শোধ – ৪

শিবব্রত বর্মন

বিকেলবেলা ঝিরঝির করে অসময়ের বৃষ্টি নামল। আফসান চৌধুরীর তাতে কোনো সমস্যা নেই। তিনি লুঙ্গি আর স্যান্ডো গেঞ্জি পরে তাঁর সদ্য আবিষ্কৃত শুঁটকির রেসিপি রান্নায় লেগে যান। কাঁধে ঝোলানো গামছায় এমন করে মাঝে মাঝে হাত মোছেন, যেন বংশালের কোনো রেস্তোরাঁর বাবুর্চি।

শেফালি আফসান চৌধুরীকে সাহায্য করছে। আলী হোসেন শিক ভেঙে যাওয়া একটা ছাতা ঠিক করার চেষ্টা করছে। চাপ খেয়ে সেটার একটা শিক বেঁকে গেছে।

মিরা ও জাহানারা সিনেমা দেখতে যাবে বলে সেজেছে। বেরোনোর আগে জাহানারা রান্নাঘরে উঁকি দেন। ‘তুমি সত্যি সিনেমা দেখতে যাবা না?’

আফসান চৌধুরী গরম তেলে পাঁচফোড়ন ছেড়ে দেন। সেটার ‘ছ্যাৎ শব্দই তার জবাব। তবে জাহানারা যাওয়ার জন্য পা বাড়ালে আফসান চৌধুরীর গলা থেকে আওয়াজ বেরোয়, ‘আসার সময় তালুকদার থেকে মেথি এনো একটু। আর জায়ফল।’

রান্নাঘরের বাইরে ডাইনিং স্পেস থেকে মিরার আওয়াজ পাওয়া যায়, ‘বাবা, ওয়াহিদ মুরাদ মিস করবা?’

জাহানারা বলেন, ‘ওয়াহিদ মুরাদ দিয়ে কী হবে। বল শবনম, অথবা জেবা। তাতে যদি কিছু হয়।’

‘বাবা তোমার শবনব, না জেবা?’

‘সিনেমা আমার জিনিস না। জায়ফল ভুইলো না, জাহানারা।

ছাতা নিয়ে মিরা ও জাহানারা বের হয়ে গেলে শেফালির সঙ্গে গল্প জুড়ে দেন আফসান। শেফালি জানতে চায়, শুঁটকি ঝোল করা হবে, নাকি শুকনা।

‘ভুনা। শুঁটকি কখনো ঝোল করে না।’

‘আমাদের দেশে করে।

‘তোদের দেশ না সাতক্ষীরা, রান্না তো ভালো। ঝোল করে কেন?’

শেফালি হাসে, ‘গরিবের খাবার যে।’

‘সবই গরিবের খাবার। বড়লোকের খাবার একটা দেখাতে পারবি?’

আলী হোসেন উঁকি দিয়ে ফোড়ন কাটে, ‘পোলাও-কোর্মা?’

আফসান চৌধুরী কয়েকটা শুকনা মরিচ থেঁতলানোর ফাঁকে বলেন, ‘মানে বেশি মসলার খাবার, তাই তো? আগে বেশি মসলা কেন দিত জানিস, যাতে খাবার না পচে। মসলা মানে প্রিজারভেন্ট। এই যে পনির, যেটাকে বলে চিজ, গোয়ালারা চিজ বানিয়েছে টক হওয়া দুধ যাতে ফেলে দিতে না হয়। গরিবের খাবার। এখন প্যারিসে বড়লোকের বাসায় বেড়াতে গেলে তোকে চিজ খেতে দেবে। দে, আদা বাটাটা দে।’

এ সময় দরজায় বেল বাজে। দুধঅলা ছাড়া এখন কেউ আসার কথা নয়।

আলী হোসেন গিয়ে সদর দরজা খুলে ফিরে এসে বলে, ‘কে য্যান আইছে।’

আফসান গামছায় হাত মুছতে মুছতে দরজায় গিয়ে কপাট সরিয়ে দেখেন চৌকাঠের ওপারে ফিরোজ দাঁড়ানো। তার কাঁধে কয়েক ফোঁটা বৃষ্টির ছাট। চুল একটু ভেজা। আফসানকে দেখে ফিরোজ সরাসরি বলে, ‘আরেকটা গেম?’

বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে সেই বিপর্যয়ের ১৮ দিন পর ফিরোজ পা রাখে আফসান চৌধুরীর নীলক্ষেত-সংলগ্ন চারতলার কোয়ার্টারে।

আফসান বলেন, ‘বসুন।’

ফিরোজ নিচু সোফায় বসে অপ্রশস্ত ড্রয়িংরুম পর্যবেক্ষণ করে।

আফসান চৌধুরী বলেন, ‘রান্না চড়িয়েছি। আমাকে মিনিট দশেক সময় দিতে হবে। বাসার লোকজন গেছে সিনেমা দেখতে।’

‘নো প্রবলেম।’

রান্নাঘরের দিকে পা বাড়াতে গিয়ে আফসান সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। বুকশেলফের কোনায় রাখা দাবার বোর্ড আর ঘুঁটি রাখার ডালডার কৌটা হাতে নিতেই একটা ব্যাপার তাঁর নিজের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় : তিনি জানতেন ফিরোজ আসবে। তিনি আসলে মনে মনে ফিরোজের জন্য অপেক্ষাই করছিলেন।

আলী দাঁড়িয়ে ছিল ভেতরের দিকের দরজায়। আফসান বলেন, ‘শেফালিকে বল, একটু নেড়ে আঁচ কমিয়ে ঢাকনা বসিয়ে দিতে। আর একটু চা চড়া।’

ওই দিনের বিপরীত চিত্র আজ। ফিরোজ বসেছে সোফায়। মাঝখানে নিচু সেন্টার টেবিল। এ পাশে একটা চেয়ার টেনে বসেছেন আফসান চৌধুরী। অপ্রশস্ত জানালা খোলা। বাইরে বৃষ্টি কমে এলেও মেঘের কারণে ঘরে আলো কম। একটা ২০০ ওয়াটের বাল্ব জ্বলছে ফিরোজের পেছনে মাথার ওপর। তাতে সেন্টার টেবিলে ফিরোজের আবছা একটা ছায়া পড়েছে।

ফিরোজ আজ একটা হালকা নীল-হলুদ চেক শার্ট পরেছে। সেটা টাক-ইন করা। শার্টের হাতা গোটানো। মোটা চামড়ার বেল্ট। পালিশ করা জুতা, যেটা সে বাইরে খুলে রাখতে চেয়েছিল, আফসান দেননি। চুল পরিপাটি। তবে অধ্যাপক লক্ষ করেন, ফিরোজের চোখ আজ আগের দিনের চেয়ে ঘোলাটে, ঘোরলাগা।

বোর্ড বিছিয়ে তাতে কৌটা থেকে ঘুঁটি ঢালতে থাকেন আফসান। বলেন, ‘বাসা চিনলেন কী করে?’

ফিরোজ বিনয়ী ভঙ্গিতে বলে, ‘তুমি বলতে পারেন। আমি আপনার ছাত্রের বয়সী।’

‘ব্ল্যাক অর হোয়াইট?’

