সেলাম শার্লক হোমস্‌

অর্ণব মণ্ডল

শার্লক হোমস্‌ নিয়ে শারদ্বতর যে একটা অবসেশন ছিল তার প্রমাণ আগেই পেয়েছিলাম। কী একটা অদ্ভুত শার্লক কমিউনিটির গল্প বলেছিল আমাকে। যদিও ব্যাপারটা তখন আমার গাঁজাখুরি লেগেছিল। তবে পরে অবশ্য কয়েকবার এই কমিউনিটি নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে আমাদের। তবে সে গল্প অন্য আর-একদিন হবে। আজ যে ঘটনার কথা বলতে বসেছি, সেটায় শার্লক হোমস্‌ খুব জরুরি একটা চরিত্র।

২০১৮-এর মার্চ মাস। শীতের প্রকোপ প্রায় নেই বললেই চলে। তবে রাত্রের দিকে কিন্তু ফ্যান চালালে আবার ঠান্ডা লাগছে। সব মিলিয়ে অদ্ভুত একটা ওয়েদার। এর মাঝে শারদ্বতর হাতে খুব একটা কেস না থাকায় বেচারা খুব মনমরা হয়ে বসে থাকত ঘরের মধ্যে। আর ওর সমস্যাটা আমি বুঝি। আজকাল কজনেরই বা প্রাইভেট ডিটেকটিভের দরকার হয়? যাই হোক, এমতাবস্থায় ঘরে বসে বসে ওর ঘ্যানঘ্যানানি শুনতে হচ্ছিল আমাকে।

এরকমই একটা দিনে আমাকে যেন প্রায় বাঁচাতে এলেন শুচিস্মিতা চ্যাটার্জি নামে এক তরুণী। বয়স খুব বেশি নয়। দেখে ২৫-২৬ এর বেশি মনে হয় না। দেখতে বেশ সুন্দরী। হাইট ওই...

“এটা কী হচ্ছে?” শারদ্বতর প্রশ্নে টাইপিং থামল আমার।

“আরে আজ সকালের কেসটা লিখছি”, আমি বললাম।

- হ্যাঁ, তো এরকম করে হাইট, গায়ের রং বর্ণনা করছ কেন? পাত্র চাই-এর অ্যাড দেবে নাকি?

- এই শোনো, তোমার গোয়েন্দাগিরির পদ্ধতি নিয়ে আমি কখনও তোমায় জ্ঞান দিয়েছি? তুমি আমায় লেখা নিয়ে জ্ঞান দিচ্ছ কেন?

- কারণ আমি যে কাজটা করি সেখানে কোনও খুঁত থাকে না।

- আর আমারটায় থাকে বলতে চাইছ?

শারদ্বত আর-একবার লেখাটার দিকে তাকিয়ে কিছু না বলে চলে গেল। কোথায় ছিলাম যেন... ও হ্যাঁ। ... ভদ্রমহিলা বেশ সুন্দরী। মানে রীতিমতো চোখে পড়ার মতো সুন্দরী। তবে শারদ্বতের তাতে ভ্রূক্ষেপ থাকে না খুব একটা। সকালে উনি আসার পর ওকে ঘুম থেকে তুললাম আমি। তারপর ফ্রেশ হয়ে গায়ে একটা পাঞ্জাবি গলিয়ে ডাইনিংয়ে এসে বসল আরও পনেরো মিনিট পর।

তারপর ভদ্রমহিলার দিকে তাকিয়ে বলল, “আরে, চিন্তা করে করে একদম রোগা হয়ে গেছেন তো!”

ভদ্রমহিলা হেসে বললেন, “আরে না... আসলে...”

তারপর কথাটা বলতে গিয়েও থেমে গেলেন। তারপর বললেন, “আপনি আমায় আগে দেখেছেন?”

শারদ্বত বলল, “নাহ। আমি আপনাকে চিনিও না। আপনার নামটা কী যেন বললেন?”

উনি বললেন, “আমার নাম শুচিস্মিতা চ্যাটার্জি। আচ্ছা আপনি তাহলে কেন বললেন আমি রোগা হয়ে গেছি?”

শারদ্বত এবার একটু নড়েচড়ে বসল। ওকে কেউ এই ধরনের প্রশ্ন করলে বড্ড খুশি হয় ও। বলল, “আপনার ঘড়িটা একটু বেশি লুজ লাগছে হাতে। তবে দেখে বোঝা যাচ্ছে নতুন না। নতুন হলে চেনটা এখনও কাটানো হয়নি বুঝতাম। কিন্তু নতুন নয় অথচ এতটাই লুজ যে, যে-কোনো মুহূর্তে হাত থেকে খুলে পড়তে পারে। এরকমভাবে ঘড়ি পরে কেউ ঘোরে না। সুতরাং আগে হাতের মাপে ছিল ঘড়িটা। এখন হঠাৎ রোগা হওয়াতে লুজ লাগছে।... আর আপনি এত ভাববেন না। সিগারেটটা ধরিয়ে নিন। আমরা মাইন্ড করব না।”

শুচিস্মিতা দেবী এবার অবাক হয়ে তাকালেন আমার দিকে। তারপর আবার হাঁ করে তাকিয়ে রইলেন শারদ্বতর দিকে। শারদ্বত হেসে বলল, “আপনার আঙুলটা হলুদ লাগছে। কপিবুক ফেলুদা ডিডাকশন। অর্থাৎ আপনি সিগারেট খান। আর তখন থেকে আঙুলগুলো নিয়ে আপনি যেরকম উশখুশ করছেন, তাই মনে হল একটা সিগারেট খেলে বোধহয় আপনি ভালো করে কেসটা নিয়ে কথা বলতে পারবেন। সুতরাং ধরিয়ে নিন। চাপ নেই।”

ভদ্রমহিলা ব্যাগ থেকে সিগারেটের প্যাকেটটা বার করতে করতে বললেন, “থ্যাংকস। আসলে খুব টেনশনে আছি। আর টেনশন হলেই সিগারেটটা... আপনারা নেবেন?”

আমি বললাম, “নাহ। আমি খাই না। থ্যাংকস।”

শারদ্বত নিল একটা সিগারেট। তারপর সেটা ধরিয়ে বলল, “বলুন এবার, আপনার কী সমস্যা।”

শুচিস্মিতা দেবী এবার একটু গলা ঝেড়ে বললেন, “আমি একটা বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করছি। বছর দু-এক হল। আমার নিজের একটা সমস্যা আছে। জানি না আপনারা কীভাবে নেবেন... আসলে...”

ভদ্রমহিলা ইতস্তত করছেন দেখে আমি বললাম, “আপনি বলুন না। আমরা কেউ কিছু মনে করব না।”

- না মানে... আমি একজন মানুষের সঙ্গে বেশিদিন থাকতে পারি না। মানে এর আগে আমার বেশ কয়েকজন প্রেমিক ছিলেন। কারও সঙ্গেই সম্পর্কটা মাস ছয়েকের বেশি টেকেনি। শেষ দুজনকে বাদ দিলে।

শারদ্বত বলল, “কেন হয় এরকম? মানে কেন থাকতে পারেন না?”

