিয়েছিল, 'এখানে কোনো জায়গা চেনো না৷ একদম দূরে কোথাও যাবে না কিন্তু৷ সবসময় বন্ধুদের সঙ্গে সঙ্গে থাকবে৷ বুঝেছ?' ও বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নেড়ে সায় দিয়েছিল৷ কিন্তু শেষমেষ কী হল? সেই তো মায়ের অবাধ্য হয়ে গেল ও! এখন কী করবে? বুকের মধ্যে থেকে কান্না যেন ঠেলে আসছে৷ ফোঁপাতে ফোঁপাতে একটা গাছতলায় বসে পড়ে টুইঙ্কল৷

বাবা-মায়ের সঙ্গে সবে তিনদিন হল এখানে বেড়াতে এসেছে টুইঙ্কল৷ ওর বাবার বন্ধু প্রতুলকাকার একটা বাড়ি আছে এখানে৷ ওরা সেই বাড়িতেই উঠেছে৷

আশেপাশে আরও কয়েকটা বাড়ি, আর সেখানে ওর বয়সি আরও ক-জন ছেলেমেয়ে৷ প্রথমদিনেই তাদের সঙ্গে ভাব হয়ে গেছে টুইঙ্কলের৷ আর তারপর থেকে তো দু-বেলা শুধুই খেলা আর খেলা৷

বাড়ির সামনের মাঠটাতেই ওরা হুটোপাটি করে খেলে৷ মাঠটা পেরোলেই কেমন ফাঁকা ফাঁকা নির্জন ভাব, একটু দূরেই শুরু হয়েছে আগাছার জঙ্গল আর পাথুরে এলাকা৷ দু-একটা ছোটো-বড়ো টিলাও আছে৷ ওদিকে তাকালেই কেমন ভয় ভয় করে৷ সেইজন্যেই টুইঙ্কল ওদিকে ভুলেও তাকায় না৷

কিন্তু আজ যে কী হল! ফাঁকা মাঠে তো আর লুকোচুরি খেলা যায় না৷ তাই আড়ালে লুকোবার জন্যেই এদিকটায় জায়গা খুঁজছিল টুইঙ্কল৷ চোর হয়েছে অতসী৷ সে যাতে কিছুতেই ওকে খুঁজে না পায়, তাই ভালোমতো আড়াল খুঁজতে খুঁজতে কখন যে এইরকম একটা অচেনা অজানা জায়গায় ও এসে পড়েছে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি টুইঙ্কল৷

গাছতলায় বসে ফোঁপাতে ফোঁপাতে চারিদিকে অসহায়ের মতো তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিল টুইঙ্কল৷ হঠাৎ ওর পাশের দিকে কীসের একটা শব্দ হল৷ ভয়ে ধক করে উঠল বুকের ভেতরটা৷ কী ওটা? নিমেষের মধ্যে পাশের দিকে তাকিয়েই তো চক্ষুস্থির৷ একটা মাঝারি সাইজের পাথর৷ সেটা নড়ছে৷ কাঁপছে৷ আস্তে আস্তে এপাশ-ওপাশ দুলছে৷ আর সেইসঙ্গে সেই পাথরের রং বদলাচ্ছে৷

দেখতে দেখতে পাথরটার গায়ের রং পাথুরে থেকে বদলাতে বদলাতে ক্রমে বেগুনি হয়ে উঠল৷ সেইসঙ্গে তার আকৃতিটা বদলে গিয়ে যেন একটা পুতুলের মতো হল৷ টুইঙ্কলের যে একটা গাবলুগুবলু ভাল্লুকের মতো সফট টয় আছে, অনেকটা যেন সেইরকম৷ এখন আর টুইঙ্কলের খুব একটা ভয় করছে না, বরং একটু একটু মজাই লাগছে৷ চোখ বড়ো বড়ো করে ও দেখছে, পাথরটা আস্তে আস্তে যেন গড়িয়ে গড়িয়ে ওর দিকে এগিয়ে এল, খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে ওকে দেখতে লাগল৷

এবার বেশ বোঝা যাচ্ছে, পাথরটার গায়ে ওপর দিকে যে দুটো চটা-ওঠা কালো অংশ দেখা যাচ্ছিল, সেটাই এই পাথরটার চোখ৷ সেই চোখ দিয়ে পাথরটা এখন টুইঙ্কলকে দেখছে৷