‘ব্ল্যাক।’

দুজনে স্কুলছাত্রের মতো অনুগত মনোযোগে ঘুঁটিগুলো সাজাতে থাকে। প্লাস্টিকের বোর্ড, তবে ঘুঁটিগুলো শক্ত রবারের। বোর্ড ও ঘুঁটি ভিন্ন সেটের। সে কারণে বোর্ডের ঘরের পরিসরের চেয়ে ঘুঁটিগুলো ছোট। দেখা গেল ব্ল্যাকের একটা নৌকা কম। আফসান চৌধুরী এদিক-ওদিক খোঁজেন ঘুঁটিটা। তারপর একটা চাবির গোছা এনে নৌকার ঘরে রেখে বলেন, ‘নিন, আপনার কলের নৌকা।’

মেজবান ও মেহমানের সামাজিক সৌজন্যের খোলস ভাঙার অবকাশটুকু না দিয়ে দুটি লোক যে একটা অস্বাভাবিক বলয়ে প্রবেশ করল, এটা লক্ষ করে অবাক হন আফসান চৌধুরী। উভয় পক্ষের দীর্ঘ মানসিক প্রস্তুতি ছাড়া এটা সম্ভব নয়। অর্থাৎ তাঁরা নিজেদের মধ্যে কাল্পনিক কথোপকথন সেরেছেন ইতিমধ্যে, অনেক লেনদেন ঘটে গেছে অগোচরে। সে কারণে প্রথম দিনের সেই স্নায়ুটান অস্বস্তি আজ নেই।

গেম শুরু হয়।

আফসান চৌধুরী রাজার সামনের বড়ে দুঘর ঠেলে সবচেয়ে প্রথাসিদ্ধ ওপেনিং করেন। ফিরোজ শুরুতেই ঘোড়া বের করে বুঝিয়ে দেয় সে আজ চ্যালেঞ্জ ছুড়তে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে।

দুজন দুজনকে যথেষ্ট চেনেন, এমনভাবে চালের ফাঁকে ফাঁকে কথা হতে থাকে।

আফসান চৌধুরী বলেন, ‘অ্যাকচুয়ালি তোমার মা সালমা এহতেশামের আমি ভক্ত। রেডিওতে তাঁর শ্রুতিনাটক একসময় খুব শুনতাম। কেমন আছেন তিনি?’

‘স্ট্রোক হয়েছিল বছর দুয়েক আগে। প্যারালাইজড।’

‘স্যাড।’

আলী ট্রেতে চা ও বিস্কুট এনে রাখে। ফিরোজ বলে, ‘আমি চা খাই না।’

‘কফি দেবে?’

‘না।’

আবার খেলা চলতে থাকে। একসময় রান্নাঘর থেকে শেফালির গলার আওয়াজ পাওয়া যায়, ‘খালু, লাইগা যাইতেছে। পানি দিমু?’

এ সময় ফিরোজ মন্ত্রীর একটা বেপরোয়া চাল দেয়। আফসান চৌধুরী বলেন, ‘এক মিনিট, রান্নাটা দেখে আসছি

‘শিওর।’

আফসান চলে গেলেও ঘরে একটা মসলার গন্ধ থেকে যায়, যেন দাবার বোর্ডের ওপর নজর রাখতে গন্ধটা রেখে গেছেন তিনি।

ফিরোজ অপেক্ষা করতে করতে বাসার দেয়ালে টাঙানো পেইন্টিং দেখতে থাকে। শুধু আনোয়ারুল হক আর খাজা শফিকের ছবি চিনতে পারে সে। দু-একটা ছবি অ্যামেচারিশ। তাতে স্বাক্ষর নেই। সম্ভবত বাসার কেউ চেষ্টা করেছে। সেটা যে আফসান চৌধুরী নন, অনুমান করা যায়।

আফসানের ফিরতে দেরি হয়। ফিরোজ উঠে বুকশেলফের বইপত্র দেখতে থাকে, যেনবা এইভাবে প্রতিপক্ষের মনোজগতের একটা মানচিত্র পেতে চায় সে। শেলফে একটাও দাবার বই নেই। তার বদলে রান্না, মোগল ইতিহাস আর রণকৌশলের বই। কিছু ফিকশন – শরৎচন্দ্র, তারাশঙ্কর আর কিছু আমেরিকান ক্ল্যাসিক। নিচের তাকে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক মাস অনুযায়ী যত্ন করে ডাঁই করা। মাঝে মাঝে দু-একটা সংখ্যা মিসিং। ফিরোজ একটা ক্রাউন সাইজের বই টেনে বের করে, যেটার নাম মেকং ডেল্টা কুক বুক।