- জানি না। বেশিদিন একটা সম্পর্কে থাকলে কেমন যেন বন্দি মনে হয় নিজেকে।

- বেশ। তারপর বলে যান।

- বছরখানেক আগে একটি ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক হয় আমার। তার নাম কৃশানু। যাদবপুরে পড়ত ছেলেটা। খুব ভালো শর্ট ফিল্ম বানায়। কয়েকটা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও গেছে কয়েকটা সিনেমা। আমার চেয়ে বছর দু-একের ছোটো। তবে একমাত্র ওর সঙ্গেই মানে... কী বলব... নিজেকে কখনও বন্দি মনে হয়নি। সম্পর্কটাও সেই কারণে দেড় বছর টেকে। তারপর... মানে... অন্য একজনের সঙ্গে আলাপ হয় আমার। এবং সেই প্রথম আমার ইচ্ছে করে সেটল হতে। বিয়ে করতে।

আমি বললাম, “কৃশানুর সঙ্গে থাকাকালীন আপনার আলাপ হয় ওই আর-একজন ছেলের সঙ্গে?”

শুচিস্মিতা দেবী বললেন, “হ্যাঁ। আমি জানি এটা শুনে আমায় খুব খারাপ একজন মানুষ মনে হবে আপনাদের। কিন্তু এটাই সত্যি। আমার যেটা ইচ্ছে হয় আমি সেটা করি। আমার ভালো না লাগলে আমি জোর করে কোনও কাজ করি না। কাজেই যখন এই ছেলেটির সঙ্গে আলাপ হল, এবং বন্ধুত্বটা গভীর হল, আমি বুঝতে পারলাম আমি আর কৃশানুর সঙ্গে থাকতে পারব না। তখনই সব শেষ করি ওর সঙ্গে।”

শারদ্বত বলল, “কৃশানু সেটা কীভাবে নেয়?”

শুচিস্মিতা দেবী বললেন, “খুব ভালোভাবে নেয়নি। আমাদের কিছু ইন্টিমেট ছবি আছে। সেগুলো ফেসবুকে আপলোড করে দেবে বলে ভয় দেখায়। তবে আমি জানতাম ও এই কাজ করবে না। রাগের মাথায় ওসব বলছে। পরে আমার কাছে ক্ষমাও চায় এই নিয়ে।”

- বেশ... বলে যান...

- তো যাই হোক, এরপর আমার সঙ্গে এই ছেলেটির সম্পর্ক হয়। ফেসবুকে আলাপ হয় ওর সঙ্গে। নাম দেবার্ঘ্য। দেবার্ঘ্য মুখার্জি। যদিও সবটাই হয় লং ডিসট্যান্স রিলেশন, কারণ ও থাকে পুনেতে। ওখানে একটা বেসরকারি কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার ও।

- তার মানে? আপনি ওকে কখনও দেখেননি?

- কেন দেখব না? ফটো দেখি ফেসবুকে। কথা বলি ফোনে। এমনকী ভিডিয়ো চ্যাটও করেছি কয়েকবার। কাজেই ও যে ফেক নয় সে নিয়ে আমার কোনও সন্দেহ নেই। প্রায় এক বছর হল ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক। ও অনেকদিন ধরেই নিজের ট্র্যান্সফারের চেষ্টা করছিল কলকাতায়। সেটা ফাইনালি হয়ে যায় আগের সপ্তাহে। ফেব্রুয়ারি মাসের ২৬ তারিখে ওর আসার কথা ছিল কলকাতায়। আমি ওকে আনতে এয়ারপোর্টেও গিয়েছিলাম। কিন্তু... ও এল না।

- ওহ আচ্ছা। তাহলে দেখুন হয়তো ব্রেকআপ হয়ে গেল আপনার সঙ্গে।

- না না, আপনি বুঝতে পারছেন না। আমি ওকে প্লেনে উঠতে দেখেছি। মানে ও ভিডিয়ো কল করেছে আমাকে। সেলফি পাঠিয়েছে। আমি জানি ও প্লেনে উঠেছে। কিন্তু ও নামেনি।

- ফোন করেছেন?

- করেছি। পাইনি। সুইচড অফ বলছে।

- ওর এসে কোথায় থাকার কথা ছিল?

- আমার বাড়িতেই রাখতে চেয়েছিলাম আমি। কিন্তু ও বলল ও নিজে ফ্ল্যাট নিয়ে নেবে একটা। তার আগে দু-তিন দিন হোটেলেই থাকবে। কোথায় খোঁজ পাচ্ছি না ওর। আজ প্রায় চার দিন হয়ে গেল। একটা জলজ্যান্ত মানুষ কোথায় চলে গেল কিছু বুঝতে পারছি না। সেইজন্যেই আপনার কাছে আসা। এই প্রথম একটা মানুষ আমি নিজের মনের মতো পেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম এর সঙ্গেই কাটাব নিজের বাকি জীবনটা। কিন্তু... প্লিজ এবার আপনি বলুন আমি কী করব?

শারদ্বত খানিকক্ষণ কিছু একটা ভাবল। তারপর বলল, “দেখুন, এই কথাটা বলার কোনও ভালো পদ্ধতি নেই। তাও বলি। আমার খুব ঘুম পাচ্ছে... কেসটা বড্ড বোরিং। মিসিং বয়ফ্রেন্ড! আপনি পুলিশের কাছে যান। ওরা বেটার কাজ করবে এটায়। মাথা খাটানোর কোনও জায়গাই নেই এখানে।”

কথাটা বলেই হাই তুলতে তুলতে শারদ্বত চলে গেল নিজের ঘরে। শুচিস্মিতা দেবী আর আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম সেই দিকে।

“এটা কী হল?”

এই প্রশ্নটা আমি পাঁচ মিনিট আগে করেছি। শারদ্বত অদ্ভুতভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু কোনও উত্তর দিচ্ছে না। আরও পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করলাম। কোনও উত্তর নেই। একইরকম ভাবে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। খুব বিরক্ত লাগছিল। উঠে চলে এলাম নিজের ঘরে।

শুচিস্মিতা দেবী গেছেন মিনিট কুড়ি হয়ে গেল। আমি ওঁকে এই আশ্বাস দিলাম যে শারদ্বত কিছু একটা করবে। আপনি চিন্তা করবেন না। কিন্তু শারদ্বতর ব্যবহারে উনি কতটা ভরসা পেলেন সেটা বলা যাচ্ছে না। তবে উনি বললেন যে, পুলিশের কাছে উনি গিয়েছিলেন। কিন্তু ওরা ফেসবুকতুতো বয়ফ্রেন্ডের মিসিং রিপোর্ট নিতে চায়নি। অগত্যা উনি আমাদের দ্বারস্থ হয়েছেন।

“অনিরুদ্ধ? একবার এসো তো এই ঘরে।” শারদ্বতর ডাকে সংবিৎ ফিরল।

গেলাম ওর ঘরে। বললাম, “কী হয়েছে?”

শারদ্বত বলল, “তুমি কিছু একটা বলেছিলে আমায় মিনিট পনেরো আগে। কী বলো তো?”