ভালো করে দেখবার জন্যে হাতের চেটোর উলটোপিঠ দিয়ে চোখদুটো মুছে নেয় টুইঙ্কল৷ আর তখনই ওর মনে হয়, কে যেন ওর সঙ্গে কথা বলছে৷ ওকে ডাকছে৷ আকুল হয়ে চারিদিকে তাকায় টুইঙ্কল৷ তাহলে কি বন্ধুরা ওকে খুঁজতে খুঁজতে এদিকে চলে এসেছে? কিন্তু ও তো কাউকে দেখতে পাচ্ছে না৷

না, কেউ তো নেই৷ কোনোদিকেই কাউকে দেখা যাচ্ছে না! এবার সামনের দিকে তাকিয়েই ভীষণ অবাক হয়ে যায় টুইঙ্কল৷ পাথরটা! না, কোনো ভুল নেই৷ সামনের ওই পাথরটাই কথা বলছে ওর সঙ্গে৷ ওটা একটু একটু করে দুলছে আর টুইঙ্কল স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে ওর কথা৷

'এই যে ভাই! কী হয় তোমার নাম?'

কথাটা বুঝতে পেরে হঠাৎ ভীষণ হাসি পেয়ে যায় টুইঙ্কলের৷ এ আবার কী? এরকম করে কেউ কথা বলে নাকি? তবু কোনোরকমে হাসি চেপে মুখটা গম্ভীর করে ও বলল, 'আমার নাম টুইঙ্কল৷ তোমার নাম কী? তুমি কে?'

পাথরটা আবার দুলতে থাকে আর টুইঙ্কল শুনতে পায়, 'আমার নাম হয় আক্সারাক্সাডুং৷ আমি আসিয়াছি হইতে রুস্টাস গ্রহ৷'

ভাষা শুনে হাসি আর চাপতে পারে না টুইঙ্কল৷ সেইসঙ্গে তার চোখদুটো ছানাবড়া হয়ে যায়৷ পরক্ষণেই ও প্রায় ঝাঁজিয়ে উঠে বলে, 'মানে? কী সব আলতুফালতু কথা বলছ? ইয়ার্কি হচ্ছে?'

ও বাবা! পাথরটা আর দুলছে না তো! নিশ্চল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে৷ আর কোনো কথাও শোনা যাচ্ছে না৷ তার মানে কী? ওর বকুনি খেয়ে ভয় পেয়ে গেল, না কি ওর কথার মানে বুঝতে পারেনি?

সেটাই হবে৷ আহা, বেচারি বোধ হয় সবে ব্যাকরণ শিখেছে৷ তাই তো কেমন ব্যাকরণের ভাষায় কথা বলছে৷ 'আলতুফালতু' বা 'ইয়ার্কি', এইসব শব্দের মানেই হয়তো জানে না৷ এবার ওর ওপর একটু মায়া হয় টুইঙ্কলের৷ বলে, 'কী হল? চুপ করে গেলে কেন? শোনো, আমি কিন্তু মিথ্যে কথা একদম ভালোবাসি না৷ তাই বলছি, সত্যি কথা বলো৷ তোমার বাড়ি কোথায়? কে তুমি?'

এবার নড়েচড়ে ওঠে পাথরটা৷ আর বেশ জোরে জোরে দুলতে থাকে৷ বোঝা যায়, টুইঙ্কলকে খুব পছন্দ হয়েছে তার৷ টুইঙ্কল শোনে, পাথরটা বলছে, 'শোনো, এটা হয় সত্যি কথা৷ আমার নিজস্ব বাসস্থান রুস্টাস গ্রহ৷ সেটি প্রায় দশ লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে, হইতে এই স্থান৷ বুঝেছ?'

তা তো বুঝেছে, কিন্তু শুনে যে টুইঙ্কলের বুকের ধুকপুকুনি বেড়ে গেল! এ কী সব অদ্ভুত কাণ্ড ঘটছে ওর চারপাশে? পাথর এসে ওর সঙ্গে কথা বলছে৷ আবার তার বাড়ি নাকি দশ লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে৷ ও স্বপ্ন দেখছে না তো?

'না গো বন্ধু৷ নয় স্বপ্ন৷ একদম সত্যি৷'

বাপরে! পাথরটা ওর মনের কথাও বুঝতে পারছে৷ ম্যাজিক নাকি?

এবার টুইঙ্কলের রীতিমতো ভয় ভয় করে৷ এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখে৷ না, কাউকেই তো দেখা যাচ্ছে না৷ এখানে টুইঙ্কল একদম একা৷ কী করে এখন সে?