রান্নাঘর থেকে আফসানের কণ্ঠস্বর শোনা যায়, ‘বিশপ সি সিক্স।’

ফিরোজ তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারে না কথাটার অর্থ।

আফসান রান্নাঘর থেকে আবার বলেন, ‘দিয়েছ? বিশপ সি সিক্স!’ ফিরোজ বই রেখে চেয়ারে এসে বসে। আফসানের চালটা দেয়। তারপর উঁচু গলায় বলে, ‘ওকে। দিয়েছি।’

‘গুড। এবার তোমার চাল। দাও।’

ফিরোজ কিছুক্ষণ দ্বিধা করে একটা চাল দেয়।

রান্নাঘর থেকে আফসানের গলা, ‘কী দিলা, বলো।’

‘পন, জি থ্রি।’

‘জানতাম। এবার আমার নাইট এফ ফোর।’

ফিরোজ আফসানের চালটা দিয়ে দেয়। এভাবে চার থেকে পাঁচটি চাল চলে।

আফসানের গলা শোনা যায়, যেটা স্পষ্টত শেফালিকে উদ্দেশ করে বলা, ‘ঢাকনা দিয়ে দিলাম। আর নাড়বি না। তিন মিনিট পর চুলা বন্ধ করে দিবি।’

আফসান চৌধুরী ফিরে এসে বসলে দেখা যায় তাঁর গায়ে একটা সাদা কুর্তা। আসার পথে তিনি শোবার ঘর হয়ে এসেছেন।

আফসান আসতেই ফিরোজ তার চেপে রাখা বিস্ময় প্রকাশ করে। ‘আপনি ব্লাইন্ডফোল্ড চেস পারেন, এতটা আশা করিনি।’

‘তুমি পারো না?’

‘ট্রাই করিনি।’

ইউ শুভ। এটা একটা আর্ট। দাবা ভালো পারা না পারার সঙ্গে এটার যোগ নাই। এর মাস্টার ছিলেন মরফি। আমি তোমাকে শিখিয়ে দিতে পারি। তবে প্র্যাকটিস দরকার।’

ফিরোজ কিছু বলে না। বোঝা যায় চলমান গেমের জটিলতার মধ্যে এখনো ডুবে আছে সে।

দুজন দাবায় ফিরে যায়। আজ আফসান চৌধুরীর মনোযোগে কিছুটা ঘাটতি লক্ষ না করে পারে না ফিরোজ। প্রথম দিন তিনি যেভাবে পাথরের মূর্তির মতো বোর্ডের দিকে তাকিয়ে ছিলেন, আজ সেটা নেই। যেন তাঁর বাড়িতে ফিরোজকে টেনে আনাই তাঁর জিৎ। একবার ফোন বেজে উঠল আফসান উঠে গিয়ে ফোন ধরলেন। আরেকবার আলীকে দোকানে পাঠালেন বেসন আনতে।

৪৪তম চালে ফিরোজ চেক দেয়।

আফসান চৌধুরী হার স্বীকার করেন। বলেন, ‘ব্রিলিয়ান্ট। দুর্দান্ত। অভিনন্দন। তোমাকে কী খাওয়াব, চা-কফি কিছুই তো খাও না।’

ফিরোজ উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘আমি আসি।’

‘ঠিক আছে।’

অতিথিকে আফসান চৌধুরী দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেন। তিনি লক্ষ করেন, বাঙালির সবচেয়ে প্রথাসিদ্ধ বিদায় সম্বোধন ‘আবার আসবেন’ সচেতনভাবে এড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি।

চৌকাঠের ওপারে পা রেখে ঘুরে দাঁড়ায় ফিরোজ।

‘আপনি ইচ্ছা করে হেরেছেন।’

‘কেন মনে হলো?’