উফফ! এই ছেলেটা মাঝেমধ্যে মাথা ধরিয়ে দেয় পুরো। বললাম, “এটা কী হল? এইটা বলেছিলাম।”

- কোনটা কী হল?

- এই যে, ওই ভদ্রমহিলার সঙ্গে ওরকম ব্যবহার করলে কেন? কদিন আগেই তো হাতে কেস নেই কেস নেই করছিলে। কী হল?

- আরে কেস নেই বলে বয়ফ্রেন্ড মিসিং সেই কেস নেব নাকি? ধুর! ছাড়ো তো!

আমি বললাম, “আরে যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখিও তাই, পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন।”

শারদ্বত সিগারেটের প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট বের করতে করতে বলল, “ধুর! রতন-টতন কিছু না। মহিলাকে হয়তো আর ভালো লাগছে না! তাই জন্যে নাম্বার চেঞ্জ করে নিয়েছে হয়তো। ফালতু কেস। বাদ দাও তো। দেখি, লাইটারটা টেবিলে আছে। পাস করো।”

* * *

পরের দিন সকালে শুচিস্মিতা দেবী হঠাৎ ফোন করলেন। কাল যাওয়ার আগেই আমার নাম্বার নিয়ে গিয়েছিলেন। অপরিচিত নাম্বার দেখে অনুমান করেছিলাম যে উনিই হয়তো হবেন। ধরলাম ফোন।

ও প্রান্ত থেকে আওয়াজ এল, “হ্যালো, অনিরুদ্ধবাবু?”

বললাম, “বলুন।”

- আমি শুচিস্মিতা কথা বলছি।

- বুঝতে পেরেছি। বলুন।

- বলছিলাম যে শারদ্বতবাবু কেসটা নিয়ে কিছু ভাবলেন?

শারদ্বত সম্ভবত বুঝতে পেরেছিল ফোনটা কে করেছে। আমায় বলল, “ঠিকানা জেনে নাও। ওঁর বাড়ি আসছি ঘণ্টাখানেকের মধ্যে। আর বলে দাও আমার ফিজ কিন্তু শুরুতে ৮০০০ আর কেস সলভ হলে আরও ৮০০০।”

বলতে হল না। উনিও শুনতে পেয়েছেন কথাগুলো। বললেন, “হ্যাঁ হ্যাঁ। আজকেই অ্যাডভান্স দিয়ে দেব। আসুন আপনারা।”

ফোন রাখার পর অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “তাহলে কেসটা নিচ্ছ?”

শারদ্বত বলল, “মাথাটা খাটানো হয়নি অনেকদিন। আর তা ছাড়া অমূল্য রতনের লোভ কে ছাড়তে পারে বলো তো?”

আমি বললাম, “অমূল্য রতন পাবে বলছ?”

শারদ্বত বলল, “মাথা খাটানোর সুযোগ যদি পাই তাহলেই হবে। জলবৎ তরলং হলেই মুশকিল। চলো রেডি হও।”

শুচিস্মিতা দেবীর বাড়িতে আমরা যখন পৌঁছোলাম, তখন বাজে প্রায় এগারোটা। উনি বললেন, “আজ আপনারা এখানে খেয়ে যাবেন।”

আমি বললাম, “নাহ। ধুর! শুধু শুধু আপনার ঝামেলা!”

শুচিস্মিতা দেবী বললেন, “ঝামেলার কী আছে? খাবার অর্ডার করে নেব অনলাইনেই।”

আমি বললাম, “আচ্ছা সে দেখা যাবে খন। আগে কথাবার্তা হোক।”

শারদ্বত কিছু বলল না। আমাদের নিয়ে যাওয়া হল বসার ঘরের দিকে। সামনে দুটো সোফা। একটাতে আমরা দুজন বসলাম। অন্যটাতে উনি বসলেন।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, “আপনার আজ অফিস নেই?”

শুচিস্মিতা দেবী বললেন, “নাহ। আজ ছুটি নিয়েছি।”

“আপনার বাড়িতে আর কে কে আছে?” শারদ্বত জিজ্ঞেস করল।

শুচিস্মিতা দেবী বললেন, “আমি আর আমার কাকু থাকি। আর কেউ নেই আমার।”

“মা-বাবা?” এবার আমি জিজ্ঞেস করলাম।

“না। নেই। খুব ছোটো ছিলাম যখন তখন মারা গিয়েছেন।”

“কী হয়েছিল?” আবার জিজ্ঞেস করলাম আমি।

“অ্যাকসিডেন্ট। বেড়াতে গিয়েছিল গ্যাংটকে। আমার কী একটা পরীক্ষা ছিল। তাই কাকুর কাছে ছিলাম। যাইনি। সাইট সিয়িং করার সময়েই বাসটা পাশের খাদে...”

গলাটা একটু কেঁপে গেল ভদ্রমহিলার।

শারদ্বত বলল, “আপনার কাকু বিয়ে করেননি কেন?”

শুচিস্মিতা দেবী গলা ঝেড়ে বললেন, “ইচ্ছে করেই। আমাকে মানুষ করতে করতে আর সময় পাননি বোধহয়।”

- কী করেন উনি?

- উনি “অভিযান” নামে একটা নাটকের দলের স্ক্রিপ্ট রাইটার। পরিচালনাও করেছেন বেশ কয়েকটা।

- আপনি দেখেছেন?

- কী?

- আপনার কাকুর নাটক?

- হ্যাঁ। দেখেছি তো। খুব সুন্দর।

- আচ্ছা আপনার যে এই বেশিদিন এক মানুষের সঙ্গে থাকতে ভালো লাগে না, এটা নিয়ে আপনার কাকুর কী মত?

- দেখুন, উনি আমার স্বাধীনতায় কোনোদিন হস্তক্ষেপ করেননি। উনি নিজের মতো থাকেন। আমার ব্যাপারে নাক গলান না।

শারদ্বত বলল, “আচ্ছা, আপনার যিনি এক্স বয়ফ্রেন্ড ছিলেন, মানে কৃশানু, উনি কেমন মানুষ?”

শুচিস্মিতা দেবী বললেন, “এমনিতে ভালোই। তবে একটু শর্ট টেম্পার্ড। অল্পেতেই মাথা গরম করে ফ্যালে।”

- এখন ওঁর সঙ্গে যোগাযোগ আছে?

- হ্যাঁ আছে তো। মাঝেমধ্যেই কথা হয়।

- আপনার এই নতুন বয়ফ্রেন্ডের ব্যাপারটা উনি কীভাবে ডিল করেন?

- দেখুন এখন আর কিছু বলে না। কিন্তু মাঝে মাঝে বুঝতে পারি যে ব্যাপারটা নিয়ে ও খুব ক্ষুণ্ণ। যেদিন দেবার্ঘ্যকে এয়ারপোর্টে আনতে যাওয়ার কথা, তার আগের দিন থেকে আমার সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলেনি কৃশানু।

- এক সেকেন্ড। মানে ও জানত দেবার্ঘ্য আসার কথা?

- হ্যাঁ। আসলে ওর সঙ্গে অনেক কথাই হয় আমার। তাই বলেছিলাম। কেন বলুন তো? আপনি কি বলছেন তাহলে কৃশানুই কিছু...