এদিকে পাথরটা ততক্ষণে ওর দিকে আর একটু এগিয়ে এসেছে আর দুলতে দুলতে বলে চলেছে, 'তুমি ভীত? ভয় পেয়ো না৷ আমরা বন্ধু৷ এসো, বলি খুলে তোমাকে৷ তাহলেই পারবে বুঝতে সব৷ তার আগে, এই নাও, বন্ধুত্বের উপহার৷'

একটা চকচকে কাগজের মোড়ক নিমেষে টুইঙ্কলের কোলে এসে পড়ে৷ ও মা, এ যে চকোলেট! না, এ ব্যাপারে দেরি করা যায় না৷ মোড়কটা খুলে চটপট মুখে পুরে দেয় ও৷ আরিব্বাস! কি টেস্ট! এরকম চকোলেট জীবনে খায়নি টুইঙ্কল৷ এবার ওর মুখটা খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে৷ নাঃ, তাহলে পাথরটা . . . না না, কি যেন নাম বলল . . . হ্যাঁ মনে পড়েছে, আক্সারাক্সাডুং, খুব ভালো৷

ঝলমলে মুখে পাথরটার দিকে তাকিয়ে বলে টুইঙ্কল, 'থ্যাঙ্ক ইউ৷'

ও মা, পাথরটাও দুলতে দুলতে বলে, 'ওয়েলকাম, ওয়েলকাম৷'

এবার টুইঙ্কলের সব ভয় কেটে যায়৷ নির্দ্বিধায় ও এগিয়ে যায় পাথরটার দিকে৷ আর তারপর কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যায়, একটা গাছের নীচে বসে আছে টুইঙ্কল আর সেই পাথরটা৷ দু-জনের মধ্যে দিব্যি ভাব হয়ে গেছে৷ টুইঙ্কল একের পর এক প্রশ্ন করে চলেছে, আর আক্সারাক্সাডুং নামের সেই পাথরটা দুলতে দুলতে ওর অদ্ভুত ভাষায় গলগল করে কী সব বলে চলেছে৷ সে দৃশ্য যদি ওর মা একবার দেখতে পেত, টুইঙ্কল ভাবে৷

সন্ধ্যে ঘনিয়ে এসেছে৷ ওদের সেই মাঠটার ধারে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে টুইঙ্কল৷ কী অবিশ্বাস্য একটা ঘটনা আজ ঘটে গেল ওর জীবনে৷ কিন্তু এ কথাটা ও কাকে বলবে? কেউ কি বিশ্বাস করবে ওর কথা? কোন এক অজানা নক্ষত্রলোকের অচেনা এক গ্রহ রুস্টাস, সেখানকার এক বাচ্চা এসে হাজির হয়েছিল এখানে, এই পৃথিবীতে, আর তার সঙ্গে অভাবিতভাবে টুইঙ্কলের বন্ধুত্ব হয়ে গেছে, এটা কার পক্ষেই বা বিশ্বাস করা সম্ভব?

অথচ ব্যাপারটা তো সত্যি৷ আক্সারাক্সাডুং নিজেই তো সব বলেছে ওকে৷ ওদের মস্তবড়ো গ্রহটার কথা, সেখানকার প্রাণীদের কথা, গাছপালার কথা, সব, সব৷ সেখানে গাছেরা প্রাণীদের মতো হেঁটেচলে বেড়ায়, কথা বলে, একসঙ্গে একই বাড়িতে বাস করে৷ সে গ্রহে কোথাও কোনো ঝগড়া বিবাদ নেই৷ আর প্রাণীরা? সেখানকার প্রাণীরা বড়ো আজব৷ তারা শুধু নিজেদের কথা ভাবে না৷ নিজেদের জন্য বাঁচে না৷ তাদের গোটা গ্রহটা, এমনকী তার বাইরেও এই মহাবিশ্বের কথা তাদের ভাবতে শেখানো হয় ছোটোবেলা থেকেই৷

