জাগো রে জাগো রে চিত্ত জাগো রে

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

জাগো রে জাগো রে চিত্ত জাগো রে,
জোয়ার এসেছে অশ্রু-সাগরে।
কূল তার নাহি জানে,
বাঁধ আর নাহি মানে,
তাহারি গর্জনগানে জাগো রে।
তরী তোর নাচে অশ্রু-সাগরে।
আজি এ ঊষার পুণ্য লগনে
উঠেছে নবীন সূর্য গগনে।
দিশাহারা বাতাসেই
বাজে মহামন্ত্র সেই।
অজানা যাত্রার এই লগনে
দিক হতে দিগন্তের গগনে।
জানি না উদার শুভ্র আকাশে
কী জাগে অরুণদীপ্ত আভাসে।
জানি না কিসের লাগি
অতল উঠেছে জাগি,
বাহু তোলে কারে মাগি আকাশে–
পাগল কাহার দীপ্ত আভাসে।
শূন্য মরুময় সিন্ধু-বেলাতে
বন্যা মাতিয়াছে রুদ্র খেলাতে।
হেথায় জাগ্রত দিন
বিহঙ্গের গীতহীন,
শূন্য এ বালুকালীন বেলাতে,
এই ফেন তরঙ্গের খেলাতে।
দুলে রে দুলে রে অশ্রু দুলে রে
আঘাত করিয়া বক্ষ-কূলে রে।
সম্মুখে অনন্ত লোক,
যেতে হবে যেথা হোক–
অকূল আকুল শোক দুলে রে,
ধায় কোন্‌ দূর স্বর্ণ-কূলে রে।
আঁকড়ি থেকো না অন্ধ ধরণী,
খুলে দে খুলে দে বন্ধ তরণী।
অশান্ত পালের ‘পরে
বায়ু লাগে হাহা ক’রে
দূরে তোর থাক্‌ পড়ে ধরণী।
আর না রাখিস রুদ্ধ তরণী।

১১ পৌষ, ১৩০৯

সকল অধ্যায়
১.
আজি প্রভাতেও শ্রান্ত নয়নে
২.
সে যখন বেঁচে ছিল গো
৩.
তখন নিশীথরাত্রি; গেলে ঘর হতে
৪.
প্রেম এসেছিল , চলে গেল সে যে খুলি দ্বার
৫.
আমার ঘরেতে আর নাই সে যে নাই
৬.
যত দিন কাছে ছিলে বলো কী উপায়ে
৭.
ঘরে যবে ছিলে মোরে ডেকেছিলে ঘরে
৮.
মিলন সম্পূর্ণ আজি হল তোমা-সনে
৯.
তোমার সকল কথা বল নাই, পার নি বলিতে
১০.
হে লক্ষ্মী, তোমার আজি নাই অন্তঃপুর
১১.
মৃত্যুর নেপথ্য হতে আরবার এলে তুমি ফিরে
১২.
আপনার মাঝে আমি করি অনুভব
১৩.
তুমি মোর জীবনের মাঝে
১৪.
দেখিলাম খানকয়েক পুরাতন চিঠি
১৫.
এ সংসারে একদিন নববধূবেশে
১৬.
স্বল্প-আয়ু এ জীবনে যে-কয়টি আনন্দিত দিন
১৭.
বজ্র যথা বর্ষণেরে আনে অগ্রসরি
১৮.
সংসার সাজায়ে তুমি আছিলে রমণী
১৯.
এসো, বসন্ত, এসো আজ তুমি
২০.
পাগল বসন্তদিন কতবার অতিথির বেশে
২১.
বহুরে যা এক করে, বিচিত্রেরে করে যা সরস
২২.
জ্বালো ওগো, জ্বালো ওগো, সন্ধ্যাদীপ জ্বালো
২৩.
যে ভাবে রমণীরূপে আপন মাধুরী
২৪.
গোধূলি নিঃশব্দে আসি আপন অঞ্চলে ঢাকে যথা
২৫.
জাগো রে জাগো রে চিত্ত জাগো রে
২৬.
আজিকে তুমি ঘুমাও, আমি জাগিয়া রব দুয়ারে
২৭.
ভালো তুমি বেসেছিলে এই শ্যাম ধরা

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%