শারদ্বত বলল, “দেখুন এখনই কিছু বলবার সময় আসেনি। আপনি কৃশানুর ঠিকানাটা যদি একটু বলেন, তাহলে ভালো হয়।”

শুচিস্মিতা দেবী ঠিকানাটা আমায় হোয়াটসঅ্যাপ করে দিলেন।

শারদ্বত জিজ্ঞেস করল, “আচ্ছা দেবার্ঘ্যর বাড়ির লোকের কোনও নাম্বার আছে?”

শুচিস্মিতা দেবী বললেন, “না। আসলে বাড়ির ব্যাপারে ও খুব একটা কথা বলত না।”

- আচ্ছা, ছেলেটির একটা ফটো দিন তো আমায়।

- ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচারটা দি?

- তাই দিন।

শুচিস্মিতা দেবী আবার আমাকে হোয়াটসঅ্যাপ করলেন একটা ফটো। শারদ্বত একবার চোখ বোলাল ফটোটায়।

শারদ্বত বসার ঘরের পাশের একটা ঘরের দিকে আঙুল দেখিয়ে বলল, “ওটায় কি আপনার কাকু থাকেন?”

- না। কাকুর ঘর দোতলায়। ওটা ওই রিডিং রুম কাম লাইব্রেরি বলতে পারেন।

লাইব্রেরি শুনেই আমার চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেছে। বললাম, “একবার দেখা যায়?”

শুচিস্মিতা দেবী বললেন, “হ্যাঁ নিশ্চয়। আসুন।”

তারপর বললেন, “আপনারা ঘরটা দেখুন। আমি আসছি এক্ষুনি।”

শারদ্বতের খুব একটা ইচ্ছে ছিল কি না জানি না। তবে আমার জন্য সোফা ছেড়ে উঠতে হল ওকেও। পাশের ঘরে গিয়ে দেখলাম দেওয়াল আলমারিতে ভর্তি বই। সামনের রিডিং টেবিলে একটা বাংলা আর একটা ইংরেজি পেপার রাখা। আমি এদিক-ওদিক ঘুরে দেখতে লাগলাম বইগুলো। সামনে রাখা একটা বই দেখেই আমার চোখটা চকচক করে উঠল। শারদ্বত এখনও দেখেনি। তাক থেকে সযত্নে বইটা নামিয়ে ওর কাছে নিয়ে গেলাম শার্লক হোমস রচনাসমগ্র। শারদ্বত বইটা দেখে খুশি হল বুঝতে পারলাম। আমার হাত থেকে নিয়ে উলটেপালটে দেখতে লাগল বইটা। বইয়ের ভেতরের একটা জায়গায় পাতাটা মোড়া ছিল। ওটা দেখেই ওর ভুরু কুঁচকে গিয়েছে। লোকজন বইয়ের পাতা দিয়ে যে কেন বুকমার্ক করে কে জানে! শারদ্বত পাতাটা সোজা করে বইটা বন্ধ করে সামনের টেবিলে রেখে দিল। তারপর তুলে নিল সেখানে রাখা বাংলা পেপারটা।

জিজ্ঞেস করলাম, “কী বুঝছ?”

শারদ্বত বলল, “বুঝছি না, খুঁজছি।”

- কী খুঁজছ?

- ওই যে, অমূল্য রতন।

এর মধ্যে শুচিস্মিতা দেবী এলেন। হাতে দুটো কোল্ড ড্রিংকের গ্লাস। আমি বললাম, “আরে এসব আবার কেন?”

শারদ্বত গ্লাসটা নিয়ে টেবিলে রাখল। তারপর আমাকে বলল, “তোমার ফোনটা একবার দাও।”

আমি ফোন বের করে দিয়ে কোল্ড ড্রিংকে চুমুক দিলাম।

শুচিস্মিতা দেবী তারপর একটা খাম এগিয়ে দিলেন শারদ্বতের হাতে। বুঝতে পারলাম ফিজটা দেওয়া হচ্ছে। শারদ্বত হাত বাড়িয়ে খামটা নিয়ে পকেটে রাখল। কিছু বলল না। শুধু আমায় ফিরিয়ে দিল মোবাইলটা।

শুচিস্মিতা দেবী বললেন, “কী বুঝছেন শারদ্বতবাবু? দেবার্ঘ্যকে খুঁজে পাব তো?”

শারদ্বত আমাকে আমার ফোনটা ফেরত দিয়ে দিল। তারপর বলল, “নাহ। আর পাবেন না। আয়্যাম সরি।”

শুচিস্মিতা দেবী কথাটা শুনেই একটু হকচকিয়ে গিয়েছিলেন। আমিও ভাবছি কী হচ্ছে ব্যাপারটা? এমন সময় শারদ্বত হাতের বাংলা খবরের কাগজটা ভাঁজ করে এগিয়ে দিল আমার দিকে। তারপর বলল, “পাবেন না, তার কারণ দেবার্ঘ্য নামে আদৌ কেউ নেই। থাকলেও ইনি নন। আর যিনি রয়েছেন, তাঁর নাম প্রতীক রায়। অন্তত মৃতদেহের সঙ্গে সেই আইডি প্রুফই পাওয়া গেছে।”

মৃতদেহ? তার মানে... আমি আর ভাবতে পারলাম না। আমাদের সঙ্গে থাকা ভদ্রমহিলার মনের অবস্থাটা যে কীরকম হতে পারে সেটা আমার পক্ষে কোনোভাবেই বোঝা সম্ভব নয়। এতদিন ধরে যাঁর সঙ্গে ওঁর সম্পর্ক ছিল, তিনি তাহলে ভুয়ো পরিচয়ে সম্পর্ক রেখেছিলেন ওঁর সঙ্গে। কিন্তু কেন? পেপারের হেডলাইনটা ছিল, ড্রাগের কবলে পড়ে মৃত কলেজপড়ুয়া। ইনসেটে ওই ছেলেটির ছবি। যার ফটো একটু আগেই আমার ফোনে পাঠিয়েছেন শুচিস্মিতা দেবী। এই কারণেই তাহলে শারদ্বত আমার ফোনটা নিল তখন। পেপারটা এগিয়ে দিলাম শুচিস্মিতা দেবীর দিকে। উনি কিচ্ছু বলতে পারছেন না। আমার হাত থেকে পেপারটা নিয়ে চোখ রাখলেন ওটার পাতায়।

শারদ্বতকে দেখলাম এরপর হঠাৎ কোল্ড ড্রিংকের গ্লাসটা তুলে নিয়েছে টেবিল থেকে। যেন মানুষের বাঁচা মরা নিয়ে কোনও ভ্রূক্ষেপই নেই ওর। উফফ! এই ছেলেটা কবে একটু সভ্য সমাজের উপযোগী হবে কে জানে!

ভেবেছিলাম এই কেসটায় আর কিচ্ছু বাকি নেই। কিন্তু আমাকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে পরের দিন সকালেই আমাদের চিরপরিচিত কলিং বেলটা বেজে উঠল। দরজা খুলে দেখলাম একজন অপরিচিত ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে। বললাম, “কাকে চাই?”

ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি কি শারদ্বত হাজরা?”