এই পৃথিবীতে যেমন ছোটোবেলায় ক্রেশ-এ পাঠানো হয়, যেখানে সারাদিন ধরে বাচ্চারা অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে মেশে, খেলাধুলা করে, ঠিক তেমনি রুস্টাস গ্রহ থেকে সেখানকার বাচ্চাদের পাঠানো হয় মহাবিশ্বের অন্যান্য সব গ্রহে৷ সেখানে সেইসব গ্রহের বাচ্চাদের সঙ্গে মিশতে শেখে ওরা৷ তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে, খেলাধুলা করে, মিলেমিশে তাদের মনকে আরও সুন্দর করে তোলে৷ ছোটোবেলা থেকেই তাই রুস্টাস গ্রহের সব ছোটোদের জন্য এই নিয়ম৷

আক্সারাক্সাডুং-কেও সেই নিয়মেই এখানে পাঠানো হয়েছিল৷ এখানে এসে টুইঙ্কলের সঙ্গে মিশে, খেলা করে, বন্ধুত্ব পাতিয়ে ওর শিক্ষা আজকের মতো সমাপ্ত হয়েছে৷ তাই সন্ধ্যের মুখে ওকে ফিরে যেতে হল নিজের গ্রহে৷ ওকে নিয়ে গেল ওর গ্রহের বড়োরা৷ হয়তো ওর বাবা কিংবা মা৷ টুইঙ্কল ঠিক জানে না৷ ও শুধু দেখল, কেমন একটা অদ্ভুত ঝড়ের মতো শব্দ উঠল জঙ্গলের দিক থেকে৷ শব্দটা শুনেই আক্সারাক্সাডুং-এর পাথুরে মুখেও যেন কেমন একটা করুণ ভাব ফুটে উঠল৷ তারপরেই ও বিদায় চাইল টুইঙ্কলের কাছ থেকে; আর তারপর?

টুইঙ্কলের চোখের সামনে একটা বিশাল গাছ যেন হঠাৎ এক-পা দু-পা করে হেঁটে এল সামনে৷ আর আক্সারাক্সাডুং গড়িয়ে গড়িয়ে গিয়ে মিশে গেল তার সঙ্গে৷ পরক্ষণেই হু-উ-শ করে সেই গাছটা যেন পাথরটাকে আঁকড়ে ধরে সোজা আকাশে উড়ে গিয়ে মিলিয়ে গেল মহাশূন্যে৷ আর সেই দৃশ্য দেখে, কেন কে জানে, টুইঙ্কলের চোখ ফেটে জল বেরিয়ে এল৷ মনের মধ্যেটা হু-হু করে উঠল ওর৷ যেন অনেকদিনের কোনো বন্ধুর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাবার মতো দুঃখ ওর মনটাকে ভারী করে তুলল৷

তারপর কতক্ষণ মন খারাপ করে ও দাঁড়িয়ে ছিল, ওর খেয়াল নেই৷ হঠাৎ চারদিকটায় কেমন ছায়া ঘনিয়ে আসতেই চমক ভাঙল ওর৷ তাই তো! বাড়ি ফিরতে হবে যে! আর এখন তো আর বাড়ি ফেরার কোনো সমস্যা নেই৷ আক্সারাক্সাডুং তার সমাধান করে দিয়ে গেছে৷

ওর বাঁ-হাতের কবজির দিকে তাকাল ও৷ সেখানে জ্বলজ্বল করছে একটা ট্যাটু৷ একটা সফট টয়৷ গোল গোল চোখ করে তাকিয়ে আছে৷ যেন বলছে, কোনো ভয় নেই৷ আমি আছি৷

টুইঙ্কল সেই ট্যাটুর মাঝখানটায় আঙুল রাখল আর চোখ বুজে মনে মনে বলল, আমাকে বাড়ির কাছে পৌঁছে দাও৷ পরক্ষণেই শরীরে একটা তীব্র ঝাঁকুনি৷ টুইঙ্কল চোখ খুলে দেখে, বাড়ির সামনের মাঠে দাঁড়িয়ে আছে ও৷

টুইঙ্কলের মুখে একটা হাসি ফুটে উঠল৷ তাহলে আক্সারাক্সাডুং-এর কথা এক্কেবারে ঠিক! ওর হাতের এই ট্যাটুটা আজ থেকে ওর কথা শুনে চলবে! ওর মনের সব ইচ্ছে পূরণ করবে!

ট্যাটুটার দিকে তাকিয়ে হাসি হাসি মুখে টুইঙ্কল বলে, 'থ্যাঙ্ক ইউ আক্সারাক্সাডুং'৷

ওর কবজিতে ট্যাটুটাও যেন নড়েচড়ে বলে ওঠে, 'ওয়েলকাম, ওয়েলকাম৷'

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%