তখন নিশীথরাত্রি; গেলে ঘর হতে

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তখন নিশীথরাত্রি; গেলে ঘর হতে
যে পথে চল নি কভু সে অজানা পথে।
যাবার বেলায় কোনো বলিলে না কথা,
লইয়া গেলে না কারো বিদায়বারতা।
সুপ্তিমগ্ন বিশ্ব-মাঝে বাহিরিলে একা—
অন্ধকারে খুঁজিলাম, না পেলাম দেখা।
মঙ্গলমুরতি সেই চিরপরিচিত
অগণ্য তারার মাঝে কোথায় অন্তর্হিত!

গেলে যদি একেবারে গেলে রিক্ত হাতে?
এ ঘর হইতে কিছু নিলে না কি সাথে?
বিশ বৎসরের তব সুখদুঃখভার
ফেলে রেখে দিয়ে গেলে কোলেতে আমার!
প্রতিদিবসের প্রেমে কতদিন ধরে
যে ঘর বাঁধিলে তুমি সুমঙ্গল-করে
পরিপূর্ণ করি তারে স্নেহের সঞ্চয়ে,
আজ তুমি চলে গেলে কিছু নাহি লয়ে?

তোমার সংসার-মাঝে, হায়, তোমা-হীন
এখনো আসিবে কত সুদিন-দুর্দিন—
তখন এ শূন্য ঘরে চিরাভ্যাস-টানে
তোমারে খুঁজিতে এসে চাব কার পানে?
আজ শুধু এক প্রশ্ন মোর মনে জাগে—
হে কল্যাণী, গেলে যদি, গেলে মোর আগে,
মোর লাগি কোথাও কি দুটি স্নিগ্ধ করে
রাখিবে পাতিয়া শয্যা চিরসন্ধ্যা-তরে?

সকল অধ্যায়
১.
আজি প্রভাতেও শ্রান্ত নয়নে
২.
সে যখন বেঁচে ছিল গো
৩.
তখন নিশীথরাত্রি; গেলে ঘর হতে
৪.
প্রেম এসেছিল , চলে গেল সে যে খুলি দ্বার
৫.
আমার ঘরেতে আর নাই সে যে নাই
৬.
যত দিন কাছে ছিলে বলো কী উপায়ে
৭.
ঘরে যবে ছিলে মোরে ডেকেছিলে ঘরে
৮.
মিলন সম্পূর্ণ আজি হল তোমা-সনে
৯.
তোমার সকল কথা বল নাই, পার নি বলিতে
১০.
হে লক্ষ্মী, তোমার আজি নাই অন্তঃপুর
১১.
মৃত্যুর নেপথ্য হতে আরবার এলে তুমি ফিরে
১২.
আপনার মাঝে আমি করি অনুভব
১৩.
তুমি মোর জীবনের মাঝে
১৪.
দেখিলাম খানকয়েক পুরাতন চিঠি
১৫.
এ সংসারে একদিন নববধূবেশে
১৬.
স্বল্প-আয়ু এ জীবনে যে-কয়টি আনন্দিত দিন
১৭.
বজ্র যথা বর্ষণেরে আনে অগ্রসরি
১৮.
সংসার সাজায়ে তুমি আছিলে রমণী
১৯.
এসো, বসন্ত, এসো আজ তুমি
২০.
পাগল বসন্তদিন কতবার অতিথির বেশে
২১.
বহুরে যা এক করে, বিচিত্রেরে করে যা সরস
২২.
জ্বালো ওগো, জ্বালো ওগো, সন্ধ্যাদীপ জ্বালো
২৩.
যে ভাবে রমণীরূপে আপন মাধুরী
২৪.
গোধূলি নিঃশব্দে আসি আপন অঞ্চলে ঢাকে যথা
২৫.
জাগো রে জাগো রে চিত্ত জাগো রে
২৬.
আজিকে তুমি ঘুমাও, আমি জাগিয়া রব দুয়ারে
২৭.
ভালো তুমি বেসেছিলে এই শ্যাম ধরা

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%