বুঝতে পারলাম কেস এসেছে। বললাম, “না। আমি ওর রুমমেট। আসুন ভেতরে আসুন।”

ভদ্রলোক ভেতরে এসে বসলেন চেয়ারে। শারদ্বতকে ডাকতে ও এল ডাইনিংয়ে।

ভদ্রলোক নমস্কার করে বললেন, “আমার নাম অতীন্দ্র চ্যাটার্জি। আমি সম্পর্কে মিতার কাকু হই।”

শারদ্বত প্রতিনমস্কার জানিয়ে বলল, “ওহ আচ্ছা। মিতা মানে শুচিস্মিতা দেবী তো?”

- হ্যাঁ।

- আচ্ছা বেশ। বলুন।

- আসলে কাল আমি সারাদিন শ্যামবাজারে একটা থিয়েটার ওয়ার্কশপে ছিলাম। আমারই দলের একটা প্রোডাকশন রয়েছে সামনে। কিন্তু বাড়ি ফিরে ওই খবরটা জানার পর আমি আর থাকতে না পেরে ছুটে এলাম আপনার কাছে। মিতা খুব ভেঙে পড়েছে। ঘর থেকে বেরোচ্ছে না। আবার না একটা অঘটন ঘটিয়ে ফেলে।

শারদ্বত বলল, “দেখুন এই সমস্যার জন্য আমাকে আজ অবধি কেউ হায়ার করেনি। আমার পেশাটা আপনি জানেন হয়তো।”

অতীন্দ্রবাবু বললেন, “না না। আমি আপনাকে এটার কথা বলতে আসিনি। আসলে আমার মনে হয় ছেলেটির মৃত্যুর কিনারা হলে বোধহয় মিতা একটু শান্তি পেত। সেই কারণেই আপনার কাছে...”

আমি বললাম, “কিন্তু পেপারে তো লিখছে অতিরিক্ত কোকেন নেওয়ার জন্যে মৃত্যু হয়েছে ওঁর।”

অতীন্দ্রবাবু বললেন, “দেখুন... একটি ছেলে ভুয়ো আইডি ব্যবহার করে এতদিন একজনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখল। তারপর যেদিন সে দেখা করার জন্য কলকাতা এল, সেদিনই সে মারা গেল? ব্যাপারটা আমার কিন্তু বেশ ফিশি লাগছে। আর তা ছাড়া একটি ছেলে যেখানে ওকে খুন করার হুমকি দিয়েছিল সেখানে...”

শারদ্বত বলল, “এক সেকেন্ড? কে খুন করার হুমকি দিয়েছিল?”

- সে কী? মিতা বলেনি আপনাদের? ওই যে ছেলেটি... কী যেন নাম... কৃশানু। হ্যাঁ। কৃশানু ভট্টাচার্য। ও তো বলেছিল দেবার্ঘ্যকে শেষ করে দেবে।

- আপনাকে কে বলল?

- কে আবার বলবে মিতা ছাড়া?

- হুম। কেন বলেছিল এ কথা জানেন?

- নাহ। মিতা তো খোলাখুলিভাবে সব বলতে পারে না আমায়। নিজের বাবা হলে হয়তো পারত... কিন্তু কী জানেন তো, ও আমার নিজের মেয়েই। কাজেই আমি বিচার চাই শারদ্বতবাবু। প্লিজ। আপনি কিছু একটা করুন।”

শারদ্বত একটু ভাবল, তারপর বলল, “ঠিক আছে। আপনি যান। আমি আজ বিকেলের দিকে আপনার বাড়ি আসছি। তখন কথা হচ্ছে।”

অতীন্দ্রবাবু চলে গেলেন। জিজ্ঞেস করলাম, “এবার?”

শারদ্বত বলল, “কৃশানুর বাড়ি যাব। একটা ট্যাক্সি বুক করো ওর অ্যাড্রেসে।”

* * *

গাড়িতে যেতে যেতে শারদ্বতকে জিজ্ঞেস করলাম, “কৃশানু ওই কথা কেন বলল মনে হয়? মানে ওই শেষ করে দেওয়ার কথা?”

শারদ্বত বলল, “জেলাসি বোধহয়।”

- তার জন্যে খুন করবে মনে হয় তোমার?

- করতেই পারে। মানুষ বড়ো অচেনা জীব ভায়া। কিচ্ছু বলা যায় না হলফ করে।

- কিন্তু শুচিস্মিতা দেবী কথাটা আমাদের কাছে চেপে গেলেন কেন?

শারদ্বত বলল, “আমার মনে হয় ভদ্রমহিলার এখনও একটা ভালো লাগা রয়েছে ছেলেটির প্রতি। তাই উনি চাননি যে কৃশানু কোনোরকম ঝামেলায় পড়ুক।”

আমি আর কিছু বললাম না। কৃশানুর বাড়িটা লেকটাউনে। একটা গলির মধ্যে তিনটে বাড়ি ছাড়িয়ে ওর বাড়ি পাওয়া গেল। বেল বাজানোর পর খুললেন একজন বয়স্ক ভদ্রমহিলা। মা বোধহয়। বললেন, “কাকে চাই?”

শারদ্বত বলল, “কৃশানু আছে?”

ভদ্রমহিলা বললেন, “হ্যাঁ ডেকে দিচ্ছি।” তারপর বাড়ির দিকে ফিরে বললেন, “টিটো? তোর সঙ্গে দুজন দেখা করতে এসেছে!”

কথাটা বলার সঙ্গে সঙ্গেই ভেতরে একটা অদ্ভুত আওয়াজ হল। কিছু একটা কাচের জিনিস পড়ল মনে হল। তারপরেই ভেতরে দেখলাম একটা ছায়ামূর্তি দৌড়ে চলে গেল বাড়ির পিছন দিকে। আমি কিছু বোঝার আগেই শারদ্বত বলল, “অনিরুদ্ধ! পালাচ্ছে!” তারপর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ভদ্রমহিলাকে ঠেলে সরিয়ে আমরাও দৌড়ে গেলাম বাড়ির ভেতরে। ছেলেটি দৌড়েছে বাগানের দিকে। আমরা বাগানে পৌঁছোনোর পরেই দেখলাম প্রাচীর টপকে লাফিয়ে ওপারে চলে গেল যে ছেলেটি, সে-ই সম্ভবত কৃশানু।

ছেলেটির মা ছুটে এসেছেন আমাদের পিছন পিছন। আমাদের হতভম্ব হয়ে জিজ্ঞেস করছেন, “কী হয়েছে একটু বলবেন? আপনারা কারা?”

শারদ্বত বলল, “আমরা থানা থেকে আসছি। আপনারা ছেলে একটা খুব বড়ো কেসে ফেঁসে গেছে।”

ভদ্রমহিলা যেন আঁতকে উঠলেন। “মানে? কী করেছে ও?”

শারদ্বত বলল, “খুন করেছে। ওর ঘর কোনটা?”

