প্রকৃতি

আল মাহমুদ

কতদূর এগোলো মানুষ!
কিন্তু আমি ঘোরলাগা বর্ষণের মাঝে
আজও উবু হয়ে আছি। ক্ষীরের মতোন গাঢ় মাটির নরমে
কোমল ধানের চারা রুয়ে দিতে গিয়ে
ভাবলাম, এ-মৃত্তিমা প্রিয়তমা কিষাণী আমার।
বিলের জমির মতো জলসিক্ত সুখদ লজ্জায়
যে নারী উদাম করে তার সর্ব উর্বর আধার।

বর্ষণে ভিজছে মাঠ। যেন কার ভেজা হাতখানি
রয়েছে আমার পিঠে। আর আমি
ইন্দ্রিয়ের সর্বানুভূতির চিহ্ন ক্ষয় করে ফেলে
দয়াপরবশ হয়ে রেখেছি আমায় কালো দৃষ্টিকে সজাগ।

চতুর্দিকে খনার মন্ত্রের মতো টিপ টিপ শব্দে সারাদিন
জলধারা ঝরে। জমির কিনার ঘেঁষে পলাতক মাছের পেছনে
জলডোরা সাপের চলন নিঃশব্দে দেখছি চেয়ে।
বাহুতে আমার
আতঙ্কে লাফিয়ে উঠছে সবুজ ফড়িং।

বুঝিবা স্বপ্নের ঘোরে আইল বাঁধা জমিনের ছক
বৃষ্টির কুয়াশা লেগে অবিশ্বাস্য যাদুমন্ত্রবলে
অকস্মাৎ পাল্টে গেলো। ত্রিকোণ আকারে যেন
ফাঁক হয়ে রয়েছে মৃন্ময়ী।
আর সে জ্যামিতি থেকে
ক্রমাগত উঠে এসে মাছ পাখি পশু আর মানুষের ঝাঁক
আমার চেতনা জুড়ে খুঁটে খায় পরস্পর বিরোধী আহার।

অধ্যায় ১ / ৪০
সকল অধ্যায়
১.
প্রকৃতি
২.
সোনালী কাবিন
৩.
বাতাসের ফেনা
৪.
কবিতা এমন
৫.
প্রত্যাবর্তনের লজ্জা
৬.
দায়ভাগ
৭.
আসে না আর
৮.
অবগাহনের শব্দ
৯.
তোমার হাতে
১০.
এই সম্মোহনে
১১.
নতুন অব্দে
১২.
পলাতক
১৩.
অন্তরভেদী অবলোকন
১৪.
আভূমি আনত হয়ে
১৫.
স্বপ্নের সানুদেশে
১৬.
পালক ভাঙার প্রতিবাদে
১৭.
যার স্মরণে
১৮.
কেবল আমার পদতলে
১৯.
এক নদী
২০.
জাতিস্মর
২১.
চোখ যখন অতীতাশ্রয়ী হয়
২২.
আত্মীয়ের মুখ
২৩.
তোমার আড়ালে
২৪.
ভাগ্যরেখা
২৫.
শোণিতে সৌরভ
২৬.
সাহসের সমাচার
২৭.
চোখ
২৮.
স্বব্ধতার মধ্যে তার ঠোঁট নড়ে
২৯.
উল্টানো চোখ
৩০.
আমি আর আসবো না বলে
৩১.
নদী তুমি
৩২.
বোধের উৎস কই, কোন দিকে?
৩৩.
সত্যের দাপটে
৩৪.
আমার চোখের তলদেশে
৩৫.
ক্যামোফ্লাজ
৩৬.
খড়ের গম্বুজ
৩৭.
আঘ্রাণে
৩৮.
আমার প্রাতরাশে
৩৯.
আমিও রাস্তায়
৪০.
তরঙ্গিত প্রলোভন

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%