‘আমি স্টুপিড নই।’

‘তুমি অত্যন্ত প্রতিভাবান খেলোয়াড়। আমি এত ভালো খেলোয়াড়ের সঙ্গে আগে খেলিনি।’

আফসান লক্ষ করেন ফিরোজের মুখ অপমানে লাল হয়ে আছে।

.

‘দে আউটনাম্বার্ড আস। অফিসার-জওয়ান কুল মিলা কে সাত্তাইস লোগ,’ বললেন কর্নেল মঈনুদ্দিন বেগ। ‘অওর হাম দস ইয়া ইস সে জেয়াদা লোগোঁ কি ইক ছোটি ব্যাটালিয়ন। হাম নে উনহে ট্র্যাপ কিয়া। ও লোগ ঘাবড়া কে…দুম দুম দুম… আন্ধাধুন্দ ফায়ারিং করনে লাগে। হাম বাস ইনতেজার কর রহে থে। হাম জানতে থে কে দে উড রান আউট অফ ফায়ার প্রিটি সুন। আখেরি গোলি ফুটনে কে ঘান্টে তিনো বাদ হাম লোগ মুভ কিয়া। ফির হাম নে উসে পাকাড় লিয়া। উই কট হিম।’

‘কিস কো?’

‘গুরবত সিং। মেজর।’

‘সিফ ইক কো?’

‘সিফ ইক হি বাচ গ্যায়া থা।’

বাইরে প্রবল ঝড় হচ্ছে। নারকেলগাছের পাতা নৃত্যরত বাউলের চুলের মতো একবার নুয়ে পড়ে আবার ঝটকা মেরে উঠে দাঁড়াচ্ছে। দূরে কোথাও রেডিও বাজছে। তাতে দক্ষিণাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার খবর।

বাসায় বিদ্যুৎ চলে গেছে। একটা মোমবাতি জ্বলছে এক কোনায়। ফিরোজ বিছানায় হেলান দিয়ে আধশোয়া। তার সামনে একটা চেয়ার টেনে বসা কর্নেল মঈনুদ্দিন বেগ, ফিরোজের বাবা। অল্প আলোতেও দেখা যায়, তাঁর গায়ে আর্মির পরিপাটি ইউনিফর্ম। মাথায় টুপি। চেয়ারে টানটান হয়ে বসে আছেন তিনি। কথা বলার ভঙ্গিও খুব ফরমাল, যেন তিনি কথা বলছেন সেনানিবাসের কোনো ইন্টারোগেশন কক্ষে।

কর্নেল মঈনুদ্দিন বলেন, ‘হাম উসে ক্যাম্প মেঁ লে আয়ে। উস সে পুছতাছ করনা মেরি জিম্মেদারি থি। আই গট সারপ্রাইজড, ইউ নো। ও কুর্সি পর ব্যায়ঠা হুয় থা। খওফ সে কাঁপতে হুয়ে ইক চুহা কি তরহা লাগ রাহা থা। ম্যায় নে উসে ইতমিনান দিলায়ি। কোয়ি পুছতাছ নেহিঁ কি। ম্যায় উস সে কেয়া জানুংগা? জাননে কা হ্যায় কেয়া? ইস কে বাজায়ে ম্যায় নে উস কে সাথ গুফতগু শুরু কর দি। জ্যায়সে কে হাম দোনো আরসে সে দোস্ত হ্যায়। দ্য ফানিয়েস্ট পার্ট ওয়াজ, ইউ নো, হাম দোনো লতিফে সুনানা শুরু কর দিয়ে, গন্দে লতিফে, ডার্টি জোকস, হা-হা-হা, স্কুল লাইফ কি দোস্তোঁ কি তরহে। আই বিগ্যান লাইকিং দ্য ম্যান। জলন্ধর কে আদমি থা। তুঝে ক্যায়সে সামঝাউঁ, আই ওয়াজ বিগিনিং টু হ্যাভ কাউন্ডা ভেজা-ভু, ইউ নো। লাগ রাহা থা কে ম্যায় উসে জানতা হুঁ। টকিং টু হিম লেড মি টু আ স্ট্রেঞ্জ এপিফ্যানি। আই কেম টু নোও আ হিডেন ট্রুথ’