ভদ্রমহিলা বোধহয় শেষ কথাটা হজম করতে পারেননি। তাঁর সারা শরীর তখন থরথর করে কাঁপছে।

শারদ্বত কিছু না বলে এগিয়ে গেল ওঁকে পাশ কাটিয়ে। সামনে একটা ঘরে উঁকি মেরে দেখলাম ল্যাপটপ চলছে বিছানায়। মাটিতে একটা কফিমাগ পড়ে আছে। বুঝতে পারলাম তাড়াহুড়োতে দৌড়ে পালানোর সময়ই এটা পড়ার আওয়াজ আমরা পেলাম।

পুরো ঘরটা আর-একটু ভালোভাবে দেখার পরেই একটা সাদা পাউডারের মতো গুঁড়োতে ভর্তি প্যাকেট পেলাম আমরা। শেষ প্রমাণটাও ছেলেটা আমাদের হাতে দিয়ে গেল। কোকেনের প্যাকেট!

সকালে আর বিশেষ কিছু হয়নি। কৃশানুর বাড়ি থেকে ফেরার সময় খালি শারদ্বত মাঝপথে ট্যাক্সি থেকে নেমে পড়ল। বলল ওর কী একটা কাজ আছে। সেটা সেরে খাবার নিয়ে ফিরবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম দাদাকে সবটা জানাব কি না। আমার দাদা লালবাজারের পুলিশ কমিশনার। আগে অনেক কেসেই দাদার হেল্প পেয়েছি আমরা দুজন। যদিও দাদা খুব একটা পছন্দ করে না শারদ্বতকে।

শারদ্বত বলল, “হ্যাঁ। গুড আইডিয়া। তুমি একটু বলে দাও নীলাদ্রি দাকে। অপরাধীকে আইডেন্টিফাই করা আমার কাজ। তাকে অ্যারেস্ট করা পুলিশের।”

* * *

বিকেলে যখন শুচিস্মিতা দেবীর বাড়ি পৌঁছোলাম তখন বাজে প্রায় ছ-টা। অতীন্দ্রবাবু আমাদের রিসিভ করলেন। শারদ্বত বলল, “শুচিস্মিতা দেবী কোথায়?”

অতীন্দ্রবাবু বললেন, “ওর ঘরেই রয়েছে। বেরোচ্ছে না কিছুতেই।”

শারদ্বত বলল, “বলুন আমি এসেছি। উনি আসবেনই।”

কথাটা বলার পরেই দেখলাম সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসছেন শুচিস্মিতা দেবী। চোখ দুটো যেন কোটরে ঢুকে গেছে। খুব অসুস্থ মনে হচ্ছে ভদ্রমহিলাকে। এতদিন উনি লোকজনকে ডাম্প করেছেন। এই প্রথম নিজে বোধহয় ডাম্পড হওয়ার কষ্টটা বুঝলেন।

শুচিস্মিতা দেবী কিচ্ছু না বলে এসে বসলেন সোফায়। আর-একটায় বসলাম আমরা দুজন। শারদ্বত অতীন্দ্রবাবুকে বলল, “আপনি শার্লক হোমস-এর ভক্ত, না? আমার নিজেরও খুব প্রিয় শার্লক হোমস!”

অতীন্দ্রবাবু হাসলেন। তারপর বসলেন শুচিস্মিতা দেবীর পাশেই।

আমি কনুই দিয়ে খোঁচা মারলাম শারদ্বতকে। ব্যাটা কোথায় কী বলতে হয় সেটা এখনও শিখল না। দেখছে পুরো বাড়িতে একটা বিষাদের ছায়া। তার ওপর এসব কথা বলছে!

শারদ্বত বলল, “দেখুন শুচিস্মিতা দেবী, আপনার সঙ্গে তো ফোনে কথা হল বিকেলে। সবই তো শুনলেন আপনি। এবার আপনিই বলুন আপনার কী সিদ্ধান্ত?”

ফোনে কথা মানে? এ কী? আমি পুরোটা লিখব। আমাকে জানতে হবে সবটা! অতীন্দ্রবাবুও দেখলাম ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে রয়েছেন ওর দিকে। আমি বললাম, “এক সেকেন্ড, আমি তো কিছুই জানি না। আমাকে কিছু বলো!”

শারদ্বত বলল, “জানো না মানে? তুমি থাকাকালীনই তো সব ঘটল।”

বললাম, “ হ্যাঁ জানি। কিন্তু মোটিভ কী? কীভাবে করল কৃশানু এটা? আর ছেলেটি কেন ফেক আইডি ব্যবহার করল? তুমি কীভাবে সলভ করলে সেগুলোও বলো, আমরা সবাই শুনি।”

অতীন্দ্রবাবু বললেন, “হ্যাঁ শারদ্বতবাবু। সবটা একটু গোড়া থেকে বলুন তো!।”

শারদ্বত বলল, “গোড়া থেকে? আচ্ছা বেশ!”

কথাটা বলেই পকেট থেকে সিগারেট বার করে আমাদের দুজনকে অফার করল শারদ্বত। অতীন্দ্রবাবু একটা নিলেন। তবে শুচিস্মিতা দেবী আজ খেলেন না। সম্ভবত কাকু পাশে রয়েছেন বলেই হয়তো।

শারদ্বত সিগারেটটা ধরিয়ে বলতে শুরু করল, “প্রতীক রায় নামে একটি ছেলে দেবার্ঘ্য নামে একটা ফেক আইডি খোলে। এবং তারপর সেটা থেকে আলাপ জমাতে শুরু করে শুচিস্মিতা দেবীর সঙ্গে। আর আমরা শুরু থেকেই শুনছি যে এই একটি ছেলের সঙ্গেই শুচিস্মিতা দেবীর মনের সবচেয়ে মিল ছিল। তার কারণ কী? কারণ হল ছেলেটি আগে থেকেই শুচিস্মিতা দেবী সম্পর্কে জানত। তাঁর পছন্দ অপছন্দ সম্পর্কে তার একটা আইডিয়া ছিল। কিন্তু কীভাবে?”

আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল, “এ কি তাহলে অন্য একজন এক্স? মানে অনেক আগে সম্পর্ক ছিল ওঁর সঙ্গে, তারপর ব্রেকআপের পর আবার নতুন করে ওর সঙ্গে...

শারদ্বত রাগত স্বরে বলল, “আমাকে মাঝপথে থামিয়ো না অনিরুদ্ধ। আর, না, তার কারণ নিজের এক্স হলে শুচিস্মিতা দেবী ওকে চিনতে পারতেন। অনেকবার ভিডিয়ো চ্যাট করেছেন। ফোটো শেয়ার করেছেন। সো…”

বললাম, “সরি। বলে যাও...”

শারদ্বত বলে চলল, “কীভাবের থেকেও বড়ো প্রশ্ন হল, কেন? যদি একজন মানুষের আর-একজন মানুষকে ভালো লাগে, তাহলে তার জন্য ফেক অ্যাকাউন্ট বানিয়ে কী হবে? সে তো এমনিই তার সঙ্গে কথা বলতে পারে। যাই হোক, তার আগে কৃশানুর সঙ্গে শুচিস্মিতা দেবীর সম্পর্কটা খুব গভীর হয়ে যাচ্ছিল। মানে অন্যান্য সম্পর্কগুলোর থেকে একটু বেশিদিন চলছিল এই সম্পর্ক। যেটা নর্ম্যালি হয় না ওঁর ক্ষেত্রে। ঠিক এই সময়ই আসে কৃশানুর চেয়েও পারফেক্ট একজন। দেবার্ঘ্য। তাই তো, শুচিস্মিতা দেবী?”

শুচিস্মিতা দেবী বললেন, “আপনি প্লিজ এবার মূল বিষয়ে আসুন। আর ভালো লাগছে না এই নাটক।”

শারদ্বত বলল, “বেশ। তবে এবার যবনিকা পতন হোক। অনিরুদ্ধ, তুমি হয়তো জানো না শুচিস্মিতা দেবীর বাবা একটা খুব অন্য ধরনের উইল করে গেছেন।”

আমি বললাম, “কী উইল?”

শারদ্বত বলল, “উইলের সারমর্ম এই যে... ওঁদের যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে যতদিন শুচিস্মিতা দেবী বিয়ে করবেন না, ততদিন অবধি এই পুরো সম্পত্তির মালিক থাকবেন ওঁর কাকু অতীন্দ্র চ্যাটার্জি। আর বিয়ের পরেই পুরো মালিকানা চলে যাবে শুচিস্মিতা দেবীর হাতে। কি, তাই তো, অতীন্দ্রবাবু?”

অতীন্দ্রবাবু বললেন, “হ্যাঁ। জানি তো। এটা তো সবাই জানি আমরা। এতে কী প্রমাণ হয়?”

শারদ্বত বলল, “আপাতত কিছুই না। সুতরাং বিষয়টা দাঁড়াল এই যে... যতদিন শুচিস্মিতা দেবী বিয়ে করছেন না, ততদিন সব সম্পত্তি আপনার। শুচিস্মিতা দেবী সাধারণত সিরিয়াসলি প্রেম করেননি কখনোই। তাই আপনি নিশ্চিন্তেই ছিলেন। কিন্তু আপনি যখন দেখলেন কৃশানুর সঙ্গে সম্পর্কটা সিরিয়াস হয়ে যাচ্ছে, তখনই আপনি নিয়ে এলেন দেবার্ঘ্যকে। যার সঙ্গে শুচিস্মিতা দেবীর মনের মিল অসাধারণ। কারণ সে আগে থেকেই ওঁর সব পছন্দ অপছন্দ জানত। তাই তো?”

অতীন্দ্রবাবু এবার শুচিস্মিতা দেবীর দিকে তাকালেন। বললেন, “এই মিতা? কী সব বলছেন উনি? তুই তো আমায় চিনিস বল? আমি এসব কাজ করব বলে তোর মনে হয়?”

শুচিস্মিতা দেবী বললেন, “আমার আর কিছুই মনে হয় না কাকু। আমার শুধু মনে হচ্ছে, আমি আজ অবধি মানুষ চিনলাম না।”

শারদ্বত বলল, “তারপর বলি?”

অতীন্দ্রবাবু এবার চেঁচিয়ে বললেন, “ধুর মশাই। রাখুন তো আপনার গাঁজাখুরি গল্প। আমি এই দেবার্ঘ্যকে চিনতাম না। নামই শুনিনি কখনও।”

শারদ্বত হেসে বলল, “আমি জানি। আপনি দেবার্ঘ্যর নাম শোনেননি। কিন্তু আপনি তো প্রতীক রায়কে খুব ভালো করে চিনতেন। আপনার নাটকের দলের লোকজন তো তাই বলল আমাকে। আজ সকালে গিয়েছিলাম আমি আপনার থিয়েটার ওয়ার্কশপে। প্রতীক তো শুনলাম আপনার খুব প্রিয়পাত্র ছিল। এবং আমার ধারণা শুচিস্মিতা দেবীর সঙ্গে প্রেম প্রেম খেলার জন্যেই আপনি ওকে পুনে পাঠিয়েছিলেন। টাকাও দিতেন বোধহয় মাসে মাসে, তাই না?”

অতীন্দ্রবাবু এবার হঠাৎ রেগে গিয়ে বললেন, “কী সব বলছেন আপনি? এক্ষুনি বেরিয়ে যান আমার বাড়ি থেকে। আমার বাড়িতে এসে আমাকে যা-নয়-তাই বলবেন আর আমাকে সেটা সহ্য করতে হবে?”

শারদ্বত বলল, “আরে তারপর কী হল শুনুন না। দারুণ লাগবে। এই প্রতীক ছেলেটি আসায় কৃশানু ইকুয়েশন থেকে চলে গেল। কিন্তু এই ছেলেটি প্রেম প্রেম খেলতে খেলতে হঠাৎ করেই প্রেমে পড়ে গেল শুচিস্মিতা দেবীর। এবং ঠিক করল আপনাকে লুকিয়ে কলকাতা ফিরবে। এবং শুচিস্মিতা দেবীকে সব জানিয়ে দেবে। ব্যস, আপনার সব প্ল্যান বানচাল।”

আমি বললাম, “কিন্তু উনি জানলেন কীভাবে ছেলেটির কলকাতা আসার কথা?

শুচিস্মিতা দেবী বললেন, “আমি নিজেই বলেছিলাম কাকুকে যে দেবার্ঘ্য কলকাতা আসছে।”

শারদ্বত বলল, “আর তারপরেই উনি প্ল্যান করেন যে কিছু একটা করতে হবে। প্রথমে কয়েকদিন বোধহয় ছেলেটিকে কনভিন্স করানোর চেষ্টা করেন সব। কিন্তু ছেলেটি নাছোড়বান্দা ছিল। সেই কারণেই ছক কষে শেষ করে দেন ছেলেটিকে। কোকেন ইনজেক্ট করেছিলেন বোধহয় জোর করে। তাই না?”

কথাটা বলার পরেই একটা ভয়ংকর ব্যাপার হল। সোফা থেকে উঠে তাড়াতাড়ি করে ভদ্রলোক পকেট থেকে বের করলেন একটা রিভলবার। তারপর সেটা তাক করলেন আমাদের দিকে। বললেন, “সব্বাইকে শেষ করে দেব। কী ভাবেন নিজেকে, বড্ড বেশি চালাক?”

আমার বুক ধড়ফড় করছে। পেটের ভেতরটা খালি খালি লাগছে। কী করা উচিত কিছুই বুঝতে পারছি না। শুচিস্মিতা দেবীর চোখেও ভয় স্পষ্ট।

শারদ্বত ঠান্ডা গলায় বলল, “জানেন, এই কেসে আপনার ধরা পড়ার পিছনে আমার চেয়েও বেশি কৃতিত্ব অন্য আর-একজনের।”

“কার?” রিভলবার ধরেই জিজ্ঞেস করলেন অতীন্দ্রবাবু।

- শার্লক হোমস্‌-এর।

উফফ! এই মুহূর্তেও ফাজলামি করছে ও। এদিকে আমার হাড় হিম হয়ে যাচ্ছে ভয়ে।

অতীন্দ্রবাবু বললেন, “মানে?”