এটুকু বলে ফিরোজের প্রশ্নের জন্য একটু অপেক্ষা করেন কর্নেল মঈনুদ্দিন। ফিরোজ কয়েক মুহূর্ত পর করল প্রশ্নটা, ‘অ্যান্ড হোয়াট ওয়াজ দ্যাট?’

মঈনুদ্দিন বলেন, ‘ইট ওয়াজ, আসল মে জংগ দো ফিরকো কে দরমিয়ান নেহি হোতি।’

‘তো ফির?’

‘জংগ দো ইয়াদোঁ কে দরমিয়ান হুয়া করতা হ্যায়, বাচ্চে, ইট ইজ ফট বিটুইন টু মেমোরিজ। অ্যান্ড হোয়েন দ্য ফাইট গোয়জ অন, ইয়াদেঁ বদল যাতি হ্যায়। তবদিল হো যাতি হ্যায়। দে ডু কাউন্ডা ক্যাসলিং। সো দ্যাট, য়ে ক্যাহনা মুশকিল হ্যায় কে কওন কিস সে ইন্টিরোগেট কিয়া করতা হ্যায়।’

‘গুরবত সিং কো কেয়া হুয়া?’

‘ওই দ্যাট পুয়োর ফেলো, ডারপুক, উস কা খওফ যা চুকা থা। ও কাভি কাভি হাস ভি লিয়া করতা থা। হোশিয়ার আদমি থা। উসে মালুম পড় গ্যায়া থা কে আগলে দিন উসে মার দিয়া যায়েগা। ফায়ারিং স্কোয়াড। দ্য নেক্সট ডে।’

ঝড়ের মধ্যে সালমার ডাক শোনা যায়, ‘ফিরোজ! ফিরোজ!’

ফিরোজ একবার ভাবে ভুল শুনছে। তবে সে সাড়া দেয়, ‘কী, মা?’

‘এখানে আয়। এ-ঘরে।’

ফিরোজ উঠে কর্নেল মঈনুদ্দিনকে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যায়। মঈনুদ্দিন সেভাবেই বসে থাকেন, যেন তাঁকে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে।

ডাইনিং স্পেসের অন্ধকার পেরিয়ে ফিরোজ খালি পায়ে সালমার ঘরে ঢোকে। ঘর অন্ধকার হলেও জানালা দিয়ে আসা সড়কবাতির আলোয় আধশোয়া সালমাকে আবছা দেখা যায়। জানালার কাচে ডালপালার মাতাল ছায়া পড়ছে, যেন জাপানি শ্যাডো থিয়েটার

‘কার সঙ্গে কথা বলছিলি?’

‘কারও সঙ্গে না, মা।’

সালমা ইশারা করেন, ‘বোস, এখানে।’

ফিরোজ মায়ের কাছে বসে।

সালমা ফিরোজের মাথাটা কোলের মধ্যে নিয়ে আদর করতে থাকেন।

‘কী হয়েছে, বেটা? হোয়াটস রং?’

ফিরোজ বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। সালমা টের পান ছেলের শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছে চেপে রাখা বিস্ফোরক কান্নায়।

জড়ানো কণ্ঠে প্রায় অশ্রাব্যভাবে ফিরোজ বলে, ‘লোকটা ভয়ংকর অপমান করেছে, মা। এর চেয়ে বড় অপমান হয় না। লোকটা ইচ্ছা করে হেরেছে। হার আমি মানতে পারি। কিন্তু অপমান না। লোকটা আমাকে ধুলার সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে।’

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%