শারদ্বত বলল, “আপনার ঘরের শার্লক হোমসের বইটিতে একটি পাতা মোড়া ছিল। আপনিই করেছিলেন হয়তো। তা যে গল্পটি আপনি বুকমার্ক করে রেখেছিলেন, সেটার নাম— A case of identity। সেখানেও এক বাবা মেয়ের সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করেন। তারপর হঠাৎ গায়েব হয়ে যান... এখানেও খানিকটা শার্লক হোমস্‌-এর টাচ পেলাম। এই আর কি।”

কথাটা শেষ হওয়ার পরেই হঠাৎ আমার কানের পাশ দিয়ে কিছু একটা গিয়ে লাগল অতীন্দ্রবাবুর হাতে। হাত থেকে রিভলবারটা পড়ে গেল। সঙ্গে পড়ল একটা কাচের ফুলদানি। পড়ামাত্র ভেঙে গেল সেটা। এটা দরজার পাশে রাখা ছিল দেখেছিলাম। শারদ্বত চোখের নিমেষে ঝুঁকে পড়ে তুলে নিল রিভলবারটা।

পিছনে তাকিয়ে যাঁকে দেখলাম তাঁর কাচের জিনিস ভেঙে মঞ্চে প্রবেশ করার একটা প্রবণতা আগেও দেখেছি। আজ সকালেই। তিনি আর কেউ নন। শুচিস্মিতা দেবীর আর-একজন এক্স, কৃশানু ভট্টাচার্য।

শারদ্বত বলল, “থ্যাংক য়ু কৃশানুবাবু। দুর্দান্ত টাইমিং এবং হাতের টিপ আপনার। পুলিশ কোথায়?”

কৃশানু বলল, “এই তো গাড়ি থামাল জাস্ট। আসছে।”

কথাটা বলার পরেই দাদা ঢুকল, সঙ্গে তিনজন কনস্টেবল। অতীন্দ্রবাবু তখনও ফুঁসছেন। তবে হাতে বড্ড লেগেছে ভদ্রলোকের। বাঁ হাতে করে ডানহাতটা চেপে রয়েছেন যন্ত্রণায়। আমার তখনও অনেক কনফিউশন বাকি। শারদ্বত বলল, “নীলাদ্রিদা, একবার ভদ্রলোকের ঘরটা দেখবেন তো। কোকেনের প্যাকেট পেতে পারেন।”

দাদা ঘাড় নাড়ল। কিন্তু কিছু বলল না।

আমরা চারজন রয়েছি শুচিস্মিতা দেবীর ডাইনিং রুমে। যদিও আজ প্রায় সবটাই আগে বলে দিয়েছে শারদ্বত। কিন্তু কয়েকটা প্রশ্ন আমার রয়ে গেছে এখনও। শুচিস্মিতা দেবী এখন দেখলাম আগের চেয়ে বেশ খানিকটা স্বাভাবিক হয়েছেন।

বললাম, “কৃশানু পুলিশ নিয়ে এল? মানে... কী হল কেসটা?”

শারদ্বত বলল, “সেদিন রাত্রে মদের ঘোরে অনেক কিছুই বলে ফেলেছিল কৃশানু। তার দু-দিন পরেই যখন ছেলেটির মৃত্যুর খবর পেপারে পড়ল সেদিন থেকেই বোধহয় ভয়ে ভয়ে কাটাচ্ছিল ও। সেদিন আমাদের দেখে সেই কারণেই পুলিশ ভেবে দৌড়ে পালায়।”

কৃশানু বলল, “উফফ! শুচিস্মিতা না ফোন করে আপনার কথা বললে যে কোথায় পালিয়ে বেড়াতাম কে জানে!”

শারদ্বত আমাকে বলল, “আমি আজ বিকেলেই শুচিস্মিতা দেবীকে ফোনে সবটা বলি। তারপর বলি এক্ষুনি কিচ্ছু না করতে। আর বলি কৃশানুকে সবটা জানাতে এবং ও যেন আমায় একটা ফোন করে।”

আমি বললাম, “কিন্তু ওর বাড়িতে যে কোকেনের প্যাকেট পেলাম আমরা?”

কৃশানু বলল, “ওটা কোকেন না। আমার পরের শর্ট ফিল্মের জন্য কোকেনের মতো করে পাউডার ভরে রাখা আছে প্যাকেটে। আসল কোকেন কোথাও পাচ্ছিলাম না। সেইজন্যেই আর কি!”

আমি শারদ্বতকে বললাম, “আর তুমি তাহলে সত্যিই গিয়েছিলে ওই অতীন্দ্রবাবুর থিয়েটার ওয়ার্কশপে?”

শারদ্বত বলল, “হ্যাঁ। ওরা সবাই চেনে প্রতীক ছেলেটিকে। ছেলেটি ওদের কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছে। তারপর হঠাৎ ছেলেটি পুনে চলে যায় সব ছেড়েছুড়ে। কারণটা অনেকেই বুঝতে পারেননি।”

শুচিস্মিতা দেবী বললেন, “আমার শুধু অবাক লাগছে এটা ভেবে, কাকু কী করে ভাবলেন যে আমার বিয়ে হয়ে গেলে ওঁর আর কিছু থাকবে না। উনি আমাকে ছোটোবেলা থেকে মানুষ করেছেন। আমি কি এতটাই অকৃতজ্ঞ বলে ওঁর মনে হয়েছিল?”

শারদ্বত বলল, “নাহ। আসলে মানুষের মন একটা ভয়ংকর জিনিস। সেটা যে কখন কী রূপ ধারণ করে, সেটা আপনি চাইলেও অনুমান করতে পারবেন না। এই যে যেমন ধরুন অনিরুদ্ধকে...”

এই রে! আবার আমায় ধরা কেন?

শারদ্বত বলে চলল, “এই যে অনিরুদ্ধ আমার সঙ্গে সঙ্গে থাকে, আমাকে নিয়ে ব্লগে গোয়েন্দা গল্প লেখে, এ যে আমায় একদিন মেরে দেবে না তার কী মানে রয়েছে বলুন?”

আমি বললাম, “তুমি নিজেকে শার্লক হোমস্‌-এর সঙ্গে যত খুশি তুলনা করো। আমাকে আর্থার কোনান ডয়েল ভেবো না। আমি তোমায় মারবও না। আবার মেরে ফেলে বাঁচিয়েও নিয়ে আসব না। এরকম কোনও প্ল্যান নেই আমার।”

শারদ্বত হাসল। বাকি পারিশ্রমিক নিয়ে আমরা বেরিয়ে এলাম দুজনে।

রাস্তায় এসে জিজ্ঞেস করলাম, “এবার?”

শারদ্বত বলল, “এবার বিরিয়ানি।”

আমি বললাম, “আচ্ছা শার্লক হোমস কি বিরিয়ানি খেতেন?”

শারদ্বত বলল, “শাট আপ। গুরুদের নিয়ে নো ঠাট্টা।”

কথাটা বলার পরেই ঠোঁটের কোণে একটা হাসি দেখলাম ওর। এই হাসিটা আমার চেনা। অপরাধীকে ধরার পর এবং বিরিয়ানি খাওয়ার আগে শারদ্বতর মুখে এই হাসিটা দেখি আমি। যাক, তাহলে অমূল্য রতন পাওয়া গেল।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%